প্রফেসর সিরিজ ১ – অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী
Professor Series 1 by Abhigyan Ganguly
সব চরিত্র এবং ঘটনা সম্পূর্ণভাবে কাল্পনিক। বাস্তবের কোনো ঘটনার সাথে কোনোভাবে জড়িত নয়।
প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ : সপ্তদীপ দে সরকার
অলংকরণ: গৌতম কর্মকার
.
‘And if you gaze long into an abyss, the abyss
will gaze back into you’ –
Friedrich Nietzsche
(Beyond Good and Evil)
‘অন্ধকারের দিকে বেশিক্ষণ চেয়ে থাকলে, অন্ধকারও
তোমার দিকে ফিরে চাইবে।’
.
ভূমিকা
প্রফেসর সিরিজের গল্প কী নিয়ে, গল্পের বিষয়বস্তু, কে প্রফেসর এইসব কথা এখানে বলব না। এগুলোর উত্তর বইয়ের গল্পেই পাঠকরা পাবেন।
প্রফেসর চরিত্রটা আমি সৃষ্টি করেছিলাম চাণক্য-কে নিয়ে প্রথম গল্প লেখারও অনেক আগে। সাত-আট বছর আগের কথা, তখন সবে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে লেখালেখি শুরু করেছি। ফেসবুক আর বাংলা সাহিত্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রচুর তান্ত্রিক আর প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটররা। কিন্তু, আমার বরাবরই মনে হত যে, আমার মতো সাধারণ পাঠক সেই ‘অতি শক্তিশালী’ চরিত্রদের সঙ্গে নিজেকে ‘রিলেট’ করতে পারে না। তাই আমি ভাবলাম এর থেকে বাইরে গিয়ে কোনো চরিত্র সৃষ্টি করব, যার মধ্যে সেভাবে কোনো অসাধারণ ক্ষমতা নেই, তন্ত্রমন্ত্ৰ সিদ্ধি নেই, যন্ত্র ইত্যাদিও নেই। তার মধ্যে আছে একটা অনুভূতি, যা অপার্থিব কিছুর উপস্থিতিতে সচেতন হয়ে ওঠে। ব্যস, এইটুকু। সেও আমাদের মতো বিজ্ঞানমনষ্ক, কিন্তু মনের গভীরে জানে যে, এই পৃথিবীতে সব কিছুর ব্যাখ্যা হয় না। সেও ভীতিকর পরিস্থিতিতে ভয় পায়, সমস্যার সমাধানে অন্যের সাহায্য নেয়।
হঠাৎ ‘প্রফেসর’ কেন? কারণটা বোধ হয় কিছুটা নিজের পেশার প্রতি পক্ষপাত। তাই হয়তো আমার সৃষ্ট দুটো চরিত্রই শিক্ষক।
এই চরিত্রকে নিয়ে লেখা বেশ কিছু গল্প আগে ফেসবুকে ও অন্যান্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। পাঠকদের প্রশংসাও পেয়েছে। ঠিক ছিল চাণক্য সিরিজের প্রথম বইয়ের পরেই প্রফেসর সিরিজ প্রকাশ করব। কিন্তু, কোথাও যেন আমার মনে হচ্ছিল যে, সেইসব গল্পগুলো বইয়ে ছাপানোর মতো নয়। বইয়ের ক্ষেত্রে আমি চেষ্টা করি নিজের সেরা গল্প দেওয়ার। প্রফেসরের ক্ষেত্রেও সেই চেষ্টাই করলাম। ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে লিখেছি এই বইয়ে সংকলিত পাঁচটি উপন্যাসিকা। বাকি পরিচয় বইয়ের পাতাতেই হোক।
এই বইয়ের একটি গল্প ইতিমধ্যেই অডিয়ো স্টোরি হিসেবে পরিবেশিত হয়েছে রেডিয়ো মির্চির ‘সানডে সাসপেন্স’-এ। মির্চি বাংলা ও শ্রোতাবন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই ‘প্রফেসর’-এর সাফল্যের জন্যে।
ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রত্যেককে যারা এই বইয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমার প্রকাশক, সম্পাদক, প্রুফরিডার ও শিল্পীদের। তাদের পরিশ্রম ছাড়া এই বই হত না।
ইতি,
অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী
ডিসেম্বর ২০২৫
.
উৎসর্গ
তাদের জন্যে,
যারা পেয়েছে কম, হারিয়েছে বেশি।
.
অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী। জন্ম: ১৯৯০ সালে। প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতক, ন্যানো ইলেকট্রনি পিএইচডি এবং কয়েক বছর বিদেশে গবেষণার পর বর্তমানে কলকাতার এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যাপনার সাথে যুক্ত। 2022 সালে প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের চাণকা সিরিজ’-এর প্রথম বহু ‘হত্যা শাস্ত্র’। অন্যান্য প্রকাশিত বই ‘শর শাস্ত্র’, ‘একদা আর্যাবর্তে, অপার্থিব’। কাজের ফাঁকে অল্প লেখা, ভাল ছবি আঁকা এবং প্রচুর বই পড়ার জন্যে সময় বের করে নেন। বাকি পরিচয় তার লেখার মাধ্যমেই হোক।
.
ফ্ল্যাপের লেখা
শুধু বুদ্ধি আর মেধা দিয়ে কি অতিপ্রাকৃতর মুখোমুখি হওয়া সম্ভব? কী হয় যদি আপনার চেনা জগতের পর্দা সরিয়ে, আপনার বিশ্বাস-অবিশ্বাস, বিজ্ঞান-অপার্থিব-র সমস্ত ধারণাকে ভেঙেচুরে দিয়ে উঁকি দেয় এক অন্ধকার জগৎ? বিলিাবাল প্রেজেন্টস প্রফেসর অতীন্দ্র ব্যানার্জি আপনাকে বার বার সেই প্রশ্নের সামনেই দাঁড় করাবেন। তিনি আপনার-আমার মতোই সাধারণ মানুষ। তাঁর কোনো বিশেষ ক্ষমতা নেই। শুধু আছে এক সূক্ষ্ম অনুভুতি যা জানান দেয় অতিপ্রাকৃতর উপস্থিতি।
মৃত্যুর ওপার থেকে, এক চরম মূল্যে কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইছে তার প্রিয় মানুষকে। এক অপার্থিব সত্তা ভুলে গেছে তার প্রকৃত পরিচয়। স্বয়ং মৃত্যুকে ভৃত্য বানিয়েছে এক অপরাধী। প্রাচীন মন্দিরে বন্দি রয়েছে কোনো অপদেবতা। মুক্তি পেয়েছে অশুভ, অতিপ্রাচীন শক্তি। আর, এই সকল ঘটনার মাঝখানে রয়েছেন প্রফেসর। পারবেন তিনি এই অসম যুদ্ধে জয়ী হতে?






Leave a Reply