ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
সরু গলির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে হরেনদা। হাতে ক্রাচ। খুঁড়িয়ে হাঁটছে। গলিটা সরু, নোংরা, নানান আবর্জনায় ভরা। মাঝে মাঝে পেছনে তাকাচ্ছে। কেউ কি আসছে
পেছনে? ছায়াচ্ছন্ন গলিতে যে আবছা পায়ের শব্দ পাচ্ছে সেটা কি সত্যি, নাকি ভ্ৰম! হরেনদা দ্রুত এগোতে লাগল। ওই সামনের বাঁকটা পেরোলেই বড় রাস্তা। লোকজন। ভয় থেকে মুক্তি।
হরেনদা পাঞ্জাবির হাতায় মুখ মুছল। তার পর আবার এগোতে লাগল। ওর শ্বাস পড়ছে দ্রুত। আর কয়েকটা পা মাত্র! তার পরেই…
“হরেনদা!” আচমকা একটা গলা।
হরেনদা দাঁড়িয়ে পড়ল। আর দেখল, ডান দিকের একটা সরু গলি থেকে বেরিয়ে এল নশা। আরে, নশা এখানে কী করছে!
“হরেনদা!” আর-একটা গলা।
হরেনদা অন্যদিকে তাকাল। দেখল, আর-একটা গলি দিয়ে বলাই এসে দাঁড়াল ওর সামনে। বলাইয়ের সঙ্গে আরও দু’জন। কী চায় ওরা!
ভয়ে হরেনদা পিছিয়ে যেতে যেতে একটা বাড়ির দেওয়ালে গিয়ে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল এবার।
নশা এগিয়ে এল আরও কাছে। বলাইরাও এগিয়ে এল।
হরেনদা তাকাল ওদের দিকে। চোখে-মুখে ভয়, আতঙ্ক।
কিছু একটা বলতে গেল হরেনদা, কিন্তু তার আগেই পাশের একটা জানলা খুলে গেল। আর দেখা গেল কুসুমদিকে।
কুসুমদি ওদের দিকে তাকিয়ে বলল, “সতু তুই! তুই কী করছিস এখানে? আর ভুলে গেলি? কথা দিয়েছিলিস। সব ভুলে গেলি সতু!”
আর কাছাকাছি আচমকা বিকট শব্দ করে বোমা পড়ল একটা।
আর সামান্য কেঁপে উঠে চোখ খুলে তাকাল বুড়োদাদু।
বুকের মধ্যেটা কেমন যেন করছে! কষ্ট হচ্ছে গলার কাছে। কী স্বপ্ন দেখল এটা! কুসুমদিকে দেখল। আর ও ভুলে গেল। ও তা হলে সত্যি ভুলে গেল! নাকি মনে ছিল, কিন্তু উপায় ছিল না!
বুড়োদাদু সময় নিল একটু। তার পর ধীরেসুস্থে উঠল। বিছানার পাশে ইলেকট্রনিক ঘড়িটা হাতে নিয়ে সময় দেখল।
পৌনে চারটে বাজে। ভোররাত এখন। সতেরোই অগস্ট। আজ মায়ের জন্মদিন না!
বোতল থেকে একটু জল খেল বুড়োদাদু। তার পর বিছানা থেকে নেমে ঘর থেকে বেরিয়ে, খোলা বারান্দায় এল। বাথরুম যেতে হবে। বুড়ো বয়সে এই এক অশান্তি। রাতে একবার না-একবার উঠতেই হয়।
লম্বা বারান্দার শেষে বাথরুম। তার পাশ দিয়ে খোলা সিঁড়ি নীচ থেকে দোতলা ছুঁয়ে উঠে গিয়েছে ছাদ অবধি।
বুড়োদাদু এগোল বাথরুমের দিকে আর ঠিক তখনই ধুপ করে একটা শব্দ হল। আবছায়ার মতো দুটো মানুষ পাশের বাড়ি থেকে লাফ দিয়ে ওদের দোতলার সিঁড়ির চাতালে এসে পড়েছে। এরা কারা? চোর? পাড়ায় আজকাল চুরি হচ্ছে খুব।
বুড়োদাদু দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল। তার পর লম্বা-লম্বা পা ফেলে এগিয়ে গেল সামনের দিকে। একটা লোক দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে উঠে পালাল। কিন্তু আর-একজন লাফিয়ে পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছে। দাঁড়াতে পারছে না ঠিকমতো। বুড়োদাদু চোয়াল শক্ত করে এগিয়ে গেল লোকটার দিকে।
স্ট্রিট লাইটের আলোয় লোকটাকে দেখা যাচ্ছে। লোকটা ভয় পেয়েছে বোঝা যাচ্ছে।
বুড়োদাদু আরও কাছে এগিয়ে গেল। লোকটা উপায় নেই দেখে কোমরে হাত দিয়ে কিছু একটা টেনে বের করল।
বুড়োদাদু দেখল, রাস্তার আলো পড়ে লোকটার হাতে ঝিকিয়ে উঠল একটা ছোরা!






Please Upload “Aaynabari” by Abhik Dutta….
এই লেখকের ‘ঝাল লজেন’ বইটি দেবার অনুরোধ রইল..
ace to
ছটি গল্প, বাবুলগাম এই উপন্যাসগুলো দেবেন
plz smaranjit chakraborty r baul suto boi ti deben
Please জোনাকিদের বাড়ি বই টা দেবেন
জোনাকিদের বাড়ি দেয়া আছে।