কল্পবিজ্ঞান সমগ্র – অনীশ দেব
কল্পবিজ্ঞান সমগ্র – অনীশ দেব
কেন এই নতুন রূপ?
মস্তবড় বইটি নতুন চেহারায় প্রকাশের সময়ে কৈফিয়ত দেওয়া দরকার। নইলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, আপনাদের প্রিয় লেখক অনীশ দেব পত্রভারতী থেকে তৈরি করেছিলেন দুটি বই—২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে ‘কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র’ এবং ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে ‘সেরা সায়েন্স ফিকশন সমগ্র’। দ্বিতীয় বইটা প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য। মাঝে বইদুটি অনীশদার জীবিতকালেও দীর্ঘদিন আউট অফ প্রিন্ট ছিল, খোঁজ করেও আপনারা পাননি।
কিছুদিন আগে আলোচনাক্রমে ঠিক হল, বইদুটি একত্রে প্রকাশিত হবে ‘কল্পবিজ্ঞান সমগ্র’ নামে। কারণ—প্রথমত, আজকের পাঠক এইধরনের সংকলনে অনেক লেখা একসঙ্গে পেতে চান। দ্বিতীয়ত, কিশোরদের লেখা শুধু কিশোররা নন, সববয়সের পাঠকরাই ভালোবাসেন। আর অনীশদার লেখা কল্পবিজ্ঞান যে উচ্চতা ও মানের, তাতে তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে পৌঁছে যাওয়া কিশোর-কিশোরীরাই এর প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে পারবে, খুদেরা নয়। আর কে না জানে, এই একুশ শতকের তৃতীয় দশকে সতেরো-আঠারো বর্ষীয় কিশোর-তরুণ পাঠকরা সকলেই প্রাপ্তমনস্ক।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে পুরোনো দুটি বইয়ের অনীশ দেব লিখিত ভূমিকা অপরিবর্তিত রাখা হল।
প্রকাশক
.
কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র
শুরুর আগে
ছোটদের জন্য লেখা কল্পবিজ্ঞান গল্পগুলোকে একজায়গায় জড়ো করে দু-মলাটে বন্দি করা যায় কি না এ-কথা ভাবতে-ভাবতেই ‘সমগ্র’-র কথা মাথায় আসে৷ শেষপর্যন্ত ‘সমগ্র’ যেটা তৈরি হল তাতে খুঁজে না পাওয়া চার-পাঁচটি গল্প বাদ থেকে গেল৷ তবুও আটাশটা গল্প নিয়ে ‘কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র’ খারাপ কী! এই বই তুলে দিলাম প্রীতিভাজনেষু তাপস মুখোপাধ্যায় ও অঞ্জনা মুখোপাধ্যায়ের হাতে৷
এই বইয়ের প্রযোজনায় আড়ালে থেকে যাঁরা আন্তরিকভাবে সাহায্য করেছেন, তাঁরা হলেন অনিতা রায়, বরুণ রায় ও মানস চক্রবর্তী৷ ওঁদের কাছে ঋণ থেকে গেল৷ স্নেহভাজন সুদীপ্ত মণ্ডল সুন্দর ছবি এঁকে বইটিকে অলঙ্কৃত করেছে৷ ওকে ধন্যবাদ জানাই৷
এবারে বলি আশ্চর্য এক দম্পতির কথাঃ ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় ও চুমকি চট্টোপাধ্যায়৷ ওঁদের সাহিত্যবোধ এবং সাহিত্যপ্রীতি অবাক করে দেওয়ার মতো—একইসঙ্গে সাহিত্যিক প্রীতিও৷ ওঁদের সহযোগিতা না পেলে এই বই কখনও দিনের আলো দেখত না—শুধু চাঁদের আলো নিয়েই থাকত৷
সবশেষে ধন্যবাদ জানাই তোমাকে—যে এই বইটা হাতে নিয়ে ভাবছ এর আটাশটা গল্প পড়বে কি না৷ পড়ো আর না-ই পড়ো, গল্পগুলো কিন্তু তোমার জন্যই লিখেছি৷ এই বই তোমারই জন্য, আর বইয়ের এত যে সাজগোজের ঘটা, সেও শুধু তোমার জন্য৷
.
সেরা সায়েন্স ফিকশন সমগ্র
এক মিনিট, আপনাকে বলছি
যে-বইটা আপনি হাতে নিয়েছেন সেটা আমার সবচেয়ে প্রিয় বই৷ তার কারণ, আড়াই দশকের লেখালেখি থেকে ছাব্বিশটি কল্পবিজ্ঞানের গল্প এবং একটি উপন্যাস আমি বহু যত্নে বাছাই করে একগুচ্ছ রঙিন ফুলের মতো আপনার ব্যক্তিগত ফুলদানিতে সাজিয়ে দিতে পেরেছি৷ এই লেখাগুলো প্রকাশিত হয়েছিল নানান পত্রপত্রিকায়৷ তার মধ্যে ‘দেশ’ পত্রিকা যেমন আছে, তেমনই আছে ‘আজকাল’, ‘সানন্দা’, ‘বর্তমান’, ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’, ‘যুগান্তর’ কিংবা ‘নবকল্লোল’-এর মতো পত্রিকাও৷ এই গল্পগুলো বই হয়ে বেরোল এই প্রথম৷ আর উপন্যাসটি ১৯৯৬ সালে একবার অকিঞ্চিৎকরভাবে প্রকাশিত হয়েছিল৷
বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় কল্পবিজ্ঞান কিংবা সায়েন্স ফিকশন এখনও পর্যন্ত কিছুটা ব্রাত্য৷ কিন্তু আমরা, যারা কিছুতেই কল্পবিজ্ঞান গল্প লেখার ‘চুলকুনি’ বন্ধ করতে পারি না, মনের অন্দরের অন্দরমহলের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই ধরনের গল্প-উপন্যাস ক্রমাগত লিখে চলেছি৷ আর আপনি—মানে, আপনার মতন আগ্রহী পাঠক—সেসব গল্প পড়েন, অথবা পড়বেন, এই ভরসাতেই আমাদের কলমে ক্লান্তি আসেনি৷
হলফ করে বলতে পারি, এই সংকলনের লেখাগুলো আমাকে বরাবরই ‘পাঠক’ হিসেবে নাড়া দিয়েছে৷ এগুলোর প্রতি বিশেষ ভালোবাসা বোধহয় তৈরি হয়েছে সেই কারণেই৷ সেই ভালোবাসার শরিক হওয়ার জন্যে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাই৷ আসুন, আমরা একসঙ্গে হাত ধরে বাংলা কল্পবিজ্ঞানকে আরও একটু জায়গা তৈরি করে দিই৷
অনীশ দেব





Leave a Reply