ঙ. গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ঙ. গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

অতি প্রাচীনকালে শিক্ষার্থীরা গুরুগৃহে বিদ্যা অর্জন করত। পর্যায়ক্রমে অঞ্চলে অঞ্চলে গড়ে ওঠে মক্তব ও পাঠশালা। গাঁ থেকে হার তুলে পাঠশালা চালান হতো বলে একে মানুষ গাঁ হারা স্কুলও বলতো। এখনও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাচীনদের মুখে সেই গাঁ হারা স্কুলের কথা শোনা যায়। কালক্রমে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠতে লাগল বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়। ক্রমবিকশিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণি বিন্যাসকরণের মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের অল্প শিক্ষিত, শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত বলে সনাক্ত করা হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে সুখ্যাতি অর্জনকারী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বয়ে এনেছে অনেক গৌরব।

বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ লুৎফর রহমান সরকারি কলেজ, কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশন (চন্দ্রদিঘলিয়া), ফজিলাতুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, লাল মিঞা সিটি কলেজ, এমএইচ খান ডিগ্রি কলেজ, সাতপাড় সরকারি নজরুল কলেজ, শেখ মুজিবুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রামদিয়া শ্রীকৃষ্ণ কলেজ, মুকসুদপুর ডিগ্রি কলেজ, বঙ্গরত্ন মহাবিদ্যালয়, শেখ রাসেল মহাবিদ্যালয়, চাপতা ডিগ্রি কলেজ, শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়, ভাঙারহাট কলেজ, রামশীল আদর্শ মহাবিদ্যালয়, শেখ রাসেল শিশু নিকেতন, জি টি পাইলট স্কুল, ওয়াগ্রাম হাইস্কুল, সচ্চিদানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়, সিতাইকুণ্ড হাই স্কুল, এস এম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয়, উলপুর পি.সি উচ্চ বিদ্যালয়, নিজড়া সপ্তপল্লী বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়, টুঠামান্দ্রা সর্যবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, করপাড়া ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, শেওড়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, বাশুড়িয়া সেনেরচর উচ্চ বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বর্ণি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামদিয়া এস.কে. উচ্চ বিদ্যালয়, ঘোনাপাড়া রাধাচরণ রাজেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়, রামদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নড়াইল জ্ঞানাঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়, মুকসুদপুর পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বহুগ্রাম পি.সি উচ্চ বিদ্যালয়, কমলপুরী বিদ্যানিকেতন, সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, টি টি উচ্চ বিদ্যালয়, বান্ধাবাড়ি জে.বি.পি উচ্চ বিদ্যালয়, খান্দারপাড় ইউনিয়ন ইন্দুহাটি হলধর উচ্চ বিদ্যালয়, সিঙ্গা কে.সি.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয়, সাতপাড় ডি.এন.জি.সি উচ্চ বিদ্যালয়, বৌলতলী এস.ইউ উচ্চ বিদ্যালয়, নারিকেল বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রদিঘলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। এ ছাড়া মহল্লায় মহল্লায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি, বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ

পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি ছিল এখানে একটি কলেজ হোক। গোপালগঞ্জ মহকুমা শহরে কলেজ প্রতিষ্ঠার আগে রামদিয়াতে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকায় যেমন ছিল না কলেজ তেমনি মসজিদও। তাই এখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দাবিও জরুরি হয়ে পড়ে। মুসলমান সম্প্রদায় সিদ্ধান্ত নেয় প্রত্যেক মুসলমান পরিবার ১ টাকা করে এবং টাকা দিতে না পারলে এক পইয়া ধান দেবে। এতে অনেক টাকা সংগ্রহ হয়। তা দিয়ে শহরে একটি মসজিদ তৈরি করা হয় (বর্তমানে এটি কোর্ট মসজিদ নামে পরিচিত)। আরও টাকা থেকে যায়। উদ্বৃত্ত টাকার পরিমাণ কত তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও কেউ বলেন ১৫ লাখ কেউ বলেন ২০ লাখ।

বিশিষ্টজনেরা ভাবলেন পাকিস্তানের গভর্নর খাজা নাজিমউদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা চাওয়া হবে। তাকে উপঢৌকন দেওয়ার জন্য ২০ সের চান্দিরূপা দিয়ে একটি ঢাল ও দুটি বর্শা তৈরি করা হয়। খাজা নাজিমউদ্দিন আসলেন, উপঢৌকন গ্রহণ করলেন। সাথে কয়েক লাখ টাকাও তাকে দিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান প্রায়ই কলকাতা ও খুলনায় থাকতেন। গভর্নর খাজা নাজিমউদ্দিনের আগমন উপলক্ষে তিনিও সে দিন সেখানে উপস্থিত হন। কয়েকজন ছাত্র নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিবাদ করলেন—এখানকার জনগণের টাকা অন্য কোথাও যেতে পারে না। এই টাকা দিয়ে এখানেই একটি কলেজ তৈরি করা হোক। খাজা নাজিমউদ্দিন শেখ মুজিবুরের দাবি মেনে নিলেন। সিদ্ধান্ত হয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করার। তখন কলেজের জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। গোপালগঞ্জে তখন ‘সীতানাথ একাডেমী’ ও মথুরানাথ ইনস্টিটিউশন’ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জায়গার পরিমাণ বেশি ছিল মথুরানাথ ইনস্টিটিউশনে। সবাই একমত হন যে এখানেই কলেজ করা হবে।

সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ

সীতানাথ একাডেমীতেই সীতানাথ একাডেমী ও মথুরানাথ ইনস্টিটিউশন– এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে নতুন নামকরণ করা হয় এসএম মডেল হাইস্কুল। পরবর্তীকালে ১৯৫০ সালে মথুরানাথ ইনস্টিটিউশনের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় একটি কলেজ। এর নাম দেওয়া হয় কায়েদ-ই-আজম মেমোরিয়াল কলেজ। ১৯৭১-এর পর কলেজটির নামকরণ করা হয় সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ। ১৯৭৯ সালে এ কলেজটি সরকারি হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাম সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

নজরুল পাবলিক লাইব্রেরি

১৯২০ সাল। ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক অবস্থায় ধ্বস নেমে আসে। সূক্ষ্ম হিসেব-নিকেশ করে ব্রিটিশ শাসকরা সিদ্ধান্ত নেয় ভারতবাসীকে খুশি করার। নতুন রাজা নির্বাচিত হলো। অবিভক্ত ব্রিটিশ সরকার করোনেশনের সৌজন্যে অর্থ প্রেরণ করে। ওই অর্থ বণ্টন হতে হতে এসডিও বর্তমানে ডিসি পর্যন্ত পৌঁছয়। গোপালগঞ্জের এসডিও সে অর্থ পেয়ে মোক্তার মুন্সেফদের সাথে আলোচনা করেন যে করোনেশনের সৌজন্যে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে এমন কিছু করা হোক যাতে তাদের নামটা জড়িত থাকে। তাই তারা ওই অর্থ ব্যয় করে গোপালগঞ্জ শহরে একটি করোনেশন থিয়েটার তৈরি করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে যথারীতি নৃত্য-গীতি চলতে থাকে। কালক্রমে তারই এক কক্ষে কিছু বই সংগ্রহ করে একটি লাইব্রেরি তৈরি করা হয়। নামটা পরিবর্তন করে করোনেশন পাবলিক লাইব্রেরি করা হলো। পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর অন্যায় অবিচার করতে করতে এমন এক পর্যায়ে গেলো যে শেষ পর্যন্ত উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে কিছু যুবক ব্রিটিশ উপাধি ত্যাগ করে অর্থাৎ করোনেশন শব্দটি বর্জন করে পাকিস্তানের কবি ইকবালের নামে প্রতিষ্ঠানটির নাম ইকবাল পাবলিক লাইব্রেরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। গোপালগঞ্জ শহরের কেবলই পূর্ব পাশে বেদগ্রাম নিবাসী মোঃ মাঈনউদ্দিন এ নামকরণের বিরোধিতা করেন। তিনি চাইলেন একজন বাঙালি কবির নামে লাইব্রেরির নামকরণ করা হোক। বাংলায় তখন বাঙালি কবি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

নজরুল পাবলিক লাইব্রেরি, গোপালগঞ্জ

মোঃ মাঈনউদ্দিন-ই তখন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন। এতেও প্রতিবাদের তুফান দুর্বল হলো না। সবাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলল কাজী নজরুল ইসলাম-তো ভারতের কবি। এর উত্তরে মাঈনউদ্দিন বললেন, হোক তিনি ভারতবাসী, তিনি তো বাঙালি কবি, বাংলার কবিতা লেখেন। এভাবে তিনি একের পর এক যুক্তিতর্ক খণ্ডন করে সবাইকে নিজের অনুগত করেন। পরিশেষে ১৯৬৫ সালে ওই লাইব্রেরির নামকরণ করা হলো নজরুল পাবলিক লাইব্রেরি। মোঃ মাঈনউদ্দিন এখনও (২০১২) লাইব্রেরিটির তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত আছেন।

উলপুরে জমিদারদের বসতি স্থাপন

উলপুর গ্রামে দালান কোঠা ছাড়া অন্যকোনো ঘরবাড়ি অফিস আজ অবধি দেখা যায় না। সেখানকার জমিদারগণ কালক্রমে ভারতে চলে যায়। পরিত্যক্ত সেসব দালান কোঠা অতীতের চিহ্ন বয়ে চলেছে। এটি ছোট কলকাতা বলে খ্যাত ছিল। আনন্দনাথ রায় তিনি তার ফরিদপুরের ইতিহাস গ্রন্থে উলপুরে জমিদারি প্রাপ্তি সম্পর্কে লিখেছেন : ‘অনুমান ১০১০ হইতে ১০১৬ সালের মধ্যে (১৬০৩-১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দ) উলপুরের জমিদারগণের বীজপুরুষ রঘু নন্দন জন্মগ্রহণ করেন। উলপুর গ্রামটি সুবিশাল নয়। তখন মহারাজ প্রতাপাদিত্যের রাজত্বের শেষ সময়। সেই রাষ্ট্রবিপ্লবকালে এই মহাপুরুষের জন্ম। তাহার শৈশবে পিতা যাদবেন্দ্র পরিবার পরিজনসহ ইত্সাতে বাস করেন। তখন ফতেহাবাদ ও মাহমুদাবাদে সরকারদ্বয় (যাহা চাকলা ভূষণা নামে অভিহিত হয়) পরাক্রমশালী বঙ্গজকায়স্থ মুকুন্দ রায়ের পুত্র শত্রাজিৎ ও শিবরামের শাসনাধীন ছিল। তাহারা নামে বাদশাহের অধীন হইলেও কার্যত সমস্ত স্বাধীনতা ভোগ করিতেন। মুকুন্দ রায়ের প্রতিষ্ঠিত ফতেহাবাদ সমাজে কুলীনের বাস ছিল না অথচ কুলীন না থাকিলে সমাজের কোনো প্রতিষ্ঠা ছিল না। এ কারণে তিনি কুলীনের বিশেষ সম্মান ও সমাদর করিতেন। ইনা মুকুন্দ রায়ের অধিকারের মধ্যে ছিল। যাদবেন্দ্র বসু ঠাকুর ইনায় বাস গ্রহণ করিলে মুকুন্দ রায়ের পুত্রগণ স্বীয় সমাজে বিখ্যাত কুলিন গোলাপ বসু ঠাকুরের বংশধরের অধিষ্ঠানে সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি হওয়ায় তাহাকে যথোচিত সমাদর প্রদর্শন করিয়াছিলেন।’

‘রঘুনন্দন বসুর জমিদারি প্রাপ্তি সমন্ধে উলপুরে দুইটি প্রবাদ প্রচলিত আছে।

(১) প্রথম প্রাবদ এই যে তাহার নিকট জ্ঞাতি খুল্লাতাত দেবীদাস বসু ঠাকুর ঢাকার নওয়ারা বিভাগের কানুনগো থাকাকালে তাহার সাহায্যে রঘুনন্দন এই জমিদারি প্রাপ্ত হয়।

(২) অপর কিংবদন্তি এই যে তখন উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ হইতে আগত রাজা উপাধিধারী উজানির জমিদারগণ কায়স্থ সমাজে মিশিবার জন্য শ্রেষ্ঠ কুলীন রঘুনন্দকে ৭ গ্রাম দান করেন; লেখকের ভুলে ৭ গ্রাম স্থানে ২৭ গ্রাম লিখিত হয়; তদবধি ২৭ গ্রামে সৃষ্টি সাহাপুর পরগণায় জমিদারি রঘুনন্দনের অধিকারে থাকে।

তৃতীয় আর একটি প্রবাদের কথাও (কায়স্থ সমাজ পত্রিকার সম্পাদক, আলগী-নিবাসী শ্রীযুক্ত উপেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ শাস্ত্রী মহাশয়ের নিকট) শোনা গিয়েছে, তাহার মর্ম এই ভূষণা অঞ্চলে বহুকাল হইতে জনশ্রুতি চলিয়া আসিতেছে যে ভূষণার অধিপতি মুকন্দ রায়ের পুত্র শত্রাজিৎ রায় তাহার ভ্রাতা শিবরাম রায়ের কন্যার সঙ্গে রঘুনন্দের বিবাহ দিয়া প্রথমত তাহাকে ভূষণার নিকটে একটি গ্রাম যৌতুক দেয়, তাহাকে লোকে এখনও রঘুনন্দপুর বলে। তৎপুত্র শত্রাজিৎ রায় ২৭টি গ্রামের জমিদারি রঘুনন্দকে অর্পণ করিয়া সাহাপুর পরগণা নামে নতুন পরগণা সৃষ্টি করেন।

বসুগণের উপনিবেশ স্থাপনের সময়ে উলপুর একটি ছোট গ্রাম ছিল, চারদিকে বিল; গ্রামের মাঝে কয়েকটি উঁচু ভিটা মাত্র ছিল; তাহার কয়েকটি ভিটাতে অল্প কয়েক ঘর লোক বাস করিত; অপরগুলো বন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। মনে এই প্রশ্নের উদয় হতো যে পরগণার মধ্যে আড়ুয়াকংশুর, করপাড়া, হাটবাড়িয়া প্রভৃতি গ্রাম উলপুর অপেক্ষা ভালো এবং উচ্চ থাকিতে মূল জমিদারগণ পরগণার এককোণে উলপুরে কেন তাহাদের বাসভূমি ও জামদারির কেন্দ্র করিলেন। পূর্বাবস্থা সম্যক আলোচনা করিয়া এখন মনে হয় তাদের এরূপ করার যথেষ্ট কারণ ছিল।

• সাহাপুর পরগণা বিলময় দুরাধিগম্য প্রদেশ হইলেও ভূষণা হইতে বাকরগঞ্জ পর্যন্ত যে রাস্তা [‘মুসলমান রাজত্বের শেষভাগে ও ইংরেজ রাজত্বের প্রথম আমলে এই দেশে একটি ভালো রাস্তা ছিল। ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে মেজর রেনেল বঙ্গদেশের যে মানচিত্র প্রস্তুত করেন তাহাকে উলপুর হইতে কোটালীপাড়ার মধ্য হইয়া বাকরগঞ্জ পর্যন্ত একটি রাস্তা (common road) বর্তমান থাকা দৃষ্ট হয়। এই রাস্তা ভূষণা হইতে আরম্ভ হইয়া জয়নগর, কালীনগর, মুকসুদপুর পর্যন্ত এসে, সেখান হইতে সোজা দক্ষিণ দিকে গান্দারহাটি, শিবরামপুর ও নিজেরহাট হইয়া উলপুর পর্যন্ত আসিয়া উলপুর হইতে দক্ষিণপূর্ব দিকে কামারপাড়া, তাড়াসী প্রভৃতি গ্রাম হইতে গৌরনদী ও তৎপর ইন্দ্রাকপুর, নলচিড়া, মাধবপাশা ও কাশীপুর হইয়া বাকরগঞ্জ পর্যন্ত গিয়া শেষ হইয়াছিল। কিন্তু ১০০ বছর পরে রেভিনিউ সার্ভে হইয়া যে মানচিত্র প্রস্তুত হয় তাহাতে ওইরূপ কোনো রাস্তার নির্দেশ ছিল না। এখন এইরূপ কোনো রাস্তা নাই। রেনেলের মানচিত্র হইতে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত আর একটি রাস্তা অঙ্কিত আছে। ওই মানচিত্র হইতে প্রতীয়মান হয় যে, মধুমতী তখন আড়পাড়া ও হরিদাসপুরের মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইত।] উলপুর তাহার পার্শ্বে অবস্থিত ছিল এবং উলপুর হইতে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত একটি রাস্তা ছিল।

• মধুমতী নদী হইতে সহজে উলপুরে যাতায়াত করা যাইতো। মধুমতী তখন উলপুরের আরও নিকটে ছিল। পরগণার অন্য কোনো গ্রামে (তেঁতুলিয়া ব্যতীত) শীত ও গ্রীষ্মকালে সহজে যাতায়াতের উপায় ছিল না। স্ত্রীলোক ও মালপত্র লইয়া অন্যসব গ্রামে যাওয়া নিতান্ত কষ্টকর ছিল।

• উলপুরে বেশি লোকের বাস ছিল না এবং হিন্দু ভিন্ন অন্য ধর্মাবলম্বী কোনো অধিবাসী ছিল না। সুতরাং অনেক লোককে বাস্তু হইতে উঠাইয়া দিবার প্রয়োজন ছিল না। এরূপ স্থানে নতুন উপনিবেশ স্থাপন সহজসাধ্য।’

সম্ভবত এই সমস্ত কারণে অন্যান্য বহুবিধ অসুবিধা সত্ত্বেও প্রথমাগত জমিদারগণ এই গ্রামেই তাদের বাস নির্দেশ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দক্ষিণ বাংলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি গোপাল চান্ডু শহরের সামান্য দক্ষিণে ৫৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। ২০০১ সালের ১৩ই জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় ১৯৯৯ সালের ১৫ই নভেম্বর এবং প্রকল্প পরিচালক নিযুক্ত হন প্রফেসর ড. এম খায়রুল আলম খান এবং তাঁকেই ১৪ই জুলাই ২০০১ সাল থেকে ভাইস্-চ্যান্সেলর নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ও জোট সরকার প্রকল্পটি স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালের নভেম্বরে পুনরায় প্রকল্পটি চালু হয় এবং শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর, উপাচার্য নিযুক্ত হন ড. খায়রুল আলম খান।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদের ১৪টি বিভাগে শিক্ষাদান করা হয়ে থাকে। অনুষদগুলো হলো- ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ ও হিউমানিটিজ ইনস্টিটিউট ১টির নাম বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজ।

বিভাগগুলো হলো :

১. কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

২. ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

৩. ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রনিক বিভাগ

৪. গণিত বিভাগ

৫. অ্যানালাইটিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল কেমিস্ট্রি বিভাগ

৬. পরিসংখ্যান বিভাগ

৭. ফার্মেসি বিভাগ

৮. অর্থনীতি বিভাগ

৯. সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

১০. লোকপ্রশাসন বিভাগ

১১. ব্যবস্থাপনা বিভাগ

১২. একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

১৩. ইংরেজি বিভাগ ও

১৪. বাংলা বিভাগ

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, ৩টি ছাত্র-ছাত্রী হল, উপাচার্য ভবন, ২টি ডরমিটরি, ক্যাফেটেরিয়া, মসজিদ, কর্মচারীদের বাসভবন, পানি শোধনাগার ও শহিদ মিনার। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ বেতার, গোপালগঞ্জ কেন্দ্ৰ

বেতার কর্তৃপক্ষ শহরে নির্ধারিত স্থানে কেন্দ্রটি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ করে এসেছে। এটি হবে ২০ কিলোওয়াট শক্তিসম্পন্ন এবং এফ এম ব্যান্ডে অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। মূলত গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কটকাকীর্ণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হচ্ছে।