গ. নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওড়-বাওড়

খ. ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ

গোপালগঞ্জ জেলাটি উত্তর গোলার্ধে নিরক্ষরেখা এবং কর্কটক্রান্তির মধ্যবর্তী ২২০৫২’ হতে ২৩০২২’ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৯০৩৮’ হতে ৯০০০৪’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ২৩ ফুট উঁচু। আয়তন ১৪৮৯.৯২ বর্গ কি.মি.। পূর্বে মাদারীপুর ও বরিশাল, দক্ষিণে পিরোজপুর ও বাগেরহাট, পশ্চিমে নড়াইল এবং উত্তরে ফরিদপুর জেলা। মাটির প্রকৃতি দোআঁশ ও বেলে ধরনের।

প্রাকৃতিক পরিবেশে গোপালগঞ্জ জেলাটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ। এই জনপদের বক্ষ বিদীর্ণ করে বয়ে গেছে অনেক নদ-নদী। ঘাঘর, মধুমতী, বারাসিয়া, মাদারীপুর বিলরুট ক্যানাল ও কুমার নদ তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখানকার সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নদ- নদীকে ঘিরে। হাওড়-বাওড়, বিল-ঝিল, দিঘি, পুষ্করিণী সৃষ্টি হয়ে অনেক ভিন্নতা এনে দিয়েছে এই জনপদটির। অনেক কিংবদন্তিও মিশে আছে এসব নদ-নদী ও জলাশয়কে ঘিরে। চান্দার বিল, বাঘিয়ার বিল ও বর্ণির বাওড় তারমধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে। ছোট ছোট সুশোভিত বনে সাজানো আছে অঞ্চলটি। তারমধ্যে টুঙ্গীপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা, শ্রীরামকান্দি, বাশুড়িয়া এবং পশ্চিম গোপালগঞ্জের শুচীডাঙ্গা ও তার আশপাশের এলাকাসমূহ উল্লেখযোগ্য। কাশিয়ানীর তিলছড়া, রাতৈল এবং ঘোনাপাড়া বন-বাদাড়ে আবৃত। সজারু, খাটাশ, বনবিড়াল ও শেয়াল এসব বনাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য প্রাণী। আগে এসব অঞ্চলে মেছো বাঘ, কাঠবিড়াল ও বনরুই প্রচুর দেখা যেত। কিছু কাঠবেড়াল এখনও চোখে পড়ে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পালেককান্দি (করপাড়া) গ্রামে বড় বড় বৃক্ষের শাখায় বাদুড় আগের মতোই আছে। বর্ণির বাওড় ও কাজুলিয়ার বিলে শীতের মৌসুমে অসংখ্য অতিথি পাখি এসে প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়। সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে জলে ভাসা গ্রামগুলো দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। বর্ষার দিনে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে নৌকায় যাতায়াত লক্ষ করা যায়। দক্ষিণবঙ্গের এটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বাড়ির আশপাশে ও পথে-প্রান্তরে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের সমারোহ কম না। দোয়েল, শ্যামা, কোকিল, ময়না ও নাম জানা-অজানা হরেক রকম পাখির কলকাকলিতে আজও প্রভাত বেলায় এই জনপদের ঘুম ভাঙে।