২২. অষ্টম দিনের যুদ্ধ

সঞ্জয় বলেন শুন অম্বিকা-নন্দন।
রজনী প্রভাতে তবে কুরু-পাণ্ডুগণ।।
প্রভাতে সাজিল সবে ভুবনে দুর্জ্জয়।
দিব্যরথে আরোহিলা গঙ্গার তনয়।।
কনক রচিত রথ সহোদরযুত।
আরোহিলা দুর্য্যোধন সমরে অদ্ভুত।।
দ্রোণ দ্রোণি কৃপ আদি যত বীরগণ।
যার যেই রথে আরোহিলা সর্ব্বজন।।
কপিধ্বজ রথে আরোহিলা ধনঞ্জয়।
গোবিন্দ সারথি বীর সমরে দুর্জ্জয়।।
গন্ধর্ব্ব অসুর আদি নানা অস্ত্রগণ।
যুদ্ধস্থানে আইল সবে নানা প্রহরণ।।
নকুলাদি বীরগণ কৈল আরোহণ।
যার যে বাহনেতে চড়িল যোধগণ।।
দুই দলে বাদ্য বাজে না হয় বর্ণন।
কর্ণপথ রুদ্ধ হৈল কাঁপে ত্রিভুবন।।
শঙ্খভেরী বাজে পড়া দুন্দুভি মাদল।
মেঘেতে গর্জ্জন যেন করিছে বাদল।।
ভেউরি ঝাঝরি বাজে বহু করতাল।
ঢাক ঢোল জগঝম্প বাজে ত কাহাল।।
দগড় ডিণ্ডিমি আদি বাজে বাদ্যগণ।
ধনুক টঙ্কার যেন মেঘের গর্জ্জন।।
সৈন্যের পদের ভরে কাঁপয়ে মেদিনী।
মহাশব্দ কোলাহলে কর্ণে নাহি শুনি।।
তবে ভীষ্ম মহাবল গঙ্গার নন্দন।
সোমদত্ত বাহ্লীকাদি যত বীরগণ।।
মধ্যশৃঙ্গে দুর্য্যোধন সহোদর শত।
ব্যূহঅগ্রে গঙ্গাপুত্র সমরে অদ্ভুত।।
ভগদত্ত ত্রিগর্ত্তাদি যত বীরগণ।
পূর্ব্বশৃঙ্গে বীরভাগ সংগ্রামে নিপুণ।।
ততোধিক ব্যূহ কৈল ইন্দ্রের নন্দন।
স্থানে স্থানে বুঝিয়া রাখিল সেনাগণ।।
মধ্যশৃঙ্গে রহিলেন বীর বৃকোদর।
চক্রবক্র চেকিতান সুভদ্রা কোঙর।।
বামশৃঙ্গে সাত্যকি দ্রুপদ নরপতি।
ধৃষ্টদ্যুম্ন সত্রাজিত বিরাট প্রভৃতি।।
দক্ষিণ শৃঙ্গেতে রহে ভোজবংশপতি।
বৃহন্নল ঘটোৎকচ কেকয় প্রভৃতি।।
সহস্র সহস্র রথী সঙ্গে পরিবার।
পূর্ব্ব শৃঙ্গে যুধিষ্ঠির ধর্ম্মের কুমার।।
ব্যূহমুখে ধনঞ্জয় সমরে দুর্জ্জয়।
মেঘের মধ্যেতে যেন অরুণ উদয়।।
দেখাদেখি দুই দলে বাজিল সমর।
নানা অস্ত্র এড়ে যেন বর্ষে জলধর।।
এইরূপ বাণবৃষ্টি না হয় বর্ণন।
ক্রোধভরে দুই দলে করে বরিষণ।।
শরজালে অন্ধকার হইল গগন।
অস্ত্রে অস্ত্রে আচ্ছাদিল না দেখি তপন।।
তবে ভীষ্ম মহাবীর প্রতাপে তপন।
আকর্ণ পূরিয়া টঙ্কারিল ধনুর্গুণ।।
শেল শূল শক্তি জাঠি মুষল মুদগর।
নারাচ ভূষণ্ডী গদা পরিঘ তোমর।।
নিরন্তর বৃষ্টি করে সৈন্যের উপর।
বরিষা-কালেতে যেন বর্ষে জলধর।।
কাহারো কাটিল শির কুণ্ডল সহিতে।
ধনুঃশর কাটি কারে পাড়িল ভূমিতে।।
মধ্যদেশ কাটিয়া পাড়িল কত বীরে।
এইরূপে কত যোদ্ধা পড়ে রণ করে।।
কাহারো শ্রবণ কাটে কারো কাটে জানু।
কাহারো কবচ কাটো কারো কাটে তনু।।
শত শত মহারথী দিল যমঘরে।
রক্তে নদী বহে সৈন্য রক্তেতে সাঁতারে।।
শকুনি গৃধিনীগণে ছাইল অম্বর।
অসংখ্য কবন্ধ উঠে হাতে ধনুঃশর।।
না পারে সহিতে যুদ্ধ পাণ্ডু-সৈন্যগণ।
পলাইয়া নিল সবে ভীমের শরণ।।
ক্রোধ হৈল ভীমসেন সমর ভিতর।
রথ চালাইয়া দিল ভীষ্মের গোচর।।
ভীমে দেখি হাতে অস্ত্র নিল ভীষ্ম বীর।
নানা অস্ত্র মারি বিন্ধে ভীমের শরীর।।
হাসি বীর বৃকোদর পূরিল সন্ধান।
দশ বাণ মারে পিতামহ বিদ্যমান।।
বিক্রমে বিশাল বীর ভীম মহামতি।
শরেতে জর্জ্জর কৈল ভীষ্মের সারথি।।
শরে আবরিত ভীষ্মে না দেখি যে আর।
বিষাদেতে কুরুকুলে হৈল হাহাকার।।
ত্র্যস্ত হৈল লৈয়া রাজা ধাইল সত্বর।
ভীষ্মের সাহায্য হেতু বেড়িল ভীমেরে।।
নানাবিধ অস্ত্রগণ বরিষে সমরে।
শক্তি জাঠি নানাচাদি পরিঘ তোমর।।
ব্রহ্মজাল রুদ্রজাল মুষল মুদগর।
নিরন্তর এড়ে অস্ত্র ভীমের উপর।
বরিষা-কালেতে যেন বর্ষে জলধর।।
হাসি বীর বৃকোদর পূরিল সন্ধান।
বাণে বাণে হানিয়া করিল খান খান।।
যেন বায়ু নিবারণ কৈল ঘোর ঘন।
বৃষ্টিজলে বিদলিত নলিনী যেমন।।
সবাকার অস্ত্র বীর কৈল খণ্ড খণ্ড।
নিজ অস্ত্র হাতে নিল যেন যমদণ্ড।।
নিমিষেতে শরজালে পূরিল আকাশ।
শূন্যপথে রুদ্ধ কৈল না চলে বাতাস।।
ভীমের বিক্রমে ভয় পাইল কুরুগণ।
ক্রোধ করি অস্ত্র নিল রাজা দুর্য্যোধন।।
জয়নাম পালিক লইল দুই বাণ।
ভীমের উপরে বীর পূরিল সন্ধান।।
এড়িলেক অস্ত্র যেন যমের সমান।
দুই বাণে বৃকোদর কৈল খান খান।।
অতি ক্রোধে ভীম এড়ে দিব্য ভল্ল শর।
নিবারিতে না পারিল কৌরব-কোঙর।।
কবচ ভেদিয়া অস্ত্র ভেদিল শরীরে।
মূর্চ্ছিত হইয়া পড়ে রথের উপরে।।
মূর্চ্ছা গেল দুর্য্যোধন ভীম পাইল আশ।
নির্ম্মল আকাশে যেন সূর্য্যের প্রকাশ।।
ক্রোধে ঘটোৎকচ বীর করে মহামার।
আষাঢ় শ্রাবণে যেন বর্ষে জলধর।।
নিমিষেকে শরজালে ছাইল আকাশ।
রুধিল মরুত-পথ না চলে বাতাস।।
ত্রাস পাইল সৈন্যগণ ভঙ্গ দিল রণে।
ক্রোধ হয়ে অলম্বুষ প্রবেশিল রণে।।
রচিয়া রাক্ষসী মায়া মহা বিচক্ষণ।
অলম্বুষ ঘটোৎকচে হৈল মহারণ।।
মহাবল ঘটোৎকচ হিড়িম্বা নন্দন।
যুদ্ধে পরাভব কৈল রাক্ষস দুর্জ্জন।।
মায়াতেজে বলবান ঘটোৎকচ বীর।
খণ্ড খণ্ড কৈল অলম্বুষের শরীর।।
সর্ব্বাঙ্গে রুধির ধারা হৈল অচেতন।
রথ লয়ে সারথি বাহুড়ে ততক্ষণ।।
সব কুরুসৈন্য যায় পলাইয়া বেগে।
হেন বীর নাহি যুঝে ঘটোৎকচ আগে।।
তবে দ্রোণে চাহি বলে ভীষ্ম মহামতি।
আজিকার যুদ্ধে মোর নাহি লয় মতি।।
ক্রোধ করি ভগদত্ত প্রবেশিল রণে।
সন্ধান পূরিয়া বাণ করে বরিষণে।।
দিব্য অস্ত্রশিক্ষা বীর সমরে প্রচণ্ড।
বাণে বাণে অভিমন্যু কৈল খণ্ড খণ্ড।।
শর হানি জর্জ্জরিত কৈল গজ মত্ত।
আপনা রাখিতে নারে রাজা ভগদত্ত।।
শোণিত বহয়ে ধারে মহাগজবর।
অরুণ-কিরণ যেন মেঘের উপর।।
পর্ব্বত প্রমাণ অঙ্গ ঐরাবত সম।
সুবিপুল মহাকায় বিশাল বিক্রম।।
ক্রোধে ভগদত্ত বীর গজ টোয়াইল।
সকল পাণ্ডবসৈন্য বিকল হইল।।
বেগে ধায় গজবর ক্ষিতি কাঁপে ভরে।
সকল পাণ্ডবসৈন্য ভঙ্গ দিল রড়ে।।
আকর্ণ পূরিয়া বাণ মারে বৃকোদর।
বাণবৃষ্টি করে ভগদত্তের উপর।।
বরিষা-কালেতে যেন বর্ষে জলধর।
মূর্চ্ছা হৈল ভগদত্ত গজের উপর।।
তবে কৃতবর্ম্মা শল্য আদি যত বীর।
শরজালে আবরিল ভীমের শরীর।।
ব্যস্ত হৈল যুধিষ্ঠির ধর্ম্মের নন্দন।
ঘটোৎকচে ডাকি আজ্ঞা দিল ততক্ষণ।।
শীঘ্রগতি যাহ তাত যথা বৃকোদর।
ভগদত্তে সংহারহ করিয়া সমর।।
আজ্ঞামাত্র ঘটোৎকচ ধায় ততক্ষণ।
করিল রাক্ষসী মায়া অদ্ভুত রচন।।
বামশৃঙ্গে যুদ্ধ করে দ্রোণের নন্দন।
শিখণ্ডী সহিত যুঝে প্রতিজ্ঞা কারণ।।
মহাবীর শিখণ্ডী সে সমরে প্রচণ্ড।
দ্রৌণির হাতের ধনু কৈল খণ্ড খণ্ড।।
ধনু কাটা গেল বীর ক্রোধ হৈল মনে।
শক্তি ফেলে শিখণ্ডীরে হানে ততক্ষণে।।
দুই বাণে শক্তি কাটি কৈল খান খান।
অর্দ্ধচন্দ্র বাণ পুনঃ পূরিল সন্ধান।।
ধ্বজচ্ছত্র সংগ্রামে কাটিয়া মহাবীর।
কবচ ভেদিয়া বিন্ধে দ্রৌণির শরীর।।
সর্ব্বাঙ্গে রুধির বহে দ্রোহের নন্দন।
ক্রোধে গদা লয়ে বীর ধায় বায়ুবেগে।
সিংহ যেন মারিবারে ধায় হীন মৃগে।।
চারি অশ্ব মারিল মারিয়া গদাবাড়ি।
কোপে ধরি শিখণ্ডীরে ভূমিতলে পাড়ি।।
খড়্গ হাতে লৈল বীর হানিবার তরে।
হেনকালে ধৃষ্টদ্যুম্ন আইল সত্বরে।।
বাণে হানি খড়্গচর্ম্ম কৈল খণ্ড খণ্ড।
দ্রোণপুত্রে বিন্ধিলেক যেন যমদণ্ড।।
অবসর শিখণ্ডী পাইল কিছু তাথে।
ধেয়ে গিয়া উঠে বীর সত্রাজিত রথে।।
ধৃষ্টদ্যুম্ন-দ্রৌণিতে হইল মহারণ।
ক্রোধে ধৃষ্টদ্যুম্ন করে অস্ত্র বরিষণ।।
শরজালে দ্রোণপুত্রে কৈল আবরণ।
পুত্রের সাহায্য হেতু আইল গুরু দ্রোণ।।
ধৃষ্টদ্যুম্ন দ্রোণ দোঁহে হৈল মহারণ।
দোঁহাকার অস্ত্রবৃষ্টি না হয় বর্ণন।।
শেল শূল শক্তি জাঠি মুষল মুদগর।
নানা অস্ত্র বর্ষে দোঁহে দোঁহার উপর।।
দোঁহাকার বাণ নিবারয়ে দুইজন।
দোঁহে মহাবীর্য্যবন্ত দোঁহে বিচক্ষণ।।
কতক্ষণে বৃকোদর পূরিল সন্ধান।
বাণে বাণ কাটিয়া করিল খান খান।।
অন্য ধনু লৈল তবে দ্রোণের কোঙর।
সেই ধনু দুই বাণে কাটে বৃকোদর।।
কবচ কাটিয়া বিন্ধে তাহার শরীর।
পুনরপি দিব্য অস্ত্র এড়ে মহাবীর।।
সর্ব্বাঙ্গে রুধির বহে হৈল অচেতন।
অবসর পাইল ভীম পবন-নন্দন।।
ত্রাস পেয়ে দুর্য্যোধন পলায় সত্বর।
ভীষ্মের শরণ লয়ে রাখে কলেবর।।
ভয়ঙ্কর মূর্ত্তি ভীম দেখি লাগে ভয়।
কার শক্তি আছে তারে অগ্রে স্থির রয়।।
ভীষ্ম বলে স্থির হয়ে যুঝ দুর্য্যোধন।
হেন দেখ বেগে আসিতেছে কৃর্ষ্ণার্জ্জুন।।
শীঘ্র যাই আমি তার প্রবোধ কারণ।
আজিকার রণে সংহারিব পাণ্ডুগণ।।
এত বলি প্রবোধিয়া রাজা দুর্য্যোধন।
রথ চালাইয়া দিল যথা কৃষ্ণার্জ্জুন।।
দুই জন সমাগমে হৈল মহারণ।
দোঁহাকার বাণবৃষ্টি না হয় বর্ণন।।
আকর্ণ পূরিয়া দোঁহে এড়ে দিব্য শর।
কাদম্বিনী বর্ষে যেন পর্ব্বত উপর।।
ক্রোধে ভীষ্ম মহাবীর পূরিল সন্ধান।
ভৈল নামে ধনুকেতে যোড়ে দিব্য বাণ।।
শীঘ্রগতি ধনঞ্জয় ইন্দ্রের নন্দন।
বাণ সহ ভীষ্মের কাটিল শরাসন।।
আর ধনু লৈয়া ভীষ্ম বরিষয়ে শর।
বাণে আচ্ছাদিল কৃষ্ণার্জ্জুন কলেবর।।
কুজঝটিতে আচ্ছাদিল যেন গিরিবর।
দেখা নাহি যায় পার্থে সংগ্রাম ভিতর।।
বশিষ্ঠের শিক্ষা বাণ উগ্র রুদ্রজানু।
আকর্ণ পূরিয়া বিন্ধে গোবিন্দের তনু।।
সর্ব্বাঙ্গ বহিয়া ধারে বহিছে রুধির।
স্ফুটিতে কিংশুক যেন কৃষ্ণের শরীর।।
ক্রোধে বীর গঙ্গাপুত্র সমরে প্রখর।
পুনরপি বিন্ধিলেক পার্থ কলেবর।।
কবচ কাটিয়া অস্ত্র রহিল শরীরে।
মূর্চ্ছা হৈয়ে পড়ে পার্থ রথের উপরে।।
ব্যস্ত হৈল নারায়ণ দেবকী-নন্দন।
অবসর পেয়ে ভীষ্ম বর্ষে অস্ত্রগণ।।
শেল শূল শক্তি জাঠা মুষল মুদগর।
পরশু ভূষণ্ডী গদা নারাচ তোমর।।
শিলীমুখ পরিঘাদি নানা অস্ত্রগণ।
সৈন্যের উপরে বর্ষে বাণ অনুক্ষণ।।
খণ্ড খণ্ড করিলেক অপ্রমিত সেনা।
রুধিরে বহিয়া যায় শোণিতের ফেনা।।
রথী মহারথিগণ পড়িল বিস্তর।
লেখা নাহি যায় কত হাতে ধনুঃশর।।
শকুনি গৃধিনীগণে ছাইল অম্বর।
হস্তী সব ভাসি বুলে রক্তের উপর।।
শৃগাল-কুক্কুরগণ করে কোলাহল।
ভয় পেয়ে ভঙ্গ দিল পাণ্ডবের দল।।
অভিমন্যু ধৃষ্টকেতু আদি বীরগণ।
শীঘ্রগতি আইল পার্থ সাহায্য কারণ।।
ভীষ্মের উপরে সবে এড়ে দিব্য বাণ।
গগনে আইসে বাণ করিয়া গর্জ্জন।।
শীঘ্রহস্ত গঙ্গাপুত্র সমরে দুর্ব্বার।
অস্ত্রে অস্ত্র কাটিয়া করিল মার মার।।
দ্বিতীয় প্রহর যুদ্ধ না হয় বর্ণন।
দোঁহে দোঁহাপরি বাণ করে বরিষণ।।
দুই দলে পড়িল অনেক সৈন্যগণ।
মহারথী পদাতিক না হয় গণন।।
হেনকালে ইলাবন্ত অর্জ্জুন-নন্দন।
স্বর্গ হৈতে আইল যেন যম-দরশন।।
বনবাস কাল যবে বীর ধনঞ্জয়।
অস্ত্রশিক্ষা হেতু গিয়াছিল ইন্দ্রালয়।।
সেইকালে জানুপদী নামে বিদ্যাধরী।
অর্জ্জুনে বরিল সেই হৈয়া স্বেচ্ছাচারী।।
তাহার গর্ভেতে জন্ম হইল নন্দন।
স্বর্গ হৈতে মর্ত্ত্যে যবে আইল অর্জ্জুন।।
বাপের অগ্রেতে সত্য ছিল সেইকালে।
যুদ্ধের সময় বুঝি যাব রণস্থলে।।
ইলাবন্ত দেখি পার্থ আনন্দিত মনে।
বাপে প্রণমিয়া বীর প্রবিশিল রণে।।
নানাবিধ অস্ত্র বর্ষে ভীষ্মের উপর।
বরিষার কালে যেন বর্ষে জলধর।।
শিলী রুদ্রমুখ ভৈল আদি অস্ত্রগণে।
বিন্ধিয়া জর্জ্জর কৈল গঙ্গার নন্দনে।।
মোহ গেল ভীষ্ম বীর খেয়ে তার বাণ।
কুরু-সৈন্যগণে বিন্ধে করিয়া সন্ধান।।
শত শত মহারথী সমরে মারিল।
তাহার বিক্রম দেখি ভীষ্মে ক্রোধ হৈল।।
ডাক দিয়া ভীষ্ম বলে শুন ইলাবন্ত।
ক্ষণেক থাকিয়া যুঝ শুনরে দুরন্ত।।
বশিষ্ঠের দত্ত এই নাম রুদ্রবাণ।
এই অস্ত্রে আজি তোর লইব পরাণ।।
এত বলি ভীষ্ম বাণ যুড়িল ধনুকে।
ক্ষণে ক্ষণে অগ্নিবৃষ্টি হয় অস্ত্রমুখে।।
আকর্ণ পূরিয়া ভীষ্ম এড়ে দিব্য শর।
নিবারিতে নারে অস্ত্র হইল ফাঁফর।।
মস্তক কাটিয়া অস্ত্র ফিরি আইল তূণে।
রথ হৈতে ইলাবন্ত পড়ে ততক্ষণে।।
হাহাকার শব্দ কৈল পাণ্ডু-সৈন্যগণ।
পুত্রশোকে রুষিলেন ইন্দ্রের নন্দন।।
পুনরপি ভীষ্মের সহিত কৈল রণ।
দোঁহাকার বাণবৃষ্টি না হয় বর্ণন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *