সপ্তম পরিচ্ছেদ – নারীদের সুখ দুঃখের লক্ষণ বর্ণনা
কি কি লক্ষণ পুরুষের দেহে থাকলে সে সুখী হয় আর কি কি লক্ষণ থাকলে সে দুঃখ পায়, এর আগে মহাদেব সে বিষয়ে বিস্তৃত বর্ণনা করলেন।
এবারে নারীজাতির দেহে কি কি চিহ্ন থাকলে তারা সুখী হয় আর কি কি চিহ্নের ফলে তারা দুঃখ পায়, মহাদেব একে একে তার বর্ণনা করতে লাগলেন। যে নারীর যোনি কূর্মপৃষ্ঠের মত (কচ্ছপের পিঠের মত) অথবা গজ স্কন্ধের (হাতীর কাঁধের) মত, সে যাবজ্জীবন পরম সুখে দিন কাটায়।
কচ্ছপের পিঠের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তার অর্থ—যদি ভগদেশ উচ্চ ও পুষ্ট হয় তাহলে তা দৃঢ়সংবদ্ধ ও উঁচু অর্থাৎ কচ্ছপের পিঠের মত দেখাবে নিশ্চয়ই। হাতীয় কাঁধ আর কচ্ছপের পিঠ অনেকটা একই রকম দেখতে হয়।
এই ধরনের নারীরা পতিপরায়না হয় এবং দাম্পত্য জীবনে তারা সুখী হয়, ইহাই শাস্ত্ৰবচন।
মূত্রজঃ কুৰ্ম্মপৃষ্টাভঃ করিষ্কন্ধসমস্তথা।
স সুখভাগিনী যস্যাঃ রতিশাস্ত্রে প্রকীর্ত্তিতম্ ॥
নারীর কক্ষপ্রদেশ (অর্থাৎ তলপেট থেকে উরুর উপরি-ভাগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ) যদি অশ্বত্থপাতার মত আকৃতিবিশিষ্ট (অনেকটা পানের পাতার মত) হয় এবং তাতে ঊর্ধ্ব লোম (খাঁচা খোঁচা লোম) পূর্ণ হয়ে থাকে তবে সে নারী নিশ্চয়ই পরম সুখের অধিকারিণী হয়, এতে সন্দেহ নাই। সুধী অর্থাৎ মনীষী ব্যক্তিগণ সকলে রতিশাস্ত্রসম্মত এই বিধান সমর্থন করে থাকেন।
কক্ষোহশ্বত্থদলাকার উর্দ্ধলোমসমন্বিতা।
সুধীভিঃ কথিকা যস্যাঃ শুভা সা সুখভাগিনী ॥
যে নারীর জঙ্ঘা দুটি সুন্দরভাবে গোলাকার, মসৃণ, সোজা আর লোমশূন্য হয়, আর সেই সঙ্গে দুটি জানু সমান হয় অর্থাৎ ছোট বড় বা পৃথক না হয়, সেই নারীর পরম সুখে দিন কাটতে থাকে।
সুবৃত্তে সরলে চৈব জঙ্ঘে লোমবিবর্জ্জিতে।
সমঞ্চ জানুযুগলং সা ভবে সুখভাগিনী ॥
এবারে পায়ের তলের কয়েকটি চিহ্ন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। যে নারীর পায়ের তল পদ্মের মত অর্থাৎ কোমল, মসৃণ, গোলগাল এবং সুদর্শন, সে সুখের অধিকারিণী হয়। পায়ের সঙ্গে পদ্মের তুলনা রতিশাস্ত্রেই করা হয়েছে—অবশ্য হাতের সঙ্গে পদ্মের তুলনা অন্যান্য শাস্ত্রে করা হয়েছে।
পায়ের তলভাগে যদি বজ্রচিহ্ন হলচিহ্ন বা পদ্মচিহ্ন থাকে তবে তা খুবই শুভ। এরূপ চিহ্নবিশিষ্ট নারীকে উচ্চস্তরের নারী বলে জানতে হবে। নীচকূলে তাদের জন্ম হলেও তারা পরম সুখে দিন কাটাবে—এ বিষয়ে সন্দেহমাত্র নেই। সে নারী রাজপত্নী হবার উপযুক্ত।
বজ্ৰাজ-হল চিহ্নঞ্চ মস্যাঃ পাদতলে স্থিতম।
রাজপত্নী তু সা জ্ঞেয়া রাজভোগ-প্রদায়কম্ ॥
যে নারীর দাঁতগুলি চকচকে সুন্দর সাজান, দাঁতের মধ্যে ফাঁক না থাকে অর্থাৎ দাঁতগুলি ঠিক কুন্দফুলের মত দেখায়, যার কন্ঠের স্বর সুমিষ্ট (অর্থাৎ ঘ্যান ঘ্যানে নাকি সুর কিংবা কর্কশ স্বর যার কণ্ঠে বের হয় না)—কন্ঠের স্বর ঠিক বাঁশীর ধ্বনির মত মিষ্ট ও মনোহর, সে নারী সুখভাগিনী হয়ে থাকে।
এছাড়া রতিশাস্ত্রে আরও লক্ষণ বর্ণনা করেছেন মহাদেব। নারীর বদনমন্ডল বেশি লম্বাটে, চোয়াড়ে বা গালভাঙ্গা এগুলি ভাল চিহ্ন নয়, আবার ঠিক চাঁদের মত গোলও ভাল নয় (যদিও কবিরা চন্দ্রমুখী বলে নারীর উপমা দেন, কিন্তু রতিশাস্ত্রমতে তা সুলক্ষণ নয়)। যে নারীর বদনমন্ডল ঠিক বর্তুলাকার, সেটি খুব ভাল লক্ষণ।
বর্তুলাকার মোটামুটি গোল তবে একটু চাপা। অধর ওষ্ঠ নারীর বিম্বের মত টকটকে লাল হওয়া খুব ভাল রতিশাস্ত্রমতে।
নারীর দুটি নাকের ছিদ্র সমান হওয়া ভাল লক্ষণ—ছোট বড় হওয়া ভাল লক্ষণ নয়।
উপরে বর্ণিত সমস্ত লক্ষণ যে নারীর দেহে থাকে, সে পরম সুখে দিন কাটায়। শাস্ত্রোক্ত ভাষায়:
কুন্দপুষ্পসমা দন্তাঃ স্বরেণ বংশিকাসমা।
মুখং হি বৰ্ত্তুলং চৈব অধরৌ বিম্বসন্নিভৌ।
তথা সমপূর্য্য নাসা ভবেদ্ বৈ সুখভাগিনী।
যদি কোনও নারীর চক্ষুপল্লবের উপরে গৌরবর্ণ (সাদা) রেখা দেখা যায় তবে সে নারী দুঃখভাগিনী হয়ে থাকে, এতে কোনও সংশয় নেই।
গৌরবর্ণা চ যা রেখা যদি স্যাৎ নেত্রসংস্থিতা।
সা নারী দুঃখভাগিনী নাত্র কার্য্য বিচারণা ॥
যে নারীর দুটি চোখ নীল উৎপলের মত (অর্থাৎ নীল রঙের পদ্মের মত) বিস্তৃত, এবং তার দুটি প্রান্ত ক্রমশঃ সরু হয়ে গেছে, সে নারী যাবজ্জীবন সুখভোগ করে। পদ্মের মত চোখ অর্থাৎ টানা টানা চোখ যা খুললেও সম্পূর্ণ খোলে না—অনেকটা যাকে হরিণীনয়না বলে শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে এরূপ চোখ সুলক্ষণাযুক্ত।
এরূপ চোখ দুটি নাকের দু পাশের সঙ্গে সংলগ্ন হবে এবং টানা টানা হওয়ায় যেন আকর্ষণ বিস্তৃত বলে মনে হবে।
এমনি সুন্দর চোখের অধিকারিণী নারী প্রচুর বিদ্যা অর্জন করে এবং পরম সুখে দিন কাটায়।
নীলোৎপলনিভঃ চক্ষুর্নাসালগ্নং সলম্বকম।
পৃথুলে বালেন্দুনিভে তাং বিদ্যা সুখভাগিনীম।।
যে নারীর চুলগুলি আপনা থেকেই তেল-ভেজানো চুলের মত মসৃণ, চিক্কন ও কোমল থাকে—অর্থাৎ তেলে না ভেজালেও তৈলাক্তের মত দেখায় এবং সেই চুলগুলি নীলবর্ণ ও কুঞ্চিত থাকে, সে রমণী চিরসুখ-ভাগিনী হয়—সেই নারীকে সব নারীদের মধ্যে অগ্রগণ্যা বলা হয়ে থাকে। শাস্ত্রে তাকে রমণীশ্রেষ্ঠা বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
স্নিগ্ধা নীলাশ্চ মৃদবো মুর্দ্ধজোঃ কুঞ্চিতাস্তথা।
ধ্রুবং সা রমণীশ্রেষ্ঠা চিরং সুখস্য ভাগিনী।
হাঁটবার সময় যে নারীর দুটি পায়ের কনিষ্ঠা আর অনামিকা এই দুটি আঙুল ভূমি স্পর্শ করে না, সেই নারীকে কুলটা বলে জানা উচিত। যে নারীর সারা জীবন ধরে নানা দুঃখ ভোগ করে থাকে।
কনিষ্ঠিকা গতৌ যস্যাঃ অথবানামিকাঙ্গুলিঃ।
ন স্পৃশতি ধরাং সৈব কুলটা দুঃভাগিনী।।
যদিও কোন নারীর দুটি চোখ কেকরা অর্থাৎ ট্যারা হয়, সে নারীর স্বভাব প্রচন্ড অর্থাৎ তার কন্ঠস্বর ব্যবহার ইত্যাদি তীব্র হয়ে থকে। উগ্রভাবে সে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায় এবং নানা লোকের নিন্দাভাগিনী হয়।
যদি কোনও নারীর গলা ছোট এবং স্থূল হয় তবে সে আজীবন মহাদুঃখ ভোগ করে জনসমাজে ঘুরে বেড়ায়। গলা স্থূল অর্থে ছোট এবং মোটা ঘাড়বিশিষ্ট গলা বোঝান হয়েছে। শাস্ত্রোক্ত ভাষায় :
নয়নে কেকরে যস্যাঃ সা প্রচন্ডস্বভাবিকা।
স্থূলগন্ডাঃ চ যা নারী সা হি জীবনদুঃখিনী ॥
যদি নারী হাসলে তার গলা কূপ পড়ে অর্থাৎ টোল পড়ে তবে এটি অত্যন্ত কুলক্ষণ বলে জানতে হবে। টোল বা কূপ বলতে এখানে সামান্য খাঁজ নয়, গোলাকার গভীর গর্তকে কূপ বলা হয়ে থাকে।
এই শ্রেণীর নারীরা নিশ্চয়ই ব্যাভিচারিণী হয় তারা যত দিন বেঁচে থাকে মহাকষ্টে দিন কাটায়।
হাসতে গন্ডয়োশ্চৈব সীতে কূপে ভবিষ্যতঃ।
কুলটা সা ভবেন্নারী আজন্ম-দুঃখ-ভাগিনী ॥
নারীর হাতে অর্থাৎ করতলে কনিষ্ঠার নিচে থেকে তর্জনীর দিকে যে রেখাটি যায় অর্থাৎ যাকে রতিশাস্ত্র অনুয়ারী আয়ুরেখা বা জ্যোতিষ শাস্ত্রে হৃদয়রেখা বলে। এই রেখা যদি কোন জায়গায় কাটা না থাকে অর্থাৎ ছিন্ন হয়ে না যায় তাহলে সে ঐশ্বয্যে পূর্ণ হয়ে পরম সুখে দিন কাটায়। জীবনে যে নারীকে কখনও দুঃখ ভোগ করতে হয় না। এটাই শাস্ত্রের কথা।
কনিষ্ঠাতর্জ্জনীং যাবৎ রেখা ভবতি চাক্ষতা।
সা সুখী সুখভাগিনী সর্ব্বৈশ্বৰ্য-সমন্বিতা ॥
এবারে মহাদেব তাঁর রতিশাস্ত্রে নারীর এমন একটি লক্ষণ বর্ণনা করলেন যা অত্যন্ত খারাপ লক্ষণ। এর লক্ষণ যদিও খুব বেশি দেখা যায় না, তবু যে সব নারীর দেহে এই চিহ্ন দেখা যায় তাদের দুঃখকষ্টের শেষ থাকে না।
যদি কোন নারীর একটি কান ছোট অন্যটি বড় হয় অর্থাৎ দুটি কান সমান না হয়ে ছোট বড় হয় আর তার স্তনদ্বয়ে লোম জন্মে, সেই নারী যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিন তাকে মহাক্লেশে দিন কাটাতে হয়। চিরদিন তাকে চোখের জলে ভাসতে হয়।
বিষমৌ শ্রবলোযস্যাঃ স্তনৌ রোমসমন্বিতৌ।
জীবন্তী জীবনং দেবি তস্যাঃ ক্লেশায় কেবলম্ ॥
যে নারীর করতলে মীনরেখা বা মাছের আকৃতির রেখা থাকে সে সুভগা, স্বস্তিক চিহ্ন থাকলে কুলের যশ বৃদ্ধিকারী সন্তানের জননী হয়। যার হাতে পদ্মচিহ্ন থাকে সেই নারী রাজমহিষী (রাজার স্ত্রী) হয়। তার গর্ভে যে ছেলে হয় সেও বিখ্যাত হয় এবং রাজপদ প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
যে নারীর হাতে প্রাকার বা তোরণের চিহ্ন থাকে সে যদি খুব গরীবও হয় এমন কি দাসকূলে জন্ম নিলেও সে পরম সৌভাগ্য লাভ করবে। রাজরাণীর মত ধনীর ঘরে তার বিবাহ হবে এবং সে রাজরাণী পর্যন্ত হতে পারে।
মৎস্যেন সুভগা নারী স্বস্তিকেন চ সুপ্রজা।
পদ্মেন ভূপতেঃ পত্নী জনয়েৎ ভূপতিংসুতং ॥
প্রকারতোরণং রেখা যস্যাঃ পাণিতলে ভবেৎ।
অপি দাসকুলের জাতাঃ রাজ্ঞিত্ব মধিগচ্ছতি ॥
যে নারীর হাতে ত্রিশূল, খড়গ, শক্তি বা দুন্দুভির রেখা থাকে সেই নারী পৃথিবীর মধ্যে কীৰ্ত্তিশালিনী হয়। নারীর হাতে অঙ্কুশকুন্ডল মাছের চিহ্ন থাকলে সেই নারীর পতি দীর্ঘদিন জীবিত থাকে। সে নিজেও বহুসন্তানের জননী হয়ে সুখে দিন কাটায়।
ত্রিশূলাসি গদাশক্তি দুন্দুভ্যাকৃতিরেখয়া।
নিতস্বিনী কীর্তিমতী সা নারী পৃথিবীতলে।।
অঙ্কুশং কুন্ডলং যানং যস্যা পাণিতলে ভবেৎ।
দীর্ঘায়ুষঃ পতিং প্রাপ্য পুত্রবৃদ্ধিঃ ভবেৎ ধ্রুব ॥
যে নারীর হাতে বজ্র আর প্রাসাদের রেখা থাকে সে নারী তীর্থকর পুত্র পায়—অর্থাৎ তার পুত্র তাকে বহু তীর্থ ভ্রমণ করায়। যার হাতে শকট বা মৃগ চিহ্ন থাকে সে নারী কৃষকের পত্নী হয়ে মোটামুটি অবস্থায় দিন কাটায়।
প্রাসাদ বজ্রাভা রেখা সুতে তীর্থকরং সুতং।
কৃষীবলস্য পত্নী স্যাৎ শকটেন মৃগেণ বা ॥
যে নারীর পায়ের নীচে বা চরণতলে লম্বা বিস্তৃত রেখা থাকে সে রাজার স্ত্রী হয়ে থাকে। যে নারীর পায়ের গড়ন স্নেহযুক্ত অর্থাৎ চাকচিক্যশালী, মনোহর, উন্নত ও তাম্রবর্ণ নখযুক্ত হয় আর দুটি পায়ের তলে মীন, অঙ্কুশ, রক্ত, লাঙ্গল প্রভৃতি চিহ্ন বিদ্যমান থাকে, সেই নারী কল্যানকারিণী হয়। সে পরিবারের সকলের সুখবৃদ্ধি করে এবং নিজেও সুখী হয়।
যস্যাঃ পাদতলে রেখা সা ভবেৎ ক্ষিতিপাঙ্গনা।
তাম্রনখৌ স্নিগ্ধন্নতৌ নার্য্যশ্চ চরণৌ শুভৌ।
মৎস্য অঙ্কুশজচিহ্নৌ চক্রলাঙ্গল লক্ষিতৌ ॥
যে নারীর অঙ্গুলি খুব দীর্ঘ সে কুলটা হয়ে থাকে।
যে নারীর পায়ের আঙ্গুলগুলি কৃশ বা সরু সরু, সে নারী অত্যন্ত ধনহীনা বা গরীব হয়ে থাকে। যে নারীর পায়ের আঙ্গুলগুলি ছোট ছোট সে বেশিদিন জীবিত থাকে না। তাকে অল্পদিনের মধ্যে ইহলীলা শেষ করতে হয়। আর যে নারীর পায়ের আঙ্গুলগুলি কুটিল বা আকাবাঁকা ও মোটা গাঁটযুক্ত, সে ভগ্ন অবস্থায় সারা জীবন অতিবাহিত করে। শাস্ত্রের ভাষায়-
দীর্ঘাঙ্গুলিভিঃ কুলটা কৃশাভিরতিনির্ধনা।
হ্রস্বায়ুষ্যা চ হ্রস্বাভিভুন্নাভির্ভুন্নবর্ত্তিনী ॥
যে নারীর নিতম্ব বেশ উন্নত ও মৃগীর মত চতুরস্র সেই নারী কল্যানকারিণী হয়ে থাকে।
যে নারীর নিতম্ব উন্নত, মাংসল ও বিস্তৃত হয় সেই নারী পরম সুখে কালাতিপাত করে।
যে নারীর নিতম্ব সরু এবং মাংসল নয় সে দুঃখে দিন কাটায় সন্দেহ নেই।
সমুন্নতো নিতম্বশ্চ চতুরস্রো মৃগীদৃশাং।
নিতম্ববিম্বো নারীণাং উন্নতো মাংসল পৃথুঃ।
মহাভোগায় সংপ্রোক্তং তদন্যোহশৰ্ম্মণায় চ ॥
যে নারীর নাভি বেশ প্রশস্ত ও গভীর ও দক্ষিণাবর্তবিশিষ্ট অর্থাৎ ডান দিকে পাক দিয়েছে সে কল্যাণকারিণী ও শুভ ফলদায়িনী হয়ে থাকে।
যে নারীর পেট অত্যন্ত বৃহৎ সে নিঃসন্তান ও দুর্ভাগিনী হয়।
যে নারীর জঠর লম্বিত অর্থাৎ লম্বা হয়ে নিচে নেমে আসে, অল্পদিনের মধ্যে তার শ্বশুর ও দেবরের প্রাণ বিনাশ হয়ে থাকে।
নাভিভিঃ প্রশস্তা দক্ষিণাবর্ত্তিকা শুভা।
সুবিশালোদরী নারী নিরপত্যা চ দুর্ভগা।
প্রলম্ব জঠরা হস্তি শ্বশুর ছাপি দেবরং।।
যে নারীর পেট কুম্ভাকৃতি বা মৃদঙ্গাকার অর্থাৎ পেট কুম্ব বা মৃদঙ্গের মত, সে দরিদ্র হয়।
যার উদর কুষ্মাণ্ড অর্থাৎ কুমড়োর মত বা যবের মত, সে নারী অসৎ বংশীয়া বলে জানা যায়।
যে নারীর পেট অনুন্নত ও শিরাশূন্য এবং পেটের চামড়া কোমল, সেই নারী রোজ মিষ্টান্ন খায় এবং সে অত্যন্ত ভোগশালিনী হয়ে থাকে।
কুম্ভাকারং দরিদ্রায়াং জঠরঞ্চ মৃদঙ্গবৎ।
কুষ্মাণ্ডাভাং যবাভঞ্চ দুস্কুলং জায়তে স্ত্রিয়াঃ।।
উদরেণ হ্যতুঙ্গেন বিশিরেণ মৃদুত্বকা।
যোষিদ্ ভবতি ভোগায্যা নিত্যমিষ্টান্নসেবিনী।।
যে নারীর অঙ্গ মৃদু অর্থাৎ নরম, দেহের চর্ম কোমল ও স্নিগ্ধ, মুখ মনোহর, চক্ষু মৃগচক্ষুর মত অর্থাৎ হরিণনয়না, জানু, পেট মৃগের জানু ও পেটের মত সেই নারী যদি গরীবও হয়, এমন কি দাসীর গর্ভেও তার জন্ম হয় তবু সে ধনী হয়—সে রাজার পত্নী অর্থাৎ রাজমহিষী পর্যন্ত হতে পারে।
মৃগনেত্রা মৃদ্ধঙ্গী চ মৃগজানু মৃগোদরী।
দানীজাতা চ সা কন্যা রাজানং পতিমাপ্লুয়াৎ ॥
যে নারীর দুটি বাহু রেখাবিশিষ্ট অর্থাৎ বহু শিরাযুক্ত, যে নারীর মুখে অনেক তিল থাকে, অধর ও ওষ্ঠ অর্থাৎ দুটি ঠোঁটই বাঁকা না হয়ে সোজা রেখার মত লম্বা, সে নারীর পতির মৃত্যু হয়—অর্থাৎ সে বিধবা হয়।
যস্যা রেখান্বিতৌ বাহু মুখে চ তিলকং ধ্রুব।
সরলৌ অধরোষ্টৌ চ ক্ষিপ্ৰং বিধবালক্ষণম্ ॥
যে নারীর গ্রীবাদেশে অর্থাৎ গলায় তিনটি রেখা দেখা যায়, সে চিরসুখ ভোগ করে। এই লক্ষণটি খুবই ভাল সন্দেহ নেই।
যে নারীর গ্রীবার তিনটি রেখার সঙ্গে পেটেও ঠিক তিনটি রেখা অর্থাৎ তিনটি বলী দেখা যায়, তার সুখের সীমা থাকে না।
শুধু নারী নয়, পুরুষের পক্ষেও এই রেখা খুব শুভ। গলা ও পেটে তিনটি রেখা থাকলে সে পুরুষ রাজপদ হয়।
পুরুষের ললাটে তিনটি রেখা থাকলে তা খুব শুভ। সে রাজ-অনুগ্রহ লাভ করে।
যস্যাসিত্ররেখা গ্রীবায়াং কুক্ষিরেখাস্তথৈব চ।
সুখস্য বাগিনী স্যাচ্চভূপতিস্যাল্ললাটকে ॥
যে নারী গৌরাঙ্গী অর্থাৎ টকটকে ফর্সা রঙ যার বা কৃষ্ণবর্ণ বা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা যার অঙ্গ, দাঁত, বদন, স্তন ও মস্তক স্নিগ্ধ সে নারী চিরদিন সুখ ভোগ করে থাকে। যার মুখ চন্দ্রের মত মনোহর, শরীরকান্তি তরুণ অরুণের মত টকটকে লালচে ফর্সা চোখ বিস্তৃত অর্থাৎ আয়ত ও লোহিত আভাযুক্ত থাকে, তাকে বিবাহ করলে তার স্বামীর কল্যাণ লাভ হয়ে থাকে।
গৌরাঙ্গী বা তথা কৃষ্ণা স্নিগ্ধং অঙ্গং মুখং তথা।
দত্তাঃ স্তনং শিরো যস্যাঃ সা কন্যা মুখমেধতে ॥
চন্দ্রমুখী চ যা কন্যা বাণসূৰ্য্যসমপ্রভা।
বিশালনেত্রা রক্তাক্ষী তাং কন্যাং বরয়েৎ বুধঃ ॥
যে নারীর পৃষ্ঠ ও পাশের হাড়গুলি অন্তনির্মিত ও পৃষ্ঠ মাংসল অর্থাৎ সমস্ত হাড়গুলি মাংসে ঢাকা থাকে, সে নারী কল্যাণদায়িনী হয়ে থাকে।
যে নারীর পিঠ লোমে পরিপূর্ণ সেই স্ত্রী পতিহীনা হয়ে থাকে সন্দেহ নেই। আর যে নারীর পৃষ্ঠদেশ ভগ্ন অর্থাৎ ভাঙা ভাঙা, হাড়গুলি উঁচু উঁচু হয়ে ঠেলে উঠেছে ও তাতে অনেক শিরা দেখা যায়, সেই নারী দুঃখ ভোগ করে থাকে।
অন্তর্নিমগ্নরংশাস্থিঃ পৃষ্ঠ স্যাৎ মাংসলা শুভা।
পৃষ্ঠেন রোমযুক্তের বৈধব্যং লভতে ধ্রুবম্।
ভুগ্নেন বিনতেনাপি সশিরেণাপি দুঃখিতা ॥
যে নারীর স্তনযুগল মূলে স্থূল ও ক্রমশঃ অগ্রভাগে কৃশ ও সূক্ষ্ণ এবং লম্বাটে আকারের, তারা বাল্য অবস্থায় সুখভোগ করে, কিন্তু বৃদ্ধ অবস্থায় দুঃখ ভোগ করে থাকে।
যে নারীর দক্ষিণ (ডান) স্তন উচ্চ সেই নারী পুত্রবতী ও সকলের শ্রেষ্ঠা হয়, আর যার বাম স্তন উন্নত সেই নারীর একটি কন্যা সৌভাগ্যশালিনী হয়।
হলৌ মূলে ক্রমকৃশাবগ্রে তীক্ষ্ণৌ পয়োধরৌ।
সুখদৌ বাল্যকালে তু পশ্চাদত্যন্তদুঃখদৌ।
দক্ষিণোন্নতবক্ষা পুত্রিনী বামোন্নতকুচা কন্যাং সৌভাগ্যবতীম্ ॥
