রতিশাস্ত্র – চতুর্থ পরিচ্ছেদ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

চারি জাতি নারীর শয্যা বর্ণনা

মহাদেবের মুখে এ সমস্ত কথা শুনলেন সৃষ্টি দেবী পার্বতী।

তারপর মধুর বচনে মহাদেবকে সম্ভাষণ করে বললেন- হে দেব, অল্প সময়ে যে কথা শুনলাম তাতে আমি পরম আনন্দ ও তৃপ্তি লাভ করেছি।

এখন আমার কাছে তাদের শয্যা বিবরণ বর্ণনা করুন। কিরুপ শয্যায় শয়ন করলে তারা পরম প্রীতিলাভ করে।

দেবীর প্রশ্ন শুনে মহাদেব বললেন– হে দেবি, তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করেছ, তা অতি উত্তম। বলছি শোন।

পৃষ্টং ত্বয়া মহাদেবি মহ্যং পরমমূত্তনং।
শৃণুস্বৈকমনাভূয় রাজপুত্রি যশস্বিনি

পদ্মিনী নারীর শয্যা বর্ণনা

শিব বললেন— দেবি, পদ্মিনী নারীর প্রকৃতি যেমন সর্ব বিষয় উত্তম তেমনি তাদের শয্যাটিও উত্তম হলেই তারা তৃপ্ত হয়।

সাধারণ শয্যায় শয়ন করতে তারা ভালবাসে না। তা ছাড়া শয্যা পরিপাটি এবং পরিচ্ছন্ন না হলেও তেমন আনন্দ পায় না।

কুসুমগন্ধে জড়ানো সুপরিচ্ছন্ন কোমল শয্যা- তার সঙ্গে দেবভোগ্য চন্দন ইত্যাদির গন্ধ তারা চায়।

তাই অতীব যত্নে তাদের জন্য সুন্দর পুষ্পশয্যা রচনা করতে হয়। তারপর সেই শয্যাকে যদি সুগন্ধি চন্দনের গন্ধে চর্চিত করা হয়, তবে তার উপর শয়ন করে পদ্মিনী জাতীয়া নারী অতীব তৃপ্তি লাভ করে থাকে।

পুষ্পশয্যাং সমাচর্য্য গন্ধচন্দনবাসিতাং।
শেতে বৈ পদ্মিনী নারী চিত্তরঞ্জনহেতবে ।।

চিত্রিণী নারীর শয্যা বর্ণনা

চিত্রিণী নারীরাও পদ্মিনীর মত অতি সুকোমল শয্যা পছন্দ করে।

তাদের জন্য কুসুমগন্ধ বা পুষ্পশয্যার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে চন্দনের গন্ধে মনে যে ধর্মভাব জেগে ওঠে তা চিত্রিণী নারীর প্রিয়।

তাই কার্পাসজাত তুলা দ্বারা সুকোমল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শয্যা তাদের জন্যে রচনা করতে হয়। তারপর সেই শয্যা সুগন্ধি চন্দন দ্বারা সুবাসিত করবে। সেই শয্যায় শয়ন করে চিত্রিণী নারী পরম তৃপ্তি লাভ করে থাকে।

অথাতঃ সংপ্রবঙ্গামি চিত্রিণী-চিত্তরঞ্জনং।
শয়নং শয়নার্থঞ্চ শুণুম্ব রাজনন্দিনি।
কার্পাসশয়নং কৃত্বা গন্ধচন্দনবাসিতং।
শেতে তদুপরি কন্যা চিত্রিণী চিত্রসুন্দরী ॥

শঙ্খিনী নারীর শয্যা বর্ণনা

শঙ্খিনী নারীর মনে ধর্মভাব বিশেষ থাকে না। তাই পুষ্প বা কোনও কিছুর দ্বারাই তাদের শয্যাকে সুশোভিত করার প্রয়োজন হয় না।

তবে তাদের মধ্যে প্রচুর প্রেম ও হৃদয়ে কামভাব থাকে। তাই তারা সুন্দর নরম ও সুপরিচ্ছন্ন শয্যা পছন্দ করে থাকে।

শঙ্খিনী নারীর জন্য তুলাজাত নরম দিব্যশয্যা নির্মাণ করতে হয়।

সেই শয্যা সুপরিচ্ছন্ন, দুগ্ধফেননিভ হওয়া চাই। ওই ধরনের সুকোমল পরিচ্ছন্ন শয্যায় শঙ্খিনী নারীকে শয়ন করালে পরম সন্তোষ লাভ করে।

দিব্যশয্যাং সমাস্তীর্য্য দুগ্ধফেননিভাং শুভাং।
শেতে বৈ রমণী তুষ্টা শঙ্খিনী নাত্র সংশয়ঃ ॥

হস্তিনী নারীর শয্যা বর্ণনা

হস্তিনী নারীর প্রকৃতি যেমন সবদিক থেকেই পৃথক, ঠিক তেমনি শয্যার দিক থেকেও তারা সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের শয্যা পছন্দ করে থাকে।

শিব বললেন- হে প্রিয়ে, এবারে হস্তিনী নারী কিরূপ শয্যা পছন্দ করে তা বর্ণনা করছি, মন দিয়ে শোন। দিব্যশয্যা তাদের সন্তুষ্ট করতে পারে না। কোনরূপ ফুল বা চন্দনের গন্ধযুক্ত সুবাসিত শয্যাও তারা চায় না।

সুন্দর শয্যার প্রতি তাদের বিশেষ কোন মোহ নেই। পরিচ্ছন্নতা বা কোমলতা যতই হোক না কেন তাদের আকৃষ্ট করতে পারে।

মৎস্যমাংসপ্রিয় মদনবিহ্বলা হস্তিনী নারী সুন্দর, সুবাসিত দিব্যশয্যা পরিত্যাগ করে ভূমিতলে গড়াগড়ি দিয়ে পরম তৃপ্তি লাভ করে থাকে।

হে দেবি, তোমার কাছে এইভাবে চার জাতির নারীর শয্যা প্রস্তুত ও তাদের আকাঙ্খিত শয্যার বর্ণনা করে শোনালাম। এগুলি জ্ঞাত হয়ে বিবেচনা করে সেইমত কাজ করলে সকলেই সিদ্ধিলাভ করে থাকে।

মীনমাংসপ্রিয়া চৈব হস্তিনী মদনবিহ্বলা।
শয়নং কীদৃশং তস্যাস্তছ্‌ণুম্ব মহেশ্বরি ॥
দিব্যশয্যাং পরিত্যজ্য শেতে ভূমিতলং যদি।
তদা সা পরমা প্রীতা সত্যং সত্যং সুরেশ্বরি ॥
ইতি তে কথিতং সর্ব্বং রতিশাস্ত্রমতং যথা।
এতদ্‌বিচাৰ্য বিজ্ঞায় তথা কুরু যথামতি ॥

চার জাতির নারীর বিষয়ে সমস্ত কিছু শ্রবণ করা শেষ হলো।

পার্বতী পরম পুলকিত হয়ে এবারে বিবাহ এবং তার বিষয়ে জ্ঞাতব্য অন্যান্য তথ্যাদি শ্রবণ করতে অভিলাষী হলেন। এবারে সে বিষয়ে বলা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *