একদিন অপরাহ্নে – ৫

৫.

আমজাদ মাস্টার্স শেষ করার এক বছর আগে ক্লাসমেট খ্রিস্টান মেয়ে মার্গারেট রেবেকাকে বিয়ে করেছে। ফাস্ট ইয়ারে পড়ার সময় গ্রীষ্মের এক অপরাহ্নে হল থেকে সেগুন বাগিচায় এক বন্ধুর কাছে যাচ্ছিল। টি. এস. সি’র মোড়ে এসে দেখতে পেল, দু’জন ছেলে রেবেকাকে টেনে রিকশা থেকে নামাব রি চেষ্টা করছে আর রেবেকা হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করছে। ক্লাশমেট হিসাবে রেবেকাকে চিনে ও তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে ছেলে দুটোকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে রেবেকাকে উদ্ধার করে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল, ওরা আপনার টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে নাকি?

রেবেকাও আমজাদকে চিনে। সেও ইংরেজিতে বলল, না। টাকা-পয়সা কিছু নেয়নি। ওরা আমাকে ফুর্তি করার জন্য নিয়ে যেতে চাচ্ছিল।

আমজাদ বলল, ঠিক আছে কোথায় যাবেন বলুন পৌঁছে দিচ্ছি। তারপর একটা ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে তাকে বাসার কাছে পৌঁছে দিয়ে চলে আসতে চাইলে রেবেকা ছাড়ল না। বলল, আজ আপনি আমার নারীত্বের সম্ভ্রম বাঁচিয়েছেন। তা ছাড়া কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে ছাড়ছি না। তারপর বাসার ভেতরে নিয়ে গিয়ে মা বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ঘটনাটা বলল।

মিস্টার ও মিসেস মার্গারেট ব্রাউন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাস্তা খাওয়ালেন। বিদায়ের সময় আবার আসার কথা বললেন। আর রেবেকা তাকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিল।

তারপর থেকে রেবেকা আমজাদের পেছনে লাগল। পাশাপাশি বসে ক্লাশ করা থেকে বেড়ানো ও হোটেলে খাওয়া দাওয়া প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়াল।

খ্রিষ্টান মেয়ে বলে আমজাদ তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেও সফল হতে না পেরে একদিন বলল, তোমাদের সাংস্কৃতিতে ছেলে মেয়ে একসঙ্গে মেলামেশা করলে কোনো দোষ হয় না। তোমাদের মধ্যে ফ্রি মিক্সিং থাকলেও আমাদের মানে মুসলমানদের সাংস্কৃতিতে তা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ গুরুতর পাপ।

রেবেকা বলল, আমি তোমাকে মনে প্রাণে ভালবাসি এবং তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তবু পাপ হবে?

আমজাদ বলল, হ্যাঁ হবে। অবশ্য বিয়ে করলে হবে না। শোন রেবেকা, ভালবাসা এক জিনিস আর বিয়ে করা অন্য জিনিস। কাউকে ভালবাসলেই যে বিয়ে করতে হবে, এটা ঠিক নয়।

রেবেকা গাল ভার করে বলল, কেন ঠিক নয়? আমি এত ভালবেসে ফেলেছি যে, তোমাকে না পেলে পাগল হয়ে যাব।

আমজাদ হেসে উঠে বলল, ঐ কথা যারা বলে তারা ভালবাসার মর্মার্থই জানে না।

আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি না। একজন পুরুষ ও একজন নারী একে অপরকে প্রথমে পছন্দ করবে, তারপর ভালবাসবে এবং শেষে বিয়ে করবে, এটাই তো সত্য।

হ্যাঁ, তোমাদের সমাজে ভালবেসে বিয়ে করে কিছুদিন কাটাবার পর মনোমালিন্য হলে অথবা মোহ কেটে গেলে ডিভোর্স নিয়ে আবার অন্যকে বিয়ে করার প্রচলন আছে। আমাদের সমাজে এরকম হঠাতে হয় না। তা ছাড়া প্রকৃত ভালবাসা ছাড়া দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তির হয় না।

তার মানের ভালবাসার মধ্যে আবার প্রকৃত অপ্রকৃত আছে নাকি?

নিশ্চয় আছে।

যেমন?

যেমন, মানুষ সাধারণত সুন্দরের ও অর্থের পূজারী। অর্থাৎ কেউ সুন্দর দেখে আবার কেউ আর্থিক অবস্থা দেখে ভালবাসে ও বিয়ে করে। যারা এটা করে তারা ভুল করে। কারণ সৌন্দর্য আর অর্থ কখন কখন সুখের কারণ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শান্তির পরিপন্থি। শান্তির মূল উপকরণ হল মন ও চরিত্রের মিল। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মন ও স্বভাব চরিত্রের মিল না হলে দাম্পত্য জীবন সুখের ও শান্তির হয় না। তাই যারা সৌন্দর্য ও অর্থ দেখে ভালবেসে বিয়ে করে তারা অল্প কিছু দিনের মধ্যে মন ও স্বভাব চরিত্রের বিপরীতের কারণে বিচ্ছেদ ঘটে। আর এটা আমাদের সমাজের চেয়ে তোমাদের সমাজে যে বেশি ঘটছে তা নিশ্চয় জান?

কিন্তু আমি তো এমন কিছু কিছু নারী পুরুষকে জানি যারা ভালবাসা করে বিয়ে করে সুখ শান্তিতে বাস করছে।

হ্যাঁ, তোমার কথা ঠিক, তবে তাদের সংখ্যা অনেক কম। শতকরা আশি পঁচাশি ভাগ অশান্তিতে দিন কাটাচ্ছে অথবা বিচ্ছেদ নিচ্ছে। সুখ শান্তিতে বাস করছে যাদের কথা তুমি জান, তারা সৌন্দর্য ও অর্থের মোহে পড়ে ভালবেসে বিয়ে করে নি। তাদের ভালবাসা খাঁটি অর্থাৎ প্রকৃত।

রেবেকা ছলছল চোখে বলল, তোমার সৌন্দর্য ও অর্থ দেখে আমি তোমাকে ভালবাসিনি। তোমার চারিত্রিক মাধুর্য দেখে ভালবেসেছি এবং বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিয়ে হল পবিত্র ধর্মীয় বন্ধন। সেই বন্ধনে আবদ্ধ হতে হলে দু’জনকেই একই ধর্মাবলম্বী হতে হবে। অবশ্য ইসলামে খ্রিস্টান মেয়েকে বিয়ে করা জায়েয আছে। কিন্তু বর্তমানে তারা নিজেদের ধর্মের অনুসারী নয়। তাই বর্তমানে এই রকম বিয়ে শুদ্ধ নয়। তা ছাড়া যারা বিয়েকে পবিত্র ধর্মীয় বন্ধন মনে করে না, আমি তাদের দলে নই।

আমি তোমার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করব। তবু তোমাকে হারাতে পারব না।

এই সিদ্ধান্তের কথা তোমার মা বাবাকে জানিয়েছ?

অনেক আগেই জানিয়েছি।

ওনারা কি বলেছেন?

কি আবার বলবেন, আমাদের সমাজে কেউ কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে যে হস্তক্ষেপ করে না সে কথা নিশ্চয় জান?

ঠিক আছে, তোমার সবকিছু শুনলাম, আমারও সবকিছু তোমার শোনা দরকার। কারণ যাকে জীবন সাথী করতে চাচ্ছ, তার সবকিছু জানা উচিত নয় কি?

দেখ, আমজাদ আমি তোমাকে ভালবাসি এবং জীবন সাথীও করতে চাই। তোমার ব্যাকগ্রাউন্ড বা ফ্যামিলির কথা জানা আমার প্রয়োজন নেই। তবে গ্রামের বাড়িতে তোমার বিয়ে করা বৌ আছে কি না বললেই চলবে।

আমজাদ হেসে উঠে বলল, যদি বলি হ্যাঁ আছে?

প্লিজ, দুষ্টুমি করবে না, সিরিয়াসলি বল।

তোমার কি মনে হয়?

আমার বিশ্বাস তুমি আনম্যারেড।

বিশ্বাসের কারণ?

কারণ, বৌ থাকলে তোমার মতো ছেলে আমার সঙ্গে মেলামেশা করত না।

তা হলে জিজ্ঞেস করলে কেন?

তুমি তোমার সবকিছু জানাতে চাইলে ঐ কথাটা মনে হল, তাই।

তুমি জান আমি গ্রামের ছেলে; কিন্তু এটাও কি জান, পড়াশোনা করে গ্রামে ফিরে যাব? আমাকে বিয়ে করলে তোমাকেও গ্রামে যেতে হবে এবং গ্রাম্য বধূ হয়ে থাকতে হবে। পারবে থাকতে?

তুমি জান না আমজাদ, তোমাকে আমি কতটা ভালবাসি। যদি জানতে তা হলে এরকম প্রশ্ন করতে না। একটা কথা জেনে রাখ, বাঁচলে তোমাকে ভালবেসেই বাঁচব আর মরলে তোমাকে ভালবেসেই মরব।

ঠিক আছে, তুমি যে আমাকে ভীষণ ভালবাস তা অনেক আগে থেকে জানি। কিন্তু আমি তোমাকে ভালবাসি কিনা অথবা কতটা ভালবাসি তা জানতে তোমার ইচ্ছা করে না?

করে।

কই একদিনও তো জানতে চাওনি। আমি যদি বলি তোমাকে সহপাঠি বন্ধু মনে করে মেলামেশা করি, তা হলে?

জানতে না চাওয়ার কারণ হল, তোমার কথাবার্তা ও আচার ব্যবহার জানিয়েছে তুমিও আমাকে ভীষণ ভালবাস। আর সহপাঠি বন্ধু মনে করার কথা যে বললে ওটা মুখের কথা অন্তরের কথা, নয়। আমাকে শুধু একটু টেস্ট করার জন্য বলেছ।

যদি বলি ভালবাসার অভিনয় করে ফাঁদে ফেলে তোমার সর্বস্ব লুণ্ঠন করতে চাই?

তোমাকে ভালবাসতে শুরু করার পর কুরআনের ইংলিশ ট্রানস্লেট পড়েছি, হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর ও অনেক সাহাবীদের জীবনী পড়েছি। তা ছাড়া বহু মুসলিম মনিষী ও মহিলা সাহাবীদের জীবনীও পড়েছি। এ সব পড়ে জেনেছি, প্রকৃত মুসলমান কোনোদিন অন্যায় কিছু করতে পারে না। যদি শয়তানের প্ররোচনায় কোনো অন্যায় করেও ফেলে তা হলে তৎক্ষণাৎ তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তোমাকে যতটুকু জেনেছি, তার ওপর নির্ভর করে বলছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুমি কখনও কোনো রকম অন্যায় কিছু করতে পার না।

তুমি প্রকৃত মুসলমানদের কথা বলেছ, যারা প্রকৃত মুসলমান আমি তো তাদের মতো হতে পারিনি।

কোনো গুণী মানুষ নিজের গুণ প্রকাশ করে না। তোমার সঙ্গে এক বছর মেলামেশা করে তোমার সম্পর্কে আমার যা ধারণা হয়েছে তাই বলেছি। তুমি আমার সঙ্গে বিট্টে করবে না জানি, তবু বলছি মানষিক শান্তির জন্য যত শিঘ্রী সম্ভব আমাদের বিয়ে করে ফেলা উচিত।

তোমার মানষিক অশান্তি হবে কেন? নিজেই তো বললে, আমি তোমার সঙ্গে বিট্টে করব না।

ঐ ব্যাপারে অশান্তি ভোগ করছি না। ইসলাম নারী-পুরুষকে যে পর্দার কথা বলেছে, তা আমরা লঙ্ঘন করে খুব বড় পাপ করছি। সেকথা ভেবে অশান্তি ভোগ করছি। তুমিও এই কারণে অশান্তি ভোগ করছ। সেই কারণে তুমি যে আমাকে এড়িয়ে চলতে চাও তাই বুঝতে পারি। তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে করার কথা বলেছি।

আমজাদ বুঝতে পারল, সে যতটা না রেবেকাকে ভালবাসে তার থেকে হাজার গুণ বেশি রেবেকা তাকে ভালবাসে। আরও বুঝতে পারল, ইসলামের ওপর পড়াশোনা করে ইসলামকে জেনেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। রেবেকার মুখের দিকে তাকিয়ে আমজাদ এই সব কথা চিন্তা করছিল।

তাকে এভাবে চুপ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রেবেকা বলল, আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কি দেখছ?

দেখছি না, ভাবছি।

কি ভাবছ?

ইসলাম সম্পর্কে আমার থেকে বেশি জ্ঞান অর্জন করেছ এবং সেই জ্ঞান বাস্তবে পরিণত করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ছে। তুমি দু’জনের অশান্তির কারণগুলোর কথা যা বললে তা সত্য। আমিও তোমাকে অতি শিঘী বিয়ে করার কথা বলব ভেবেছিলাম। বলার আগে আল্লাহ তোমাকে দিয়ে বলালেন। আমাদের চিন্তা-ভাবনা বাস্তবে রূপ দেয়ার আগে কিছু কথা তোমাকে জানাব। সেগুলো তোমাকে মেনে চলতে হবে। কি রাজি তো?

অফকোর্স, তোমাকে তো বলেছি, “বাঁচলে তোমার জন্য বাঁচব, মরলে তোমার জন্য মরব।” বল, কি বলবে? অক্ষরে অক্ষরে পালন করব ইনশাআল্লাহ।

তার কথা শুনে আমজাদ সুবহানআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলে বলল, এটাই তোমার কাছ থেকে আশা করেছিলাম। এখন আমার কথা মন দিয়ে শোন; আমি বাবার টাকায় লেখাপড়া করছি। লেখাপড়া শেষ করতে আরও দু’বছর লাগবে। খুব শিঘ্রী তোমাকে প্রথমে আমাদের ধর্মে ধর্মান্তরিত করাব, তারপর বিয়ে করব। ধর্মান্তরিত হওয়ার ও বিয়ের কথা তুমি তোমার মা-বাবাকে জানাতে পারলেও আমি আমার মা-বাবা অথবা আত্নীয়দের কাউকে জানাতে পারব না। অবশ্য পড়াশোনা শেষ করার পর জানাব এবং তোমাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাব। পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখন যেভাবে মেলামেশা করছি, বিয়ে করার পরও সেইভাবে মেলামেশা করব। তার বেশি কিছু তুমি বা আমি আশা করব না। আল্লাহ না করুক, আমাদের বাড়িতে তোমাকে যদি গ্রহণ না করে, তা হলে মনে কিছু নেবে না। আমরা ঢাকা ফিরে এসে রুজি রোজগারের চেষ্টা করব। তবে যতদূর মনে হয় ওরকম কিছু ঘটবে না। তবু আগে থেকে একটু সাবধান করলাম।

সাবধান করার জন্য ধন্যবাদ। তোমাকে ভালবেসে তোমার মধ্যে বিলীন হওয়ার জন্য আমার দেহ ও মন সব সময় প্রস্তুত। আর এটা বিয়ে ছাড়া সম্ভব নয়। বিয়ের পর যা কিছু ঘটুক না কেন, তুমি যাতে এতটুকু দুঃখ না পাও, সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব। এমনকি জীবন বাজি রাখতেও পিছপা হব না।

তুমি তো ইসলামের ওপর অনেক পড়াশোনা করেছ। ইসলাম নারীদের পর্দা মেনটেন করার জন্য বড় চাদর বা বোরখা ব্যবহার করতে বলেছে। তুমি বোরখা ………।

তাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে রেবেকা বলল, মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য ইসলামে পর্দা প্রথা অর্থাৎ বড় চাদর বা বোরখা ব্যবহার আমাকে সব থেকে বেশি এই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। বোরখা ব্যবহারের সুফল জানার পর থেকেই পরতে ইচ্ছে করছে।

মারহাবা মারহাবা বলে আমজাদ বলল, সত্যিই তোমার তুলনা হয় না। চল এখনই রোটারী ক্লাবে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ব্যবস্থা করি।

ঐদিন রেবেকা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার নাম আয়েশা আখতার রাখা হল। তারপরের দিন কাজি অফিসে কাবিন করে বিয়ে করল। অবশ্য বিয়ের সময় আয়েশার মা ও বাবা মিস্টার ও মিসেস ব্রাউন উপস্থিত ছিলেন এবং ঐদিন মেয়ে জামাইকে বাসায় নিয়ে এসে রেখেছিলেন।

বিয়ের কিছুদিন পর একদিন আয়েশার মা মিসেস ব্রাউন স্বামীর সামনে নাস্তার টেবিলে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন, বিয়ের পর আমজাদ তোকে ছেড়ে থাকে কেন? তোর বাবা বলছিল আমাদের বাসাতেই তো থাকতে পারে। আমিও তাই চাই।

বিয়ের আগে আমজাদ যা কিছু বলেছিল, আয়েশা মা-বাবাকে জানাল।

মিসেস ব্রাউন গাল ভার করে বললেন, কই, এসব কথা তো তুই আগে আমাদেরকে জানাসনি?

তুমি মন খারাপ করছ কেন মা। তোমরা যা আশঙ্কা করছ, তা ঠিক নয়। আমজাদ অন্য দশটা ছেলের মতো নয়। ওর চরিত্রে মাধুৰ্য্য যেমন আছে, তেমনি দৃঢ়তাও আছে। তোমরা শুনে খুব অবাক হবে। আজ দু’বছরের বেশি ওর সঙ্গে মেলামেশা করছি; কিন্তু একবারও আমাকে কিস করেনি। আমি একবার জড়িয়ে ধরে কিস দিতে গেলে প্রথমে বাধা দিল তারপর নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে বলল, বিয়ের আগে আর কখনও এরকম করবে না। কারণ ইসলামে এটা কঠোরভাবে নিষেধ।

মিসেস ব্রাউন বললেন, এখন তোদের বিয়ে হয়েছে, ……

মাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে আয়েশা বলল, এখন আমরা স্বামী-স্ত্রী। মা হয়ে মেয়ে জামাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাপারে প্রশ্ন না করা উচিত।

মিঃ ব্রাউন এতক্ষণ চুপ করে মা মেয়ের কথা শুনছিলেন। এবার বললেন, তুই আমাদের একমাত্র সন্তান। তোকে সুখী করার জন্য তোর কোনো ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করিনি। তাই বলে তোর ভালো মন্দ চিন্তা করব না ভাবলি কি করে? যাই হোক, আমজাদকে বলবি সপ্তাহে একদিন অন্ততঃ যেন এখানে এসে থাকে।

আয়েশা বলল, ঠিক আছে বলব। তারপর আবার বলল, তোমরা আমাকে নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করবে না। তোমরা শুধু দোয়া করো, আল্লাহ যেন আমাদেরকে সুখী করেন।

.

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *