কালিদাস কাহিনী – পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
প্রকাশ করেছেন – শ্রীঅরণচন্দ্র মজমদার
দেব সাহিত্য কুটীর
সেপ্টেম্বর ১৯৮৭
.
কালিদাস —
কালিদাস ছিলেন মহাকবি। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়— তাঁর জীবনকাহিনী-সম্বন্ধে আজ পর্যন্ত প্রামাণিকভাবে কোন কিছুই জানবার উপায় নেই। লোকপ্রসিদ্ধি-কালিদাস উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন-সভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রত্ন ছিলেন।
কিন্তু এই বিক্রমাদিত্য ভারত-ইতিহাসের কোন্ বিক্রমাদিত্য, এবং কোন্ কালে তিনি বর্তমান ছিলেন, তার কোন হদিশ পাওয়া যায় না। তবে লোকপরম্পরায় কালিদাসের বিদ্যালাভের, পাণ্ডিত্যের এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু কিছু কাহিনী আজও বেঁচে আছে। এগুলি সত্যি কি মিথ্যা—আজ নিশ্চিতভাবে বলবার কোন উপায় নেই। তবু এ কাহিনীগুলিকেই কালিদাসের জীবন-কাহিনী বলে ভেবে নেওয়া ছাড়া আর পথই বা কি?
অনন্যসাধারণ কবি-প্রতিভার অধিকারী মহাকবি কালিদাসের কাব্যগুলি সুদীর্ঘকাল যাবৎ ভারতবাসীর সাহিত্যরসপিপাসা মিটাতে যথেষ্ট সাহায্য ক’রে আসছে। তাঁর রচিত সাহিত্যের মধ্যে ‘কুমারসম্ভব’, ‘রঘুবংশ’, ‘মেঘদূত’, ‘ঋতুসংহার’, ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলা’, ‘বিক্রমোর্বশী’ এবং ‘মালবিকাগ্নিমিত্র’—সবগুলিই প্রায় সমভাবেই আদৃত হয়ে আসছে। নলোদয়, পুষ্পবাণবিলাস, শৃঙ্গারাষ্টক, শৃঙ্গারতিলক কাব্যও কালিদাসের নামে প্রচলিত। তবে কেউ কেউ মনে করেন যে এই কাব্যগুলি অপর কোন কালিদাস-কর্তৃক লিখিত হয়েছে।
আকস্মিকভাবে দৈবপ্রভাবে একদিনেই কালিদাস কবিত্বশক্তির অধিকারী হয়েছিলেন বলে প্রবাদ প্রচলিত থাকলেও তা বাস্তব সত্য বলে মনে হয় না। তাঁর সহজাত কবিত্বশক্তির সঙ্গে সুদীর্ঘদিনের সাধনা যুক্ত হয়েছে বলেই বোঝা যায়।
কালিদাস যে সংস্কৃত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি এবিষয়ে সকলেই একমত। বিদেশী কবি ও মনীষীরাও কালিদাসের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত। সত্যি, কালিদাসের রচনাগুণের তুলনা নেই। এমন সহজ-সুন্দর রচনা তো সহজে আসেনি, অনেক শ্রম আর অনুশীলন নিশ্চয়ই আছে এর পিছনে। প্রতিভার সঙ্গে সাধনার মণিকাঞ্চনযোগেই তা সম্ভব হয়েছে। কালিদাসের গল্প বলার ভঙ্গী, বর্ণনা, উপমাপ্রয়োগ, অল্পের মধ্যে অনেক কথা বলবার আশ্চর্য নৈপুণ্য—সমস্ত কবির কাছেই প্রেরণা। কবিরাও কালিদাসের স্তুতিতে পঞ্চমুখ। বাণভট্ট বলেছেন,
মধুর ভারে নুয়ে পড়া ফুলে যেমন পরিতৃপ্তি
কালিদাসের রচনাতেও তাই।
রবীন্দ্রনাথের কাব্যেও কালিদাসের প্রভাব ও প্রসঙ্গ অনবদ্যরূপ পেয়েছে।
আগেকার দিনে অসাধারণ নৈপুণ্যের পিছনে দৈবের প্রভাব কল্পনা করা হত। কালিদাসের ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। ঐ অসাধারণ নৈপুণ্যকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী করে ভোলবার প্রবণতাও তখন ছিল। কালিদাসকেও তাই প্রতিযোগিতার আসরে দেখতে পাই কিংবদন্তীগুলিতে। আর কিংবদন্তীগুলো পাত্রবদল করে, অর্থাৎ একজন সম্পর্কে যা প্রচলিত, কোনো সময়ে তা অন্যের সম্বন্ধেও প্রযুক্ত হয়ে পড়ে। কালিদাসের ক্ষেত্রেও তা হয়েছে।
গল্পগুলোতে কালিদাসের জীবনী-গত ঐতিহাসিকতা বা সত্যতা না থাকলেও গল্পরচয়িতাদের মনের পরিচয়, এবং পুরনো দিনে কিছু আচার ব্যবহারের ছবি তাতে ফুটবে। সেটুকুই বা কম লাভ কী?



Sayantani Putatund er lekha Erano Jay Na 2 & 3 ta upload korun pls