৩
এর পর কয়েক বছর কেটে গেল। মহারাজ বিক্রমাদিত্য ছিলেন তখন উজ্জয়িনীর রাজা। তাঁর রাজসভায় শিল্পী, কবি ও পণ্ডিতদের যেমন সমাবেশ হয়েছিল, তেমনটি আর এর আগে ভারতের কোনো রাজসভাতেই হয়নি। কবি কালিদাস এই রাজসভায় স্থান পেলেন রাজকবি হিসাবে। তিনি হলেন নবরত্নের শ্রেষ্ঠ রত্ন, রাজার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র।
মহারাজ বিক্রমাদিত্যের রানী ছিলেন ভানুমতী। একবার রাজা রাজশিল্পীকে আদেশ করলেন রানী ভানুমতীর একখানা অপূর্বসুন্দর ছবি এঁকে দিতে।
রাজনির্দেশে শিল্পী পরমযত্নে রানীর ছবি এঁকে আনলেন। সভাসদ্গণ যাঁরা রানীর ছবি দেখলেন, তাঁরাই খুব প্রশংসা করলেন। রাজা নিজেও ছবি দেখে মুগ্ধ হলেন। রাজসভা শিল্পীর প্রশংসায় মুখর হ’য়ে উঠলো। শুধু সভাকবি কালিদাস একবার দু’ চোখ তুলে ছবিটার দিকে তাকিয়ে আবার মুখ গুজে লিখতে শুরু করলেন। তিনিই কিছু বললেন না।
বিস্মিত হ’য়ে রাজা জিজ্ঞেস করলেন কালিদাসের অভিমত। কালিদাস বললেন :
‘নিখুঁত হয়নি এ ছবি।’
রাজশিল্পীর মুখ মলিন হ’য়ে গেলো। তিনি অধোবদনে দাঁড়িয়ে রইলেন।
কালিদাস যখন হাত নেড়ে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর হাতের কলম থেকে এক ফোঁটা কালি ছিট্কে পড়েছিলো ছবিটার মধ্যে। কালিদাস তখন বলে উঠলেন :
‘হ্যাঁ, এবার নিখুঁত হ’লো তোমার আঁকা ছবি, রাজশিল্পী।’
রানী ভানুমতীর দেহে ছিল একটা তিল—রাজশিল্পী সেই তিলের সন্ধান জানতেন না বলেই ছবিতে সে তিল আঁকতে পারেননি। কালিদাসের কলম থেকে ছিট্কে-পড়া কালিতে সেই তিলের সৃষ্টি হয়েছিলো।
রাজা প্রথমে অবাক হয়েছিলেন, পরে ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি ভাবলেন : কালিদাস কোন দিন প্রকাশ্যে ভানুমতীকে দেখেননি, তবে কি ক’রে জানলেন সেই তিলের খবর!
ক্রুদ্ধ হ’য়ে রাজা মন্ত্রীকে আদেশ দিলেন—কালিদাস যেন কোনদিন আর রাজার সামনে না পড়েন। তিনি আর তাঁর মুখদর্শন করবেন না।
মন্ত্রী মহা বিপদে পড়লেন। ভাবলেন : কালিদাস এমন গুণী ব্যক্তি, তাঁকে হত্যা করাও সঙ্গত নয়, আবার তাড়িয়ে দেওয়াও অনুচিত। একসময় রাজার রাগ প’ড়ে যেতে পারে, তখন হয়তো তিনি কালিদাসের জন্য দুঃখ করতে পারেন।
এই ভেবে মন্ত্রী কালিদাসকে লুকিয়ে রাখলেন নিজের অন্তঃপুরে। কালিদাস তখন থেকে নারীবেশেই মন্ত্রীর অন্তঃপুরে বাস করতে লাগলেন!
এদিকে এক ঘটনা ঘটলো।
মহারাজ বিক্রমাদিত্যের পুত্র রাজকুমার বীরকেশরী। বীরকেশরী একদিন বেরিয়েছেন মৃগয়ায়। সারা অরণ্যে ঘুরে ফিরে রাজকুমার অত্যন্ত ক্লান্ত হ’য়ে এক পুকুরের তীরে বড় একটা গাছে ঘোড়া বেঁধে নিজেও বিশ্রাম করতে বসলেন। সঙ্গীরা তখনও এসে পৌঁছায়নি বলে রাজকুমার উঠতেও পারছেন না।
এদিকে বেলা প’ড়ে এলো। সূর্য প্রায় ডুবু ডুবু। এমন সময় নিবিড় মেঘে সারা আকাশ ছেয়ে গেলো। প্রবলবেগে বায়ু বইতে লাগলো। ভয় পেয়ে ঘোড়াও ছুটে পালালো।
রাজকুমার কি করবেন ভেবে পেলেন না। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সেই বিদ্যুতের আলোকে তিনি দেখতে পেলেন— তাঁর দিকে এগিয়ে আসছে বিরাটাকার এক বাঘ।
ভয় পেয়ে রাজকুমার দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নিলেন এক গাছে। কিন্তু গাছের উপর উঠেও চমকে উঠলেন। দেখলেন গাছের ডালে শুয়ে আছে এক ভালুক!
বিহ্বল হ’য়ে ভাবছেন রাজপুত্র—কি করবেন তিনি। গাছে আছে ভালুক, আবার নীচে ওঁৎ পেতে আছে বাঘ। বাঘ তাঁকে খাবার জন্য পাগল হয়ে উঠেছে। তখন রাজকুমার ভাবলেন : এই দুই শত্রুর মধ্যে আপাততঃ বাঘই ভীষণতর। কাজেই এর হাত থেকে আত্মরক্ষাই এখন প্রধান কর্তব্য—এই ভেবে তিনি গাছে থাকাই শ্রেয়ঃ বিবেচনা করলেন।
রাজকুমারের মনে হঠাৎ এক বুদ্ধি এল। তিনি ভাবলেন যে, ভালুক আর বাঘ উভয়ে উভয়ের শত্রু—অতএব নিজের স্বার্থে ভালুকের সঙ্গে সন্ধিস্থাপন করা কর্তব্য। এই বিবেচনা ক’রে রাজকুমার আস্তে আস্তে ভালুকের গায়ে হাত দিয়ে তার ঘুম ভাঙিয়ে বললেন :
‘বন্ধু, শত্রু নিকটে, এখন আর ঘুমিয়ো না, ওঠ।’
রাজপুত্রের ডাক শুনে ভালুক তাড়াতাড়ি উঠে বসলো। নীচের দিকে তাকিয়েই সে দেখতে পেলো বিরাট সেই বাঘ। তখন ভালুক ভয়ে ভয়ে রাজপুত্রের পরিচয় জিজ্ঞেস করলো।
রাজপুত্র তাঁর নিজের পরিচয় দিলে ভালুক সন্তুষ্ট হ’লো, অনেকটা আশ্বস্তও হ’লো। তারপর ধর্ম সাক্ষী ক’রে রাজপুত্র আর ভালুক উভয়ে বন্ধুতা করলো। তারা প্রতিজ্ঞা করলো পরস্পর পরস্পরকে বিপদ্ থেকে আর শত্রু থেকে রক্ষা করবে।
তারপর ঠিক হ’ল দু’জনেই পালা করে গাছের ডালে ঘুমোবে। রাজপুত্র অত্যন্ত ক্লান্ত হ’য়ে আছেন দেখে ভালুক প্রস্তাব করলো :
রাজপুত্র এখন ঘুমোবেন, আর ভালুক জেগে থেকে তাঁকে পাহারা দেবে। তারপর শেষ রাতে ভালুক রাজপুত্রকে ডেকে জাগিয়ে দেবে, তখন রাজপুত্র জেগে থেকে ভালুককে পাহারা দেবেন, আর ভালুক ঘুমোবে।
কথামত রাজকুমার একটা ডাল আশ্রয় করে অতি সাবধানে শুয়ে পড়লেন। তারপর শীঘ্রই গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন।
রাজকুমারকে ঘুমুতে দেখে বাঘ ভালুককে ভয় দেখিয়ে, অনুরোধ ক’রে নিজের স্বপক্ষে আনবার চেষ্টা করলো। কিন্তু ভালুক নীতিধর্ম বিসর্জন দিয়ে রাজপুত্রের বিরোধিতা করতে রাজী হ’লো না। ভালুক বললো :
‘ভীরুকে ভয় থেকে রক্ষা করা এবং শরণাগতকে আশ্রয় দেওয়াই প্রত্যেকের কর্তব্য।’
ভালুকের কথা শুনে বাঘ ভীষণ তর্জন-গর্জন ক’রে তাকে শাসাতে লাগলো। সেই গর্জনে রাজপুত্রের ঘুম ভেঙে গেলো! ভালুক তাঁকে সান্ত্বনা দান ক’রে এবার নিজে ঘুমোবার উদ্যোগ করলো। রাজপুত্র জেগে পাহারা দিতে লাগলেন।
ভালুক যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হ’লো, তখন বাঘ রাজপুত্রকে লক্ষ্য করে বললো :
‘রাজপুত্র, তুমি ঐ বেল্লিক ভালুকটাকে ঠেলে ফেলে দাও, আমি ওর রক্তমাংস আহার ক’রে পরিতৃপ্ত হ’য়ে চলে যাই—তুমি নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে বাড়ি ফিরে যাও। আমি তোমাকে অভয় দিচ্ছি তোমার কোন অনিষ্ট করবো না। আর যদি আমার কথা না শোন, তবে যখন তুমি গাছ থেকে নামবে তখনই আমি তোমার ঘাড় মট্কাবো।’
বাঘের কথা শুনে রাজপুত্র ভীষণ ভয় পেলেন। তিনি আর অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না ক’রেই ভালুককে এক ধাক্কা দিয়ে গাছ থেকে ফেলে দিতে চাইলেন।
ভালুক পড়তে গিয়েও তার লম্বা লম্বা নখ দিয়ে গাছের ডাল আঁকড়ে ধ’রে বেঁচে গেলো। তারপর রাজপুত্রকে সম্বোধন ক’রে বললো :
‘তুমি চপলস্বভাব বালক, এখনও ভালো-মন্দ বোধ জাগেনি; তাই তোমাকে ক্ষমা করলুম।’
এদিকে ভোর’ হয়ে এসেছে। রাজপুত্রের সঙ্গীগণ তাঁর খোঁজে এদিকে আসছে। দূর থেকে তাদের কোলাহল এবং ঘোড়ার শব্দ শোনা গেল। সেই সাড়া পেয়ে বাঘ বনে ঢুকে পড়লো।
ভালুক তখন এক হাতে রাজপুত্রের ঝুটি ধরলো, আর এক হাতে সজোরে তাঁর গালে চাপড় দিতে লাগলো। স-সে-মি-রা—ভালুক একটা ক’রে অক্ষর বলে, আর একটা ক’রে চাপড় দেয়। তারপর সে গভীর অরণ্যে পালিয়ে গেল।
সঙ্গীরা এসে রাজপুত্রকে খুঁজে পেলো। কিন্তু রাজপুত্র তখন পাগল হ’য়ে গেছেন। তিনি কেবলি বলছেন ‘স-সে-মি-রা’। তাঁর মুখে শুধু এই এক রব—‘স-সে-মি-রা’ কোনদিকে তাঁর দৃষ্টি নেই, মুখে আর অন্য কোন কথা নেই।
সঙ্গীরা রাজকুমারকে রাজধানীতে নিয়ে গেলো। রাজা পুত্রের অবস্থা দেখে অত্যন্ত কাতর হ’য়ে পড়লেন। তিনি রাজপুত্রকে যতই জিজ্ঞেস করেন :
‘কি হয়েছে?’
রাজপুত্র শুধুই বলেন :
‘স-সে-মি-রা’।
রাজপুরীতে যত আত্মীয় ছিলেন, বন্ধু ছিলেন, সবাই এলেন রাজপুত্রের মুখে স্বাভাবিক কথা ফুটিয়ে তুলতে। কিন্তু কারো চেষ্টাই সফল হ’লো না। রাজপুত্র কেবলি বলতে লাগলেন :
‘স-সে-মি-রা’।
রাজা যখন দেখলেন, কিছুতেই রাজপুত্র সুস্থ এবং স্বাভাবিক হচ্ছেন না, তখন তিনি সমস্ত রাজ্যে ঘোষণা ক’রে দিলেন :
‘রাজপুত্রকে যে ভাল করতে পারবে, তাকে লক্ষ মুদ্রা পুরস্কার দেওয়া হবে।’
লক্ষ মুদ্রার লোভে কত দেশ থেকে কত বৈদ্য এলেন, চিকিৎসক এলেন, এলেন কত জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি। কিন্তু কেউ আর রাজপুত্রের মুখে অন্য কোন কথা ফোটাতে পারলেন না। রাজপুত্রের রোগ কি, আর কেনই বা তিনি এমন করছেন—কেউ তার কোন হদিশ পেলো না।
রাজা নিরুপায় হ’য়ে মন্ত্রীকে ডেকে বললেন :
‘মন্ত্রি, বিপদে আপদে তুমিই আমার পরিত্রাতা। এবারও তুমি যদি একটা ব্যবস্থা না কর, তবে আমারও আর বাঁচার আশা দেখি না। তুমি যাহোক একটা বিহিত কর।’
রাজার কাতরোক্তি শুনে মন্ত্রী তাঁকে সান্ত্বনা দান করে বললেন :
‘ভেবে দেখি কি হয়!’
মন্ত্রী বাড়ি চ’লে গেলেন।
পরদিন খুব ভোরে স্নান পুজো পাঠ ইত্যাদি শেষ ক’রে মন্ত্রী গেলেন রাজসভায়। সভাসদ্গণও সভায় উপস্থিত আছেন। সবাই ব্যাকুলচিত্তে অপেক্ষা করছিলেন মন্ত্রীর জন্যে—মন্ত্রী কি উত্তর দেন রাজাকে, তাই শুনবার জন্যে।
মন্ত্রী এসে বললেন :
‘আমার বৌমা আমাকে জানিয়েছেন যে, মন্ত্রতন্ত্র কিংবা ওষুধপত্তর ছাড়াই শুধু কথার দ্বারা রাজকুমারের রোগ দূর করবেন।’
মন্ত্রীর কথা শুনে রাজার আর তর সয় না। তিনি তখুনি পাঠালেন মন্ত্রীকে, তাঁর বৌমাকে নিয়ে আসবার জন্যে। মন্ত্রীর বাড়িতে দোলা পাঠানো হ’লোঁ।
রাজসভার একদিকে পর্দা টাঙানো হ’লো। পর্দার আড়ালে বসবেন মন্ত্রীর বধূমাতা—তিনি তো আর রাজসভায় প্রকাশ্যভাবে উপস্থিত হ’তে পারেন না!
কিছুকাল পর মন্ত্রী তাঁর বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে রাজসভায় উপস্থিত হলেন। পর্দার আড়ালে বসলেন মন্ত্রীর বধূমাতা।
এবারে রাজা বসলেন রাজকুমারকে কাছে নিয়ে। রাজার পারিষদ্বর্গও যার যার আসন নিয়ে বসলেন।
পর্দার আড়াল থেকে শোনা গেল বধূর কণ্ঠ। তিনি মধুর ভাষায় বলতে লাগলেন বনের সব ঘটনা।
সভার সকলেই অবাক্ হ’য়ে শুনলেন বাঘ-ভালুক আর রাজকুমারের কাহিনী, শুনলেন রাজপুত্রের বিশ্বাসঘাতকতার কথা।
রাজা জিজ্ঞেস করলেন রাজপুত্রকে :
‘সত্যি কি বনে এই ঘটনা ঘটেছিল?’
রাজপুত্র উত্তর করলেন :
‘স-সে-মি-রা’।
রাজা কপালে করাঘাত করলেন। গল্প শুনেও তো রাজকুমার সুস্থ হলেন না। তবে বুঝি আর তাঁর রোগ সারবে না।
এবার পর্দার ওপার থেকে শোনা গেলো একটি শ্লোক :
‘সদ্ভাব বজায় রেখে যেই দেয় কোল।
তার সাথে বঞ্চনায় হয় গণ্ডগোল ॥’
অদ্ভুত ব্যাপার? এই শ্লোক শোনবার সঙ্গে সঙ্গেই রাজপুত্রের মুখের বুলি পালটে গেলো। এবার তিনি বলতে লাগলেন :
‘সে-মি-রা, সে-মি-রা’।
এর পর শোনা গেলো আর একটি শ্লোক :
‘সেতুবন্ধে সিন্ধুণীরে গঙ্গায় সাগরে।
ব্রহ্মঘাতী লভে মুক্তি, মিত্রদ্রোহী মরে।।’
শ্লোক শুনে রাজা তাকালেন পুত্রের মুখের দিকে। রাজপুত্রের বুলি আরও সংক্ষিপ্ত হ’লো। এবার তিনি বলতে লাগলেন :
‘মি-রা, মি-রা’।
বিস্মিত হলেন রাজা, বিস্মিত হলেন সভাসদ্গুণ—তাঁরা সব উৎকর্ণ হ’য়ে শুনলেন পরবর্তী শ্লোক :
‘মিত্রদ্রোহী, কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক।
যতদিন চন্দ্র সূর্য ভুগিবে নরক।।’
ফল ভালই দেখা গেলো। রাজপুত্রের বুলি থেকে আর একটি অক্ষর কমলো। এবার রাজপুত্র শুধু বলতে লাগলেন :
‘রা, রা’।
অবশেষে উচ্চারিত হ’লো শেষ শ্লোক :
‘রাজা আর রাজপুত্র কল্যাণ ইচ্ছায়।
কাটাইবে কাল শুধু দানে ও পূজায়।।’
রাজপুত্রের মুখ থেকে ‘স-সে-মি-রা’ খ’সে গেলো। অবিলম্বে সুস্থ ও স্বাভাবিক হ’য়ে উঠলেন রাজপুত্র। সভার সকলে বিস্ময়ে হতবাক্ হ’য়ে গেলেন।
রাজা বললেন মন্ত্রীকে :
‘এমন আশ্চর্য শ্লোক এক কালিদাস ছাড়া আর কারো মুখে শুনিনি কোন দিন! ইনি কি সাক্ষাৎ সরস্বতী, তোমার ঘরে বধূরূপে আবির্ভূতা হয়েছেন, যাহোক্, মন্ত্রি, তুমি অনুমতি দিলে আমি তোমার বধূকে দুই একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবো।’
মন্ত্রী বললেন :
‘বিলক্ষণ! এতে আর আপত্তির কি আছে, মহারাজ!’
রাজা তখন বধূকে লক্ষ্য ক’রে প্রশ্ন করলেন :
‘ঘরে থাকো চারু-অঙ্গী নাহি যাও বনে;
ঋক্ষ-ব্যাঘ্র-নরকথা জানিলে কেমনে ॥’
রাজার প্রশ্নে পর্দার ওপার থেকে ভেসে এলো উত্তর :
‘দেব গুরু প্রসাদেতে জিভে সরস্বতী।
যে ভাবে জানিনু তিল কোথা ভানুমতী।।’
একথা শুনেই রাজা বুঝতে পারলেন কি ব্যাপার। আর লজ্জা-সংকোচ না ক’রেই তিনি পর্দার ওপারে ঢুকলেন। গিয়ে দেখলেন, মন্ত্রীর বধূমাতা নয়, মহাকবি কালিদাস বসে আছেন। তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধ’রে নিয়ে এলেন সভাগৃহে।
সভাশুদ্ধ লোক ধন্য ধন্য ক’রে উঠলো। রাজা জোড়হাতে ক্ষমা চাইলেন মহাকবির কাছে।
