1 of 2

ভাগু

ভাগু

চিরুনিটা আর খুঁজে পাওয়া গেল না।

মুখ ব্যাজার নীতির। মানস দোতলায় গুম মেরে বসে আছে। মাথা আর আঁচড়াবে না। রেগে গিয়ে বলেছে, মাথা ন্যাড়া করে ফেলব। জন্মে যেন আর চিরুনি কিনতে না হয়।

নীতি বলেছে, কোথাও আছে। খুঁজে দেখব। আমারটা নাও। মানস বলেছে, তার মানে? কোথায় যায়? এই তো সকালে চুল আঁচড়ে গেলাম। আমার চিরুনি কে ধরে! এ কি রে বাবা, একটা জিনিস ঠিক জায়গায় থাকে না।

বাড়িতে তিনজন মানুষ, দুজন কাজের লোক। অফিস থেকে ফিরে হাত মুখ ধুয়ে মানস আয়নার সামনে চিরুনিটা খুঁজতে গিয়ে দেখছিল, নেই। নেই তো নেই। শুধু এই একবার না এই নিয়ে তিনবার এ-বাড়িতে চিরুনি উধাও হয়ে গেছে এক বছরের মধ্যে। নীতির কিছু ঠিক থাকে না। তারটা দু-বার গেছে। তৃতীয়বার তার চিরুনিতে হাত। কার কাজ, এটাও সে অনুমান করতে পারে। প্রথমেই সেই

সন্দেহভাজন মেয়েটিকে ডেকে বলেছিল, তুই নিয়েছিস।

মেয়েটি মুখ নীচু করে দাঁড়িয়েছিল। রোগা। মাগুর মাছের মতো গায়ের রং। অন্ধকারে দাঁড়ালে একেবারে অদৃশ্য হয়ে যায়। চোখ দুটোই সার। ডাগর চোখ এবং নাক মুখ মিলে কি যেন একটা বুনো সৌন্দর্য মেয়েটার মধ্যে আছে, খুব চেঁচামেচির পর নিজেরই কেমন খারাপ লাগে। মানস বলেছিল, তোর কাজ তুই নিয়েছিস। তোর চিরুনি সেদিন কিনে দিলাম।

আমি নিইনি।

তুই নিসনি তো যাবে কোথায় চিরুনিটা। আমারটা আর কে ধরবে! তারপর মনে হয়েছিল মুম্বাই ধরতে পারে। কিন্তু সে তো আগে কলেজে বের হয়ে গেছে। এখনও ফেরেনি। তেমনি সামনে মাথা নীচু করে রেখেছে ভাগু। মাথা তুলে তার দিকে তাকাচ্ছে না। মাথার চুল পরিপাটি করে বাঁধা। খোঁপায় গোঁজা বড়ো জবাফুল।

মেয়েটার এক মাথা কোঁকড়ানো চুল। ঘন এবং গভীর। সচরাচর এত ঘন এবং গভীর চুল মেয়েদের মাথায় আজকাল দেখা যায় না। ভাগুর সঙ্গে চুলেরও কেমন একটা গভীর সম্পর্ক আছে। চুল কোঁকড়ানো বলে জট থাকে খুব। এজন্য তাকে বেশ শক্ত দেখে চিরুনি কিনে দিয়েছে নীতি। মাস তিনেকও হয়নি।

মেয়েটির কোনো কিছু চাইবার স্বভাব নেই। কোনো কাজে না করে না। সারাদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার জন্য উপর নীচ করে বেড়ায়। তার এই একটিই কাজ। বাড়িতে যে তার বাবার নামে মানস টাকা পাঠায়, তাও একবার জিজ্ঞেস করে জানতে চায় না—সত্যি পাঠিয়েছে কি না! কেউ তাকে চিঠি লেখে না। ভাগুর বাবা-মার সঙ্গেও মানসের পরিচয় নেই।

মানসকে তার এক মাসিমা দেশের বাড়ি থেকে ভাগুকে এনে দিয়েছিল। ছেড়া ফ্রক, এক মাথা উসকো-খুসকো চুল। কতকাল চিরুনি এবং তেল না পড়লে এমন অবস্থা হয় মানস সেটা বোঝে। বোঝে বলেই নীতিকে প্রথম দিন বলে দিয়েছিল, কী সুন্দর চুল দেখ। কী অবস্থা করে রেখেছে। একটা শক্ত দেখে চিরুনি কিনে দিও। যা চুল গোরুর খোঁটা পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে।

নীতি বলেছিল, ওর বয়সে আমারও কম ছিল না।

মানস দোতলায় ব্যালকনিতে গুম মেরে বসে আছে। বিকালের জলখাবারও খায়নি। তার মনে হয় নীতির জন্যই সংসারটা এত অগোছালো। জায়গারটা জায়গায় পাওয়া যায় না। স্কুলে কাজ করে বলে কি, সংসার ঠিক থাকবে না! আজকাল মধ্যবিত্ত পরিবারে দুজনে কাজ না করলে চলে!

নীতি পাশে দাঁড়িয়ে বলল, নাও না! বলছি তো এবার ঠিক চোখ রাখব।

দু-দুবার গেল, অথচ তুমি একবারও খুঁজে দেখলে না, কে নিয়েছে!

কে নেবে ভাগুরই কাজ।

সেবারে অবশ্য ভাগুর পক্ষ হয়ে মানস লড়ে গেছে। ভাগুর কখনো সাহস হবে তোমার চিরুনি ধরার। অযথা একটি নির্বিরোধ অসহায় মেয়েকে দায়ী করছ, কোথায় রেখেছ দ্যাখ। বরং মানসের রাগই হয়েছিল ভাগুর নামে অভিযোগ করার।

ভাগুরই কাজ। কথাটা শুনেও কোনো জবাব সে দেয়নি। ভাগু সংসারে সব অপমান মাথা পেতে সহ্য করতে এসেছে, এমন মনে হয়েছিল তার। ওর বাবা মার উপরে রাগ হয়েছিল। কী রে বাবা, খেতে দিতে পারবি না, জেনেও জন্ম দিয়ে বসে থাকলি! তারপরই মনে মনে হেসেছিল, সংসারে সবাই কি অঙ্ক কষে সব কিছু করে। সেও কি অঙ্ক কষে, এতটা এগিয়ে এসেছে।

তার মাথায়ও ঘন চুল। কোঁকড়ানো। খুব শক্ত হাড়ের চিরুনি না হলে তারও চলে না। সপ্তাহে একবার শ্যাম্পু না করলে জট বেঁধে যায়। চুলের প্রতি সেও এক সময় খুব যত্ন নিয়েছে। এখন আর তেমন ঘন নেই, পাতলা হয়ে আসছে মাথা। তবু মজবুত চিরুনি না হলে তার চলে না। বেশ দাম দিয়েই নীতি সবসময় তার চিরুনি কেনে। এ-ব্যাপারে তার পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে নীতি সবসময় মাথা ঘামায়। সোনালি বর্ডার দেওয়া এবং বেশ উজ্জ্বল রঙের চিরুনিটা দেখে সে নীতিকে বসেছিল, বা বেশ তো দেখতে। কোথা থেকে কিনলে। নীতি বলেছিল, শ্যামবাজারের মোড় থেকে এটা কিনেছে। খুব বড়ো দোকান। কত ভ্যারাইটি। আট-দশ দিনও হয়নি। নতুন চিরুনিটা উধাও।

মানস বলল, রাখ তোমার চিরুনি, আমারটা ঠিক খুঁজে বের করব। বলে সে উঠে গেল। নীচে সিঁড়ির ঘরে জল তোলার পাম্প যেখানটায়, সেখানটায় খুঁজল। সিঁড়ির ঘরে ভাগু আর বাসন্তীর বিছানা, ফ্রক-প্যান্ট থাকে। বাসন্তী রান্নাঘরে নীতির এটা ওটা এগিয়ে দেয়। নীতি স্কুলে চলে গেলে রান্নার বাকি কাজগুলো সেরে রাখে। ভাগু, বাসন্তী প্রায় সমবয়সি। বাসন্তী কিছু বোধহয় ছোটোই হবে। বছরখানেক হল এখানে এসে উঠেছে। একতলার একটা ঘরে একই বিছানায় শুত। পরে বাসন্তী একদিন বলেছিল, আমি আর শোব না ভাগুর সঙ্গে।

কেন কী হল!

ওর মাথার উকুন আমার মাথায় এসেছে।

বাসন্তীর পাতলা চুল। ঘাড় পর্যন্ত। সে মাথা চুলকে বলেছিল, ইস ঘা হয়ে না যায়! কী চুলকায়।

উকুনের ব্যাপারে নীতির ভারি এলার্জি। বলিস কী! সঙ্গে সঙ্গে মাথা চুলকে বলেছিল, তাই আমার মাথা এমন করছে। এমনটা কী বুঝতে কষ্ট হয়নি মানসের। নীতি সঙ্গে সঙ্গে সরু চিরুনি নিয়ে বসেছিল—এবং দুটো বেশ বড়ো উকুন পেয়েও গেল।–অ মা কি হবে বলে সেদিন তার কী চিৎকার! এবং সঙ্গে সঙ্গে চেঁচামেচি—তাই বলি, হঠাৎ হঠাৎ চিরুনিটা হাওয়া হয়ে যায় কেন। ঠিক ভাগুর কাজ। ওই সরায়।

মানস জানে, সে যতটা ভাগুকে নিরীহ ভাবে, ভাগু বোধহয় সত্যি ততটা নিরীহ নয়। কারণ ভাগু সবসময় আড়ালে-আবডালে থাকতে ভালোবাসে। এমনকী রাতে ভাগুকে ডাকাডাকি না করলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কেন এই আড়াল-আবডাল সেদিন মানস এবং নীতির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছিল। আসলে, সবার সামনে সে মাথা চুলকায় না। মনেই হবে না ভাগুর মাথায় উকুন আছে। মেয়েদের মাথায় উকুন থাকলে মানস ভিড়ের বাসেও টের পায়। আলতো করে চুলের মধ্যে আঙুল চালালে, যত সুন্দরী নারীই হোক না সে বোঝে সুন্দরীর মাথায় উকুন বাসা বেঁধেছে। কী আশ্চর্য ভাণ্ডও এ-বাড়িতে এসে টের পেয়েছে। না আগেই, কে জানে।

উকুন আবিষ্কারের পর নীতি তার চিরুনি লুকিয়ে রাখত। কিন্তু সবসময় তো আর পারা যায় না।

মানস বলেছিল, অত সাহস হবে না।

সাহস হবে না মানে? আমার মাথায় তবে উকুন আসে কী করে! এবং সঙ্গে সঙ্গে ভাগুর তলব। এই দেখি মাথা।

ভাগু তার মাথা দেখাল।

সত্যি উকুনের বাসা যাকে বলে। প্রতিটি চুলের গোড়ায় মরা উকুনের বাচ্চা। হঠাৎ ওক উঠে এসেছিল নীতির। মানসকে বলেছিল, কালই উপেনকে ডেকে দুটোরই মাথা ন্যাড়া করে দেবে।

বিষয়টা যে সত্যি এত গুরুত্ব পেয়েছে নীতির কাছে মানস টের পায়নি। পরদিনই নীতি বলেছিল—কি বলেছিলে!

কি বলব।

নাপিতকে আসতে বলবে।

মানস রেগে গিয়ে বসেছিল, আমি পারব না। উকুন মারার ওষুধ এনে দেব, তাই দিয়ে দিও। তুমি মাথা ন্যাড়া করে দিতে চাইলেই ওরা রাজি হবে কেন!

বাসন্তী বলেছে, মাথা ন্যাড়া করবে।

ভাগু?

ওকি কোনো কথার জবাব দেয়। একটাই তো কথা জানে। কিছু বললেই ‘বেশ। বেশ’ ছাড়া আর কোন কথা জানে!

এও ঠিক, ভাগু জবাবে একটা কথাই বলে।

এই ভাগু, সিঁড়িতে জল পড়ে আছে। মুছে দিয়ে আয়।

ভাগুর উত্তর, বেশ।

এই ভাগু, ধনেটা বেটে দে আগে।

বেশ।

এই ভাগু, ছাদ থেকে জামাকাপড় নিয়ে আয়।

বেশ। বলেই সিঁড়ি ধরে উপরে উঠে যাওয়ার শব্দ।

মানস তন্ন তন্ন করে খুঁজছে তখনো। ভাগু ঠিক পালিয়ে রেখেছে চিরুনিটা। চিরুনির উপর বোধহয় জন্মগত লোভ আছে ভাগুর। যেদিন এ-বাড়িতে ভাণ্ড আসে, চুল একেবারে তার যেন বাবুইর বাসা। কতকাল চুলে তেল না দিলে মাথা না আঁচড়ালে এমন হয় সে জানে না। মাথার চেয়ে খোঁপা বড়ো। নীতি ওর একটা পুরোনো চিরুনি দিয়েছিল, সাবান সোডা দিয়েছিল এবং নারকেল তেল দিলে আশ্চর্য হাসি ফুটে উঠেছিল মুখে। ভাগু নারকেল তেল নিয়ে ছাদে উঠে গেছিল। সারা বিকেল ওকে আর নীচে দেখা যায়নি। চুল পরিপাটি করে নেমে আসার পর মনে হয়েছিল, জীবনে তার আর কোনো দুঃখ নেই। তাকে সারাদিন খাটালেও সে আর ব্যাজার হবে না। একসঙ্গে এত জীবনে সে কোনোদিন বুঝি পায়নি।

মানস ফের ভাগুকে ডেকে বলল, কে নেবে! তুই না নিলে কে নেবে! কে ধরবে। তবু একবার বাসন্তীকে ডেকে বলল, তুই নিয়েছিস?

বাসন্তী অবাক হয়ে বলল।আমি আপনার চিরুনি দিয়ে কী করব!

সত্যি তো-বাসন্তীর চিরুনির দরকার নেই। মাস দু-এক আগে মাথা ন্যাড়া করার চুল খুবই ছোটো। সজারুর কাঁটার মতো চুল তার দাঁড়িয়ে থাকে। ছোটো হাত-চিরুনিই ওর যথেষ্ট। সে এত বড়ো চিরুনি দিয়ে কী করবে।

সহসা মনে হল, ভাগু সব পারে। যতই মেনি বিড়ালের মতো থাকুক, ভেতরে কূট বুদ্ধি খুব। নইলে মাথা ন্যাড়া করার দিন ভাগু মাথা ব্যথায় চিৎকার করবে কেন। কিছুতেই কলপাড়ে নিয়ে যেতে পারেনি নীতি। কত বুঝিয়েছে, তোর এমন সুন্দর চুল দেখবি ন্যাড়া করে দিলে আরও কত সুন্দর হবে। কতভাবে বুঝিয়েছে তারপর রেগে গিয়ে বলেছে, তোর হাতে আমার খেতে পর্যন্ত ঘেন্না করে। তুই তবু ফেলবি না।

ভাগুর মুখ দিয়ে সেদিন ‘বেশ’ কথাটি কিছুতেই বের করা যায়নি।

নীতি বলল, তুমি কি ক্ষেপে গেলে নাকি! সব ছুঁড়ে-ফুড়ে ফেলছ।

হ্যাঁ ক্ষেপেছি। একশোবার ক্ষেপব। কোথায় যায় চিরুনি আজ দেখব।

সব ঘরে আলো জ্বেলে দেওয়া হয়েছে। ভাগুর পাত্তা নেই। ঠিক ছাদে গিয়ে বসে আছে। ভাগুর সঙ্গে বাড়ির যে ঘরগুলির বেশি সম্পর্ক সেখানে খোঁজা হল। পাওয়া গেল না।

একটা চিরুনি নিয়ে মানুষটা এমন ক্ষেপে যেতে পারে নীতি ভাবতেই পারেনি। সে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে দেখল, অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে আছে ভাগু। আকাশ দেখছে মনে হয়। বকলেও ভাগুর মুখের রেখা পালটায় না। যেন এটা এমন কিছুই নয়। জন্মাবার পরেই জেনেছে বুঝি সংসারে সে বাড়তি মানুষ। নীতি কাছে গিয়ে বলল, এই তুই যদি নিয়ে থাকিস বল। পছন্দের চিরুনি কিনে দেব। বের করে দে। দেখছিস না কী করছে!

ভাগু কিছু বলল না। জ্যোৎস্না উঠেছে। ভাগুকে বিচলিত দেখাচ্ছে না। এটা সত্যি বাড়াবাড়ি মানুষটার। ভাগু নাও নিতে পারে। তবু এক বছরের মধ্যে তিনটে চিরুনি হাওয়া হয়ে গেল ভাবতে অবাক লাগে। মুম্বাই তো চিরুনি কখনো ঠিক জায়গায় রাখে না।

হঠাৎ নীচ থেকে মানস চিৎকার করে ডাকল, এই ভাগু, ভাগু।

নীতি বলল, শীগগির নীচে চল।

ভাগু নীচে নেমে সিঁড়ির অন্ধকারে গিয়ে দাঁড়াল—তোর চিরুনি কোথায়! তোরটা আগে বের করে দেখা।

ভাগু সিঁড়ির চাতালের দিকে উঠে যেতে থাকল ফের। পেছনে বাসন্তী, নীতি, মানস। ভাগু একটা পুরোনো মিটসেফ খুলল। বাতিল মিট-সেফ। বাতিল টিন, ভাঙা বোয়েম এবং ফ্লাস্ক এসবে ভরতি। সে নীচ থেকে টেনে কী বের করল একটা। মানস দেখল, ছোট্ট একটা আয়নার ভাঙা টুকরো। চিরুনি বের করে দেখাল।

নীতি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল, ও মা! এটা তো আমার সেই চিরুনিটা।

বাসন্তী ভাগুর দোষ ধরতে পারলে খুব খুশি। বাসন্তী বলল, আমি বলেছি না মাসিমা, ভাগুরই কাজ।

নীতি বলল, আসলটা বের কর। আজ যেটা নিয়েছিস।

ভাগু আবার কেমন হয়ে গেল। কথা নেই।

তোর এত সাহস ভাণ্ড! নীতি সমানে বকে যাচ্ছে।

মানস দেখছিল, দ্বিতীয়বারের চুরি যাওয়া চিরুনিটাতে একটা দুটো কাঠি লেগে আছে। গোরুর খোঁটার মতো শক্ত চিরুনি না হলে ভাগুর চুল সব হজম করে দেবে।

নীতি ফের বলল, সেদিন যে তোকে চিরুনিটা কিনে দিয়েছি, সেটা বের কর।

ভাগু ভিতর থেকে কী টেনে বের করতে গিয়ে একটা হরলিকসের খালি শিশি নীচে পড়ে গেল।

ভাঙলি তো।

ভাগু তখনও খুঁজছে।

মানস দেখছিল, ভাগুর খোঁপায় জবাফুল গোঁজা।

নীতি বলল, বের কর বলছি, তুই কি চিরুনি খাস! তুই কি রাক্ষস! বের কর!

এদিক ওদিক খুঁজে, ওটা বের করল। ডাড়ার একটা কাঠিও নেই।

নীতি এবার মানসের দিকে তাকাল।

মানস ধীরে ধীরে নীচে নেমে যাচ্ছে। একটা কথাও বলছে না।

নীতি চিৎকার করে বলল, কি, কিছু বলছ না যে। ওই নিয়েছে। বের কর বলছি। তুমি যাবে না। এত সাহস তোর মেলোমশাইর অমন সুন্দর চিরুনিটা লুকিয়ে ফেললি!

মানস বলল, সেই কখন থেকে কিছু খাইনি। এক কাপ চাও এ-বাড়িতে পাওয়া যায় না।

নীতি এবারে তরতর করে নেমে এল। কী ব্যাপার একটা কথা বললে না তুমি! তোমার জন্যই এরা আসকারা পায়। ভাগু ছাড়া কে নেবে!

মানস হেসে বলল, নিতে দাও। ও তো কিছু চাইতে শেখেনি। কাল আমার জন্য আর একটা না হয় কিনে এনো। তারপর ভাবল, ছাদে দাঁড়িয়ে ভাগু যখন চুল আঁচড়ায়, তখন কি সে মেঘবরণ রাজকন্যার কথা ভাবে!

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *