৫৫
সিলেক্ট কমিটির জরুরি মিটিং ডেকেছেন গভর্নর রজার ড্রেক।
ফোর্ট উইলিয়ামের ঘাটে এসে ভিড়ল ক্লাইভের বজরা। চন্দননগর থেকে এতটা পথ উজান বেয়ে আসতে গিয়ে দেরি হয়ে গিয়েছে অনেকটা। বজরা থেকে নেমে দ্রুত কেল্লায় প্রবেশ করলেন ক্লাইভ। সঙ্গে মেজর কিলপ্যাট্রিক ও ওয়ালস।
মিটিংরুমে প্রস্তুত হয়ে আছেন গভর্নর ড্রেক, হলওয়েল ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসন। কিলপ্যাট্রিক ও ওয়ালসকে সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত ভঙ্গিতে মিটিংরুমে ঢুকে চেয়ারে বসলেন কর্নেল ক্লাইভ। মিটিং শুরু হল।
ওয়াটসন বললেন, ‘সিরাজদ্দৌলার পরিবর্তে অন্য কাউকে মসনদে বসাতে না পারলে বেঙ্গলে কোম্পানির ট্রেডকে সুরক্ষিত করা যাবে না।’
ক্লাইভ বললেন, ‘ইয়েস। ইট ইজ নাউ আওয়ার ডিক্লেয়ারড পলিসি।’
‘কিন্তু কর্নেল এক মাস হয়ে গেল, চন্দননগর দখল করার পর আইডলি বসে রয়েছি আমরা। কোন পথে সামনে এগোন যাবে, জানি না। দরবারের অ্যাগ্রিভড জেন্টুদের নিয়ে কনসপিরেসি ম্যাচিওর করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন আপনি। কিন্তু সে কাজ এগোচ্ছে না। এদিকে বর্ষা আসতে খুব দেরি নেই। আপনিও জানেন, আমিও জানি—বর্ষার সময় বেঙ্গলে যুদ্ধ করা যায় না।’
হলওয়েল ও ড্রেক প্রায় সমস্বরে বলে উঠলেন, ‘আমরাও তো এসব কথাই বলতে চাইছি। সময় বয়ে যাচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’
চেয়ারের গায়ে হেলান দিয়ে বসেছিলেন কর্নেল ক্লাইভ। পাইপটা ঠোঁট থেকে হাতে নিয়ে শিরদাঁড়া টানটান করে বললেন, ‘আশা করি আপনাদের যা সাবমিশন করার ছিল তা শেষ হয়েছে। এবারে আমি বলি। আমার মনে হয়, খুব দ্রুত নবাবের সঙ্গে চূড়ান্ত ফয়সালাটা সেরে ফেলতে পারব আমরা। বেশি দিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না।’
ওয়াটসন প্রশ্ন করলেন, ‘কীসের ভিত্তিতে বলছেন একথা? সিরাজদ্দৌলার পরিবর্তে কে বসবেন মসনদে সেটাই তো এখনও চূড়ান্ত হল না।’
‘মসনদে বসবেন মিরজাফর খাঁ।’
ওয়াটসন, হলওয়েল ও ড্রেক—তিনজনেই চমকে উঠলেন।
হলওয়েল ঢোঁক গিলে বললেন, ‘মিরজাফর খাঁ জবরদস্ত ক্যান্ডিডেট, নো ডাউট। কিন্তু শুনেছিলাম তিনি মসনদে বসতে নাকি রাজি নন।’
‘ঠিকই শুনেছিলেন। প্রথমে আপত্তি ছিল তাঁর। তবে এখন তিনি রাজি হয়েছেন। তাঁকে রাজি করিয়েছেন পেত্রস আরাটুন। তাই বলছিলাম শুধু প্রোটোকল মেনে সব সময় কাজ করলে চলে না, কে কী করতে পারে, সেটা বুঝে নিয়ে কাজ হাসিল করাটাই আসল।’
হলওয়েল ও রজার ড্রেকের মুখ দেখে মনে হল তাঁরা মুষড়ে পড়েছেন। চন্দননগরের লড়াইয়ের পর এক মাস পার হয়ে গেলেও নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রূপায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত না করাতে পারার দায় ক্লাইভের ঘাড়ে চাপানোর জন্য হলওয়েল ও ড্রেক পরিকল্পনা করেই তাঁর সঙ্গে আজ বাকযুদ্ধে নেমেছিলেন। এদিকে ক্লাইভ যে ষড়যন্ত্রের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন, সিরাজদ্দৌলার পরবর্তী নবাবের নামও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে, এটা তাঁরা আন্দাজই করতে পারেননি।
অপ্রতিভ গলায় ড্রেক বললেন, ‘আপনি তো এ ব্যাপারে কিছু জানাননি আমাদের!’
‘সময় পেলাম কোথায়? আজ সকালেই তো এসেছে ওয়াটসের চিঠি—মসনদে বসতে রাজি হয়েছেন মিরজাফর।’ এই বলে মুচকি হেসে ওয়াটসের চিঠিটা টেবিলের উপর পেশ করলেন ক্লাইভ। তারপর বললেন, ‘মিরজাফরকে নবাব করা প্রস্তাবে সিলেক্ট কমিটির এনডোরসমেন্ট প্রয়োজন। আশা করি এই এই প্রোপোসালে আপনাদের কোনও আপত্তি নেই।’
হলওয়েল ও ড্রেক এ ওর মুখের দিকে তাকালেন। সিলেক্ট কমিটিকে না জানিয়ে একতরফা ডিসিশন নিচ্ছেন ক্লাইভ—এই অভিযোগটা ধোপে টিকল না।
চুরুটের ধোঁয়া উড়িয়ে অ্যাডমিরাল ওয়াটসন বললেন, ‘আমার আপত্তি নেই। ইট ইজ অ্যা গুড প্রোপোসাল।’
সত্যিই এ প্রস্তাবে আপত্তি করার কিছু নেই। মিরজাফরই এই মুহূর্তে নবাব হওয়ার জন্য জবরদস্ত বাজি। সিপাহ সালার মিরজাফর আলিবর্দি খাঁর রিশতাদার, ওজনদার নাম। ক্লাইভের প্রস্তাবে সম্মতি জানালেন ড্রেক ও হলওয়েল।
১৭৫৭ সালের ১ মে। সিরাজদ্দৌলাকে হটিয়ে মিরজাফরকে নবাব করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে গেল সিলেক্ট কমিটিতে।
কাশিমবাজার কুঠির ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে দূরবিনে চোখ রেখে চমকে উঠলেন উইলিয়াম ওয়াটস। কুঠির দিকে এগিয়ে আসছে বেশ বড়সড় একটা ফৌজ। হাতি, ঘোড়া, পদাতিক সেনা, কামানের গাড়ি সবই ওয়াটসের চোখে পড়ছে। বাতাসে উড়ছে নিজামতের পতাকা। বাহিনীর নেতৃত্বে মোহনলাল।
ভয়ে কাঁপতে লাগলেন ওয়াটস। নবাবের ফৌজ কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণ করতে আসছে নাকি? দরবারের অনেক গোপন কথাই আজকাল ওয়াটসের কানে আসে। নবাব যে কাশিমবাজারে হামলা করতে পারেন, এমন কোনও আগাম খবর তো ছিল না।
ইদানীং অবশ্য ইংরেজদের উপর বেজায় চটে আছেন নবাব। ইংরেজদের উকিলকে একপ্রকার ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন দরবার থেকে। প্রকাশ্যে হুংকার ছেড়ে বলেছেন, ইংরেজদের শেষ করে ছাড়বেন। চন্দননগর থেকে কাশিমবাজারের উদ্দেশে পাঠানো গোলাবারুদ বোঝাই ইংরেজদের এগারোখানা নৌকোকে নবাবের হুকুমে পলাশিতে আটক করেছেন রায়দুর্লভ। ভাগীরথীর বুকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সব নৌকাতেই খানা তল্লাশি হচ্ছে, হুকুম হয়েছে—কোনও নৌকো থেকে গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেলেই মাঝিমাল্লাদের নাক-কান কেটে দেওয়া হবে। এসব না হয় একরকম, তা বলে আলিনগরের সুলেনামার বাঁধন পুরোপুরি ছিন্ন করে ফেলে নবাব সিরাজদ্দৌলা যে সরাসরি কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণের হুকুমত দেবেন, এটা ওয়াটস কল্পনাও করতে পারেননি।
কুঠির দেউড়িতে পৌঁছে গিয়েছে মোহনলালের ফৌজ। বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছে সেপাই-লস্করদের আস্ফালন। অস্ত্রের ঝনঝনানি। সদর দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন ত্রস্ত উইলিয়াম ওয়াটস। হাওদা থেকে নেমে এসে তাঁর মুখোমুখি দাঁড়ালেন মোহনলাল।
ওয়াটস শুধোলেন, ‘আমাদের কী কসুর হয়েছে হুজুর?’
‘কুঠিতে তল্লাশি হবে। নবাবের হুকুমত।’
খানিকটা নিশ্চিন্ত হলেন ওয়াটস। কাশিমবাজারে হামলা নয়, কুঠি তল্লাশি করতে ফৌজ নিয়ে এসেছেন মোহনলাল।
ওয়াটস বিনীত ভাবে শুধোলেন, ‘কেন এই হুকুমত হুজুর?’
‘খবর আছে, আপনারা করিব পাঁচশো সেনা-মজুত করেছেন কুঠিতে। আপনাদের মতলব কী?’
ঘাম দিয়ে ওয়াটসের যেন জ্বর ছাড়ল। কুঠিতে পল্টন মজুত করার ফরিয়াদ বিলকুল ঝুটা। মোহনলাল খানাতল্লাশি করে দেখলেই টের পাবেন। পাহারাদারেরা ছাড়া বাড়তি একজন পল্টনও কুঠিতে নেই।
ওয়াটস মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন, ‘আমরা সওদাগর। জঙ্গবাজ নই। সওদা করতে এসে কুঠিতে সেনা মজুত কেন করব আমরা?’
মোহনলাল কড়া গলায় বললেন, ‘আপনারা নবাবের সঙ্গে লড়াই বাধাতে চান।’
‘ইয়ে গলত ইলজাম হুজুর। আলিনগরের সমঝোতা নবাব বাহাদুরের সঙ্গে আমাদের দোস্তির নিশান। বাংলার শান্তি বজায় রাখা আমাদের ইরাদা। খামোখা আমরা লড়াই বাধাতে যাব কেন?
‘তাহলে মুর্শিদাবাদে ফৌজ পাঠাতে চান কেন কর্নেল ক্লাইভ?’
‘সে তো ল-সাহেবকে গ্রেপ্তার করার জন্য।’
মোহনলাল ফের প্রশ্ন করলেন, ‘গোলাবারুদের নৌকো কেন আসছিল কাশিমবাজারে?’
‘গোলাবারুদ ফরাসিদের কেল্লা থেকে পাওয়া। ওখানে রাখার জায়গা নেই তাই—’
ওয়াটসকে বাধা দিয়ে ধমকে ওঠেন মোহনলাল, ‘আপনি কি মনে করেন, আমি বেওকুফ আছি? নবাবকে মসনদ থেকে টেনে নামাতে চান আপনারা। সাজিশিতে মদত দিচ্ছেন একদল বুড্ডাকে। এর পাক্কা সাবুদ আছে।’
ওয়াটসের শিরদাঁড়া বেয়ে যেন ঠান্ডা রক্তের স্রোত বয়ে গেল। ষড়যন্ত্রের কথা কি ফাঁস হয়ে গিয়েছে? মনের ভয় লুকিয়ে স্নায়ু শক্ত করে ওয়াটস বললেন, ‘এদেশে সওদা করতে এসেছি আমরা। নবাব বাহাদুরের সঙ্গে দোস্তি হয়েছে আমাদের। সুবে বাংলায় আমাদের কারবারের ফির শুরুয়াত হয়েছে। মসনদ থেকে নবাবকে টেনে নামিয়ে কী ফায়দা হবে আমাদের? সাজিশের ফরিয়াদ ঝুটা হুজুর।’
‘খামোশ!’ চিৎকার করে উঠলেন মোহনলাল। তারপর বললেন, ‘হালসিবাগান থেকে রাতে পালিয়ে গিয়েছিল বান্দা, এখন এখানে আছে। কী নাম যেন?’
‘লিউক স্ক্র্যাফটন।’
‘সে এখানে এসেছে কেন?’
‘কর্নেল ক্লাইভ তাকে পাঠিয়েছেন। ঢাকার কুঠিয়াল ছিল স্ক্র্যাফটন। আলিনগরের সুলেনামা মোতাবেক ঢাকা কুঠির মালপত্র বুঝে নিতে এসেছে।’
‘কোথায় সে?’
‘আজ্ঞে কুঠিতেই আছে।’
‘শুনতে পাচ্ছি সে ঘোঁট পাকাতে এসেছে মুর্শিদাবাদে।
‘ইয়ে ঝুটা ইলজাম হুজুর।’
‘খামোশ!’
ধমক খেয়ে চুপষে গেলেন ওয়াটস। মোহনলাল বললেন, ‘নবাব চাইছেন না স্ক্র্যাফটন এখানে থাকুক। কালই দেওয়ানখানা থেকে ঢাকা কুঠির মালপত্র বুঝে নিয়ে ওকে কলকাতায় চলে যেতে বলবেন। এই যে পরোয়ানা।’ এই বলে কোমরের খাপ থেকে একটা গোটানো কাগজ বের করে ওয়াটসের হাতে ধরিয়ে দিলেন মোহনলাল।
‘নবাবের হুকুম আমরা অবশ্যই তামিল করব। আপনি কুঠির অন্দরে চলুন হুজুর।’
জনাকুড়ি সেপাই নিয়ে কুঠির ভিতরে প্রবেশ করলেন মোহনলাল। সেপাইরা গোটা কুঠি তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখল। কুঠির পাহারাদার ও কয়েকজন রাইটার ছাড়া কাউকে পাওয়া গেল না। হতাশ হলেন মোহনলাল। পাঁচশো সৈন্য মজুত হয়েছে কাশিমবাজার কুঠিতে—একেবারে ফালতু খবর এনেছিল নিজামতের কাসিদরা।
ওয়াটস বললেন, ‘আমি আপনাকে গলত বাত বলিনি হুজুর। কুঠিতে পল্টন নেই। আপনি নিজেই তো দেখলেন। আমি ফির বলছি হুজুর, কোনও বদ মতলব আমাদের নেই।’
‘স্ক্র্যাফটন ছোকরা কোথায়?’ প্রশ্ন করলেন মোহনলাল।
এবারে মুশকিলে পড়লেন ওয়াটস। চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে কোথাও স্ক্র্যাফটনকে দেখতে পেলেন না। পাহারাদারদের কেউই স্ক্র্যাফটনের হদিশ দিতে পারল না।
মোহনলাল ফের শুধোলেন, ‘কোথায়?’
অপ্রস্তুত গলায় ওয়াটস বললেন, ‘কুঠিতেই তো ছিল হুজুর।’
ওয়াটসকে চমকে দিয়ে হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠলেন মোহনলাল।
ওয়াটস অপ্রস্তুত চোখমুখ করে চেয়ে রইলেন তাঁর দিকে।
মোহনলাল ব্যঙ্গ করে বললেন, ‘বাহাদুর আদমি। আগেই ভেগে পড়েছে বলে মালুম হচ্ছে।’
কাশিমবাজার কুঠি থেকে বেরিয়ে এসে হাতির পিঠে চেপে বসলেন মোহনলাল। ফৌজ নিয়ে ফিরে চললেন মুর্শিদাবাদে।
হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ওয়াটস। কিন্তু স্ক্র্যাফটন গেল কোথায়? মোহনলালের অনুমান কি সঠিক? সত্যিই কি ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছে স্ক্র্যাফটন?
কুঠির ভিতরে প্রশস্ত চাতালের একপাশে পাহাড়ের মতো ঢিবি করা রয়েছে পাটের তন্তু। হঠাৎ ওয়াটসের চোখে পড়ল, তার ভিতরে কী যেন নড়ছে। ওয়াটসকে চমকে দিয়ে সেই পাটের পাহাড় ফুঁড়ে উঠে দাঁড়ালেন স্ক্র্যাফটন। মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত সোনালি ধুলোয় মাখামাখি। স্ক্র্যাফটনের চেহারা দেখে সজোরে হেসে উঠলেন ওয়াটস।
ওয়াটসের সামনে এসে তসলিম জানানোর মতো করে মাথা ঝুকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে স্ক্র্যাফটন বললেন, ‘সেলাম মাই বস।’
কৌতুকপূর্ণ চোখে স্ক্র্যাফটনের দিকে চেয়ে রইলেন ওয়াটস।
স্ক্র্যাফটন বললেন, ‘আপনি সত্যিই কাবিল-ই-ইনসান। নবাব আমাদের উপর রেগে আছেন। হঠাৎ মোহনলাল এ ভাবে ফৌজ নিয়ে হানা দেওয়ায় ভেবেছিলাম দে উইল বিহেড আস। তাই লুকিয়ে পড়েছিলাম। আপনি নার্ভ স্টেডি রেখে কী করে কথা চালিয়ে গেলেন? ফ্রম টুডে ইউ আর মাই বিগ বস। আই অ্যাম ইওর মোস্ট ওবিডিয়েন্ট সারভেন্ট।’
এই প্রশংসাসূচক কথাবার্তায় খুশি হলেন ওয়াটস। তাঁর অথরিটি মেনে নিয়েছে স্ক্র্যাফটন। স্বাধীনচেতা এই ছোকরা কাশিমবাজারে আসার পর থেকে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখা নিয়ে যে সমস্যায় পড়েছিলেন ওয়াটস, তার সহজ সমাধান হয়ে গেল।
এর উপরে নবাব আবার হুকুম করেছেন, স্ক্র্যাফটনকে কাশিমবাজার ছেড়ে চলে যেতে হবে। নবাব যেমন চটে আছেন তাতে এই মুহূর্তে নবাবকে তুষ্ট রাখতে স্ক্র্যাফটনকে যেতেই হবে কলকাতায়। কাজেই নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র ওয়াটসের হাতেই থাকবে।
উইলিয়াম ওয়াটসের অভিব্যক্তিতে উপচে পড়তে লাগল খুশি। স্ক্র্যাফটনকে আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে গদগদ স্বরে বললেন, ‘উই আর ব্রাইটনস। অত সহজে আমাদের হার মানলে চলে না। তুমি বুদ্ধিমান ছেলে। ইয়ং অফিসার। চাকরিতে আর একটু অভিজ্ঞতা হলে তুমিও আমার মতো টাফ সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করতে পারবে।’
স্ক্র্যাফটন বললেন, ‘আই ফিল প্রাউড টু ওয়ার্ক আন্ডার অ্যা সুপিরিয়র লাইক ইউ।’
