কুহুরানী – ৭

নয়াপাড়ায় সার্কাসের দল পুরো এক মাস থাকল। তারা চলে গেল অগ্রহায়ণ মাসের ১৮ তারিখে। তখন ধানকাটার মৌসুম শুরু হয়েছে।

যাওয়ার সময় সার্কাস পার্টির একটা গাড়ি থামল খায়রুন্নেসা আদর্শ হাইস্কুলের সামনে। কুহুরানী নামে এই দলের একটা মেয়ে নাকি হেডমাস্টার সাহেবের পা ছুঁয়ে সালাম করবে, তার দোয়া নেবে। স্কুলে বিরাট হৈচৈ পড়ে গেল। ছাত্ররা কেউ ক্লাসে থাকতে চাচ্ছে না। উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে চাচ্ছে। বিএসসি স্যার হাসান আলি কঠিন ধমক দিলেন, ‘অল কোয়ায়েট।’

কুহুরানী হেডমাস্টার সাহেবের পা ছুঁয়ে সালাম করল। উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, মাস্ক মানে মৃগনাভি, হয়েছে না স্যার?

মোফাজ্জল করিম হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন।

কুহুরানী বলল, স্যার?

কুহুরানীর চোখে জল। সার্কাসের মেয়ের চোখের জলের মূল্য কী? কোনো মূল্য নাই।

মোফাজ্জল করিমের ইচ্ছা হল, মেয়েটির মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করবেন। তারপর মনে হল থাক সবাই তাকিয়ে আছে। কে কী মনে করবে!

হাসান আলি বলল, স্যার আপনি কুহুরাণীর মাথায় হাত রেখে একটু দোয়া করে দেন। আপনার দোয়া নিতে এসেছে।

কুহুরাণী কেঁদেই যাচ্ছে। তার সারা মুখে কাজল লেপ্টে গেছে। কাজলের মাখামাখি হয়ে কী সুন্দরই না তাকে লাগছে!

***

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *