১
খায়রুন্নেসা আদর্শ বিদ্যালয়ের হেডমাস্টার মোফাজ্জল করিম এমএ বিটি (ফার্স্ট ক্লাস) সাহেবের মেজাজ এই মুহূর্তে খুবই খারাপ। মেজাজ খারাপ হলে তার মুখে থুথু জমে। সেই থুতু তাকে গিলে ফেলতে হয়। যেখানে সেখানে থুতু ফেলাকে তিনি অসভ্যতা মনে করেন। থুতু গিলতেও তার ঘেন্না লাগে। থুতু ফেলে দেওয়ার জিনিস, গেলার জিনিস না।
মোফাজ্জল করিম সাহেবের মেজাজ খারাপ হওয়ার কারণ আজ থার্ড পিরিয়তে তিনি সপ্তম শ্রেণী খ শাখায় জানালা দিয়ে উঁকি দিয়েছিলেন। স্কুলের নতুন শিক্ষক হাসান আলী ক্লাস নিচ্ছে। পাটীগণিতের ক্লাস। নতুন শিক্ষক কেমন পড়ায় দেখা উচিত। মোফাজ্জল করিম সাহেব অবাক হয়ে দেখলেন, হাসান আলী রুমাল দিয়ে ক্লাসে ম্যাজিক দেখাচ্ছে। স্কুল হলো বিদ্যাশিক্ষার প্রতিষ্ঠান। এটা কোনো রঙ্গশালা না। হাসান আলীকে স্কুল কমিটি ম্যাজিক দেখানোর জন্য আনে নি। শিক্ষকের হাতে ম্যাজিকের রুমাল থাকবে না। থাকবে চক-ডাস্টার।
মোফাজ্জল করিম হাসান আলীকে চিরকুট পাঠিয়েছেন-
‘টিফিন টাইমে সাক্ষাৎ করিবেন। অতীব জরুরি আলোচনা।’
মোফাজ্জল করিম টিফিন টাইমের জন্য অপেক্ষা করছেন। টিফিনের ছুটি একটা থেকে একটা চল্লিশ মিনিট। ‘টিফিন টাইমের’ বেশি দেরি নেই। তাঁর ঘড়িতে তেরো মিনিট বাকি। স্কুলের ঘড়িতে এগারো মিনিট। দুই মিনিটের এই পার্থক্য তিনি দূর করতে পারছেন না। বেশ কয়েকবারই স্কুলের ঘড়ির সঙ্গে তিনি নিজের ঘড়ি মিলিয়েছেন। কিছুদিন পার হতেই আবার দুই মিনিটের পার্থক্য। দুই মিনিট হেলাফেলার বিষয় না। সমগ্র বিশ্বব্রহ্মান্ড দুই মিনিটে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
হেডমাস্টার মোফাজ্জল করিম সাহেবের বয়স একষট্টি। বেঁটেখাটো মানুষ। ভারি শরীর। মাথার চুল সবই পাকা। নাকের নিচে হিটলারের মতো গোঁফ আছে। স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করার সময় তিনি নিজের চেহারায় কাঠিন্য নিয়ে আসার জন্য হিটলারি গোঁফ রেখেছিলেন। মানুষ হিসেবেও হিটলারকে তার পছন্দ। ছাত্রজীবনে তিনি হিটলারের লেখা বই মেইন ক্যাম্পফ পড়েছিলেন। মোফাজ্জজ করিম সাহেবের মতে, বিশৃঙ্খল পৃথিবী ঠিক করার জন্য হিটলারের মতো কঠিন শাসক প্রয়োজন। স্কুলের ছাত্রদের কাছে তার দুটি নাম আছে। ‘তিতা টমেটো’ এবং ‘গর্জন স্যার’। তার গাত্রবর্ণ এবং কঠিন স্বভাবের দিকে লক্ষ্য রেখে তিতা টমেটো নামকরণ। এ নাম ঠিক আছে, তবে গর্জন স্যার নামটা ঠিক না। তিনি কখনো গর্জন করেন না। কথা বলেন নিচু স্বরে। শান্ত ভঙ্গিতে।
অঙ্ক শিক্ষক (সাধারণ নাম বিএসসি স্যার) হাসান আলী হেডমাস্টার সাহেবের ঘরে বসে আছেন। দুজনই মুখোমুখি। টিফিন পিরিয়ডে ছাত্ররা স্বভাবমতো স্কুল কম্পাউন্ডে হইচই-চেঁচামেচি করছে। অকারণ হইচই-চেঁচামেচি মোফাজ্জল করিম সাহেবের জন্য পীড়াদায়ক বলেই তিনি তার ঘরের মূল দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। কার্তিক মাস। জানালা দিয়ে উত্তরের হাওয়া বইছে। ঘরের ভেতর আরামদায়ক উষ্ণতা। হেডমাস্টার সাহেবের গায়ে হালকা হলুদ রঙের স্যুট। গলায় কমলা রঙের টাই। তার দুটা স্যুট আছে। শীতের শুরু থেকেই তিনি স্যুট-টাই পরে ফিটফাট হয়ে স্কুলে আসেন। গরমের সময় পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেন। পায়জামা-পাঞ্জাবিতে ইস্ত্রি থাকে। কাঁধে নীলের ওপর সাদা ফুলের কাজ করা একটা শাল থাকে। ছাত্রজীবনে তিনি একবার দার্জিলিং গিয়েছিলেন। টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখার জন্য। নীল সালটা সেখান থেকেই কেনা। এক জায়গায় পোকায় কেটেছে। তবে ঠিকমতো ভাঁজ করে রাখলে পোকায় কাটা ছিদ্র দেখা যায় না।
হাসান আলী, কেমন আছেন?
জি স্যার, ভালো। আপনি ডেকেছিলেন, কী যেন বলবেন জরুরি।
আপনার খোঁজখবর নিতে পারি নি। আগে সেই খোঁজটা নিই। সেক্রেটারি সাহেবের বাড়িতেই তো আছেন?
জি স্যার।
থাকা-খাওয়ার কোনো সমস্যা কি আছে?
জি না।
সেক্রেটারি সাহেব দিলদরিয়া মানুষ। টাকা-পয়সাও প্রচুর আছে। ওনার বাড়িতে খাওয়ার সমস্যা কোনোদিনই হবে না। তার পরও অন্যের বাড়িতে দীর্ঘদিন থাকা অপমানজনক। নিজে আলাদা থাকার জায়গার ব্যবস্থা করবেন। রান্নাবান্নার লোক রাখবেন কিংবা নিজেই রাঁধবেন। রন্ধন তেমন কঠিন কোনো বিষয় না।
স্যার আপনি কি নিজেই রাঁধেন?
আমার একটা লোক আছে। বজলু মিয়া নাম। কাজকর্ম করে, রান্নাবান্নাও করে। মাঝেমধ্যে সে উধাও হয়ে যায়। তখন আমিই রাঁধি। ভাত-ডাল, ডিম আলু ভর্তা। সম্প্রতি ছোট মাছ রান্না শিখেছি। একদিন চলে আসবেন, রেঁধে খাওয়াব।
জি আচ্ছা, স্যার।
আজই চলে আসুন। রাত আটটার দিকে চলে আসবেন।
জি আচ্ছা। স্যার, জরুরি কথাটা তো বললেন না!
ও আচ্ছা, জরুরি কথা।
মোফাজ্জল করিম একটু ঝুঁকে এগিয়ে এলেন। কঠিন কথা বলতে হবে। গলার স্বর আরো মোলায়েম করা প্রয়োজন। কঠিন কথা মোলায়েম করে বলতে হয়। গর্জন করলে কঠিন কথা আর কঠিন থাকে না।
আজ থার্ড পিরিয়ডে আপনি ছিলেন সপ্তম শ্রেণী খ শাখায়।
জি। পাটীগণিতের ক্লাস।
আমি বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিলাম। জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম আপনি অঙ্ক করাচ্ছেন না। রুমাল দিয়ে কী যেন করছেন।
ওদের একটা ম্যাজিক দেখাচ্ছিলাম।
আপনি অঙ্ক শিক্ষক, আপনি ওদের অঙ্ক শিখাবেন। ম্যাজিক দেখাবেন কেন?
হাসান বিব্রত ভঙ্গিতে বললেন, শুরুতে একটু ‘মজা’ করা।
স্কুল তো ‘মজা’ করার জায়গা না। বিদ্যাশিক্ষার জায়গা। তা ছাড়া ম্যাজিক মানেই ফাঁকি। ছাত্রদের ফাঁকির সঙ্গে পরিচয় করানো ঠিক না।
স্যার এই ফাঁকি ক্ষতিকারক ফাঁকি না। আনন্দের ফাঁকি।
মোফাজ্জল করিম কঠিন গলায় বললেন, ফাঁকি মানেই ফাঁকি। ক্ষতির ফাঁকিও ফাঁকি, আনন্দের ফাঁকিও ফাঁকি। এ বিষয়ে আমার সঙ্গে তর্ক করবেন না।
জি আচ্ছা। স্যার আমি কি এখন উঠব?
আরেকটা কথা। গত বুধবার তিনটার দিকে দেখলাম, আপনি স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে আমগাছ তলায় সিগারেট খাচ্ছেন। ধূমপান ছাত্রদের সামনে করবেন না। শিশুরা কোমলমতি। যা দেখে, তা-ই শেখে। শিক্ষকদের ধূমপান করতে দেখলে তারাও ধূমপান করা শিখবে। কিংবা ধূমপানে আগ্রহী হবে। ঠিক বলেছি না?
জি।
আপনাকে কিছু কঠিন কথা বললাম। দয়া করে কিছু মনে করবেন না। শেক্সপিয়রের সেই বিখ্যাত উক্তি-
I have to be cruel
only to be kind.
স্যার, উঠি?
আর দুই মিনিট। নেয়ামতকে বেলের শরবত বানাতে বলেছি। শরবত খেয়ে যান। লিভারের মহৌষধ। কান্তিবর্ধক। বেল ও দুধ-এই জিনিস শরীরের কান্তি বর্ধন করে।
মোফাজ্জল করিম হাসান আলীর দিকে তাকিয়ে আছেন। এই মানুষটির কান্তি বর্ধনের জন্য দুধ-বেলের প্রয়োজন নেই। চেহারা যথেষ্ট কান্তিময়। দশ-বারো বছর আগে দেখা একটা বাংলা ছবির নায়কের সঙ্গে চেহারার মিল আছে। ছবির নাম মনে আসছে না, তবে কাহিনী মনে আছে। বিয়ের পরপরই নায়কের স্ত্রী মারা যায়। সে আবার বিয়ে করে। তখন প্রথম স্ত্রী নিশিরাতে তার কাছে আসে। তার সঙ্গে গল্প গুজব করে। ভৌতিক কাহিনী।
দপ্তরি নেয়ামত বেলের শরবত নিয়ে ঢুকেছে এই শরবতই মোফাজ্জল করিম সাহেবের দুপুরের খাবার। তিনি একাহারি মানুষ। বেলের সময় বেলের শরবত। অন্য সময় লেবুর শরবত।
শরবতটা ভাল না?
জি স্যার।
শিক্ষকতা করতে এসেছেন, একটা বিষয় আপনাকে বলে দিই। ছাত্ররা আড়ালে শিক্ষকদের নাম দেয়। তারা কী নাম দিচ্ছে এটা নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে। শিক্ষক প্রসঙ্গে ছাত্রদের চিন্তা-চেতনা নামকরণে প্রতিফলিত হয়। ছাত্ররা আমাকে ডাকে ‘গর্জন স্যার’। এর অর্থ আমাকে তারা ভয় পায়। শিক্ষককে অবশ্যই ছাত্ররা ভয় করবে। আপনার অতি কমনীয় চেহারা। অতি শুভ্র গাত্রবর্ণ। এখন আপনি যদি ছাত্রদের কাছে অযোগ্য শিক্ষক প্রমাণিত হন, তারা আপনার নাম দিয়ে বসবে মাকাল ফল স্যার। এটা ঠিক হবে না। কাজেই সবধান।
.
টিফিন পিরিয়ড শেষ হয়েছে। নিয়ামত ঘণ্টা দিচ্ছে। মোফাজ্জল করিম হাতঘড়িতে সময় দেখলেন। নিয়ামত মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা ঘণ্টা দেয়। গত মাসের ৯ তারিখে ক্লাস শেষ হওয়ার পনেরো মিনিট আগে ঘণ্টা দিয়ে ফেলল। তাকে তিরিশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতি মাসে দশ টাকা করে কাটা হবে। এক মাসেরটা কাটা হয়েছে।
মোফাজ্জল করিম কাগজপত্র নিয়ে বসেছেন। দুটো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি তাকে লিখতে হবে। একটা ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার আবদুল গনি সাহেবের কাছে। আরেকটা নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে। জেলা প্রশাসকের নাম তিনি জানেন না। এটা একটা সমস্যা। জেলা প্রশাসকের নাম না জানাটা একটা ত্রুটি। তাকে নাম ছাড়া চিঠি পাঠানো অনুচিত হবে। বেয়াদবিও হবে। নামটা জানতে হবে। তবে চিঠির মুসাবিদা করে রাখা যায়। তিনি দুটো চিঠিরই মুসাবিদা করবেন। চিঠিগুলো লেখাবেন আরবি শিক্ষক মাওলানা আবুল বাসারকে দিয়ে। তার হস্তাক্ষর মুক্তার মতো।
পত্র নিং ১
(মুসাবিদা)
জনাব আবদুল গনি
ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার
জেলা নেত্রকোনা
বাংলাদেশ।
বিষয়: খায়রুন্নেসা আদর্শ হাইস্কুলের জন্য ফুটবলের আবেদন।
জনাব,
যথাবিহিত সম্মানপূর্বক নিবেদন, গত বর্ষা মৌসুমে আমাদের স্কুল কোনো প্রকার খেলার সরঞ্জাম সাহায্য হিসেবে পায় নাই। অথচ অত্র অঞ্চলের দুটি স্কুল ফুটবল এবং পাম্পার পাইয়াছে। সরকারি তালিকাভুক্ত স্কুল হওয়া সত্ত্বেও আমাদের স্কুল কেন বাদ পড়িল ইহা আমরা বুঝিতে পারিতেছি না। বিষয়টির প্রতি মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি। কোমলমতি শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলারও প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে আপনাকে বলা ধৃষ্টতার শামিল। তবুও না বলিয়া পারিলাম না। নিজগুণে আপনি আমার ধৃষ্টতা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবেন।
ইতি আপনার একান্ত বাধ্যগত
মোফাজ্জল করিম
এমএ বিটি (প্রথম শ্রেণী)
প্রধান শিক্ষক
খায়রুন্নেসা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়
নয়াপাড়া, পো.অ. : নয়াপাড়া
নেত্রকোনা।
.
পত্র নং ২
(মুসাবিদা)
জনাব… নাম (পরে সংগ্রহ করা হইবে)
জেলা প্রশাসক
নেত্রকোনা।
বিষয়: নয়াপাড়ায় সার্কাস পার্টির আগমন নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে আবেদন।
জনাব,
সবিনয়ে নিবেদন, নেত্রকোনা অঞ্চলের অল্পকিছু বিশিষ্ট জনপদের মধ্যে নয়াপাড়া অন্যতম। ইহা মরমী কবি সাধু খাঁর জন্মস্থান। এখানে দুটি হাইস্কুল আছে, যথাক্রমে খায়রুন্নেসা আদর্শ বিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইস্কুল। ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি জনাব এম হোসেন নয়াপাড়ার সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে যুক্ত।
বর্তমানে আমরা নয়াপাড়াবাসী উদ্বিগ্ন। কারণ নিউ বেঙ্গল সার্কাস পার্টি নামে একটি সার্কাস পার্টি নয়াপাড়ায় দীর্ঘ এক মাসের জন্য ঘাঁটি গড়িতেছে বলিয়া সংবাদ পাওয়া গিয়াছে। বর্তমান সার্কাস পার্টিগুলো আগের মতো নাই। জন্তু-আনোয়ার বা শারীরিক কসরতের বাইরেও তাদের নানা কর্মকাণ্ড। যেমন, জুয়া ও নারীব্যবসা। সার্কাস পার্টি নয়াপাড়ায় আস্তানা পাতানোমাত্র যুবসমাজ বিপথে যাইবে। এইদিকে স্কুলের বাৎসরিক পরীক্ষাও সন্নিকটে। পড়াশোনায় ছাত্রছাত্রীদের মনোসংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হইবে। খায়রুন্নেসা আদর্শ বিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইস্কুলের শিক্ষক, অত্র দুই স্থানের অভিভাবক এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সম্মতিতে আপনার নিকট এই আপত্তিপত্র দেওয়া হইল। (সংযুক্ত দস্তখতকারীদের নামের তালিকা) জনাব আপনি সব বিবেচনা করিয়া ব্যবস্থা নিবেন ইহাই আপনার নিকট আমাদের আর্জি। বিষয়টির প্রতি আপনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করিতেছি।
ইতি
মোফাজ্জল করিম
এমএ বিটি (প্রথম শ্রেণী)
খায়রুন্নেসা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
নয়াপাড়া, পো. অ. : নয়াপাড়া
জেলা: নেত্রকোনা।
.
স্কুল ছুটি হয় চারটায়। মোফাজ্জল করিম সাহেব সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলে থাকেন। এই সময়টা তিনি কাটান বাগানে। স্কুলের পেছনের বেশ অনেকখানি জায়গায় তিনি ঔষধি বৃক্ষের বাগান করেছেন। গাছগুলোর সেবাযত্ন করা, পাশে দাঁড়িয়ে গাছের সঙ্গে দুয়েকটা কথা বলা তার বহুদিনের অভ্যাস। জীবজন্তুর মতো গাছও মানুষের ভালোবাসার কাঙাল। গাছের ভাষা নেই বলে সে কিছু প্রকাশ করতে পারে না। তবে তারা মানুষের ভাষা বুঝে। একটা বইয়ে এ রকম কথা লেখা আছে। বইটার নাম মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়। লেখকের নাম যোগিন্দ্রনাথ।
ঔষধি গাছগুলো তিনি নানানভাবে জোগাড় করেছেন। বেশির ভাগ তার ছাত্ররা এনে দিয়েছে। স্কুলের আরবি শিক্ষকের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি যতবারই দেশে যান কিছু গাছ নিয়ে আসেন। গতবার এনেছেন একটা কুরচি গাছের চারা। সংস্কৃতে এর নাম গিরিমল্লিকা। পাছের পাতা প্রায় এক ফুটের মতো লম্বা। দেখতে খুবই সুন্দর। কুরচি চারাটার কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। গাছের পাতা হলুদ হয়ে পড়ে যাচ্ছে।
মোফাজ্জল করিম কুরচি গাছের পাশে এসে দাঁড়ালেন। বিড়বিড় করে বললেন, তোর সমস্যাটা কী বল দেখি? অজানা দেশের মাটিতে তোকে পোঁতা হয়েছে বলে ভালো লাগছে না? কী করবি বল? এটা তোর কপাল। তোর যত্ন তো আমরা ঠিকই করছি। এ রকম মনমরা হয়ে থাকলে চলে?
তিনি যখন গাছের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তখন দপ্তরি নিয়ামত দূর থেকে কান খাড়া করে শোনে। হেডমাস্টার সাহেবের মাথায় যে পোকা আছে এই বিষয়ে সে নিশ্চিত। তবে হেডস্যারের মাথার পোকা নিয়ে সে কারো সঙ্গে কথা বলে না। কী দরকার! সব মানুষের মাথায় পোকা থাকে। কারোর বেশি থাকে, কারোর কম থাকে। হেডস্যারের বেশি আছে। থাকুক।
মাগরিবের নামাজের পরপর দপ্তরি নিয়ামতকে নিয়ে মোফাজ্জল করিম বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। নিয়ামতের এক হাতে থাকে জ্বলন্ত হারিকেন অন্য হাতে পাকা বাঁশের লাঠি। লাঠির মাথায় কয়েকটা ঘুঙুর বাধা নিয়ামত যখন হাঁটে তখন ডাকহরকরার মতো তার হাতের লাঠি বাজে। এই লাঠি মোফাজ্জল করিম সাহেব বানিয়ে দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য একটাই–তিনি যখন হাঁটবেন, ছাত্ররা বুঝবে গর্জন স্যার যাচ্ছেন। তারা ভয়ে বই নিয়ে বসবে। ঝুনঝুন শব্দ শুনে একই সঙ্গে সাপখোপ ভয় পেয়ে দূরে থাকবে। মোফাজ্জল করিম সাহেবের প্রবল সর্পভীতি তিনি প্রায় রাতেই সাপের স্বপ্ন দেখেন।
একটা স্বপ্নে সাপ তার ডান পা পেঁচিয়ে ধরে ফণা তুলে থাকে। এই স্বপ্ন দেখার পরপর তার ডান পায়ের হাঁটুতে বেদনা হয়। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। ভালো কোনো খোয়াবনামার বই থাকলে স্বপ্নের ব্যাখ্যাটা পাওয়া যেত। খোয়াবনামার একটা চটি বই তার কাছে আছে। সেখানে লেখা-
সর্প দেখিলে শত্রু বৃদ্ধি হয়।
মোফাজ্জল করিমের ধারণা শত্রু বৃদ্ধির কথা ঠিক না। তার যেমন বন্ধু নেই। শত্রুও নেই।
.
আকাশে কার্তিক মাসের নবমীর চাঁদ। মোফাজ্জল করিম সাহেব বাড়ির উঠানে রান্না বসিয়েছেন। তার বাড়ির বারান্দায় হারিকেন জ্বলছে। যেখানে রান্না হচ্ছে সেখানে কোনো আলো নেই। আলো থাকলে পোকা উড়ে আসবে। তবে চাঁদের আলো আছে। এই আলোতে মোটামুটিভাবে সবই দেখা যাচ্ছে। মোফাজ্জল করিম বসেছেন মোড়ার ওপর। হাসান আলী বসেছে জলচৌকিতে। মোফাজ্জল করিমের মুখে থুতু জমছে। তার মেজাজ খারাপ। বজলু মিয়া আবার উধাও হয়েছে। বাড়িতে অতিথি এসেছে। তিনি নিজে দাওয়াত করে এনেছেন। অতিথিকে খাওয়াবেন কী? ডিম থাকলে ডিম ভেজে দেওয়া যেত। ডিমও নেই।
হাসান আলী।
জি, স্যার।
বজলু মিয়া চলে গিয়ে বিরাট বেকায়দায় ফেলেছে। ঘরে কোনো আয়োজন নই। আলুভর্তা, ডাল-ভাত। খেতে পারবে না?
পারব, স্যার।
তুমি করে বলেছি, তুমি আমার পুত্র মারুফের বয়সী। এই ভরসায় বললাম।
হাসান আলী বিস্মিত হয়ে বলল, স্যার, আপনার পুত্র আছে!
মোফাজ্জল করিম শান্ত ভঙ্গিতে বললেন, সন্তান প্রসব করতে গিয়ে আমার স্ত্রী মারা যায়। প্রথমে মাতার মৃত্যু, তারপর সন্তানের মৃত্যু। দুই ঘণ্টা ছাব্বিশ মিনিটের ব্যবধান।
স্কুলের আরবি শিক্ষক মাওলানা আবুল বাসার সাহেব বললেন, জানাজার আগে সন্তানের নাম দিতে হবে। আমি নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম দিলাম মারুফুল করিম। নামটা সুন্দর না?
জি, স্যার।
মেয়ে হলে নাম দিতাম চন্দ্রাবতী। আমার স্ত্রীর নাম জোছনা। জোছনার সঙ্গে মিলিয়ে চন্দ্রাবতী। চন্দ্রাবতী নামটা কেমন?
এই নামটাও সুন্দর।
হিন্দুয়ানি না?
সামান্য।
আমার ছেলে মারুফুল করিম বেঁচে থাকলে তোমার চেয়েও সুন্দর হতো। তার মায়ের মতো বড় বড় চোখ ছিল। আমি কোলে নিতেই পিটপিট করে তাকাল। তার মৃত্যু আমার কোলে হয়েছে। এর জন্য আল্লাহপাকের দরবারে শুকরিয়া।
হাসান বিস্মিত হয়ে বলল, শুকরিয়া কেন, স্যার?
ছেলেটার মা আগে মারা গিয়েছে। মৃত মানুষটার জন্যই সবাই ব্যস্ত। কালাকাটি করছে। ছেলেটার দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। সে তো বিছানায় মারা যেতে পারত। পারত না?
জি স্যার।
পিতার কোলে মারা গিয়েছে, এটা খারাপ না। আমাদের নবীজির একমাত্র পুত্র ইব্রাহিমও নবীজির কোলে মারা গিয়েছিলেন। তখন নবীজি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, পিতার কোলে সন্তানের লাশ এই জগতের সবচেয়ে ভারী বস্তু।
হাসান আলী বলল, স্যার, আপনি পরে আর বিয়ে করেন নি?
মোফাজ্জল করিম বললেন, না। ইচ্ছা হয় নাই। বাড়ির পিছনেই স্ত্রী এবং সন্তানের কবর দিয়েছি। দুইজনের কবরেই টগর গাছ লাগিয়ে দিয়েছি। বিরাট গাছ হয়েছে। সাদা ফুল ফোটে। জোছনার সময় বড়ই সৌন্দর্য। আমার স্ত্রীর নাম যে জোছনা তোমাকে বলেছি না?
বলেছেন।
এখন বলো দেখি, আমার স্ত্রীর গাত্রবর্ণ কেমন ছিল?
শ্যামলা ছিল, স্যার।
ঠিকই বলেছ। উজ্জ্বল শ্যাম। কীভাবে বললে?
ভাবির গায়ের রঙ যদি চাঁদের মতো হতো তাহলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।
বুদ্ধিমানের মতো কথা বলেছ। গুড। জোছনার জন্মের পর তাকে আমার শ্বশুর সাহেবের কোলে দিয়ে বলা হলো, মন খারাপ করবেন না মেয়ে কালো হয়েছে। তখন আমার শ্বশুর সাহেব বললেন, এই কালো মেয়েই আমার কাছে জোছনার আলো। আমি এই মেয়ের নাম রাখলাম জোছনা। জোছনা চাঁদের আলো–হাসান আলী, তোমার কি ক্ষুধা হয়েছে?
সামান্য হয়েছে।
আর পাঁচ-দশ মিনিট। পুরনো ডাল সিদ্ধ হতে চায় না। এই ফাঁকে তুমি তোমার খেলাটা দেখাও।
হাসান আলী বিস্মিত হয়ে বলল, কী খেলা?
রুমাল দিয়ে সপ্তম শ্রেণী খ শাখায় যে খেলাটা দেখাচ্ছিলে। রুমান আছে না?
জি, স্যার, আছে।
দেখাও খেলাটা।
মোফাজ্জল করিম মুগ্ধ হয়ে ম্যাজিক দেখলেন। একটা এক টাকার মুদ্রা রুমালে রাখা হলো। মুদ্রাটা রুমাল দিয়ে ঢাকা হলো। মন্ত্র পড়া হলো-হিং টিং ছট। রুমাল খোলা হলো। মুদ্রা অদৃশ্য।
মোফাজ্জল করিম বললেন, এটা কীভাবে করলে? কৌশলটা কী?
কৌশল হলো, স্যার, কয়েন হাতের তালুতে লুকিয়ে রাখা। এটাকে বলে পামিং।
কী বলে?
পামিং। স্যার, দেখুন কীভাবে করি।
মোফাজ্জল করিম ম্যাজিক দেখে যত না মুগ্ধ হলেন ম্যাজিকের কৌশল দেখে তার চেয়েও মুগ্ধ হলেন। লজ্জিত গলায় বললেন, আমি কি পারব?
চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবেন।
ঠিকই বলেছ। চেষ্টায় হয় না এমন জিনিস নাই। নেপোলিয়ানের সেই বিখ্যাত কথা, Impossible is the word found only in the dictionary of fools.
.
রাত প্রায় দশটা। এশার নামাজ শেষ করে মোফাজ্জল করিম শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বজলু মিয়া এখনো ফিরেনি। মনে হয় আজ রাতে সে ফিরবে না। বজলুর জন্য হাঁড়িতে ভাত রাখা আছে। যদি ফিরে, খেয়ে নিতে পারবে। তিনি যদি নিশ্চিত হতেন সে ফিরবে না, তাহলে ভাতে পানি দিয়ে রাখতেন। খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করা ঠিক না। আল্লাহপাক অসন্তুষ্ট হন।
মোফাজ্জল করিম সাহেবের ঘরের পূর্বদিকের জানালাটা খোলা জানালা দিয়ে মারুফুল করিমের বাঁধানো কবর এবং জোছনার কবরের একটা অংশ দেখা যায়। তিনি এখন যেখানে বসে আছেন সেখান থেকে শুধুই তার পুত্রের কবর দেখা যাচ্ছে। কবরের ওপর টগর গাছটা কী সুন্দরই না হয়েছে! মনে হয় একটা ছাতা। রোদ-বৃষ্টি থেকে কবরটাকে রক্ষা করার চেষ্টা।
বাতাসে টগর গাছের পাতা নড়ছে। পাতা নড়ার জন্য জোছনা কাঁপছে। মনে হচ্ছে হাজার হাজার জোনাকি পোকা জ্বলছে নিভছে। মোফাজ্জল করিম সাহেব খাট থেকে নেমে জানালার পাশে এসে দাঁড়ালেন। জোছনার কবরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন।
রাতে শোবার আগে কবরের দিকে তাকিয়ে থাকার পেছনে একটা কারণ আছে। বজলু মিয়া মোফাজ্জল করিমকে কয়েকবারই বলেছে, সে নাকি হঠাৎ হঠাৎ ঘুম ভাঙলে দেখে একটা মেয়ে একটা ছোট ছেলের হাত ধরে কবরের চারপাশে হাঁটে। তার ধারণা মেয়েটা হেডস্যারের স্ত্রী জোছনা চাচি। ছেলেটা স্যারের পুত্র মারুফুল করিম।
মোফাজ্জল করিম বজলু মিয়ার কথায় কোনো গুরুত্ব দেন নি। বজলু মিয়ার গাঁজা খাওয়ার অভ্যাস। গাঁজা খেয়ে সে কী না কী দেখে। তা ছাড়া মৃত্যুর পর মানুষ ভূত হয় না। তর্কের খাতিরে যদি স্বীকার করে নেওয়া হয় মৃত্যুর পর মানুষ ভূত প্রেত হয়, তাহলেও কথা থাকে। মারুফুল করিম যে বয়সে মারা গেছে সেই বয়সে সে হাঁটতে পারে না। বজলু মিয়া যে বাচ্চাটিকে মায়ের হাত ধরে হাঁটতে দেখে, সেই বাচ্চা মারুফুল করিম না। যদি সে মারুফুল করিম হয় তাহলে ধরে নিতে হবে মানুষের মতো ভূতদেরও বয়স বাড়ে। সেটা কি সম্ভব?
পাশের ঘরে খুটখাট শব্দ হচ্ছে। কুপি জ্বালানো হলো। মোফাজ্জল করিম বললেন, কে?
সঙ্গে সঙ্গে কুপি ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে ফেলা হলো। ঘর হয়ে গেল অন্ধকার।
মোফাজ্জল করিম বলল, কে, বজলু মিয়া?
বজলু ক্ষীণস্বরে বলল, জি চাচাজি।
কই গিয়েছিলি?
বজলু জবাব দিল না। মোফাজ্জল করিম বললেন, তোকে দিয়ে আমাকে পোষাবে না। তুই সকালবেলা বিছানা-বালিশ নিয়ে চলে যাবি।
জি আচ্ছা, চাচাজি।
বজলু আনন্দের সঙ্গেই বলল জি আচ্ছা, চাচাজি। কারণ সে জানে বিছানা-বালিশ নিয়ে চলে যাওয়ার কাজটি তাকে কখনো করতে হবে না। অতীতেও অনেকবার তার চাকরি চলে গেছে তারপরেও সে এখানেই আছে।
বজলু খাওয়া-দাওয়া করেছিস?
জে, না।
হাঁড়িতে ভাত আছে। সামান্য ডালও আছে। খেয়ে নে।
আচ্ছা।
সকালবেলা কিন্তু বিছানা-বালিশ নিয়ে চলে যাবি। ঘুম থেকে উঠে যেন তোকে না দেখি।
জি, আচ্ছা। চাচাজি নয়াপাড়ায় সার্কাস আসতেছে শুনেছেন? বিরাট দল। বাঘ আছে, সিংহ আছে, ভল্লুক আছে…পরীর মতো খুবসুরত মেয়ে আছে এগারোটা।
তুই কি দেখেছিস?
জে, না।
তাহলে বুঝলি কী করে পরীর মতো খুবসুরত।
লোকমুখে শুনেছি।
কথা বন্ধ। ভাত খা।
মোফাজ্জল করিম জানালা বন্ধ করলেন। জানালা খোলা রেখে তিনি ঘুমাতে পারেন না। নিজেকে নগ্ন নগ্ন লাগে। ভাদ্র মাসের গরমেও তাকে জানালা বন্ধ রাখতে হয়।
মোফাজ্জল করিম শুয়ে আছেন। খাটের পাশে রাখা চেয়ারে হারিকেন জ্বলছে। ঘুমানোর আগে তিনি তিনটা নতুন ইংরেজি শব্দ শিখেন। তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। একটাই সমস্যা বেশির ভাগ শব্দই মনে থাকে না। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি নষ্ট হচ্ছে।
বার্ধক্য স্মৃতিবিনাশিনী। মোফাজ্জল করিম ডিকশনারি খুললেন-
Fidget: শরীর বা শরীরের অংশবিশেষ অস্থিরভাবে নাড়াচাড়া করা বা করানো। verb. The boy was fidgeting with knife and fork.
Fiat : শাসক কর্তৃক প্রদত্ত হুকুম। Noun. আচ্ছা, Fiat নামে একটা গাড়ি আছে না? এই Fiat কি সেই Fiat?
Fiasco : কোনো উদ্যোগে চরম ব্যর্থতা। Noun. আচ্ছা, এই শব্দটা তো তিনি আগে জানতেন। এখন কীভাবে ভুলে গেলেন? Yesterday’s play at the Mahila Samiti auditorium was a fiasco.
মোফাজ্জল করিম ডিকশনারি বন্ধ করলেন। হারিকেন নেভাতে গিয়ে লক্ষ করলেন, হারিকেনের পাশে হাসান আলীর রুমাল এবং মুদ্রা। সে কি ভুল করে ফেলে গেছে? নাকি তার আগ্রহ দেখে ইচ্ছা করে রেখে গেছে?
মানুষের পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব না। ম্যাজিকের পামিং কৌশল শেখা কঠিন হবে না। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, Even an old dog can lear few new tricks.
মোফাজ্জল করিম গভীর রাত পর্যন্ত পামিং করার চেষ্টা করলেন। একবার- দুবার পারলেন। বড়ই জটিল কৌশল।
