অমর প্রেম – ৭

সাত

এস. এস. সি পরীক্ষা পর্যন্ত ইউসুফ মাত্র একবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের দিন জুলায়খাদের বাসায় এসে তার মা, বাবা ও দাদিকে সালাম করে দোয়া নিতে এসেছিল। আর জুলায়খা সপ্তাহে দু’দিন ইউসুফদের বাসায় গিয়েছে। তা ছাড়া পরীক্ষার দিনগুলোতে ড্রাইভার নিয়ে গাড়ি করে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে গেছে এবং বাসায় পৌঁছে দিয়েছে।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুদিন পর থেকে ইউসুফ জুলায়খাকে পড়াচ্ছে। একদিন পড়াতে এসে জিজ্ঞেস করল, কুরআন শরীফে হযরত ইউসুফ নবী (আঃ) ও জুলায়খা বিবির কাহিনী বর্ননা আছে, তা কী তুমি জান?

জুলায়খা বলল, না।

ইউসুফ বলল, যখন এইটে পড়ি তখন আমি দাদিআম্মার কাছে হযরত ইউসুফ নবী (আঃ) ও জুলায়খা বিবির কাহিনী শুনেছিলাম। তারপর কুরআন শরীফে সূরা ইউসুফে ওঁদের কাহিনী আছে জেনে সে-সময় ঐ সূরার অনুবাদ পড়েছিলাম। কয়েকদিন আগে তফসীর ও কাসাসুল আম্বিয়া পড়ে ওঁদের প্রেম কাহিনী সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

জুলায়খা বলল, আজ পড়তে ইচ্ছা করছে না। তুমি কাহিনীটা বল শুনব।

ইউসুফ বলল, কাহিনী অনেক বড়। আমি সংক্ষেপে বলছি শোন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) নবী ছিলেন। তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ)ও নবী ছিলেন। তিনি জেরুজালেমের ত্রিশ মাইল উত্তরে কিনান দেশে বাস করতেন। তার চারজন স্ত্রী ছিল। তিন স্ত্রীর গর্ভে দশটি পুত্র সন্তান জন্মে। বৃদ্ধ বয়সে চতুর্থ স্ত্রী রাহিলার গর্ভে হযরত ইউসুফ (আঃ) ও বনি ইয়ামিন জন্মান। বনি ইয়ামিন জন্মাবার কিছুদিনের মধ্যে রাহিলা মারা যান। তখন হযরত ইউসুফ (আঃ) এর বয়স পাঁচ বছর।

জুলায়খা বলে উঠল, তোমাদের দু’ভাই ও খালুজীর নামও কিন্তু ওঁদের নামে।

ইউসুফ বলল, হ্যাঁ তাই। মায়ের কাছে শুনেছি দাদাজী ওঁদের নামের সঙ্গে মিল করে আব্বর ও আমাদের দু’ভাইয়ের নাম রেখেছেন। তুমি আর কোনো কথা বলো না। বললে, কাহিনীটা আজ শেষ হবে না।

জুলায়খা বলল, ঠিক আছে, বলব না, এবার তুমি বল।

ইউসুফ বলতে শুরু করল, হযরত ইউসুফ (আঃ) ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত সুন্দর ছিলেন। হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁকে অন্যান্য ছেলেদের থেকে বেশি ভালবাসতেন। সে কথা বুঝতে পেরে ভাইয়েরা হযরত ইউসুফ (আঃ) কে হিংসা করত।

দশ ভাই সলা-পরামর্শ করল, তাকে মেরে ফেলবে। তারপর একদিন তারা পিতার অনুমতি নিয়ে হযরত ইউসুফ (আঃ)কে সঙ্গে করে চরণভূমিতে মেষ চরাতে গিয়ে একটা কূয়ায় ফেলে দেয়। হযরত ইয়াকুব (আঃ) জানতেন, হযরত ইউসুফ (আঃ) কে অন্যান্য ছেলেরা হিংসা করে। তাই প্রথমে তিনি চরণভূমিতে তাদের সঙ্গে পাঠাতে অনুমতি দেন নি। তাদের আকুতি মিনতিতে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। যাই হোক, যে কূয়ায় হযরত ইউসুফ (আঃ)কে ফেলে দিয়েছিল, সেই কূয়াটা এখনও আছে। কূয়াটায় পানি অল্প ছিল। আল্লাহ তাঁর ভাবী নবীকে সাহায্য করার জন্য হযরত জীবরাইল (আঃ)কে পাঠালেন। তিনি এসে তাকে একটা পাথরের উপর বসিয়ে দিলেন। তারপর সান্তনা দিয়ে তাঁর মনোবল বাড়িয়ে দিলেন।

ভাইয়েরা কূয়ায় ফেলে দেওয়ার আগে তাঁর গায়ের জামা খুলে নিয়েছিল। বাড়ি ফেরার সময় একটা মেষ জবাই করে সেই জামাটা ছিঁড়ে মেষের রক্ত লাগিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে পিতাকে বলল, আমরা ইউসুফকে একটা জায়গায় রেখে মেষ চরাচ্ছিলাম। সে সময় একটা নেকড়ে বাঘ এসে তাকে খেয়ে ফেলে। এই তার রক্তমাখা জামা বলে সেটা দেখাল। হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাদের কথা বিশ্বাস করতে পারলেন না। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তোমরা তাকে মেরে ফেলেছ। তারপর আল্লাহর কাছে সবর করার ক্ষমতা চাইলেন।

এদিকে বনিকদের এক কাফেলা সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা কূয়া দেখতে পেয়ে পানি সংগ্রহের জন্য একজনকে বললেন। লোকটা পানি তোলার জন্য বালতি নামাল। হযরত ইউসুফ (আঃ) বালতির উপর উঠে বসলেন। বালতি খুব ভারী লাগায় একা তুলতে পারল না। সঙ্গিদের একজনকে ডেকে দু’জনে তুলল। পানির বদলে একটা খুবসুরৎ ছেলে দেখে সবাই অবাক। কাফেলার সর্দার ভাবলেন, একে বিক্রি করলে অনেক টাকা পাবে। কিছুদূর যাওয়ার পর অন্য এক বণিক কাফেলার কাছে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে বিশটি রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রি করে দিল। ঐ বণিক দল আবার মিসরের বাজারে এসে অনেক দর হাঁকলেন। তুমি বোধ হয় জান না, তখন বাজারে মানুষ বেচাকেনা হত। সেদিন মিসরের মন্ত্রী আজিজ বাজারে এসেছিলেন। কিশোর হযরত ইউসুফ (আঃ) কে কিনে বাড়িতে এসে স্ত্রী জুলায়খা বিবির কাছে গেলেন। জুলায়খা বিবি হল বাদশাহ তাইমুমের একমাত্র সন্তান। বাদশা তাইমুম ছিলেন অত্যন্ত প্রতাপশালী। তার ধন-সম্পদ, হাতি-ঘোড়া, সৈন্য-সামন্ত ও চাকর-চাকরাণী প্রচুর ছিল। জুলায়খা বিবির মতো রূপসী সুন্দরী ও গুণবতী মেয়ে সে সময় আর দ্বিতীয় কেউ ছিল না। তার রূপ লাবণ্য ও গুণের কথা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মনস্থ করে বাদশাহ তাইমুম স্বয়ম্বর সভার অনুষ্ঠান করেন।

অনুষ্ঠানের আগে জুলায়খা বিবি একরাত্রে স্বপ্নে দেখলেন, একটা অপূর্ব সুন্দর। যুবক তার দিকে তাকিয়ে মৃদু মৃদু হাসছে। তাকে দেখে জুলায়খা বিবি মুগ্ধ হয়ে অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। ভাবলেন, এত রূপ কোনো মানুষের হতে পারে না। ইনি জ্বিন অথবা ফেরেস্তা হবেন। তখনই সিদ্ধান্ত নিলেন, ইনি যেই হোক, ইনাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবেন না। যুবকের পরিচয় জানার জন্য যখন তার কাছে গেলেন তখন যুবকটা হঠাৎ কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। ঠিক সেই সময় জুলায়খা বিবির ঘুম ভেঙে গেল।

এই স্বপ্ন দেখার পর জুলায়খা বিবির খাওয়া-দাওয়া, আয়েশ-আরাশ হারাম হয়ে গেল। সব সময় চিন্তা করতে লাগলেন, কি করে ঐ যুবকের সন্ধান পাওয়া যাবে। দিন দিন শরীর ভেঙে পড়তে লাগল। সখিরা এই অবস্থার কারণ জেনে বলল, বাদশাহ স্বয়ম্বর সভার ব্যবস্থা করেছেন। দেশ বিদেশের কত সুন্দর সুন্দর শাহজাদা আসবেন। তাদের মধ্যে যাকে আপনার পছন্দ হবে, তার গলায় বরমাল্য পরিয়ে দেবেন।  

জুলায়খা বিবি বললেন, তাদের মধ্যে যদি কারো সঙ্গে স্বপ্নে দেখা যুবকের মিল থাকে, তবে তাকে বিয়ে করব। নচেৎ কারো গলায় বরমাল্য পরাব না।  

সখিরা বাদশাকে কথাটা জানাতে তিনি দেশ বিদেশে লোক পাঠিয়ে স্বয়ম্বর সভার প্রচার করলেন।

নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন দেশের বাদশাহ ও শাহজাদারা স্বয়ম্বর সভায় হাজির হলেন। জুলায়খা বিবি সেখানে এসে ঘুরে ঘুরে সবাইকে দেখলেন। কিন্তু স্বপ্নে দেখা যুবকের সঙ্গে কারো চেহারার মিল না পেয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন।

স্বয়ম্বর সভা ভেঙে গেল। যারা এসেছিলেন, তারা হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন। বাদশা ও বেগম মেয়ের জন্য খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

কিছুদিন পর জুলায়খা বিবি হঠাৎ একরাতে স্বপ্নে আবার ঐ যুবককে দেখলেন। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বললেন, আপনি এত নিষ্ঠুর কেন? সেদিন আপনাকে দেখে আমি পাগল হয়ে আছি। আপনার সম্পর্কে কিছু জানার আগে আপনি মিলিয়ে গেলেন। কে আপনি? নাম ঠিকানা বলুন।

যুবক বললেন, আপনি যেমন আমাকে দেখে পাগল হয়ে আছেন, আমিও তেমনি আপনাকে দেখে পাগল হয়ে আছি। তবে আমাদের মিলনের মধ্যে অনেক বাধা বিপত্তি আছে। আপনাকে অনেক দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হবে। অনেক ধৈর্যও ধরতে হবে। আমার নাম ঠিকানার দরকার নেই। আজিজ মিসর অর্থাৎ “মিসরের প্রধানমন্ত্রী এই নামের মাধ্যমে আমার খোঁজ করবেন। এই কথা বলে যুবক অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

জুলায়খা বিবির ঘুম ভেঙে গেল। বাকি রাত ঘুমাতে পারলেন না। সকালে সখিদের স্বপ্নের কথা বলে বললেন, তোমরা আমার মা-বাবাকে বল, তারা যেন মিসরের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিয়ের ব্যবস্থা করেন।

সখিদের কাছ থেকে বাদশা সবকিছু শুনে আজিজ মিসর অর্থাৎ মিসরের প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়ের বিয়ের পয়গাম পাঠালেন।

বাদশাহ তাইমুমের একমাত্র কন্যা অপূর্ব সুন্দরী জুলায়খা বিবির বিয়ের পয়গাম পেয়ে আজিজ মিসর তো আত্মহারা। কারণ তিনি জুলায়খা বিবির রূপের ও গুণের কথা আগেই শুনেছিলেন। যাই হোক, কিছুদিনের মধ্যে আজিজ। মিসরের সঙ্গে জুলায়খা বিবির বিয়ে হয়ে গেল।

স্বামীর বাড়িতে এসে স্বামীকে দেখে জুলায়খা বিবি চমকে উঠলেন। এ কি? এতো তার স্বপ্নে দেখা যুবক নয়। না দেখে বিয়ে করে নিজের সর্বনাশ নিজে করলাম। সিদ্ধান্ত নিলেন, কিছুতেই এই লোককে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করবেন না। ভাবলেন, স্বামীকে অস্বীকার করাই বা যায় কি করে? তখন তার স্বপ্নে দেখা যুবকের কথাগুলো মনে পড়ল, “আমাকে পেতে হলে অনেক দুঃখ কষ্ট আপনাকে ভোগ করতে হবে, অনেক ধৈর্য ধরতে হবে।” চিন্তা করলেন, তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করে মস্তবড় ভুল করেছেন। আজিজ মিসর কোনো লোকের নাম নয়, এটা একটা পদবী। যেই মিসরের প্রধানমন্ত্রী হবেন, তাকেই আজিজ মিসর বলে। তার মনে হল, এই লোকের পরে যিনি আজিজ মিসর হবেন, তিনিই হয়তো আমার স্বপ্নের যুবক। এইসব চিন্তা করে জুলায়খা বিবি ঠিক করলেন, আজিজ মিসরের স্ত্রী হয়ে তার সঙ্গে থাকলেও স্ত্রীর অধিকার তাকে দেবেন না। কিভাবে কি করবেন চিন্তা করে রাখলেন।

রাতে যখন আজিজ মিসর বাসর ঘরে এলেন তখন জুলায়খা বিবি তাকে বললেন, আমার একটা নিবেদন আপনাকে রাখতেই হবে।

আজিজ মিসর জুলায়খা বিবির রূপের কথা লোকের মুখে শুনেছিলেন। এখন তাকে দেখে পাগলপনা হয়ে বললেন, বল, কী তোমার নিবেদন।

ওয়াদা করুন রাখবেন।

আজিজ মিসর তাকে পাওয়ার জন্য পাগল। তাই কোনো চিন্তা না করেই ওয়াদা করলেন।

জুলায়খা বিবি বললেন, আমার একটা ব্রত আছে। সেই ব্রত পূর্ণ হলে আমি নিজেই আপনার কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করব। ব্রত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপনি আমাকে স্পর্শ করবেন না।

আজিজ মিসর কল্পনাতীত জিনিস পেয়েছেন। তাই তার কথা শুনে মনে দুঃখ পেলেও তাকে খুশী রাখার জন্য বললেন, বেশ, তাই হবে। তারপর অন্য রুমে ঘুমাবার জন্য চলে গেলেন।

এর কিছুদিন পর আজিজ মিসর বাজার থেকে কিশোর বালক হযরত ইউসুফ (আঃ)কে কিনে জুলায়খা বিবির কাছে এসে বললেন, একে খুব আদর যত্ন করে লালন-পালন কর। একে আমরা ছেলে হিসাবে গ্রহণ করব। এর সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করব না।

কিশোর হযরত ইউসুফ (আঃ) কে দেখে জুলায়খা বিবি চমকে উঠলেন। ইয়া আল্লাহ, এ আমি কাকে দেখছি? এযে আমার স্বপ্নে দেখা সেই যুবক। আনন্দে ভরপুর হয়ে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে আদর যত্ন করে মানুষ করতে লাগলেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) ভাবী নবী। তার উপর রয়েছে আল্লাহর রহমত ও বরকত। তাই তাঁকে খরিদ করে আনার পর থেকে আজিজ মিসরের সুনাম সুযশ, ধন-ঐশ্বর্যের উন্নতি চরম শিখরে উঠে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, এই বালককে খরিদ করে তার এত সাফল্য। হযরত ইউসুফ (আঃ) এর কথা-বার্তা, আচার-ব্যবহার, আদব-কায়দা ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেখে আরো বুঝতে পারলেন, বালকটি কোনো উচ্চবংশের ও বিশিষ্ট কোনো লোকের সন্তান। তাই তিনি তাকে খুব স্নেহ করতে লাগলেন। তারপর যখন হযরত ইউসুফ (আঃ) যৌবনে পদার্পণ করলেন তখন তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে নিজের অর্থ সম্পদ ও বৈষয়িক সবকিছু তাঁর উপর ন্যাস্ত করলেন।  

জুলায়খা বিবি স্বপ্নে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে দেখার পর থেকে তাঁকে পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে ছিলেন। এখন তাকে একান্ত করে পাওয়ার জন্য আরো বেশি পাগল হয়ে উঠলেন। তাই মনপ্রাণ উজাড় করে তার খেদমত করতে লাগলেন, যাতে করে তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট হন। যখন ইউসুফ (আঃ) যৌবনে পদার্পণ করেন তখন মনের আগুন নেভাবার জন্য যাতে তিনি ধরা দেন, সেজন্য চেষ্টা চালাতে লাগলেন। কিন্তু আল্লাহ যাকে ভবিষ্যতে নবী করবেন, তার হৃদয়ে এতটুকু পাপের সঞ্চার করেন না। জুলায়খা বিবির আদর যত্ন সাধারণ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলেন। জুলায়খা বিবি ভেবেছিলেন, তাঁর রূপ যৌবন ও আদর-যত্নে হযরত ইউসুফ (আঃ) তার দিকে আকৃষ্ট হবেন। কিন্তু তা না হতে মুখ ফুটে মনের কামনা বাসনা জানিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হল না।

জুলায়খা বিবির কাছে এক বিচক্ষণ বৃদ্ধা মহিলা যাতায়াত করতেন। তিনি তার মনের ভাব বুঝতে পেরে কিছু পরামর্শ দিলেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী জুলায়খা বিবি একদিন হযরত ইউসুফ (আঃ) কে এক নির্জন কক্ষে দরজায় তালা লাগিয়ে অশ্লীল কাজে আহ্বান করলেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) তার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বললেন, এ আপনি কী বলছেন? আমি হলাম আপনার ক্রীতদাস, আর আপনি হলেন আমার মালিক পত্নী। একজন ক্রীতদাস হয়ে মালিকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। তা ছাড়া এটা মস্তবড় পাপ।

জুলায়খা বিবি তার কথায় কান না দিয়ে চরম পর্যায়ে আসার আগে একটা পাথরের মূর্তিকে ওড়না দিয়ে ঢেকে দিলেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ওটা কী? কেনই বা ওটাকে ঢেকে দিলেন?

জুলায়খা বিবি বললেন, এটা আমার দেবতা, এর সামনে অশ্লীল কাজ করতে আমার লজ্জা করছে।

হযরত ইউসুফ (আঃ) বললেন, ওটা একটা পাথরের মূর্তি, যার কোনো ভালোমন্দ করা তো দূরের কথা, নিজেই নড়াচড়া করতে পারে না। তার সামনে অশ্লীল কাজ করতে যদি আপনার লজ্জা হয়, তা হলে যিনি আপনার, আমার ও বিশ্ব জগতের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা, বিশ্বজগতের কোনো কিছুই যার অগোচরে নেই, তার সামনে অশ্লীল কাজ করতে লজ্জা করছে না? আপনার না করলেও আমার করছে।  

জুলায়খা বিবি এই কথাতেও কর্ণপাত করলেন না। ঐ যে কথায় আছে, “চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী?” জুলায়খা বিবি নানারকম ছলাকলা দেখিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) তখনও নবুয়ত লাভ করেন নাই। মানবীয় স্বভাব সুলভ বশতঃ জুলায়খা বিবির প্রতি একটু দুর্বল হওয়ার উপক্রম হতে যাচ্ছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কথা মনে হতে ভয় পেয়ে তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে ছুটে পালাতে লাগলেন। দরজায় তালা ছিল, উনি কাছে আসতেই আল্লাহর কুদরতের ঈশারায় তালা খুলে জমিনে পড়ে গেল। ততক্ষণে তাঁকে ধরার জন্য জুলায়খা বিবিও ছুটে এসে তার পিছনের জামার আস্তিন ধরে ফেললেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) জোর করে দরজার বাইরে চলে এলেন। আর তাঁর জামার আস্তিন ছিঁড়ে গেল।

ঠিক সেই সময় আজিজ মিসর সেখানে এসে জুলায়খা বিবির আলুথালু বেশ দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তোমার এরকম অবস্থা কেন?

জুলায়খা বিবি স্বামীকে দেখে ভয়ে চমকে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গে সামলে নিয়ে বুদ্ধি খাঁটিয়ে বললেন, যাকে তুমি ও আমি স্নেহ মমতা দিয়ে ছেলের মতো মানুষ করেছি, যার সচ্চরিত্র ও গুণের কথা তুমি সকলের কাছে বলে বেড়াও, সে আজ আমার ঘরে ঢুকে জোর খাঁটিয়ে আমার সঙ্গে অশ্লীল কাজ করতে চাইছিল, তাকেই আমি ঘর থেকে বের করে দিচ্ছি। ওকে বন্দী করে জেলে পাঠিয়ে দাও অথবা কোনো কঠিন শাস্তি দাও।

দরজার পাশে বারান্দায় আজিজ মিসরের এক ভাইয়ের দুগ্ধপোষ্য শিশু দোলনায় ছিল। হযরত ইউসুফ (আঃ) প্রতিবাদ করার আগেই আল্লাহ দোলনার দুগ্ধপোষ্য শিশুর জবান খুলে দিলেন। সে আজিজ মিসরকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ইউসুফের গায়ের জামা যদি সামনের দিকে ছেঁড়া থাকে, তা হলে ইউসুফ দোষী। আর যদি পিছনের দিকে ছেঁড়া থাকে, তা হলে জুলায়খা বিবি দোষী।

আজিজ মিসর হযরত ইউসুফ (আঃ) এর পিছনের দিকের জামা ছেঁড়া দেখে যা বোঝার বুঝে গেলেন। নিজের সম্মান বাঁচাবার জন্য হযরত ইউসুফ (আঃ) কে বললেন, এই ঘটনা কাউকে বলো না। তারপর তাকে চলে যেতে বলে জুলায়খা বিবিকে অনেক তিরস্কার করলেন এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম কাজ না করে সেজন্য সাবধান করে দিলেন।  

এরকম ঘটনা কোনোদিন গোপন থাকে না। নগরের গণ্যমান্য লোকের স্ত্রীদের কানে কথাটা পৌঁছাল। তারা বলাবলি করতে লাগলেন ছি ছি, জুলায়খা বিবির মতো মেয়ে একটা ক্রীতদাসের প্রতি আসক্ত। তাদের এই কথাও জুলায়খা বিবির কানে গেল। তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ঐ সমস্ত গণ্যমান্য লোকের স্ত্রীদের একদিন দাওয়াত দিলেন। তারা আসার পর প্রত্যেকের প্লেটে কিছু ফল ও একটা করে ছুরি দিলেন। যখন উক্ত মহিলারা ছুরি দিয়ে ফল কাটার উপক্রম করলেন তখন জুলায়খা বিবি পাশের রুম থেকে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে আসতে বললেন।

তিনি এসে যখন তাদের রুমে ঢুকলেন তখন তার রূপ ও সৌন্দর্য দেখে ঐ মহিলারা ফলের বদলে নিজেদের আঙ্গুল কেটে ফেললেন। আর হযরত ইউসুফ (আঃ) কে বললেন, তুমি তো মানুষ নও, পবিত্র ফেরেস্তা। এখন তারা বুঝতে পারলেন, জুলায়খা বিবি কেন এই ক্রীতদাসের প্রতি আসক্ত। হযরত ইউসুফ (আঃ) কে তারা উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি জুলায়খা বিবির আহ্বানে সাড়া দিচ্ছ না কেন? ওতো খুব রূপসী মেয়ে। তোমার উচিত ওর কথা মেনে নেওয়া।

জুলায়খা বিবিও বলিলেন, তুমি এখনও যদি আমার কথা না মান, তা হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব।

হযরত ইউসুফ (আঃ) বললেন, আপনার এই জঘন্য বাসনা কোনো কালেই সফল হবে না। তারপর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলেন, “হে প্রভু, এই মহিলাগণ যাহার প্রতি আমাকে আহ্বান করছেন, তাহা অপেক্ষা আমার কাছে জেলখানা শ্রেষ্ঠ।”  

মহিলাদের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঐ কথা বললেও আল্লাহ তাঁর ফরিয়াদ কবুল করলেন।

আজিজ মিসর এই ঘটনা জানতে পেরে নিজের মান-ইজ্জৎ রক্ষার জন্য হযরত ইউসুফ (আঃ) কে জেলে পাঠিয়ে দিলেন।

জেলখানায় হযরত ইউসুফ (আঃ) বেশিরভাগ সময় আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করতেন। বাকি সময় কয়েদীদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের কথা ও সৎ উপদেশ দিতেন।

কয়েদীদের মধ্যে দু’জন যুবক বাদশার ব্যক্তিগত খাদেম ছিল। তাদের একজন বাদশার দরবারের সাক্কী। দ্বিতীয় জন বাদশাহর পাচক। দুজনেরই বিরুদ্ধে খাবারের সাথে বিষ মাখিয়ে বাদশাহকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ ছিল।

একরাতে ঐ দু’জন কয়েদী দু’টো স্বপ্ন দেখল। হযরত ইউসুফ (আঃ) যে স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী তা সব কয়েদীই জানত। এমন কি কয়েদীদের প্রতিদিন কার কি খাবার আসবে, খাবার আসার আগে তা তিনি বলে দিতেন। ঐ কয়েদী দু’টো পরের দিন হযরত ইউসুফ (আঃ) কে বলল, আমরা দু’জন দু’টো স্বপ্ন দেখেছি, আপনাকে তার তাবির বলে দিতে হবে।

হযরত ইউসুফ (আঃ) বললেন, তোমরা স্বপ্নে কি দেখেছ একে একে বল।

পাচক বলল, স্বপ্নে দেখলাম “আমি খাঞ্চাপূর্ণ রুটি মাথায় নিয়ে বাদশাহর দরবারে যাচ্ছি। হঠাৎ কোথা থেকে কয়েকটা পাখি এসে রুটিগুলো ঠুকরে ঠুকরে খেতে লাগল।”  

সাক্কী বলল, আমি দেখলাম, “একটি আঙ্গুর গাছের তিনটে শাখা। প্রতি শাখায় গুচ্ছ গুচ্ছ আঙ্গুর ঝুলছে। আমি উহা হইতে আঙ্গুর তুলে নিয়ে শারাব তৈরি করে বাদশাহকে পরিবেশন করছি।”  

আল্লাহ হযরত ইউসুফ (আঃ) কে স্বপ্নের তাবির ব্যাখ্যা করার জ্ঞান দিয়েছিলেন। তিনি পাচককে বললেন, তিন দিন পরে তোমাকে বাদশাহর হুকুমে শূলে চড়ান হবে এবং পাখিরা তোমার মগজ ঠুকরে ঠুকরে খাবে।

তারপর সাক্বীকে বললেন, তুমি খুব শিঘ্রী বাদশাহর বিচারে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সান্ধীর পদে নিযুক্ত হবে। আরো বললেন, তুমি যখন মুক্তি পাবে তখন আমার কথা বাদশাহকে স্মরণ করিয়ে দিও।

সাক্বী বলল, আপনার স্বপ্নের তাবির যদি সত্য হয়, তা হলে নিশ্চয় আমি বাদশাহর দরবারে আপনার গুণের কথা বলব।

এর ঠিক তিন দিন পরে পাঁচকের শূলী হল। আর সাকী মুক্তিলাভ করে পুনরায় বাদশাহর দরবারে সাকীর পদে নিযুক্ত হল। কিন্তু সে হযরত ইউসুফ (আঃ) এর কাছে যে ওয়াদা করেছিল, তা ভুলে গেল।

সাত বছর হযরত ইউসুফ (আঃ) জেলে আছেন এর মধ্যে বাদশাহ একরাতে স্বপ্ন দেখলেন, “সাতটা খুব মোটা তাজা গাভীকে সাতটা খুব দুর্বল ও কৃশকায় গাভী গিলে ফেলল। আরো দেখলেন, সাতটা শস্যপূর্ণ শীষকে সাতটা শষ্যহীন শীষ গিলে ফেলল।”  

স্বপ্ন দু’টো তাবির কি হতে পারে জানার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে স্বপ্ন বিশারদকে ডেকে পাঠান হল। তারা এই অদ্ভুত স্বপ্ন দু’টোর তাবির করতে না পেরে ফিরে গেল। তখন ঐ সাক্টীর হযরত ইউসুফ (আঃ) এর কথা মনে পড়ল। সে বাদশাহর কাছে তার গুণাগুণ বর্ণনা করে তার ও পাঁচকের স্বপ্নের ঘটনা বলে বলল, তিনি এখনও কারাগারেই আছেন।

বাদশাহ সাক্বীকে বললেন, তুমি তার কাছে গিয়ে আমার স্বপ্নের তাবির জেনে এস।

সাক্বী কারাগারে গিয়ে হযরত ইউসুফ (আঃ) এর কাছে স্বপ্ন দুটো বর্ণনা করলেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) বললেন, স্বপ্ন দু’টি একটি অপরটির প্রতিচ্ছবি। এর তাবির হল, “মিসর দেশে এখন থেকে পরপর সাত বছর প্রচুর ফসল উৎপন্ন হবে। তার পরে পরপর সাত বছর অনাবৃষ্টির কারণে এক কণাও ফসল উৎপন্ন। হবে না। ফলে দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ হবে। এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য আল্লাহ বাদশাহকে এই স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সাকী দরবারে ফিরে এসে বাদশাকে সব কথা জানাল।  

বাদশাহ ও সভাসদবৃন্দের কাছে স্বপ্নের তাবির বিশ্বাসযোগ্য হল। বাদশাহ। হযরত ইউসুফ (আঃ)কে দরবারে নিয়ে আসার জন্য তোক পাঠালেন।

হযরত ইউসুফ (আঃ) লোকটির মুখে বাদশাহর ফরমান শুনে বললেন, তুমি গিয়ে বাদশাকে বল, যেসব মহিলা আমাকে দেখে নিজেদের আঙ্গুল কেটে ফেলেছিলেন, তাদের কাছে অনুসন্ধান করে এবং যে মহিলার চক্রান্তে আমি বিনা অপরাধে সাত বছর কারাগারে আছি, তাদের সবাইর কাছ থেকে সবকিছু জেনে বাদশাহ যদি আমাকে নিরপরাধী মনে করেন, তা হলে আমি এখান থেকে দরবারে যাব। আর যদি অপরাধী বলে প্রমাণিত হই, তা হলে যাব না। অবশ্য আল্লাহ সত্য মিথ্যা সবকিছু অবগত আছেন।

লোকটি ফিরে গিয়ে বাদশাহকে হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর কথাগুলো জানাল।

বাদশাহ ততক্ষণাৎ সেই আঙ্গুল কাটা মহিলাদের ও জুলায়খা বিবিকে ডেকে হযরত ইউসুফ (আঃ) সম্পর্কিত ঘটনা জানতে চাইলেন।

মহিলারা একবাক্যে স্বীকার করলেন, হযরত ইউসুফ (আঃ) নির্দোষ। আর জুলায়খা বিবি বললেন, ওঁর মতো সৎ ও চরিত্রবান লোক আমি দেখি নি। আমি নিজের প্রবৃত্তির বশবর্তি হয়ে তাকে মনে প্রাণে কামনা করেছিলাম। কিন্তু তাঁর সংযম ও বলিষ্ঠ চরিত্রের কাছে হেরে গিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কারাগারে পাঠাবার ব্যবস্থা করি।

কথিত আছে, বাদশাহর প্রকাশ্য দরবারে জুলায়খা বিবিকে এভাবে দোষ স্বীকার করতে দেখে, লোকলজ্জা ও সম্মানহানীর কারণে আজিজ মিসর সেই দিনই তাকে তালাক দেন।

আবার অনেকে বলেন, আজিজ মিসর জুলায়খা বিবিকে তালাক দেন নাই। লোকলজ্জায় ও দুঃখে এত ভেঙে পড়েন যে, কিছুদিনের মধ্যে শয্যাগত হয়ে মারা যান।

যাই হোক, বাদশাহ আবার লোক পাঠিয়ে হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর নির্দোষীতার কথা জানিয়ে দরবারে নিয়ে এলেন।

বাদশাহ তার গুণের কথা আগেই শুনেছিলেন। এখন তার রূপ সৌন্দর্য দেখে বুঝতে পারলেন, ইনি একজন অসাধারণ মানুষ। তাকে তিনি কোষাধক্ষ্য পদে নিযুক্ত করলেন।  

বাদশাহর স্বপ্নের তাবির সত্যে পরিণত হল। প্রথম সাত বছর প্রচুর ফসল উৎপন্ন হল এবং পরের সাত বছর অনাবৃষ্টির কারণে এক কণাও ফসল উৎপন্ন হল না। হযরত ইউসুফ (আঃ) প্রথম সাত বছর যতটা পারলেন বাদশাহী গুদামে ফসল মজুদ করার ব্যবস্থা করেন। পরের সাত বছর ফসল উৎপন্ন না হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে, সেই মজুদ ফসলের দ্বারা দেশের মানুষের প্রাণ রক্ষা করলেন।

আজিজ মিসর মারা যাওয়ার পর হযরত ইউসুফ (আঃ)কে বাদশাহ তার পদে নিয়োগ করেন।

স্বামী মারা যাওয়ার পর জুলায়খা বিবি স্বাধীন হয়ে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন এবং হযরত ইউসুফ (আঃ)কে পাওয়ার আশা আরো প্রবল হয়ে উঠল। কিন্তু কোনোভাবেই তার সাথে দেখা করা সম্ভব হয়ে উঠল না। কারণ তিনি প্রধান মন্ত্রী হওয়ার পর রাজকাজে এত ব্যস্ত থাকেন যে, জুলায়খা বিবি তাঁকে এক নজর দেখতেও পান না। নগরে থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে নগরের বাইরে এসে বাস করতে লাগলেন। আর প্রতিদিন রাজপথে দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন এই ভেবে যে, যদি কোনো সময় হযরত ইউসুফ (আঃ) এই পথ দিয়ে যান, তা হলে তাকে এক নজর দেখবেন ও তার সঙ্গে দু’চারটে কথা বলে প্রেমের আগুন নেভাবেন। তখন তাঁর সেই রূপ যৌবন নেই। শরীরে গোস্ত নেই। শুধু হাড় আর চামড়া। তাকে দেখলে পাগলী মনে হয়। যখন ঘরে থাকেন তখন দেবতার পায়ে মাথা কুটে মনের কামনা বাসনা পূরণের জন্য কান্নাকাটি করেন। দীর্ঘদিন এরকম করে দেবতার উপর তার বিতৃষ্ণা জন্মে গেল। একদিন রাগ করে দেবতার মূর্তি ভেঙ্গে চুরমার করে বললেন, এতদিন তোমার পূজা করে মনের কামনা বাসনা পূরণ করার জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু তুমি আমার আবেদন মঞ্জুর কর নি। এবার আমি হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। এখন থেকে তার কাছে কামনা বাসনা জানাব। এই বলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে নিজের দোষ-ত্রুটির ক্ষমা চেয়ে দোয়া করতে লাগলেন, “তুমি তোমার প্রিয় বান্দা হযরত ইউসুফ (আঃ) এর মনে আমার প্রতি প্রেম সৃষ্টি করে দাও।”

আল্লাহ রহমানুর রহিম। কেউ দোষ-ত্রুটি স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে কিছু ফরিয়াদ করলে তিনি কবুল করে থাকেন। জুলায়খা বিবির দোয়া কবুল করলেন।  

পরের দিন প্রতিদিনের মতো রাজপথের একপাশে দাঁড়িয়ে রইলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যে হযরত ইউসুফ (আঃ) লোক লশকর নিয়ে ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সহসা দেখতে পেলেন পথের পাশে এক শীর্ণকায় বৃদ্ধা তার দিকে দু’হাত বাড়িয়ে ভিক্ষা চাইছে। তিনি তাকে কিছু মোহর ভিক্ষা দিতে গিয়ে চিনতে পেরে চমকে উঠলেন। হায়! এতো মনে হচ্ছে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সুন্দরী জুলায়খা বিবি। অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, জুলায়খা বিবি, আপনার এরকম অবস্থা হল কী করে?

জুলায়খা বিবি মুখে করুণ হাসি ফুটিয়ে বললেন, আমার এরকম অবস্থা হওয়ার কারণ যখন বুঝতে পারেন নি তখন আপনার হাতের চাবুকটা আমার মুখের সাথে ঠেকান।

হযরত ইউসুফ (আঃ) তার কথামতো কাজ করলেন। কিন্তু পলকের মধ্যে চাবুকটা এত গরম হয়ে গেল যে, মনে হল হাতটা পুড়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি চাবুকটা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।

জুলায়খা বিবি আবার করুণ হাসি মুখে ফুটিয়ে বললেন, কী হল? চাবুকটা ফেলে দিলেন কেন?

হযরত ইউসুফ (আঃ) বললেন, চাবুকের তাপে হাত পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

জুলায়খা বিবি বললেন, আপনি যে আগুনের তেজে চাবুক ধরে রাখতে পারলেন না, সেই আগুন দীর্ঘ চল্লিশ বছর হৃদয়ে ধরে রেখে আমি সয়ে যাচ্ছি।

তাঁর কথা শুনে হযরত ইউসুফ (আঃ) এর দু’চোখ পানিতে ভরে উঠল। তখনই তিনি তাঁকে নগরের বিশেষ প্রাসাদে রাখার এবং তাঁর সেবা যত্ন করার জন্য বাদীর ব্যবস্থা করলেন।  

তারপর একদিন তিনি জুলায়খা বিবির সঙ্গে দেখা করতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার নিকট কী কামনা করেন? আপনার সুখ-শান্তির জন্য কী করতে পারি?

জুলায়খা বিবি বললেন, আপনি আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী। যা দোয়া করবেন, তা তিনি কবুল করবেন। আপনি এই দোয়া করুন, “আল্লাহ যেন আমার বিগত রূপ-যৌবন ফিরিয়ে দেন।”

হযরত ইউসুফ (আঃ) দু’হাত তুলে জুলায়খা বিবির কথা মতো দোয়া করলেন। আল্লাহপাক তাঁর দোয়া কবুল করে জুলায়খা বিবিকে পূর্বের রূপ যৌবন দান করলেন। কিন্তু তিনি জুলায়খা বিবির দিকে না তাকিয়ে মাথা নিচু করে রইলেন। তাঁর এই ভয় হল, কি জানি জুলায়খার পূর্বের রূপ যৌবন দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিপথগামী হয়ে না যান। মুখ নিচের দিকে রেখেই বললেন, আল্লাহ আপনার আশা পূরণ করে দিয়েছেন, আরো কিছু কামনা থাকলে বলুন।

জুলায়খা বিবি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর দরবারে আমার আরো একটা প্রার্থনা আছে। উহাই আমার মনের প্রধান কামনা। এই কথা বলে চুপ করে গেলেন।

এমন সময় জিবরাঈল (আঃ) এসে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে আল্লাহর বাণী শোনালেন–”ইউসুফ? আমি তোমার দোয়া কবুল করে জুলায়খার রূপ যৌবন ফিরিয়ে দিয়েছি; কিন্তু তুমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলে না। এখনও তাকে কি কারণে অবজ্ঞা করছ?” তারপর হযরত জিবরাঈল (আঃ) নিজের ডানার পালক জুলায়খা বিবির মুখ মণ্ডলে একবার ছুঁয়ে দিলেন। ফলে জুলায়খা বিবির অপূর্ব সৌন্দর্য আরও শতগুণ বেড়ে গেল।

হযরত ইউসুফ (আঃ) আল্লাহর বাণী শুনে জুলায়খা বিবির দিকে একবার তাকালেন। আল্লাহর কি মহিমা, একবার মাত্র দেখেই তিনি তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন। তাঁকে পাওয়ার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠল। কিন্তু ব্যাকুলতা সত্বেও আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষায় চল্লিশ দিন অপেক্ষা করতে হল। এই চল্লিশ দিনের অসহনীয় প্রেমযাতনা তাঁকে যতটা দগ্ধিভূত করেছিল, জুলায়খার চল্লিশ বছরের যাতনার চেয়ে কম ছিল না।

চল্লিশ দিন পর হযরত জীবরাঈল (আঃ) এসে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে বললেন, “আল্লাহ আপনার প্রতি নির্দেশ পাঠিয়েছেন, আপনি জুলায়খাকে বিয়ে করে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করুন।”  

যদিও জুলায়খা মনে মনে আগেই ইসলাম কবুল করেছিলেন, তবু হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামে দীক্ষিত করার পর প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী ধুমধামের সঙ্গে বিয়ে করলেন।

বাসর রাতে জুলায়খার কুমারীত্ব অক্ষুণ্ণ রয়েছে বুঝতে পেরে হযরত ইউসুফ (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি অনেক বছর আজিজ মিসরের স্ত্রী থাকা সত্বেও তোমার কুমারিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হল কী করে?

জুলায়খা বিবি বললেন, ওহে প্রিয়তম! যাকে আল্লাহপাক তাঁর প্রিয় নবীর সহধর্মিনী করবেন, তার কুমারীত্ব তিনিই রক্ষা করেছেন। আজিজ মিসর যদিও আমার স্বামী ছিলেন, আল্লাহর ঈশারায় তিনি কোনোদিন একটি বারের জন্যও আমাকে স্পর্শ করেন নি।

হযরত ইউসুফ (আঃ) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নিজেকে ধন্য মনে করলেন।  

এই পর্যন্ত বলে ইউসুফ বলল, শুনলে তো হযরত ইউসুফ (আঃ) ও জুলায়খা বিবির প্রেম কাহিনী?

জুলায়খা বলল, সত্যিই, এরকম অমর প্রেম কাহিনী দুনিয়াতে দ্বিতীয় আছে বলে মনে হয় না। তারপর জিজ্ঞেস করল, হযরত ইউসুফ (আঃ) এর আব্বা ও ভাইয়েদের কি হল? কুরআনে কী তা নেই?

আছে। সেসব বলতে গেলে রাত হয়ে যাবে। অন্য দিন বলব। এখন শুধু এতটুকু বলছি, সাত বছর দুর্ভিক্ষের সময় ভাইয়েরা ফসল কেনার জন্য মিসরে আসেন। সে সময় হযরত ইউসুফ (আঃ) বুদ্ধি করে পিতা ও সৎ মা ও ভাইয়েদের মিসরে নিয়ে আসেন। তখন চিনতে পেরে ভাইয়েরা মাফ চেয়ে নেয়। এর কিছুদিন পর মিসরের বাদশা কঠিন অসুখে পড়েন। সেই সময় তিনি হযরত ইউসুফ (আঃ) এর উম্মত হন। অর্থাৎ ইসলাম কবুল করেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁকে বাদশাহী দিয়ে যান।

আমি সংক্ষেপে সবকিছু বললাম। তুমি কুরআনের সূরা ইউসুফের ব্যাখ্যা ও কাসাসুল আম্বিয়া সময় করে পড়ো। তা হলে বিস্তৃত জানতে পারবে। তারপর বলল, স্বপ্নে হযরত ইউসুফ (আঃ)কে দেখে যুবতী জুলায়খা বিবির মনে প্রেমের যে আগুন জ্বলে উঠেছিল, তাঁকে না পেয়েও বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সেই আগুন এতটুকু কমে নি। আল্লাহ যদি আমাকে বিদেশে নিয়ে যায়, তা হলে ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি প্রেমের আগুন সহ্য করতে পারবে তো?  

জুলায়খা ছলছল চোখে বলল, আল্লাহর কসম, তোমার প্রেমের আগুনে সারা জীবন পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও তোমার অপেক্ষায় থাকব ইনশাআল্লাহ। আর একথাও জেনে রাখ, তোমার কিছু হলে অথবা তোমাকে পাওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গেলে, তা জানা মাত্র হার্টফেল করে মরে যাব।  

তার কথা শুনে ইউসুফের চোখেও পানি এসে গেল। আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল, আমিও আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, তিনি ছাড়া আমাদেরকে কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। বাধা বিপত্তি এলে, ইনশাআল্লাহ আমিও সারা জীবন তোমার অপেক্ষায় থাকব। তারপর চোখ মুছে বিদায় নিয়ে চলে গেল।

ইউসুফ চলে যাওয়ার পর জুলায়খা হযরত ইউসুফ (আঃ) এর প্রতি জুলায়খা বিবির গভীর প্রেমের কথা চিন্তা করতে করতে বাস্তব জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। মাগরিবের আযান তাঁর কানে গেল না।

প্রায় সময়ই জুলায়খা দাদির সঙ্গে নামায পড়ে। আযান শেষ হওয়ার পরও যখন এল না তখন আসিয়া বিবি রিডিং রুমে এসে দেখলেন, জুলায়খা চুপ চাপ বসে আছে। আর তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। ভাবলেন, ইউসুফ কি তেমন কিছু বলেছে? কাছে এসে কাঁধে হাত রেখে বললেন, কী হয়েছে দাদু? কাঁদছ কেন?

জুলায়খা তখন ভাবছিল, তার নামও জুলায়খা আর ওর নাম ও ইউসুফ। সে কি জুলায়খা বিবির মতো ইউসুফ ভাইকে ভালবাসতে পারবে? ঠিক এই সময় দাদিআম্বার গলা পেয়ে চমকে উঠল।

আসিয়া বিবি আবার বললেন কী এত চিন্তা করতে করতে কাঁদছিলে? আমার গলা শুনে চমকে উঠলেই বা কেন? এদিকে যে নামাযের সময় চলে যাচ্ছে। খেয়াল নেই বুঝি?

জুলায়খা সামলে নিয়ে চোখ মুছে বলল, আগে নামায পড়ে নিই চলুন, তারপর বলব।

নামায পড়ে জুলায়খা পড়তে বসল।

আসিয়া বিবি মাগরিবের নামাযের পর আওয়াবীনের নামায পড়ে কিছুক্ষণ অজিফা পড়ে মোনাজাত করেন। আজও সেসব করে নাতনির কাছে এসে বললেন, এবার বল, তখন কাঁদছিলে কেন?

জুলায়খা বই বন্ধ করে বলল, আজ ইউসুফ ভাই হযরত ইউসুফ নবী (আঃ) ও বিবি জুলায়খার প্রেম কাহিনী বললেন। হযরত ইউসুফ (আঃ) কে বিবি জুলায়খা না পেয়ে স্বামীকে স্ত্রীর অধিকার দেন নি। স্বামী মারা যাওয়ার পর বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত তার প্রেমের আগুনে জ্বলেছেন। সেই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ দিয়ে পানি পড়েছে জানতে পারি নি। আর আযানও শুনতে পাই নি। আচ্ছা দাদিআম্মা ভেবে দেখুন তো, বিবি জুলায়খা চল্লিশ বছর হযরত ইউসুফ (আঃ) এর প্রেমের আগুনে জ্বলেছিলেন। এটা অলৌকিক ব্যাপার নয় কী? এত গভীর প্রেম কি মানব-মানবীর মধ্যে হতে পারে?

আসিয়া বিবি বললেন, বিবি জুলায়খার মতো প্রেম দুনিয়াতে আর কেউ করে নি। এটা আল্লাহপাকের একটা মহিমা ছিল। তারপর ইউসুফের প্রতি নাতনির টান কতটা জানার জন্য বললেন, প্রেম হল আগুন। যে সেই আগুনে ঝাঁপ দেবে। সে-ই পুড়বে। দেখ, তুমিও যেন সেই আগুনে ঝাঁপ দিও না।

দাদিআম্মার কথা শুনে জুলায়খা অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।

কী হল দাদু? প্রেমের কথা শুনে একদম চুপ হয়ে গেলে যে? তা হলে আমি সাবধান করার আগেই ইউসুফ ভাইয়ের প্রেমে ঝাঁপ দিয়েছ না কী?

দাদিআম্মা বলে তাকে জড়িয়ে ধরে জুলায়খা ফুঁপিয়ে উঠল।

আরে ভাই কাঁদছ কেন? তুমি যে ইউসুফের প্রেমে ঝাঁপ দিয়েছ, তা অনেক আগেই জানি।

দাদিআম্মার কথায় জুলায়খা সাহস পেল। তাকে ছেড়ে দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল, তা হলে ঐসব বললেন কেন?

তোমার প্রেমের গভীরতা দেখার জন্য বললাম।

জুলায়খা ভয়ার্ত স্বরে বলল, আব্ব আম্মুও কী জানতে পেরেছে।

না জানার ভান করে বললেন, তা আমি বলব কি করে? তবে মনে হয় জানে না। জানলে নিশ্চয় ইউসুফকে আসতে নিষেধ করে দিত।

কথাটা শুনে জুলায়খা আতঙ্কিত হল। সেই সাথে মনটাও খারাপ হয়ে গেল। চুপ চাপ বসে রইল।

আসিয়া বিবি, বললেন, মন খারাপ করছ কেন? আমি থাকতে তোমার কোনো চিন্তা নেই। ওরা রাজি না হলে আমি জোর করে রাজি করাব। ইউসুফ খুব ভালো ছেলে। সেও যে তোমাকে খুব ভালবাসে তাও জানি। খারাপ ছেলে হলে অনেক আগেই তাকে এখানে আসতে নিষেধ করে দিতাম। যা বলছি শোন, তোমরা দুজনেই এখন ছেলে মানুষ। ছেলেমানুষী খেয়ালে এতটুকু পাপের পথে পা বাড়াবে না। মন দিয়ে লেখাপড়া কর। তোমরা যখন বড় হবে এবং ইউসুফ যখন বিয়ে করার উপযুক্ত হবে তখন আমি তোমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করব। এসব কথা ইউসুফকেও জানাবে, কেমন?

জুলায়খা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে দাদিআম্মাকে সালাম করে বলল, আপনি দোয়া করুন, “আল্লাহ যেন আমাকে আপনার কথা মেনে চলার তওফিক দেন, আমার সমস্ত নেক মকসুদ পূরণ করেন।”

আসিয়া বিবি বললেন, তুমি আমার বংশের একমাত্র বংশধর। তোমার জন্য দোয়া করব না তো কার জন্য করব? আল্লাহ তোমাকে নেকবক্ত করুক, হায়াতে তৈয়েবা দিক। তারপর বললেন, আমি এবার যাই, তুমি পড়। এই কথা বলে চলে গেলেন।

পরের দিন ইউসুফ পড়াতে এলে জুলায়খা দাদিআম্মার সঙ্গে যেসব কথা হয়েছে বলল।

শুনে ইউসুফ আনন্দে আত্মহারা হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। তারপর বলল, দাদিআম্মাকে বললো, তাঁর অমূল্য বাণী ইনশাআল্লাহ আমি মেনে চলব।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *