সাত
লটকা তার গায়ে যে-ওষুধটা স্প্রে করে দিয়েছিল সেটা এখন প্রায় উবে গিয়ে ঝিকু বিশ্বাস আবার অদৃশ্য হয়েছে বটে, তবে মুন্ডুটা এখনও বাকি। সে ঘর থেকে বেরোলে এখন তার মুন্ডুটাই শুধু বাতাসে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এই তো দু’দিন আগে হগ সাহেবের মাঠে ঘাস কাটতে এসেছিল ছগনলাল। ঝিকু পা ধুতে ঘর থেকে একটু বেরিয়েছিল, বাতাসে কাটা মুন্ডু ভাসতে দেখে ছগনলাল ‘বাপ রে’ বলে দাঁতকপাটি লেগে ধড়াস করে পড়ে মূর্ছা গেল। খুশিই হয়েছিল ঝিকু। ঘটনাটা চাউর হলে আর লোকজন ইদিকপানে আসবে না। ওই মাঠেই মোষ চরাতে আসে গুড্ডু। সোজাসরল ছেলে। একদিন বুনো কুল তুলতে এসে তার ভাসন্ত মুন্ডু দেখে দৌড়ে গিয়ে বন্ধুবান্ধবদের ডেকে এনেছিল ভূত দেখাবে বলে। উঁচুতে উঠলে তার মাথা ঘোরে, তবু ঝিকু পালিয়ে গিয়ে নিমগাছটার ডগায় উঠে বসে ছিল। মানুষজনকেই যা একটু ভয় ঝিকুর। কারণ, বিশ্বাসবাড়ির দক্ষিণের ঘরের মেঝের তলায় এক ঘড়া কোম্পানির আমলের খাঁটি সোনার মোহর পোঁতা আছে তার। মোহর তার আর কোনও কাজে লাগবে না বটে, কিন্তু ওই মোহরের কথা ভাবলে গা একটু গরম হয় আর কী। আর ওই মায়াতেই সে এখনও এই সাতপুরুষের ভিটে আঁকড়ে পড়ে আছে। কাশী বৃন্দাবন কত জায়গাতেই ঘুরে আসতে পারে সে। ইচ্ছেও যে হয় না তা নয়। টিকিট কাটার বালাই নেই, সিট রিজার্ভ করতে হবে না, লটবহর বইতে হবে না, হোটেল বুক করার ঝামেলা নেই, ফুস করে চলে গেলেই হল। কিন্তু যতবার ইচ্ছে হয় ততবার ওই মোহর তার কাছা টেনে ধরে রাখে। ভেবে দেখলে এক ঘড়া কোম্পানির আমলের মোহর তো আর চাট্টিখানি জিনিস নয়, এই চড়া বাজারে লাখো লাখো টাকা দাম। বলতে কী পাড়াপড়শির মধ্যে সেই সবচেয়ে বড়লোক। কাজেই মোহর নিয়ে একটু গুমোরও আছে তার। সেইসঙ্গে ভয়ও আছে। ক’দিন আগে চোর-চোর চেহারার একটা লোক এসে ওই গাছতলাটায় বসে ডাঁসা পেয়ারা খেতে-খেতে খানিক খোশগল্প জুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু তার হাবভাব মোটেই পছন্দ হয়নি ঝিকুর। বড্ড ছোঁকছোঁকে স্বভাব। গুপ্তধন আছে কিনা তারও খোঁজখবর করছিল। আর চোখ দু’খানা ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছিল সার্চলাইটের মতো। সেই থেকে ভারী ভয়ে ভয়ে আছে ঝিকু। কোথাকার জল কোথায় গড়ায় কে জানে বাপু!
গনার দিনকাল মোটেই ভাল যাচ্ছে না। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, এমন অবস্থা। আর লোকজনও এমন সেয়ানা হয়েছে যে, কহতব্য নয়। উঞ্ছবৃত্তি করে আর মোটেই সুবিধে হচ্ছে না তার। এখন টাকাটা সিকেটা রোজগার করতেই জান কবুল করতে হয়। বড়ই দুর্দিন। গ্রহান্তরে যাওয়ার একটা ব্যবস্থা হলে বড্ড ভাল হত। নিদেন ইগলবাবুও যদি সঙ্গে নিয়ে যেতেন তা হলেও না-হয় একটা হিল্লে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছুই হল না। গনার তাই আজকাল ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস পড়ে, খালি পেটে উদগার ওঠে, মনটা বড্ড হুহু হুহু করে। রাতবিরেতে বেরোয় বটে, কিন্তু তেমন সুযোগ সুবিধে হয়ে উঠছে না।
তা সেদিন যতীনবাবুর বাড়িতে কেত্তন আর মালসাভোগ ছিল। যতীনবাবু তাঁকে একটু স্নেহের চোখেই দেখে থাকেন। সে যে তেমন কোনও কম্মের নয় তার জন্য মাঝে মাঝে দুঃখও প্রকাশ করেন। তা সেদিন ডেকে বললেন, “ওরে, আমার বাড়িতে কেত্তন হবে, তা উঠোনটা একটু ঝাঁটপাট দিয়ে দিবি বাপু? দশটা টাকা দেব’খন, আর ওইসঙ্গে প্রসাদও পেয়ে যাস।” তা রাজি হয়েছিল গনা। মন দিয়ে উঠোন ঝ্যাঁটাল। সন্ধেবেলা বসে মন দিয়ে দিব্যি কেত্তন শুনল, বেশ ভক্তিভাবও হল শুনে। তারপর খাওয়াদাওয়াও মন্দ হল না। একটু রাতের দিকে একাবোকা বাড়িতে ফিরছিল সে। কদমতলার কাছে নিরিবিলি রাস্তায় হঠাৎ দেখতে পেল কুয়াশায় মাখা ময়লা জ্যোৎস্নায় তার সামনে সেই সাদা টুপিটা ভেসে রয়েছে শূন্যে। দেখে হাঁ করে চেয়ে রইল সে। এ যে এলিয়েন সাহেবের টুপি! একটু গলা খাঁকারি দিয়ে সে গদগদ গলায় বলল, “এলিয়েনসাহেব নাকি? পেন্নাম হই। তা ভাল আছেন তো! সব কুশল তো! বাড়িতে খোকাখুকিরা সব ভাল আছে তো! আপনার শ্রীচরণদু’টি তো দেখতে পাচ্ছি না সাহেব, নইলে একটু চরণধূলি নিতুম। তা আমাকে চিনতে পারছেন তো সাহেব? আমি হলুম গে গনা!”
টুপি অবশ্য কোনও জবাব দিল না। কিন্তু হঠাৎ একটু দুলতে দুলতে চলতে শুরু করল। কিসের ইঙ্গিত কে জানে! যা হয় এসপার ওসপার, গনাও সেইসঙ্গে মোহগ্রস্তের মতো টুপিটার পিছুপিছু হাঁটতে লাগল। কী থেকে কী হয় তা তো বলা যায় না!
হাঁটতে হাঁটতে রথতলা, তিনবাতির মোড়, কুমোরপাড়া ছাড়িয়ে বাসস্ট্যান্ড বাঁয়ে রেখে, পিলখানার পথ পেরিয়ে হগ সাহেবের মাঠ। তারপরও মলিন জ্যোৎস্নায় শূন্যে দুলকি চালে টুপিটা চলতেই লাগল, থামবার নাম নেই। ক্রমে হগ সাহেবের বিশাল মাঠও পেরিয়ে গেল তারা। একটু ভয়ভয় করছিল বটে গনার, তবে সে মনেমনে ঠিক করে ফেলল, বাঁচামরা যাই কপালে থাক, শেষ অবধি দেখতেই হবে।
শালবনির জঙ্গলের কাছ বরাবর এসে টুপিটা হঠাৎ গোঁত্তা খেয়ে সেই বিশ্বাসবাড়ির ভগ্নস্তূপের ভিতরে সেঁধিয়ে গেল। একটু দোনোমোনো হল বটে গনার, তবে সে দমল না, দুর্গম সেই আগাছা আর ভাঙা ইটপাথরে ভরা বাড়িটার মধ্যে হোঁচট খেতে খেতে ঢুকে পড়ল। সাপখোপ, বিছে, মশা, পোকামাকড়ের অভাব নেই, কাঁটাঝোপও বিস্তর। তবে মানুষ এর চেয়েও ঢের ঢের বিপদআপদ পার হয়েছে, এইটেই মস্ত সান্ত্বনা। টুপিটা একটা জায়গায় এসে স্থির হয়ে ভেসে রইল। একটা ছাদহীন ঘর। খুব ঠাহর করে গনা লক্ষ করল, আবছায়া জ্যোৎস্নায় টুপিটার ছায়া একটা বিশেষ জায়গায় পড়েছে। ঘরের একটা বিশেষ কোণে। কোনও ইশারা বা ইঙ্গিত নয় তো! তা নইলে এলিয়েনসাহেব কেনই-বা তাকে এ-হেন জায়গায় টেনে আনবেন! জায়গাটা দেখিয়ে দিয়েই টুপিটা ফস করে অদৃশ্য হয়ে গেল।
একটা টর্চবাতি থাকলে কতকটা সুবিধে হত। কিন্তু গনার কপালে অত সুখ কি আর বিধাতা লিখেছেন! তবে তার পিতৃদত্ত চোখ দু’খানার নজর ভারী চোখা। সে চারদিকে চেয়ে দেখছিল, কিছু পাওয়া যায় কি না। আঁতিপাঁতি করে আধো অন্ধকারে খুঁজতে যেতেই হঠাৎ শূন্যে একটা কাটা মুন্ডু ফস করে উদয় হয়েই চেঁচিয়ে উঠল, “এই, কে রে! কে এই বাড়িতে ঢুকেছিস? কার এত বড় সাহস?”
গলাটা বিলক্ষণ চেনে গনা। ঝিকু বিশ্বাস। সে একগাল হেসে বলল, “ঝিকুবাবু যে! তা ভাল আছেন তো ঝিকুবাবু? তা দেখছি আপনার গায়ের রংটা প্রায় উঠেই গেছে! শুধু মুন্ডুটাই যা বাকি!”
বিস্ময়ে ঝিকু কিছুক্ষণ হাঁ হয়ে থেকে বলে উঠল, “তুই! তোর এত সাহস! এত বুকের পাটা! খবরদার বলছি, এক্ষুনি এই বাড়ি থেকে বেরো! নইলে ভাল হবে না বলে দিচ্ছি।”
গনা অবাক হয়ে বলে, “এত মাথা গরম করছেন কেন বলুন তো ঝিকুবাবু? একটা পোড়ো বাড়িতে ঢুকে কি এমন অপরাধ করলুম মশাই? এ তো সাপখোপ, ইঁদুরবাদুড়ের বাসা! বলি গুপ্তধনটন কিছু আছে নাকি?”
“কে বলে এখানে গুপ্তধন আছে! কে এসব বাজে কথা রটাচ্ছে! এখানে ওসব কিছু নেই বাপু, মানে-মানে সরে পড়ো তো দেখি!”
“কিন্তু আপনার হাবভাব তো আমার ভাল ঠেকছে না মশাই! কিছু যদি নাই থাকবে তা হলে অত উতলা হচ্ছেন কেন বলুন তো!”
ঝিকু চটে গিয়ে বলে, “উতলা হব না! বলে কী হে! মাঝরাতে একজন ভদ্রলোকের বাড়িতে বিনা নোটিসে হুট করে ঢুকে পড়লে যে বড়! তুমি যে চোরছ্যাঁচোড় নও তার কী প্রমাণ?”
“আজ্ঞে প্রমাণটমান তো কিছু নেই। কিন্তু মশাই, হঠাৎ চোরছ্যাঁচড়ের কথাই বা উঠছে কেন? আর চোরকে আপনার ভয়েরই-বা কী আছে?”
“ফের মুখেমুখে কথা! আস্পর্ধা তো কম নয়! ওই যে ঘরের ডান কোনায় শাবল দেখছিস, ওই শাবল দিয়ে তোর মাথা ফাটিয়ে দেব কিন্তু! আমি কিন্তু ভীষণ রেগে যাচ্ছি। এটা কিন্তু ট্রেসপাসিং, অধিকারভঙ্গ, ভয়ঙ্কর বেআইনি কাজ!
গনা একগাল হেসে বলে, “কী ভাগ্যি, শাবলটা দেখিয়ে দিলেন, নইলে তো এই ঝুঁঝকো অন্ধকারে ঝোপঝাড়ের মধ্যে চোখেই পড়ত না মশাই!”
গনা গিয়ে শাবলটা হাতে তুলে নিল। দিব্যি জিনিস। বেশ ভারী আর অনেকটা লম্বা। আর শাবলের হাত তার খুবই ভাল।
ঝিকু আর্তনাদ করে উঠল, “এসব হচ্ছেটা কী! অ্যাঁ! এ কি মামদোবাজি নাকি! ইয়ার্কি হচ্ছে? আমি কিন্তু চেঁচিয়ে লোক ডাকব বলে দিচ্ছি! তারা এলে কিন্তু হাটুরে মার পড়বে, হাড়গোড় আস্ত রাখবে না!”
“কেন মশাই, আমি অন্যায়টা কী করলাম যে মারধরের ভয় দেখাচ্ছেন! একটা পোড়ো বাড়িতে ঢুকেছি বই তো নয়!”
“কে বলল পোড়োবাড়ি! এটা আমার ভদ্রাসন! দেড়শো বছর ধরে থানা গেড়ে আছি, পোড়োবাড়ি বললেই হল! আমার পারমিশন ছাড়া এ বাড়িতে ঢোকার অধিকার কারও নেই! তোকে জেল খাটাতে পারি তা জানিস?”
“দেখুন মশাই, কাজের সময়টায় চেঁচামেচি করে কেন গন্ডগোল পাকাচ্ছেন! রাত হয়েছে, যান শুয়ে পড়ুন গে!”
টুপির ছায়া যেখানটায় পড়েছে সেখানটায় শাবল দিয়ে গর্ত খুঁড়তে শুরু করে দিল গনা। মাটি বেশ নরম, শাবল সহজেই ঢুকে যাচ্ছে মাটিতে। তেমন গা ঘামাতে হচ্ছে না।
“এবার রক্তারক্তি কাণ্ড হয়ে যাবে কিন্তু!” এই বলে ঝিকু হঠাৎ ছুটে এসে গনার ডান হাতে একটা কামড় বসিয়ে দিল।
গনা অবশ্য কামড়টা টেরই পেল না। সস্নেহে বলল, “কামড়ালেন নাকি ঝিকুবাবু?”
ঝিকু অবাক হয়ে বলে, “কামড়ালুম তো, কিন্তু তোমার হেলদোল নেই কেন বলো দিকি!”
“আহা আমার হেলদোল নাই-বা হল, আপনার কামড়ানোর ভাগ আপনি কামড়ে যান, কেউ তো বারণ করেনি!”
কামড়ে কাজ হচ্ছে না দেখে এবার ঝিকু বিশ্বাস গনাকে রদ্দার পর রদ্দা আর ঘুষির পর ঘুষি মারতে মারতে বলতে লাগল, “এবার কেমন লাগে দেখ! এবার বোঝ কত ধানে কত চাল।”
গনা মন দিয়ে শাবল চালাতে চালাতে বলে, “মারধর করে কি কোনও সুখ আছে মশাই? খামোখা সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করা! কেন ঝুটমুট হয়রান হচ্ছেন?”
ঝিকু এবার কাঁদো-কাঁদো হয়ে বলে, “ওরে, তোর কি দয়ামায়া বলে কিছু নেই! এত পাপ কি তোর ধর্মে সইবে? ওই একঘড়া মোহর গেলে যে আমি বড্ড গরিব হয়ে যাব!”
গনা ভারী অবাক হয়ে বলে, “ও বাবা! একঘড়া মোহর! ও জিনিস কি লুকিয়ে রাখতে আছে? ওই মোহরে কত গরিবের প্রাণ বাঁচবে বলুন তো! দেশেরও কত উন্নতি হবে, সেটাও ভাবুন! আপনার তো আনন্দ হওয়ার কথা মশাই!”
“আমার মোটেই আনন্দ হচ্ছে না রে! আমার যে ভীষণ কান্না পাচ্ছে! তোর দু’টি পায়ে পড়ি, আর খুঁড়িস না। তুই আমার নাতিরও নাতির বয়সি, গুরুজনদের কথা যে শুনতে হয় তা কি তোর বাপ-মা তোকে শেখায়নি?”
হাত চারেক গর্ত হতেই শাবলটা ঠং করে আওয়াজ ছাড়ল। নিচু হয়ে ঘড়ার কানা ধরে হ্যাঁচকা টান মারল গনা। কিন্তু ঘড়াটা অত সহজে উঠল না। গনা শাবল দিয়ে ঘড়ার চারপাশের মাটি সরাতে লাগল। এই শীতেও তার সর্বাঙ্গে ঘাম ছুটেছে।
ঝিকু বিশ্বাস চেঁচিয়ে উঠল, “আমি কিন্তু অভিশাপ দিচ্ছি, ও জিনিস তোর ভোগে লাগবে না, তুই ওলাওঠা হয়ে মরবি, তোর ভেদবমি হবে, নির্বংশ হবি।”
ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় গলদঘর্ম হয়ে অবশেষে সে ঘড়াটাকে হাঁচোড়পাঁচোড় করে টেনে তুলতে পারল। বেজায় ভারী জিনিস। মনে হয়, মোহরে একদম ঠাসা। কপালের ঘাম হাতের কানা দিয়ে চেঁছে সে বসে একটু দম নিল। এই জগদ্দল ভারী জিনিস কাঁধে করে তাকে অতটা পথ পেরোতে হবে। কাজটা সোজা নয়। তবে কিনা, মানুষ এর চেয়েও ঢের শক্ত শক্ত কাজ করেছে। এ আর এমন কী!
ঝিকু বিশ্বাস ডাকাডাকি করে লোক জড়ো করে ফেলেছে। তবে তারাও ঝিকুর মতোই হালকাপলকা ধোঁয়াটে মানুষ সব। তাদের ক্ষীণ কলরব শুনতেও পাচ্ছিল গনা। হাতজোড় করে বলল, “বাবাসকল, জননীসকল, অপরাধ নেবেন না। আপনারাই বলুন, ঝিকুবাবু কি কাজটা ভাল করেছেন? বিবেচনা করে দেখুন, গুপ্তধন হল গে সুপ্তধন! টাকাপয়সা যদি ঘুমিয়েই থাকে, তা হলে তাদের দিয়ে কি কোনও কাজ হয়? ও তো অচল টাকার শামিল। ঠিক বলছি তো, বাবাসকল, জননীসকল? ভুল বলে থাকলে ধরিয়ে দেবেন কিন্তু।”
ক্ষীণ কলরব শোনা গেল, “ঠিক, ঠিক।”
“তবে আর চিন্তা নেই, মাটির নীচেকার দেড়শো বছরের অন্ধকার থেকে এবার মোহরেরা জেগে উঠেছে, তারা ঝলমল করছে, তারা হাসছে, আনন্দ করছে। সামনে এখন তাদের অনেক কাজ।”
“ঠিক, ঠিক।”
“তা হলে পেন্নাম হই বাবাসকল, জননীসকল। আপনাদের অনুমতি হলে এবার তা হলে আমি রওনা হয়ে পড়ি, অনেকটা পথ যেতে হবে তো!”
“ঠিক, ঠিক।”
জগদ্দল ভারী ঘড়াটা কাঁধে নিয়ে ক্যাঁকাতে ক্যাঁকাতে হগ সাহেবের মাঠটা পার হচ্ছিল গনা। এই বাঘা শীতেও ঘেমে-নেয়ে যাচ্ছে সে। মাঝে মাঝে ঘড়াটা নামিয়ে দম নিতে হচ্ছে। তা হোক, গনার মোটেই খারাপ লাগছে না। এমন বোঝা হলে সে নিত্যি নিত্যি বইতে রাজি আছে।
এবার ঘরদোর পাকা করতে হবে তার, আর জানালা দরজাও মজবুত করা দরকার। দিনকাল ভাল নয়, চারদিকে যা চোরছ্যাঁচড়ের উৎপাত!
***
