টুপি – ৫

পাঁচ

হগ সাহেবের মাঠে রোজই মোষ চড়াতে আসে গুড্ডু। মোট পাঁচটা মোষ। তারা শান্ত জীব, আপনমনে ঘাসপাতা খায়, ছোটাছুটি করে না, পালানোর চেষ্টা নেই। গুড্ডুর তাই তেমন পরিশ্রমও নেই। শুধু একটু নজরে রাখা। দুপুর ঢলে যাওয়ার পর গুড্ডু শিমুল গাছটার তলায় ছায়ায় বসে নুনলঙ্কা দিয়ে ছাতুমাখা খাচ্ছিল। ঠিক এই সময়ে হঠাৎ দেখতে পেল, একটা লম্বাপানা, ফর্সা চেহারার ন্যাড়ামাথা লোক প্রাণপণে ছুটে যাচ্ছে। দিগ্বিদিক জ্ঞান নেই! কাউকে কখনও অত জোরে ছুটতে দেখেনি গুড্ডু। আর ভয়ের কথা হল, লোকটার মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল। সন্দেহ নেই, লোকটাকে কেউ তাড়া করেছে, আর লোকটা পালাচ্ছে। খাওয়া থামিয়ে গুড্ডু হাঁ করে দেখছিল, লোকটা প্রাণভয়ে ছুটতে ছুটতে শালবনির জঙ্গলে ঢুকে গেল। গুড্ডু ভাবল, লোকটাকে যারা তাড়া করেছে তারাও এসে পড়বে নিশ্চয়ই, আর তা হলে বোধহয় লোকটা খুনই হয়ে যাবে। তাই খাওয়া থামিয়ে সভয়ে চেয়ে রইল সে। কিন্তু অনেকক্ষণ অবধি কেউ এল না দেখে একটু নিশ্চিন্দির শ্বাস ছেড়েছিল গুড্ডু। সে খুব বজরংবলীর ভক্ত, রোজ হনুমান চালিশা শোনে হনুমান মন্দিরে গিয়ে, সন্ধেবেলায়। মনে মনে হনুমানজির কাছে প্রার্থনা করল, লোকটাকে বাঁচিয়ে দিয়ো ঠাকুর।

যখন আলো মরে আসছে, আর সে তার মোষগুলোকে নিয়ে ফিরবে বলে তৈরি হচ্ছে, তখন একটা লোক হাঁপাতে হাঁপাতে এসে হাজির। ষণ্ডাগুন্ডার মতোই চেহারা, তবে লোকটার ডান চোখের নীচে কালশিটে, ঠোঁট ফুলে রক্তাক্ত হয়ে আছে, মাথার চুলগুলোও কেমন যেন উড়োখুড়ো। মনে হল খুব মারধর খেয়ে এসেছে। লোকটাকে একেবারেই পছন্দ হল না গুড্ডুর। লোকটা তার কাছে এসে হাঁপধরা গলায় জিজ্ঞেস করল, “হ্যাঁ রে ছোঁড়া, এখান দিয়ে লম্বাপানা, ফর্সা একজন লোককে যেতে দেখেছিস? ঠিক খবর যদি দিতে পারিস তবে দশটা টাকা দেব।” গুড্ডু অবাক হয়ে বলে, “কই, কাউকে দেখিনি তো! লম্বা লোক বলতে কাশিপতি ঢোল তার ছাগল তিনটেকে খোঁটায় বেঁধে গিয়েছিল। আর হারুর মাকে গোবর কুড়োতে দেখেছি। আর মুকুন্দবাবু সাইকেলের পিছনে আলুর বস্তা চাপিয়ে নিয়ে গেলেন একটু আগে।”

লোকটা হতাশ হয়ে বলে, “না না, এ অন্য লোক। এ আমার ভাই, বাড়িতে ঝগড়া করে পালিয়ে এসেছে, তাই খুঁজতে এসেছি।”

ভাই শুনে একটু দোটানায় পড়ে গেল গুড্ডু। দোনোমোনো করে বলেই ফেলল, “আপনার ভাই! তা আগে বলবেন তো! যার কথা বললেন সেইরকমই লম্বা আর ফর্সা একটা লোক ওই শালবনির জঙ্গলে ঢুকেছে। সে তো অনেকক্ষণ আগে!”

“ঠিক বলছিস তো!”

“স্বচক্ষে দেখেছি, ভুল হওয়ার নয়।”

কথাটা শুনে কিন্তু লোকটা মোটেই শালবনির জঙ্গলের দিকে গেল না। তাকে দশটা টাকাও দিল না। ঊর্ধ্বশ্বাসে যেদিক থেকে এসেছিল আবার সেদিক পানেই ছুটে চলে গেল।

ঝাঁ-চকচকে মেঘদূত রেস্টুরেন্টে বসে চারজন পরোটা আর মাংস খাচ্ছিল। সারা দিন অনেক ধকল গেছে। তাদের এখন আগুনের মতো খিদে। কাজটা হতে-হতেও হয়নি। রাতে বাঘা যতীন ক্লাবেই লোকটার ব্যবস্থা হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মন্টাই, বীরু আর পবনকে জখম করে লোকটা হিরোর মতো পালিয়ে যায়। আর আজ তাদের চারজনকেও বড় কম চক্কর খাওয়ায়নি। এমনকি পটাইয়ের টাঙির কোপ খেয়েও জখম অবস্থায় পালিয়ে গেছে। কে জানত যে, লোকটা অমন চিতাবাঘের মতো দৌড়তে পারে!

খাওয়া হয়ে গেছে। শিবু মৌরি মুখে দিয়ে চিবোতে চিবোতে বলে, “দু’বার ফস্কেছে, তিনবারের বার কিন্তু ফস্কালে চলবে না।”

পটাই গম্ভীর মুখে বলে, “দরকার হলে এবারে লাশ নামিয়ে দেব, ভাবিস না।”

তপন খড়কে দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলে, “সব দোষ হারুর, লোকটাকে পালাতে দেওয়াটাই ভুল হয়েছে। নজরে রাখার জন্য হারুকে প্রতিমাসে মজুরি দেওয়া হয়। ও করছিলটা কী?”

গণেশ ঠান্ডা মাথার লোক, বুদ্ধিমানও। বলল, “মাথা গরম করিস না। তোদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে পেলেই খুনটুন করে বসবি। সেটা তো কথা নয়। আগে ধরে নিয়ে গিয়ে সইসাবুদের ব্যাপারটা সেরে নিতে হবে। তারপর কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। তুই যে টাঙিটা চালিয়েছিলি পটাই, তাতে কিন্তু লোকটা মরেও যেতে পারত।”

শিবু বলে, “দূর বোকা, মরে গেলে আর সইসাবুদের দরকার কী? মরা লোক কি আর সম্পত্তির ভাগ চাইতে আসবে?”

গণেশ ঠান্ডা গলাতেই বলে, “চতুর্ভুজবাবু হয়তো খুনের মামলায় ফেঁসে যেতে চান না।”

“কিসের খুনের মামলা! ওসব সেট করা আছে। ভাবছিস কেন? উনি তো বলেই দিয়েছেন, ডেড অর অ্যালাইভ।”

গণেশ বলে, “ওটা কথার কথা। আমরাই বা কেন বাড়তি একটা খুনের মামলায় ফেঁসে যাই! ঘাড়ে তো গোটা কতক মামলা ঝুলছে!”

শিবু একটু তেরছা হাসি হেসে বলে, “তুই কি জিশু খ্রিস্ট না চৈতন্যদেব! আমাদের কপালে শেষ অবধি ফাঁসি বা যাবজ্জীবন তো লেখাই আছে। নয়তো অপোনেন্টের হাতে অপঘাতে মৃত্যু। বুঝেছিস! অত ভাবলে কি আমাদের চলে?”

এমন সময়ে হাঁফাতে হাঁফাতে হারু কুণ্ডু এসে হাজির। শিবুকে একটা সেলাম ঠুকে বলে, “ওস্তাদ, ইগল শালবনির জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে আছে।”

শিবু ক্রুর চোখে বলল, “খবর পাকা তো! না হলে কিন্তু এবার তোকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলব।”

“খবর পাকা। একটা রাখাল ছেলে স্বচক্ষে দেখেছে।” সবাই হুড়মুড় করে উঠে পড়ল। বাইরে তাদের ল্যান্ডরোভার অপেক্ষা করছে।

গনার দলবল নেই, বন্ধুবান্ধবও নেই তেমন, সে হল একাবোকা মানুষ। সে নিজেই নিজের নাম দিয়েছে চোরেক্কে চোর। কিন্তু এখন তার দলবল ভারী দরকার, লোকবল না থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। শত হলেও লোকটা তার চেনা। তেমন খারাপ লোক বলেও মনে হয় না। তাকে গনাবাবু বলে ডেকেছেও। গনা নামটার সঙ্গে যে বাবু কথাটা জোড়া যায়, এ কথাটাই এতকাল তার মাথায় আসেনি! ওই একটা লোকই তাকে যা হোক একটা সম্মান তো দিয়েছে! কতগুলো পাগলাটে, খ্যাপা, মারকুট্টা বদমাইশের হাতে বেঘোরে লোকটাকে মরতে দেওয়া উচিত হবে না। সেটা অধর্ম হয়ে যাবে। সকালে চা-বিস্কুটটাও খাওয়া হয়নি, সে গিয়ে বাঘা যতীন ক্লাবে হাজির হয়ে গেল। সেখানে তখন জরুরি মিটিং বসেছে, ক্লাবে হামলা, ইগল এবং তার অপহরণ নিয়ে। মধ্যমণি শিবু। তাকে ঘিরে মেলা ছেলেছোকরা, সবাই ভারী উত্তেজিত। গনা গিয়ে মাঝখানে হাজির হওয়ায় সবাই বিরক্ত। কিন্তু গনা ঘাবড়াল না, মাথা ঠান্ডা রেখে আদ্যোপান্ত সব খুলে বুঝিয়ে বলল সে। এবং এটাও বুঝিয়ে বলতে পারল যে, তারা তেড়েফুঁড়ে না উঠলে ইগলের বেঁচে থাকার কোনও আশাই নেই। শিবু গরম হয়ে বলল, “মামাবাড়ির আবদার নাকি, আমরা থাকতে ওরকম গুণী একজন মানুষকে মেরে ফেললেই হল! তার ওপর বুলু মজুমদার আমাদের অতিথি। আমরা কি মরে গেছি নাকি!”

ঝিন্টু বলে উঠল, “তার ওপর আমাদের ক্লাবে হামলা চালিয়েছে, দরজা ভেঙেছে, জিনিসপত্র তছনছ করেছে, ইগল রায়কে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে! কত বড় সাহস! আজ অবধি বাঘা যতীন ক্লাবের সঙ্গে কেউ পাঙ্গা নেয়নি।”

ছেলেছোকরাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে দেরি হল না। সবাই তেড়েফুঁড়ে উঠে পড়ল, “চল তো, মস্তানদের মস্তানিটা একটু দেখে আসি।” হাতে হাতে লাঠি, স্টাম্প আর হকিস্টিক উঠে আসতে লাগল। গতরাতে গুন্ডাদের ফেলে যাওয়া রডটাও তুলে নিল একজন, মাছের তেলেই মাছভাজার কাজ হবে।

ভারী নিশ্চিন্ত হল গনা। এবার খুনিয়ারা সহজে কাজ হাসিল করতে পারবে না।

নন্দলাল থানায় বসে এ এস আই গুরুপদর সঙ্গে কাশীর বেগুনের গল্প করছিল। ভারী নিশ্চিন্ত হাবভাব। যেন শহরে কোনও ঘটনাই ঘটেনি। সেপাইরা অবশ্য শহরে টহল দিয়ে এসেছে, কোথাও ইগলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধরে নেওয়া হয়েছে লোকটা শহরের বাইরে পালিয়ে গেছে। যদি তাই গিয়ে থাকে, তা হলে এতক্ষণে এই থানার জুরিসডিকশনের মধ্যে আর নেই। সুতরাং নন্দলালের ওপর দায়ও বর্তায় না। যা শত্রু পরে পরে। কিন্তু পুলিশের জীবনে অখণ্ড শান্তি বলে কিছু নেই, এটা সে বরাবর দেখে আসছে। আজ রাতে ফুলকপি আর কড়াইশুঁটি দিয়ে ভুনি খিচুড়ি খাবে বলে বাড়িতে ফোন করছিল নন্দলাল। সঙ্গে বেগুন আর ইলিশ মাছের ডিম ভাজা। এমন সময়ে রসভঙ্গ করতে থানায় এসে হাজির লম্বা, সুড়ঙ্গে চেহারার পানু ঘোষ। মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান। শহরের অভিভাবক। স্কুল, কলেজ আর একগাদা প্রতিষ্ঠানের হয় উপদেষ্টা, নয়তো সভাপতি, নয়তো সেক্রেটারি, না হলে চেয়ারম্যান। নজরুল বা রবীন্দ্রজয়ন্তী, নববর্ষ বা দুর্গোৎসব, স্বাধীনতা দিবস বা রক্তদান শিবির, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা বন্যাত্রাণ, সর্বত্রই তিনি অবিসংবাদী প্রধান অতিথি বা সভাপতি বা পৃষ্ঠপোষক। গোটা পাঁচেক ক্লাবেরও তিনি প্রধান উপদেষ্টা। ক্ষুরধার বুদ্ধি এবং শীতল মস্তিষ্কের মানুষ। সঙ্গে জনা পাঁচসাত ছেলেছোকরা। সবাই ভীষণ উত্তেজিত।

নন্দলাল শশব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল, “আরে আসুন, আসুন! কী সৌভাগ্য!”

পানুবাবু প্রায় হুঙ্কার দিয়ে বলে উঠলেন, “তুমি এখনও নিশ্চিন্তে বসে আছ যে! আর তোমারই নাকের ডগায় একটা নিরপরাধ লোক গুন্ডাদের হাতে খুন হতে চলেছে! এই অরাজকতা কি লোকে সহ্য করবে ভেবেছ!” নন্দলাল চমকে উঠে বলে, “কে খুন হচ্ছে! কারা খুন করছে! কার এত সাহস?”

“পুলিশের আশকারা পেয়েই তো গুন্ডা মস্তানদের এত দাপট। আর হবে নাই-বা কেন! ফেসবুকে তুমিই তো লিখেছ তুমি নিজেই নাকি একসময়ে গুন্ডা হতে চেয়েছিলে! সেই তোমার পেয়ারের খুনি গুন্ডারা হন্যে হয়ে ইগল রায়কে খুন করতে রওনা হয়েছে। এখনই না আটকালে রক্তারক্তি কাণ্ড হয়ে যাবে। এতক্ষণে হয়ে গেল কি না তাই-বা কে জানে! ইগলকে রক্ষে করতে হলে এখনই তিলার্ধ দেরি না করে হগ সাহেবের মাঠে রওনা হও হে!”

“এখনই রওনা হচ্ছি স্যার। ভাববেন না, গুন্ডাদের ঢিট করতে আমি জানি। আর স্যার, আমি যে গুন্ডা হতে চেয়েছিলাম তা অল্পবয়সের পাগলামি। ওটা ধরবেন না।”

“গুন্ডা হবে নাই-বা কেন! বারণ করছে কে? এখন আমাদের গুন্ডারই তো দরকার, তবে ধর্মগুন্ডা। নোংরা, ইতর, নৃশংস গুন্ডাদের ঢিট করতে হলে এখন আমাদের পাল্টা ধর্মগুন্ডার বড্ড প্রয়োজন। শঠে শাঠ্যং। প্রাণে মারার গুন্ডা নয় হে, প্রাণ বাঁচানোর গুন্ডা। বুঝলে! এখন বেরিয়ে পড়ো, বেরিয়ে পড়ো, একটা প্রাণ রক্ষে করে এসো তো বাপু!”

“এই যে, যাই।”

বাজারের রাস্তায় একটা ঠেলাগাড়ি আড়াআড়িভাবে রেখে পথ আটকে দিয়েছিল বাঘা যতীন ক্লাবের ছেলেরা। সেখানে ল্যান্ডরোভারটা আটকে যেতেই শিবু মণ্ডল বিপদের গন্ধ পেয়ে পিস্তল বের করে ফেলল, “খবরদার! জানে মেরে দেব কিন্তু! কেউ কাছে আসবে না। এই পটাই, গাড়ি থেকে নেমে ঠেলাটা সরিয়ে দিয়ে আয় তো!”

কিন্তু চোখের পলকে প্রায় জনা বিশেক ছেলে গাড়িটা ঘিরে ফেলল। শিবু একটু ঘাবড়ে গিয়ে শূন্যে একটা ফায়ার করতেই ধপাধপ চারদিক থেকে মার পড়তে লাগল, বৃষ্টির মতো। ঘটনার আকস্মিকতায় ঘাবড়ে গিয়ে গণেশ, তপন, হারু কুণ্ডু আর পটাই গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে পালানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করল বটে, কিন্তু চারদিক থেকে এমন মার পড়ছিল যে, তারা পেরে উঠল না। রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি খেতে লাগল আর কাতর চিৎকার। শিবু এই হেনস্থায় রাগে আগুন হয়ে কয়েকটা খারাপ গালাগাল দিয়ে ফেলায় একটা হকিস্টিকের মার তার মুখের ওপর এসে পড়ল। ঠোঁট ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত। ডান হাতে নিজে মুখ চেপে ধরে বাঁ হাতটা তুলে সারেন্ডারের ইশারা করল সে। বুঝল যে, আজকের দিনটা তাদের নয়।

পুলিশ এসে ঘিরে ফেলল তাদের।

সন্ধের মধ্যেই মন্টাই, বীরু আর পবনকেও গ্রেফতার করে আনা হল। তাদের প্রাথমিক জবানবন্দি থেকে পালের গোদা চতুর্ভুজ রায়ের নাম উঠে আসায় জনকপুরে খবর পাঠাল নন্দলাল। একটু বাদেই জানা গেল, চতুর্ভুজও গ্রেফতার হয়ে গেছে।

আগের দিনে যেমন বাঘশিকারিরা মৃত বাঘের সঙ্গে বীরের মতো দাঁড়িয়ে ছবি তুলে রাখত, সেইরকম নন্দলালও কোনও কৃতিত্বের কাজ করলে সেলফি তুলে রাখে। আজ এতগুলো গুন্ডাকে পাকড়াও করে সে অহঙ্কারে মকমক করছে। গুন্ডাগুলোকে সার বেঁধে দাঁড় করিয়ে মোবাইলে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে রাখল সে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখাবে।