মনে মনে খেলা

মনে মনে খেলা - উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. সিনেমা হলের মধ্যে

সিনেমা হলের মধ্যে অন্ধকারেই পেছন দিক থেকে ছেলেটিকে একটু চেনা চেনা মনে। হয়েছিল। আলো জ্বলতে ভালো করে দেখা গেল। হ্যাঁ, ধূর্জটিই। সেই আগের মতনই রোগা আর লম্বা মাথাভরতি ঘন এলোমেলো চুল, কাঁধে একটা ঝোলানো ব্যাগ। চেহারায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য নেই, শুধু লম্বা বলেই ভিড়ের মধ্যেও...

০২. দুটো বাথরুম

দুটো বাথরুম। একটা বাইরের দিকে, আর একটা শয়নকক্ষ সংলগ্ন। সে গেল দ্বিতীয়টায়। অনেক দূরে, এখান থেকে বসবার ঘরের কোনো কথাই শুনতে পাওয়ার উপায় নেই। বাথরুমে ঢুকে সে কাচের তাকের ওপর গেলাসটা রাখল। তারপর সিগারেট ধরালো একটা। স্নান করার বিশেষ তাড়া নেই। ধীরেসুস্থে বেরোলেই হবে। ওদের...

০৩. ধূর্জটিকে বাড়িটা চিনিয়ে দেওয়া হয়েছে

ধূর্জটিকে বাড়িটা চিনিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে আসতে বলা হয়েছে বার বার। সুতরাং, যেকোনো সময় আবার আসার একটা নৈতিক অধিকার তার নিশ্চয়ই আছে। ধূর্জটি একটা কলেজে পড়ায়—ওদের তো অফিসের নির্দিষ্ট সময় নেই, যখন-তখন ছুটি। ইচ্ছে করলে একদিন ক্লাসে নাও যেতে পারে। দুপুরে আসবার ওর অনেক সুযোগ।...

০৪. সিনেমা হলে ঢোকার মুখে

সিনেমা হলে ঢোকার মুখেই ধূর্জটিকে দেখতে পেয়েছিল সুপ্রিয়া। ধূর্জটি তিন-চার জন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করতে করতে আসছে। সুপ্রিয়া চট করে ধূর্জটির বন্ধু ক-জনকে একবার দেখে নিল। তারপর ধূর্জটির সঙ্গে চোখাচোখি হওয়ার আগেই সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। স্বামীর পাশ ঘেঁসে সে ঢুকে এল ভেতরে। এক সময়...

০৫. অমল ছিল গান-পাগল

অমল ছিল গান-পাগল। ওইখানেই বনানীর জিত, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সে নিশ্চয়ই সুপ্রিয়ার কাছে হেরে যাবে। কিন্তু অমল যখন মুগ্ধ হয়ে বনানীর গান শুনত, তখন হিংসেয় জ্বলে যেত সুপ্রিয়ার বুক। যদিও সে নিজেই জানত, এ-রকম হিংসে করা খুব খারাপ, ছোটোমনের পরিচয়। কিন্তু উপায় কী, তার হিংসে হলে...

০৬. নৌকোটা একেবারে পাশে এসে লাগল

নৌকোটা একেবারে পাশে এসে লাগল। দেশলাইয়ের জন্য যে-হাত বাড়িয়ে আছে, সে ধূর্জটি। ধূর্জটি যে শুধু সুপ্রিয়াকেই চেনে তা নয়, সে অমলকেও চেনে। নিজের বন্ধু না-হলেও বন্ধুর বন্ধু। ধূর্জটি জানতই না যে, সুপ্রিয়ার সঙ্গে অমলের কোনো সম্পর্ক আছে। অমল ছিল সত্যিকারের গোপন। ধূর্জটির...

০৭. সেদিনের সেই সন্ধ্যেটার কথা

সেদিনের সেই সন্ধ্যেটার কথা ভাবলেই ধূর্জটির গা গুলিয়ে ওঠে। ধূর্জটি সেই একদিনই মাত্র গঙ্গায় নৌকো করে বেড়াতে গিয়েছিল। ওরকম উটকো বেড়াবার শখ তার নেই। সেদিন গিয়েছিল নিতান্ত বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে, এক বন্ধু চাকরিতে একটা বড়ো প্রোমোশন পেয়েছে, সেই উপলক্ষ্যে। ডজন খানেক...

০৮. আড়াইটা বেজে গেছে

আড়াইটা বেজে গেছে। দীপংকর রীতিমতন অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। কয়েকটা জরুরি চিঠি পাঠাতে হবে। কিন্তু সরলা বিশ্বাস এখনও ফেরেনি। একটার সময় লাঞ্চ আওয়ার শুরু হয়। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ফিরে আসা উচিত ছিল। দীপংকর সময়ের ব্যাপারে কক্ষনো কড়াকড়ি করে না। অনেকদিন তো কাজই থাকে না তেমন। কিন্তু যখন...