ছবি ও গান

অভিমানিনী

ও আমার অভিমানী মেয়ে ওরে কেউ কিছু বোলো না । ও আমার কাছে এসেছে , ও আমায় ভালো বেসেছে , ওরে কেউ কিছু বোলো না । এলোথেলো চুলগুলি ছড়িয়ে ওই দেখো সে দাঁড়িয়ে রয়েছে , নিমেষহারা আঁখির পাতা দুটি চোখের জলে ভরে এয়েছে । গ্রীবাখানি ঈষৎ বাঁকানো , দুটি হাতে মুঠি আছে চাপি , ছোটো ছোটো...

আচ্ছন্ন

লতার লাবণ্য যেন কচি কিশলয়ে ঘেরা , সুকুমার প্রাণ তার মাধুরীতে ঢেকেছে- কোমল মুকুলগুলি চারি দিকে আকুলিত তারি মাঝে প্রাণ যেন লুকিয়ে রেখেছে । ওরে যেন ভালো করে দেখা যায় না , আঁখি যেন ডুবে গিয়ে কূল পায় না । সাঁঝের আভা নেমে এল , জ্যোৎস্না পাশে ঘুমিয়ে প ' ল , ফুলের গন্ধ দেখতে...

আদরিনী

একটুখানি সোনার বিন্দু , একটুখানি মুখ , একা একটি বনফুল ফোটে-ফোটে হয়েছে , কচি কচি পাতার মাঝে মাথা থুয়ে রয়েছে । চার দিকে তার গাছের ছায়া , চার দিকে তার নিষুতি- চার দিকে তার ঝোপেঝাপে আঁধার দিয়ে ঢেকেছে , বনের সে যে স্নেহের ধন আদরিণী মেয়ে , তারে বুকের কাছে লুকিয়ে যেন রেখেছে...

আবছায়া

তারা সেই ধীরে ধীরে আসিত মৃদু মৃদু হাসিত , তাদের পড়েছে আজ মনে । তারা কথাটি কহিত না , কাছেতে রহিত না , চেয়ে রইত নয়নে নয়নে । তারা চলে যেত আনমনে , বেড়াইত বনে বনে , আনমনে গাহিত রে গান । চুল থেকে ঝরে ঝরে ফুলগুলি যেত পড়ে , কেশপাশে ঢাকিত বয়ান । কাছে আমি যাইতাম , গানগুলি...

আর্তস্বর

শ্রাবণে গভীর নিশি দিগ্বিদিক আছে মিশি মেঘেতে মেঘেতে ঘন বাঁধা , কোথা শশী কোথা তারা মেঘারণ্যে পথহারা আঁধারে আঁধারে সব আঁধা । জ্বলন্ত বিদ্যুৎ-অহি ক্ষণে ক্ষণে রহি রহি অন্ধকারে করিছে দংশন । কুম্ভকর্ণ অন্ধকার নিদ্রা টুটি বার বার উঠিতেছে করিয়া গর্জন । শূন্যে যেন স্থান নাই ,...

একাকিনী

একটি মেয়ে একেলা , সাঁঝের বেলা , মাঠ দিয়ে চলেছে । চারি দিকে সোনার ধান ফলেছে । ওর মুখেতে পড়েছে সাঁঝের আভা , চুলেতে করিছে ঝিকিমিকি । কে জানে কী ভাবে মনে মনে আনমনে চলে ধিকিধিকি । পশ্চিমে সোনায় সোনাময় , এত সোনা কে কোথা দেখেছে । তারি মাঝে মলিন মেয়েটি কে যেন রে এঁকে রেখেছে ।...

কে ?

আমার প্রাণের 'পরে চলে গেল কে বসন্তের বাতাসটুকুর মতো ! সে যে ছুঁয়ে গেল নুয়ে গেল রে, ফুল ফুটিয়ে গেল শত শত । সে চলে গেল , বলে গেল না , সে কোথায় গেল ফিরে এল না , সে যেতে যেতে চেয়ে গেল , কী যেন গেয়ে গেল তাই আপন মনে বসে আছি কুসুম-বনেতে । সে ঢেউয়ের মতো ভেসে গেছে , চঁদের আলোর...

খেলা

ছেলেতে মেয়েতে করে খেলা ঘাসের'পরে সাঁঝের বেলা । ঘোর ঘোর গাছের তলে তলে , ফাঁকায় পড়েছে মলিন আলো , কোথাও যেন সোনার ছায়া ছায়া কোথাও যেন আঁধার কালো কালো । আকাশের ধারে ধারে ঘিরে , বসেছে রাঙা মেঘের মেলা- শ্যামল ঘাসের'পরে , সাঁঝে আলো-আঁধারের মাঝে মাঝে , ছেলেতে মেয়েতে করে খেলা...

গ্রামে

নবীন প্রভাত কনক-কিরণে নীরবে দাঁড়ায়ে গাছপালা — কাঁপে মৃদু মৃদু কী যেন আরামে , বায়ু বহে যায় সুধা-ঢালা । নীল আকাশেতে নারিকেল-তরু , ধীরে ধীরে তার পাতা নড়ে — প্রভাত আলোতে কুঁড়েঘরগুলি , জলে ঢেউগুলি ওঠে পড়ে । দুয়ারে বসিয়া তপনকিরণে ছেলেরা মিলিয়া করে খেলা , মনে হয় সবি কী যেন...

ঘুম

ঘুমিয়ে পড়েছে শিশুগুলি , খেলাধুলা সব গেছে ভুলি । ধীরে নিশীথের বায় আসে খোলা জানালায় , ঘুম এনে দেয় আঁখিপাতে , শয্যায় পায়ের কাছে খেলেনা ছড়ানো আছে , ঘুমিয়েছে খেলাতে-খেলাতে । এলিয়ে গিয়েছে দেহ , মুখে দেবতার স্নেহ পড়েছে রে ছায়ার মতন , কালো কালো চুল তার বাতাসেতে বার বার উড়ে...

জাগ্রত স্বপ্ন

আজ একেলা বসিয়া , আকাশে চাহিয়া , কী সাধ যেতেছে , মন! বেলা চলে যায় — আছিস কোথায় ? কোন্ স্বপনেতে নিমগন ? বসন্তবাতাসে আঁখি মুদে আসে , মৃদু মৃদু বহে শ্বাস , গায়ে এসে যেন এলায়ে পড়িছে কুসুমের মৃদু বাস । যেন সুদূর নন্দনকাননবাসিনী , সুখঘুমঘোরে মধুরহাসিনী , অজানা প্রিয়ার ললিত...

দোলা

ঝিকিমিকি বেলা ; গাছের ছায়া কাঁপে জলে , সোনার কিরণ করে খেলা । দুটিতে দোলার'পরে দোলে রে , দেখে রবির আঁখি ভোলে রে । গাছের ছায়া চারি দিকে আঁধার করে রেখেছে , লতাগুলি আঁচল দিয়ে ঢেকেছে । ফুল ধীরে ধীরে মাথায় পড়ে , পায়ে পড়ে , গায়ে পড়ে , থেকে থেকে বাতাসেতে ঝুরু ঝুরু পাতা নড়ে ।...

নিশীথচেতনা

স্তব্ধ বাদুড়ের মতো জড়ায়ে অযুত শাখা দলে দলে অন্ধকার ঘুমায় মুদিয়া পাখা । মাঝে মাঝে পা টিপিয়া বহিছে নিশীথবায় , গাছে নড়ে ওঠে পাতা , শব্দটুকু শোনা যায় । আকাশের পানে চেয়ে জাগিয়া রয়েছি বসি , মাঝে মাঝে দু -এক টি তারা পড়িতেছে খসি । ঘুমাইছে পশুপাখি , বসুন্ধরা অচেতনা — শুধু এবে...

নিশীথজগৎ

জন্মেছি নিশীথে আমি , তারার আলোকে রয়েছি বসিয়া । চারি দিকে নিশীথিনী মাঝে মাঝে হু হু করি উঠিছে শ্বসিয়া । পশ্চিমে করেছে মেঘ , নিবিড় মেঘের প্রান্তে স্ফুরিছে দামিনী , দুঃস্বপ্ন ভাঙিয়া যেন শিহরি মেলিছে আঁখি চকিত যামিনী । আঁধারে অরণ্যভূমি নয়ন মুদিয়া করিতেছে ধ্যান , অসীম আঁধার...

পাগল

আপন মনে বেড়ায় গান গেয়ে , গান কেউ শোনে কেউ শোনে না । ঘুরে বেড়ায় জগৎ-পানে চেয়ে , তারে কেউ দেখে কেউ দেখে না । সে যেন গানের মতো প্রাণের মতো শুধু সৌরভের মতো উড়ছে বাতাসেতে , আপনারে আপনি সে জানে না , তবু আপনাতে আপনি আছে মেতে । হরষে তার পুলকিত গা , ভাবের ভরে টলমল পা , কে জানে...

পূর্ণিমায়

যাই যাই ডুবে যাই — আরো আরো ডুবে যাই , বিহ্বল অবশ অচেতন । কোন্ খানে , কোন্ দূরে , নিশীথের কোন্ মাঝে , কোথা হয়ে যাই নিমগন । হে ধরণী , পদতলে দিয়ো না দিয়ো না বাধা , দাও মোরে দাও ছেড়ে দাও — অনন্ত দিবস-নিশি এমনি ডুবিতে থাকি , তোমরা সুদূরে চলে যাও । এ কী রে উদার জ্যোৎস্না এ...

পোড়ো বাড়ি

চারি দিকে কেহ নাই , একা ভাঙা বাড়ি , সন্ধেবেলা ছাদে বসে ডাকিতেছে কাক । নিবিড় আঁধার , মুখ বাড়ায়ে রয়েছে যেথা আছে ভাঙা ভাঙা প্রাচীরের ফাঁক । পড়েছে সন্ধ্যার ছায়া অশথের গাছে , থেকে থেকে শাখা তার উঠিছে নড়িয়া । ভগ্ন শুষ্ক দীর্ঘ এক দেবদারু তরু হেলিয়া ভিত্তির'পরে রয়েছে পড়িয়া ।...

বাদল

একলা ঘরে বসে আছি , কেউ নেই কাছে , সারাটা দিন মেঘ করে আছে । সারাদিন বাদল হল , সারাদিন বৃষ্টি পড়ে , সারাদিন বইছে বাদল-বায়! মেঘের ঘটা আকাশভরা , চারি দিকে আঁধার-করা , তড়িৎ-রেখা ঝলক মেরে যায় । শ্যামল বনের শ্যামল শিরে মেঘের ছায়া নেমেছে রে , মেঘের ছায়া কুঁড়েঘরের'পরে ,...

বিদায়

সে যখন বিদায় নিয়ে গেল , তখন নবমীর চাঁদ অস্তাচলে যায় । গভীর রাতি নিঝুম চারি দিক , আকাশেতে তারা অনিমিখ , ধরণী নীরবে ঘুমায় । হাত দুটি তার ধরে দুই হাতে মুখের পানে চেয়ে সে রহিল , কাননে বকুল তরুতলে একটিও সে কথা না কহিল । অধরে প্রাণের মলিন ছায়া , চোখের জলে মলিন চাঁদের আলো ,...

বিরহ

ধীরে ধীরে প্রভাত হল , আঁধার মিলায়ে গেল উষা হাসে কনকবরণী , বকুল গাছের তলে কুসুম রাশির পরে বসিয়া পড়িল সে রমণী , আঁখি দিয়া ঝরঝরে অশ্রুবারি ঝ ' রে পড়ে ভেঙে যেতে চায় যেন বুক , রাঙা রাঙা অধর দুটি কেঁপে কেঁপে ওঠে কতো , করতলে সকরুণ মুখ । অরুণ আঁখির'পরে , অরুণের আভা পড়ে ,...