প্রতাপগড়ের নাঘনখ রহস্য – ১০

দশ

সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুণেতে এল ঠিক বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। ডঃ সেন ভাবলেন, যদি মহাবালেশ্বরে যাবার কোন গাড়ি না পাওয়া যায়, তবে রাতটা রামটিকড়িতে বন্ধুর বাসায় কাটাবেন। স্টেশন-থেকে বেরিয়ে দাড়ানো ট্যাক্সিওয়ালাদের সঙ্গে কথা বললেন। ওরা কেউ মহাবালেশ্বরে যাবে না। তবে ওরা জানালো, কখন কখন কিছু প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া খাটে। ওরা সাতারা, কোলাপুরে যাত্রী নিয়ে যায়। ওদের কেউ-বা মহাবালেশ্বরে গেলে যেতেও পারে। তবে অনেক টাকা নেবে। স্টেশনের বাইরে অনেক প্রাইভেট, ফিয়াট গাড়ি দাড়িয়ে ছিল। ডঃ সেনের ভাগ্য ভালো, একটি মারাঠী যুবক ডঃ সেনকে নিয়ে মহাবালেশ্বর যেতে রাজি হলো। যুবকটির নাম হনুমন্ত রাও!

পুণে থেকে মহাবালেশ্বর একশ বাইশ কিলোমিটার পথ। পুণে থেকে ‘সুরুল’ হয়ে, সাতারা জেলার সদর হয়ে, ‘করাদ’ হয়ে, পথ চলে গেছে কোলাপুর, বেলগাঁও পর্যন্ত। পথ খুব ভালো। সারারাত পথে লরী চলে। ভয়ের কিছু নেই। তবে ঐ পথে আশি কিলো মিটারের মত গিয়ে, হুরুল থেকে ডানদিকে প্রায় নির্জন পথ ধরতে হবে। সে পথ মহাবালেশ্বর হয়ে চলে গেছে পোলাদপুর পর্যন্ত। পোলাদপুর বম্বে পানাজী মেইন রোডের উপরে অবস্থিত।

হনুমন্ত রাও খুব চমৎকার গাড়ী চালায়। কথাবার্তায়ও খুব ভদ্র। ডঃ সেন মারাঠী ভাষা ভালমতই জানেন। নানা গল্প করতে করতে ওঁরা চলেছেন। রাত প্রায় ন’টা নাগাদ ডঃ সেনকে নিয়ে প্রাইভেট, গাড়ীর চালক হনুমন্ত রাও মহাবালেশ্বর থানার সামনে এলো। ডঃ সেন এদিকে কখনও আসেননি আগে। তাই সারাপথে মারাঠী যুবক হনুমন্ত রাও-এর কাছ থেকে নানা কথা জেনে নিয়েছেন, আবার কেন যে মহাবালেশ্বর যাচ্ছেন, তাও রেখে ঢেকে মোটামুটি বলেছেন। আর ঐ ক’ঘণ্টার মধ্যেই হনুমন্ত রাওকে তাঁর খুব ভালো লেগে গেছে। মারাঠী ছেলেরা কথা কম বলে। ওরা খুব বিশ্বাসী হয়। আর তাছাড়া এ রকম একজন শক্ত সমর্থ যুবক সঙ্গে থাকলে রাত-বিরাতে মনে চিন্তাও থাকেনা।

থানার সামনে গাড়ী থেকে নেমে ডঃ সেন ভিতরে গিয়ে ও.সি.কে খুঁজলেন। একজন কনষ্টেবল জিজ্ঞেস করল,

আপনি কোথা থেকে এসেছেন?

বম্বে থেকে,—বলেই টেলিগ্রামখানা ওর হাতে দিলেন।

বসুন স্যার, আমি ও সি.কে খবর পাঠাচ্ছি।

কিছুক্ষণ পরে দারোগা মিঃ ভালেরাও এসে পরিচয় দিতেই, ডঃ সেন বললেন :

আমি ডঃ অনিল সেন। পৃথ্বীরাজের ছোট মামা। বম্বে আই- আই. টি. থেকে আসছি, দাদার বাসায় আপনার টেলিগ্রাম পেয়ে আজই চলে এলাম। পৃথ্বীরাজ কোথায়?—

বসুন ডঃ সেন। লছমন, দুকাপ চা নিয়ে এসো। তারপর ডঃ সেনের দিকে চেয়ে বললেন :

ভালই হয়েছে ডঃ সেন, আপনারা কেউ একজন তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন। আমাদের ভাবনা হচ্ছিল, কবে কে আসবে, কে জানে।— তার কথায় বাধা দিয়ে ডঃ সেন বললেন :

পৃথ্বীরাজ কোথায়? কেমন আছে সে, কি হয়েছিল তার?

একদম ভালো আছে। পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকবার বলেও তাকে এখানে নিয়ে আসতে পারিনি। ছেলেটি বড্ড বেশী ‘মুডী’। উদ্ধারকারী মাওলীদের গ্রাম ছেড়ে কিছুতেই এলো না।

কি ব্যাপার ঘটেছিল, দয়া ক’রে বলুন।

ওরা দলবেধে বেড়াতে এসেছিল মহাবালেশ্বরে। অমনি অনেকেই আসে প্রতি বছর। পৃথ্বীরাজ দলের একটি ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে, বম্বে পয়েন্ট থেকে নীচে পড়ে যায়।

একদম উপর থেকে?

হ্যাঁ, একদম উপর থেকে।

আরে সর্বনাশ! হাড়পাঁজরা আস্ত আছে কি ক’রে?

সেটাই তো মশাই মিরাকল।—বলে দারোগাবাবু দেওয়ালে টাঙানো সির্দি সাঁইবাবার ছবির দিকে তাকিয়ে নমস্কারের ভঙ্গি করলেন। তারপর আবার বললেন :

কয়েক হাজার ফুট নীচে পড়েছে, অথচ সামান্য কাঁটাছেড়া ছাড়া আর কোন চোট, নেই। মনে হয় কোন ঝাঁকড়া গাছের ডালপালার উপরে পড়েছিল। মাওলীরা ওকে উদ্ধার করে নিজেদের গ্রামে নিয়ে যায়। ব্যাটারা ছদিন পর খবর দেয়। সারা জঙ্গল তোলপাড় করে খুঁজেও তাই আমরা কোন হদিশ পাইনি। আর ওর দলের ছেলেরা, শিক্ষকরা কান্নাকাটি করে ঘটনার ছ’দিন পর ক্যালকাটা ফিরে গেল।

এখন পৃথ্বীরাজ কোথায় আছে?

এখান থেকে তেইশ-চব্বিশ কিলোমিটার দূরে প্রতাপগড় ফোর্টের কাছে একটা গ্রামে আছে। জেলার কালেক্টর, পুলিশ সুপার, আমরা—শত রিকোয়েস্ট করেও তাকে এখানে নিয়ে আসতে পারি নি। তবে সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে ডাক্তার জানিয়েছে। দুজন সেপাই ওকে সব সময় নজরে নজরে রাখছে।

মিঃ ভালেরাও, রাত এখন দশটাও বাজেনি। আমি এখুনি সেই গ্রামে যেতে চাই। পথে কোন ভয় নেই তো? চোর-ডাকাত?

কি যে বলেন। ভালেরাও-র এলাকায় বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খায়। চোর-ডাকাত তো ছার! তবে পাহাড়ী পথ, এত রাত্রে কোন গাড়ী ওখানে যেতে চাইবেনা।

আরে সর্বনাশ! আপনার এলাকায় বাঘও আছে নাকি? — ঠাট্টা করে বলেন ডঃ সেন।

ওটা কথার কথা।

তবে দয়া করে আমার একটা গাড়ীর ব্যবস্থা করে দিন। যা খরচপত্র লাগে আমি দেব। আর ঠিকানা এবং পথের ডিরেকসটা দেবেন। আমি এখুনি যাব।

এখন কোন গাড়ী যেতে চাইবেনা। অথচ আপনি যাবেনই। কি যে করব—

ঠিক আছে। দেখি আমার গাড়ীটা যায় কিনা! মনে হয় হনুমন্ত রাজি হতে পারে।

আপনার একটু বিশ্রাম নেওয়া হলো না। তবে পথ বেশী নয়। ঘুরে আসুন। আমি থাকার একটা ব্যবস্থা করে রাখব। তবে ওকে অবশ্যই নিয়ে আসবেন। ফোর্ট না দেখে যাব না বলে যেন বায়না না ধরে।

থানার দরজায় গাড়ী রেখে হনুমন্ত রাও তখন একজন কনস্টেবলের সঙ্গে কথা বলছিল। মনে হয় পৃথ্বীরাজের রোমাঞ্চকর দুর্ঘটনার কথাই শুনছিল। ডঃ সেন ওকে বললেন: হনুমন্ত, তুমি কি আজ রাত্রে পুণে ফিরে যাবে?

নো স্যার! কাল ভোরে কোন টুরিস্ট পেয়ে যেতেও পারি। তাই রাতটা এখানেই কাটাব।

তবে চলো না, একবার প্রতাপগড় থেকে ঘুরে আসি। ওখানে পৃথ্বীরাজ আছে।

ঠিক হ্যায় স্যার।

গাড়ীতে পেট্রল ভরে নাও।

পাঞ্চণিতে পেট্রল নিয়েছি। প্রতাপগড় যেতে আসতে বড় জোর পঞ্চাশ কিলোমিটার। ওতেই হয়ে যাবে।

তখন মিঃ ভালেরাও একটা কাগজে পথের এবং গোরেগাঁও-এর ডিরেকসন লিখে দিলেন। বললেন, আমি সার্কিট হাউসে আপনাদের খাবার এবং থাকার ব্যবস্থা করে রাখছি। তাড়াতাড়ি ফিরবেন কিন্তু

এগারো

মহাবালেশ্বরে রাত দশটা প্রায় নিশুতি রাত। সাত-আট হাজার লোকের ছোট্ট শহর। সন্ধ্যার পরে ট্যুরিস্টরা যা কিছু হৈ-হুল্লোড় হোটেলের মধ্যেই করে। ভোরে কোন পয়েন্টে সূর্যোদয় দেখতে যাবে বলে অনেকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েও পড়ে। ডঃ সেনের গাড়ী শহর ছেড়ে, আলোর রাজ্য ছেড়ে, হেড্‌ লাইট জ্বালিয়ে নির্জন পাহাড়ী পথে ছুটে চলল। পথের দুপাশের রোড সাইনগুলো ফ্লুরোসেন্ট্ পেইন্ট দিয়ে লেখা। হেডলাইটের আলোয় সেগুলো জ্বল জ্বল করে ওঠে। প্রতি কিলোমিটার পথের শেষে মাইলস্টোন পোতা। তার কোন কোনটায় আবার স্থানের নামও লেখা।

সেই পথে যেতে যেতে যখন গাড়ী প্রায় গোরেগাঁও’র কাছে এসে গেছে, তখন তীব্র হেড লাইটে দেখা গেল, একটি লোক পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সে হাতজোড় করে, কখনও হাত উঁচু করে, ডঃ সেনদের গাড়ী থামাতে বলছে। বিকট শব্দ করে হনুমন্ত রাও গাড়ী থামালে, লোকটি কাছে এলো।

প্রায় কেঁদে কেঁদে লোকটি মারাঠী ভাষায় বলল, ‘বাবু আমার সঙ্গীকে একটা লরী ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। ঐ দেখ পথের পাশে পড়ে আছে সে। ওকে একবার মহাবালেশ্বরে হাসপাতালে পৌঁছে দাও। দেরী হ’লে সে আর বাঁচবে না।

পথের বাঁ’দিকে সত্যি একটা লোক পড়ে আছে। এ রকম দুর্ঘটনা ন্যাশনাল হাইওয়েগুলোতে হামেশাই ঘটে। আবার পথের অন্য গাড়ীই আহত লোকদের সাহায্য করে থাকে। তাই হনুমন্ত রাও আর ডঃ সেন দুজনেই দরজা খুলে বাইরে এলেন। লোকটি হনুমন্ত রাওকে বলল, এস ভাই, ওকে ধরে গাড়ীতে তুলি। একটু সাহায্য ক’রো।

হনুমন্ত রাও লোকটির সঙ্গে একটু এগিয়ে গেল। ডঃ সেন বাইরে নেমে গাড়ীর দরজাটা বন্ধ করতে যাবেন, এমন সময় দেখলেন, পিছন থেকে অন্য একজন লোক হনুমন্ত রাও-এর মাথায় লাঠির মত কিছু একটা দিয়ে আঘাত করল। হনুমন্ত রাও পিছন ফিরে দেখতে গিয়েই পথে লুটিয়ে পড়ল। ডঃ সেনের পকেটে তার প্রিয় ‘কোল্ট’ রিভলবারটি ছিল। কিন্তু এক পা এগুতেই মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে তিনিও জ্ঞান হারালেন। ডঃ সেন আর হনুমন্তু রাও অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় পড়ে রইল তিনজন আক্রমণকারী গাড়ীটি নিয়ে চলে গেল।

যেখানে ডঃ সেন আর হনুমন্ত রাও আক্রান্ত হলেন, সে জায়গাটি মাওলীদের গ্রাম গোরেগাঁও থেকে আধ কিলোমিটার দূরেও নয়। পৃথ্বীরাজ সন্ধ্যার পর কোথাও বের হয় না। আর তখনই সেপাই দুজন একটু আমোদ স্ফূর্তি করতে এদিকে সেদিকে যায়। রোজই যায়। সেদিনও গিয়েছিল। প্রতাপগড় দুর্গে ওঠার পথ মেরামতের জন্য কুলিরা কাজ করে। ওরা তাঁবু ফেলে কাছেই থাকে। সারাদিন খাটা খাটুনীর পর সন্ধ্যায় নেশা করে স্ফূর্তি করে। দুজন সেপাই ওখানে গিয়ে নেশা করে গল্প করে। তারপর মাওলী গ্রামে ফিরে যায়।

সেদিনও নেশা করে ফিরে আসার সময়, হঠাৎ গাড়ীর ব্রেক্ কসার বিকট শব্দ আর লোকের চীৎকার শুনে বুড়ো সিপাইয়ের কর্তব্যবোধ জেগে ওঠে।

‘হুঁ, কেয়া হুয়া’—বলে পথ ধরে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাবার সময় সে হঠাৎ বিকট চীৎকার করে পথে পরে যায়। তাকে চাপা দিয়ে চলে যায় গাড়ী ছিনতাইকারী গুণ্ডারা।

পাণ্ডারী একটু পিছনে ছিল, নেশাটাও বোধহয় একটু কম হয়েছিল সেদিন। আবার একজন মানুষের চীৎকার শুনে, আর জোরে একটা গাড়ী চলে যাবার শব্দ শুনে, পাণ্ডারীর নেশা ছুটে যায়। দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, তিনটে মানুষের দেহ পথের মধ্যে এখানে-সেখানে পড়ে আছে। কে মরে গেছে, কে বেঁচে আছে তা না। দেখে, অন্য কোন গাড়ী থেকে ওদের বাঁচাবার জন্য, সবাইকে সে পথের পাশে সরিয়ে আনতে শুরু করলো। দুজন অচেনা লোককে সরিয়ে যখন সে তৃতীয় লোকটিকে সরাতে গেল, তখন দেখলো লোকটি আর কেউ নয়, তার সঙ্গী, সিপাই। তাকে সরাতে গিয়ে পাণ্ডারী বুঝতে পারলো, তার সঙ্গী মারা গেছে। দৌড়ে পাণ্ডারী চলে গেল মাওলীদের গ্রামে।

পাণ্ডারী সর্দার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে চলে এলো। পৃথ্বীরাজও সঙ্গে এলো। বৃদ্ধ সিপাই-এর মৃত্যুতে যখন সবাই মৃতদেহের চারপাশে দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ করছে, তখন পাণ্ডারী বলল, সর্দার ঐখানে আরও দুজন আহত হয়ে পড়ে আছে, হয়ত এতক্ষণে মরেও গেছে। এই বলে সে পথের পাশে একটি জায়গা দেখিয়ে দিল।

অন্যদের সঙ্গে পৃথ্বীরাজও সেদিকে গেল। ওখানে ছজন মানুষ উবু হয়ে পড়ে আছে। একজন হঠাৎ কঁকিয়ে উঠলো, মাগো। শুনে পৃথ্বীরাজের মনে হলো, লোকটি বাঙালী। সর্দার মশালের আলো নিয়ে কাছে এলে, কয়েকজন লোক তাকে চিত করে শুইয়ে দিতেই, পৃথ্বীরাজ চীৎকার ক’রে উঠলো,—একি, ছোট মামা!

তারপর আহত দুজনকে তুলে নিয়ে কিছু লোক চলে গেল মাওলীদের গ্রামে। সর্দার তিনচার জন লোককে মৃত দেহ পাহারা দেবার জন্য রেখে দিল। ছ’জন মাওলীকে সে রাত্রেই সর্দার মহাবালেশ্বর থানায় পাঠিয়ে দিল। এরকম সাংঘাতিক ঘটনা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব থানাকে জানাতেই হবে।

বারো

ভোরবেলা থেকেই মহাবালেশ্বরে আবার হৈ চৈ পড়ে গেল। এক সপ্তাহে দু’দুবার। কলকাতা থেকে বেড়াতে এসে একটি ছেলে বম্বে পয়েন্ট থেকে পড়ে নিখোঁজ হ’লো। তার পর তার সন্ধান অবশ্য পাওয়া গেছে। আবার গতকাল থানার একজন সেপাইকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল গোরেগাঁও গ্রামের কাছে। সেই সিপাইটি আবার কলকাতার হারানো ছেলেটির দেহরক্ষীর কাজ করছিল। তা ছাড়াও কারা যেন দুজন লোককে আহত করে, গাড়ী ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। এত সব কাণ্ড এই এলাকায় বহুদিন হ’লো ঘটে নি। ট্যুরিস্টদের মধ্যে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ল।

থানায় খবর এসেছে শেষ রাত্রেই। ভোর হতে না হতেই দারোগা মিঃ ভালেরাও গোরেগাঁও চলে এলেন। সঙ্গে অনেক পুলিশ, লোকজন, গাড়ী, ডাক্তার চ্যবনও এসেছেন। ডঃ সেনের আঘাত সামান্য। কিন্তু হনুমন্ত রাও’র আঘাত গুরুতর। তবে ভয়ের কিছু নেই। বেঁচে যাবে। সেপাই-র মৃত দেহ মহাবালেশ্বর নিয়ে যাওয়া হল। সেই গাড়ীতেই হনুমন্ত রাওকেও হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হ’লো।

মিঃ ভালেরাও তদন্ত যা করবার ক’রে ফিরে গেলেন। ডঃ সেন ও পৃথ্বীরাজ কোনমতেই মহাবালেশ্বরে ফিরে যেতে রাজি হলো না। ছুটো টেলিগ্রাম পাঠালেন ডঃ সেন, ওদের হাত দিয়ে। একটি বম্বেতে অন্যটি কলকাতায়। দু’টোরই এক বয়ান – দুজনেই ভাল আছি, ফিরতে দেরী হবে।

ডঃ সেনের মাথায় সামান্য চোট লেগেছিল। ব্যাণ্ডেজ বাঁধতে হয়নি, তুলো দিয়ে ঔষধ লাগিয়ে দিয়ে গেছে ডাক্তার। সবাই যখন চলে গেছে সেদিন সন্ধ্যায় পৃথ্বীরাজ ছোট মামাকে বলল :

ছোট মামা, তুমি টেলিগ্রামে কেন লিখলে ফিরতে দেরী হবে?

আমার মনে হয় ফিরতে দেরী হবে। ওরা চিন্তা করবে তাই জানালাম। কলকাতায় তোর বন্ধুরা ফেরার আগেই, তোর কুশল সংবাদ সেজদির জানা দরকার। না হলে ওরা অন্য কিছু ভাবতে পারে।

কিন্তু আমরা মহাবালেশ্বরে চলে যেতে পারতাম। তা ছাড়া তোমার মাথায় আঘাত!

ও কিছু নয়। তুই কি মনে করিস ওরা গাড়ী ছিনতাই করেছে এমনি এমনি? আমার মনে হয় তার পিছনে যথেষ্ঠ কারণ আছে। আর একবার এখান থেকে চলে গেলে সে কারণটি খুঁজে পাব না।

কিন্তু ছোটমামা, ওরা চোর-ডাকাত ছাড়া আর কি হতে পারে?

পৃথ্বীরাজ ওরা যদি চোর-ডাকাত এমনকি যদি শুধু গাড়ী ছিনতাইকারী হতো তবে হাতঘড়ি মানিব্যাগ এমনকি আমার প্রিয় রিভলবারটাকে ফেলে যেত না। ওরা কোন অন্য উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিল। ওদের তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যাবার দরকার ছিল।

ডঃ সেন চুপ করে ভাবতে লাগলেন। পৃথ্বীরাজ বলল : ভালোই হ’লো আরও কয়েকদিন গোরেগাঁও থেকে প্রতাপগড় ফোর্ট দেখে যেতে পারব।

রাত্রে ঘুমবার আগে ডঃ সেন জিজ্ঞেস করলেন—তোর স্কুল খুলতে কত দেরী আছে রে?

—প্রায় তিন সপ্তাহ। একথা কেন জিজ্ঞেস করছ মামা?

—এমনি গাড়ীটা কোথায় ওরা ফেলে রেখে যায় সেটা জানা দরকার। মিঃ ভালেরাওকে খোঁজ নিতে বলেছি। পৃথ্বীরাজ, তুই তো এখানে বেশ কয়েক রাত কাটিয়েছিস, বেশী রাত্রের দিকে লরী চলাচলের শব্দ পেয়েছিস্?

একদম কম। হঠাৎ দু একদিন। তা না হ’লে সন্ধ্যার পর যেন রোজ ভীষণ নিস্তব্ধতা নেমে আসে।

—তখন বলছিলি কনট্রাক্টররা এখানে লোকজন রেখেছে কাজ করার জন্য। ওরা কি কাজ করে কত জন?

শুনেছি কুড়ি পঁচিশ জন কুলি ওখানে তাবু খাটিয়ে থাকে। বাকি সব স্থানীয় মাওলীরা ঠিকে কাজ করে। সন্ধ্যার পর কোন কাজই হয় না ওখানে।

এখন শুয়ে পড়, কাল একবার সর্দারকে নিয়ে জায়গাটা ঘুরে দেখতে হবে।

তেরো

সকাল হতেই সর্দার নিজেই এসে চেঁচামেচি করে ওদের ঘুম ভাঙালো। বিরাট একটা শোলমাছ বর্ণায় গেঁথে নিয়ে এসেছে। বাঙালীরা মাছ ভালবাসে ওরা একথাও জেনেছে। তাই সর্দারের খুশী-খুশী মুখ। ডঃ সেন সর্দারকে বললেন,

—সর্দার প্রায় তিনশ বছর আগে শিবাজী প্রতাপগড়ে রাজত্ব করতেন। তোমাদের পূর্বপুরুষেরা শিবাজীর সৈন্যদলে ছিল। তোমরা এখনও কি তার কথা মনে রাখো?

নিশ্চয়ই। শীতকালে শিবাজীর পালা গান গেয়ে বেড়ায় অনেক গানের দল। শিব্বা রাওর কথা আমরা কি ভুলতে পারি। আমাদের গ্রামের বুড়ো সর্দার এখনও বেঁচে আছে, অনেক কাহিনী শুনতে পারো তার কাছে।

—কোথায় তার বাড়ী?

— ঐ গ্রামের শেষের দিকে।

—বেশ। একটু পরে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে যাবো। কিন্তু তুমি একটা কথা আমায় বলতে পারো?

—জানি তো বলব।

—গভীর রাত্রে কখনও প্রতাপগড়ে লরী চলাচলের শব্দ শুনেছো?

—সাব, অন্ধকার রাত হলে দুপুর রাতে প্রায় রোজই লরীর শব্দ শোনা যায়। আমাদের লোকেরা সন্ধ্যার পর প্রতাপগড়ের দিকে খুব কমই যায়। গত বছর থেকে তাও বন্ধ হয়েছে!

—কেন কেন? গত বছর কি হয়েছিল?

—সে এক ভয়ংকর ঘটনা। আমাদের গোরেগাঁওর একটি জোয়ান ছেলে প্রতাপগড়ের পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেল! সব চেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হ’লো, ছেলেটির পেট কারা যেন ফালা ফালা ক’রে ছিঁড়ে ফেলেছিল।

—কি বললে পেটটা ফালা ফালা ক’রে ছিঁড়ে ফেলেছিল? কি দিয়ে?

—সাব, এই দেখ। বলতে পারো এটা কি? বলে সর্দার একটা সাদা সরু জিনিস আঙ্গুলে পড়ে দেখাল। তীক্ষ্ণ মুখ আঙ্গুলের নখ যেন দু’তিন ইঞ্চি লম্বা হয়ে গেছে।

—এটা কি?

—এটা বাঘ নখ। এরকম বাঘ নখ হাতের আঙ্গুলে পড়ে মনে হয় কেউ ওর পেট ছিঁড়ে দিয়েছিল।

এক মুহূর্তে ডঃ সেনের মনে পড়লো শিবাজীর বাঘ নখের গল্প। কিন্তু, সে তো অনেক বছর, অনেক যুগ আগের কথা। এখন কোন লোককে মারতে কেউ বাঘ নখ ব্যবহার করতে পারে, এ কথা ভাবা যায় না। এখন মানুষ মারা তো অনেক সহজ।

সর্দার চলে গেল। ডঃ সেন স্তব্ধ হয়ে চুপচাপ বসে নানা কথা ভাবতে লাগলেন। পৃথ্বীরাজ ওদের সব কথা শুনেছে। সেও মামার পাশে চুপচাপ বসে রইল। কেউ কোন কথা বলল না।

বেলা বেড়ে গেলে, ডঃ সেন আর পৃথ্বীরাজ সর্দারের সঙ্গে বুড়ো সর্দারের কুটীরে চললে। নব্বুই বছরের বেশী বয়স, কথা বলে থেমে থেমে। সর্দার তার কথার মধ্যে মাথায় হাত ঠেকায়। কুসংস্কার আচ্ছন্ন বৃদ্ধ মাওলী বলল, বাবু, কত যুদ্ধ হয়েছে এখানে। কত মানুষ মারা গেছে। মরে সব ভূত হয়ে গেছে। অমাবস্যার অন্ধকার রাতগুলোতে তেনারা পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়।

কোথায় ঘুরে বেড়ায়? ডঃ সেন জিজ্ঞেস করেন। ঐ প্রতাপ গড় পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে, পশ্চিম দিকে, পাহাড়ের উপরে।

ভূত-জীন্ সব বাজে কথা। তোমরা কেউ দেখেছো? তাদের চলা ফেরার শব্দ শুনেছো?

এবার বুড়ো সর্দার বুকে ঝোলানো মাদুলী জাতীয় কিছু একটা কপালে ছুঁইয়ে বলল, অমন কথা ব’লো না সাব! জীনদের না দেখাই ভালো। দেখে বেঁচে আছে ক’জন? তবে ঘোড়ার খুরের শব্দ আমি শুনেছি। সে যে কী ভয়ংকর তা বলে বোঝাতে পারব না। ভাবলেও আমার এখন দাঁত কপাটি লাগে।

পৃথ্বীরাজ মজা ক’রে বলল, তোমার দাঁত আছে যে দাঁত কপাটি লাগে? সে কথা শুনে বুড়ো ফোলা মুখে মুচকি হাসলো। কিন্তু ডঃ সেন তখন অন্য কথা ভাবছেন! বললেন,

ঘোড়ার খুরের শব্দ? কখন, কোথায় শুনেছো? রাত্রে?

বুড়ো সর্দার বিড়িতে টান দিয়ে খক্ খক্ ক’রে কেশে বলল, … অন্ধকার, নিশুতি রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন। ডঃ সেন বুড়ো সর্দারের আরো কাছে গিয়ে, প্যাকেট থেকে একটা দামী সিগারেট বের করে, বুড়ো সর্দারকে বললেন,

সর্দার বিড়িটা ফেলে দাও। এই সিগারেটটা খেয়ে দেখ। বিলিতি সিগারেট, হ্যাঁ, তুমি বলছিলে, নিশুতি রাত্রে ঘোড়ার খুরের শব্দ শুনেছো, সেটা একটু খুলে ব’লো তো। অন্ধকার রাত্রে একবার আমি প্রথম শুনি। তারপর কিছুদিন আগেও একবার শুনেছি। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে যেন অনেক ঘোড়ার দূর থেকে ছুটে আসার শব্দ। তারপর শব্দ জোরে হয়, আর মনে হয় ঘোড়াগুলো পাহাড়ের খাড়া গা বেয়ে দুর্গের উপর উঠে যায়। একথা বলেই বুড়ো আবার মাছলী কপালে ঠেকায়। পৃথ্বীরাজ বলল, ঘোড়া কখনো পাহাড়ের খাড়া গা বেয়ে উঠতে পারে? বুড়ো আষাঢ়ে গল্প চালাচ্ছে ছোট- মামা। ডঃ সেন কিন্তু পৃথ্বীরাজের কথায় কান না দিয়ে বললেন— সর্দার বলো, তারপর ঘোড়া পাহাড়ে উঠে গেলে কি হয়? সর্দার বলল,··· সাব। ঘোড়া কেন, কাঠবিড়ালীও সে দিক দিয়ে সহজে উঠতে পারে না, ঘোড়া তো ছার। সাব, ওগুলো কি ঘোড়া? ওগুলো জীন। এখানে যত ঘোড়া যুদ্ধে মরেছে, তাদের জীন।

…বেশ তো, তারপর আর কি শুনেছো?

… তারপর হঠাৎ সব চুপচাপ হয়ে যায়। কিন্তু একবার বিকট চীৎকার শুনেছিলাম। হর হর মহাদেও বলে’ সে চীৎকার শুনলে তুমিও অজ্ঞান হয়ে যাবে। আর সেই রাত্রের পরের দিন একজন লোককে পথের ধারে মরা অবস্থায় দেখা যায়। মরার পেট ফালি ফালি ক’রে ছেড়া, যেন নখ দিয়ে ছিঁড়েছে, বাঘ নখ। এই দেখ ঠিক এমনি বাঘনখ। —বলে বুড়ো দেখাল। বুড়ো যে জিনিষটা বারবার কপালে ঠেকাচ্ছিল সেটা মাদুলী নয়, একটি বাঘ নখ।

পৃথ্বীরাজ চুপচাপ শুনছিল। এবার বলল,

—ছোট মামা, ‘হর হর মহাদেও’—এটা তো শিবাজীর ‘ব্যাটল ক্রাই’ ছিল। সৈন্যরা শত্রুর উপর ঝাপিয়ে পড়ার আগে ঐ বলে চীৎকার করে আক্রমণ করতো। ডঃ সেন কোন কথা বললেন না কিছুক্ষণ তারপর দুজন সর্দারকে বললেন,

—সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ঐ রকম খুরের শব্দ শুনেছ কি?

—‘না’, দুজনেই উত্তর দেয়।

তারপর ওরা চলে এলেন। সর্দার ও চলে গেল।

চৌদ্দ

সেদিন রাত্রে ডঃ সেন পৃথ্বীরাজকে বললেন—ভালমত বুঝিয়ে চিঠি লেখ বাড়িতে। লিখবি -ফিরতে দেরী হবে, ছোটমামার সঙ্গে খুব বেড়াচ্ছি। তারপর বললেন,

—আমার ডায়েরীটা বের করে দেখ তো অমাবস্যাটা কবে? কাল রাত্রেও তো বেশ অন্ধকার ছিল।

—অমাবস্যা আগামী কালই ছোটমামা।

— কই দেখি, দেখি। — অতি উৎসাহে ডায়েরীখানা দেখে, ডঃ সেন বললেন :

—কাউকে কিছু বলবে না। কালই হবে আমাদের প্রথম অভিযান। হর হর মহাদেও, ব্যাট ল ক্রাই যা ভাবছি, তা যেন মিথ্যা না হয়।

— ছোটমামা, সব ব্যাপারটা আমার কাছে গোলমেলে ঠেকছে। কোন ধারণাই গড়ে তুলতে পারছি না। কি ভাবছ, আমায় যদি একবার ব’লো তবে মনে হয় বুঝতে পারবো।

—বলছি। প্রথমতঃ মাওলীদের ধারণা অমাবস্যার অন্ধকার রাত্রে প্রতাপগড় কোর্টের আশে পাশে ভৌতিক ঘটনা ঘটে। তাই সন্ধ্যার পর শুক্লপক্ষই হোক আর কৃষ্ণপক্ষই হোক, কেউ দুর্গের ধারে কাছে যায় না। ওদের ধারণা একাধিক যুদ্ধে মানুষ, জন্তু যত মারা গেছে, সেগুলো এখন ভূত হয়ে গেছে। ওরাই মাসের কোন কোন অন্ধকার রাত্রে ঐ সব শব্দ করে বেড়ায়। কাছাকাছি কোন লোক পেলে বাঘ নখ দিয়ে বা ভৌতিক নখ দিয়ে, পেট ছিঁড়ে মেরে ফেলে। অদ্ভূত কুসংস্কার! কিন্তু তার ব্যাখ্যাটা না করে, কি করে এখান থেকে চলে যাওয়া যায়, বলতো?-

—তুমি কি ওদের কথায় বিশ্বাস করো না? ওরা শব্দ শুনেছে, সেটা না হয় বিশ্বাস নাও করতে পারো, তবে লোককে মেরে ফেলেছে সেটাতো মিথ্যা হতে পারে না?

–ওদের শব্দ শোনাটা মিথ্যা নাও হতে পারে। ঐ বাঘ নখ দিয়ে পেট ছিঁড়ে লোক মারা—ওটা বিশ্বাস করা যায় কি? তা ছাড়া তিন-চারশ বছরের ভূতেরাও কি বুড়ো হয়ে মরে যাবে না এতদিনে?

—তোমার সব তাতেই ঠাট্টা ছোটমামা। কিন্তু ছোটমামা, অন্ধকার রাত্রে ভূতেরা বের হলে ভয় দেখাবে কি ক’রে? শুনেছি ‘পুনম্ কী রাতে’ ভূতেদের দেখা দিতে ইচ্ছে হয়। অর্থাৎ শুক্লপক্ষে।

—এই তো, এই তো, তোর মনেও দেখছি বেশ সন্দেহ ঢুকেছে, বেশ, বেশ। ভেবে যা, ঠিক মত যুক্তিগুলো দাড় করা। তবেই বুঝতে পারবি। আমাদের প্রতাপগড়ের ভূতেরা দেখা দিতে ইচ্ছুক নয়। শুধু ভয় দেখিয়েই তাদের আনন্দ। তারপর যেদিকে ঘোড়ার খুরের শব্দ হয়, সেটা পাহাড়ের সব থেকে খাড়া দিক। দুর্গে যাবার পথ অন্যদিকে। মনে হয় আমাদের ভূতেরা লোকের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকতে চায়। সেই সব ভূত চায় না, সন্ধ্যার পর কেউ দুর্গের পশ্চিমদিকে যাক্, দুর্গের মাথায় যাক্। কারণ ওদের এ্যাকটিভিটি ঐ পশ্চিম এলাকায়। তাই সংস্কার আচ্ছন্ন সরল মাওলীদের ওরা ভয় দেখিয়ে দূরে রাখতে চায়। ওরা যাকে হত্যা করতে চায়, তাকে আধুনিক অস্ত্র দিয়ে হত্যা করতে পারে। কিন্তু ভূতেরা আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে না। সোজা নখ দিয়ে অথবা সাবেকি স্থানীয় পদ্ধতিতে বাঘ নখ দিয়ে লোক হত্যা করে। এই সবই সুপরিকল্পিত। বুঝলি? আমাকে আর হনুমস্ত রাওকেও বাঘ নখ দিয়ে ছিঁড়ে হত্যা করতো যদি আমরাও দুর্গের পশ্চিম দিকে থাকতাম সেদিন রাত্রে।

পৃথ্বীরাজ বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেল। ছোটমামার ব্যাখ্যা শুনে তার অন্য কোন প্রতিবাদের যুক্তি মাথায় এলো না। শুধু ভাবতে লাগল, ওরা কারা, কেন সবাইকে আড়াল করে ওরা কাজকর্ম করে? কি তাদের উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *