জানি তুমি আসবে – ৪

সেদিন টাইট ফিট প্যান্ট শার্ট পরা ডালিয়াকে হুন্ডা চালাতে দেখে শফি তার প্রতি খুব অসন্তুষ্ট হলেও মুখের দিকে চেয়ে মুগ্ধ হয়েছিল। আজ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার সময় ওনার পাশে তাকে শালওয়ার কামিজপরা অবস্থায় দেখে আরও মুগ্ধ হয়েছে। কথা বলতে বলতে যতবার তার দিকে চেয়েছে ততবারই চোখে চোখ পড়েছে। তখন তার মনে হয়েছে, মেয়েটিও তাকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছে। ঘরে ফেরার পথে সে কথা মনে। পড়তে দেহ ও মনে এক অজানা শীহরণ অনুভব করল। এইসব চিন্তা করতে করতে ঘরে পৌঁছে গেল।

জমিলা খাতুন রান্নার জোগাড় করছিলেন। নাতিকে ফিরতে দেখে বললেন, এদিকে আয়।

শফি ওনার কাছে এসে সালাম বিনিময় করে বলল, দাদি কেমন আছেন?

জমিলা খাতুন বললেন, আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। তোর নানাদের খবর সব ভালো?

শফি বলল, হ্যাঁ সব খবর ভালো।

জমিলা খাতুন তার বিধ্বস্থ চেহেরা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কীরে, তোর জামাকাপড়ের অবস্থা এরকম কেন? মনে হচ্ছে যেন মারামারী করে এসেছিস?

শফি মৃদু হেসে বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। ফেরার সময় সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের গ্রামের কয়েকটা ছেলের সঙ্গে মারামারী করতে হয়েছে।

এই কয়েকদিনে জমিলা খাতুন জেনে গেছেন, শফি ধার্মিক হলেও খুব শক্তিশালী ও মারামারীতে পটু। এখন নাতির কথা শুনে বললেন, তুই ধার্মিক ছেলে হয়েও মারামারী করিস কেন?

কী করব বলুন, কেউ যদি আন্যায়ভাবে আমাকে মারতে আসে, তা হলে কী ধার্মিক বলে চুপ করে মার খাব?

তুই কিছু না করলে ছেলেগুলো শুধু শুধু তোকে মারতে আসবে কেন? গতকাল রবিউল তোর খোঁজে এসেছিল। তুই নানার বাড়ি গেছিস শুনে বলল, কয়েকদিন আগে নাকি তুই চেয়ারম্যানের ছেলেকে মেরেছিস। সেই ছেলে সুযোগ পেলে লোকজন নিয়ে তোকে পিটিয়ে বদলা নেবে।

হ্যাঁ দাদি, রবিউল ঠিক কথা বলেছে। আর আপনি যা অনুমান করেছেন তাও ঠিক। একটা কথা জেনে রাখুন, আমি যেমন কখনও কোনো অন্যায় করি না তেমনি কেউ অন্যায় করলে বরদাস্ত করতে পারি না। তারপর কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানের ছেলের সঙ্গে কেন গোলমাল হয়েছিল বলে বলল, আমাদের নবী করিম (দ.) বলেছেন, ।কাউকে কোনো অন্যায় কাজ করতে দেখলে অথবা কোথাও কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখলে ক্ষমতা থাকলে বাধা দেবে। ক্ষমতা না থাকলে বুঝিয়ে নিষেধ করবে। বোঝাতে গেলে যদি তোমার ক্ষতি করতে পারে বলে মনে হয়, তা হলে মনে মনে। তার বা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট বা ঘৃণাবোধ করে সেখান থেকে চলে আসবে। আর এটাই সর্ব নিম্নস্তরের ঈমানের প্রমাণ।

জমিলা খাতুন অল্পক্ষণ নাতির মুখের দিকে চেয়ে থেকে বললেন, এই হাদিস জানতাম না। তবু বলব আজকাল বেশির ভাগ মুসলমান ধর্মের অনেক কিছু জেনেও মেনে চলে না। তুই একা কতজনের প্রতিবাদ করবি।

চোখে যতটুকু হতে দেখব তার প্রতিকার করার চেষ্টা করব। আর এটা করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

শুনেছি চেয়ারম্যান ভালো লোক নন। দু-দুবার তার ছেলেকে পিটিয়েছিস। তোকে সহজে ছেড়ে দেবে বলে মনে হয় না।

চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুবার আলাপ হয়েছে। কথাবার্তা ও আচার ব্যবহার তো ভালই মনে হল।

ওটা হল ওনার ভিলেজ পলিটিক্স। মাত্র কিছুদিন হল গ্রামে এসেছিস। ভিলেজ পলিটিক্স বুঝতে তোর সময় লাগবে। যা বলছি শোন, গ্রামের কোনো ব্যাপারেই মাথা গলাবি না। তারপর বললেন, এবার যা, কাপড় পাল্টে হাত মুখ ধুয়ে আয়, আমি নাস্তা রেডি করছি।

জামাকাপড় পাল্টাবার সময় শফি মোবাইল না পেয়ে ভাবল, মনে হয় মারামারী করার সময় পড়ে গেছে। চেয়ারম্যানদের বাড়ির কেউ পেয়ে থাকলে পাওয়া যেতে পারে। নাস্তা খাওয়ার পর রবিউলের কাছে গেল। সালাম ও কুশল বিনিময় করে বলল, তোর মোবাইলটা দেতো।

রবিউল বলল, কেন, তোরটা কী হল?

চেয়ারম্যানের ছেলের ঘটনা বলে শফি বলল, মনে হয় মারামারী করার সময় পড়ে গেছে। ফোন করে জানব কে পেয়েছে।

রবিউল বলল, পেলেও কী দেবে?

দিক না দিক ফোন করেই দেখি। তুই মোবাইল দে।

মোবাইল বের করে দেয়ার সময় রবিউল বলল, আমার তো মনে হয় ফোন করে কোনো কাজ হবে না।

শফি তার কথার উত্তর না দিয়ে ফোন করল।

.

সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান খুব ঘাগু লোক। ওনার বাইরের দিক খুব ভালো; কিন্তু মনের ভিতর জিলিপির প্যাঁচ। চোখের সামনে ছেলে ও তার বন্ধুদেরকে ভিন গ্রামের একটা ছেলে হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে চলে যেতে দেখে তার সাহস ও শক্তির প্রশংসা করলেও মনে মনে চিন্তা করেছেন, সময় সুযোগ মতো ছেলেটার হাত পা লুলা করে দেবেন। ওনার এক ছেলেও এক মেয়ে। ছেলে মহসিন, মেয়ে রাহেলা। রাহেলা গ্রামের কলেজে বি.এ পড়ছে। আজ সকালে সে কলেজে গিয়েছিল। ফিরে এসে ফুপাত বোন ডালিয়ার কাছে ঘটনা শুনে খুব রেগে গেল। সে তার বাবার চরিত্র জানে। তার চরিত্র ও বাবার মতো। ঘটনা শুনে বলল, বাবা ছেলেটাকে কিছু না বলে যেতে দিল ভেবে খুব অবাক হচ্ছি। বাবা ঘরে আছে কিনা জানিস?

ডালিয়া বলল, কিছুক্ষণ আগে বেরিয়ে যেতে দেখেছি।

ভাইয়া কোথায়?

হাত প্লাস্টার করার জন্য ডাক্তারের কাছে গেছে।

রাহেলা ডালিয়ার চেয়ে দু’বছরের ছোট হলেও তার সঙ্গে তুই তোকারি করে। একদিকে মামাত ফুপাত বোন, তার উপর কিছুদিনের মধ্যে ননদ ভাজ সম্পর্ক হবে। তাই দু’জনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক।

এমন সময় মোবাইল রিং হতেই ডালিয়া অন করে কানের কাছে ধরে। চুপ করে রইল।

তাকে চুপ করে থাকতে দেখে রাহেলা বলল, কে ফোন করেছে রে? চুপ করে আছিস কেন?

ডালিয়া নিজের ঠোঁটে একটা আঙ্গুল ঠেকিয়ে তাকেও চুপ করে থাকতে ঈশারা করল।

রাহেলা মোবাইল সেটের দিকে চেয়ে ফিস ফিস করে বলল, এটা কার মোবাইল? ডালিয়া কিছু বলছে না দেখে ঝট করে তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বলল, কে বলছেন?

এতক্ষণ অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া না পেয়ে শফি চিন্তা করছিল, ফোন। রিসিভ করেও কথা বলছে না কেন?

রাহেলা যখন মোবাইল কেড়ে নিয়ে বলল কে বলছেন তখন শফি বলল, দেখুন মোবাইলটা আমার। পথে হারিয়ে গেছে। আপনার পরিচয়টা বলুন, আমি গিয়ে নিয়ে আসব।

রাহেলা বলল, আগে আপনার পরিচয় বলুন।

আমি চরদৌলতখান গ্রমের মরহুম আমিনুল ইসলামের ছেলে শফি।

ডালিয়া ঝট করে তার হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিয়ে লাইন অফ করে বলল, আজ সকালের দিকে যে ছেলেটা মহসিন ভাই ও তার বন্ধুদের। হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে এটা তার মোবাইল। মারামারি করার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। সবার অলক্ষ্যে আমি কুড়িয়ে নিয়েছি।

রাহেলা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, সুযোগ যখন পেয়েছি তখন প্রতিশোধ না নিয়ে ছাড়ছি না।

ডালিয়া অবাক হয়ে বলল, মহসিন ভাই ও তার পাঁচজন বন্ধু নিয়ে আগের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে কি হাল হল এক্ষুনি বললাম। আর তুই মেয়েছেলে হয়ে কীভাবে প্রতিশোধ নিবি ভেবে পাচ্ছি না। ঐ মতলব বাদ দে।

আগের ঘটনা? সেটা আবার কী? কবেই বা ঘটেছিল বলতো।

ডালিয়া সেদিনকার সেই ঘটনা বলে বলল, আমি তো ছেলেটার তেমন অন্যায় কিছু দেখিনি; কিন্তু মহসিন ভাই রিভলবার বের করে তাকে গুলি করতে গিয়েছিল।

ঘটনা শুনে রাহেলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে রাগের সঙ্গে বলল, ছেলেটা মনে হয় খুব শক্তিশালী ও খুব লড়াকু। সেই অহংকারেই কাউকে গ্রাহ্য করে না। আমি ওর অহংকার চুরমার না করেছি তো আমার নাম পাল্টে রাখব।

কিন্তু কীভাবে করবি আমি তো ভাবতেই পারছি না।

তোকে কিছু ভাবতে হবে না। শোন, আমি নিজে কিছু করব না। যা করার বাবাকে দিয়ে করাব। এমন সময় আবার মোবাইল বেজে উঠতে রাহেলা তার হাত থেকে নিয়ে ধরে বলল, কে বলছেন?

শফি বলল, লাইন কেটে দিলেন কেন? আমি তো আমার পরিচয় বললাম। আপনারটা না বলেই লাইন কেটে দিলেন।

আমি সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের মেয়ে রাহেলা।

শফি সালাম দিয়ে বলল, মোবাইলটা নেয়ার জন্য এখন কী আসব?

রাহেলা সালামের উত্তর দিয়ে বলল, এখন না, বিকেল পাঁচটা সাড়ে পাঁচটার দিকে আসুন। এখন আমি বাড়ির বাইরে আছি।

তাই আসব বলে শফি লাইন কেটে দিল।

ডালিয়া রাহেলাকে বলল, আজই সুযোগটা নিবি বলে ছেলেটাকে মিথ্যে কথা বললি বুঝি?

হ্যাঁ, দেখি বাবা কী করে বলে রাহেলা নিজের মোবাইলে বাবাকে ফোন করল।

চেয়ারম্যান ফোন ধরে বুঝতে পারলেন, মেয়ে ফোন করেছে। বললেন, কীরে মা, কী খবর?

তুমি খুব তাড়াতাড়ি ঘরে এস, জরুরী কথা আছে।

 কী এমন জরুরী কথা, বল না শুনি।

সেকথা ফোনে বলা যাবে না। তুমি তাড়াতাড়ি এস।

ঠিক আছে ঘন্টাখানেকের মধ্যে আসছি।

লাইন কেটে দিয়ে রাহেলা বলল, বাবার আসতে একঘন্টা দেরি হবে। চল, ততক্ষণ আমরা সাঁতার কেটে গোসল করে আসি।

দু’জনেই দক্ষ সাঁতারু। ডালিয়া ঢাকায় সুইমিং পুলে সাঁতার শিখে সেখানেই প্রতিদিন একঘন্টা সাঁতার কাটে। আর রাহেলা ছোটবেলা থেকে তাদের দীঘিসম বড় পুকুরে প্রতিদিন সাঁতার কেটে গোসল করে। যখনই ডালিয়া মামা বাড়িতে আসে তখনই দুই মামাত ফুপাত বোন বাজি ধরে সাঁতার কাটে। কখন ডালিয়া জিতে আবার কখন রাহেলা জিতে।

সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের দাদা এই পুকুরটা কাটিয়েছিলেন গরমের সময় গ্রামের লোকজনের খাওয়ার পানির কষ্ট লাঘবের জন্য। এখন প্রতিটি পাড়ায় টিউবওয়েল হয়ে গেছে। তাই এখন আর কেউ খাওয়ার পানি নিতে আসে না। তবে গরমের সময় যখন পুকুর ডোবা শুকিয়ে যায় তখন সবাই গোসল করতে আসে। পুকুরটা খুব বড় বলে লোকজন দীঘি বলে। এখন চেয়ারম্যান এই পুকুরে মাছের চাষ করেন।

গোসল করতে এসে পুকুরে নামার সময় রাহেলা বলল, আজ বেশিক্ষণ সাঁতার কাটব না, তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। বাবার সঙ্গে পরামর্শ করা লাগবে।

চেয়ারম্যান মেয়েকে একঘন্টার মধ্যে ফিরবেন বললেও ফিরলেন প্রায় দু’আড়াই ঘন্টা পর। খাওয়া দাওয়া করতে করতে তিনটে বেজে গেল। তারপর কাজের বুয়াকে দিয়ে মেয়েকে ডেকে পাঠালেন।

রাহেলা ও ডালিয়া খেয়ে উঠে গল্প করছিল। বুয়ার মুখে বাবা ডাকছে শুনে রাহেলা ডালিয়াকে বলল, তুই ঘুমো আমি আসছি। তারপর বাবার রুমে এসে বলল, এই বুঝি তোমার এক ঘন্টা?

চেয়ারম্যান বললেন, একটা কাজে গিয়েছিলাম। কাজটা শেষ না করে ফিরি কী করে? কী জন্যে জরুরী তলব করেছিলি বল।

রাহেলা বলল, চরদৌলতখান গ্রামের শফি নামে যে ছেলেটা সকালে মারামারির ঘটনা ঘটিয়ে তোমার মান সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দিল, তাকে নির্বিঘ্নে চলে যেতে দিলে কেন? শুনে তো আমি বিশ্বাস করতেই পারি নি। তারপর একটা মোবাইল সেট দেখিয়ে বলল, মারামারি করার সময় তার পকেট থেকে এটা পড়ে গিয়েছিল। ডালিয়া কুড়িয়ে এনেছে। দুপুরের দিকে ছেলেটা ফোন করেছিল, বলেছি, বিকেল পাঁচটা সাড়ে পাঁচটার দিকে এসে নিয়ে যেতে। আসবে বলেছে। আমি চাই, এই সময়ের মধ্যে মোবারক চাচাকে খবর দিয়ে আনিয়ে ওর হাত পা ভেঙ্গে লুলো করে দিতে।

সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান মেয়ের মুখের দিকে অল্পক্ষণ চেয়ে থেকে মৃদু হেসে বললেন, তুই আমারই মেয়ে, এরকম কথা তোর কাছে আশা করেছিলাম। কিন্তু মা, সবকিছু ভেবেচিন্তে করতে হয়। তাড়াহুড়ো করে করলে ফল ভালো হয় না। তা ছাড়া চেয়ারম্যান হয়ে তৎক্ষণাৎ যদি কিছু করতাম, তা হলে লোকজনের কাছে কী জবাব দিতাম। আমি তোর মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। অপমানের জ্বালা তোর চেয়ে আমার অনেক বেশি। সেই জ্বালা মেটাবার জন্য তোর মোবারক চাচাকে ডাকিয়ে বলেছি, মাস খানেক পরে সুযোগ সুবিধে মতো ভিন গায়ে কাজটা করতে। যাতে করে কেউ যেন আমাদেরকে সন্দেহ করতে না পারে। আজ এলে আপ্যায়ন করিয়ে বিদায় দিবি। তা হলে এক মাস পরে কিছু ঘটলে আমরা করেছি কেউ ভাবতে পারবে না। তুই তাকে আপ্যায়ন করলে আমাদেরকে সন্দেহ না করার আরও একটা পয়েন্ট বাড়বে। সঙ্গে ডালিয়াকেও নিতে পারিস। ছেলেটা চলে যাওয়ার পর সে তার সম্পর্কে অনেক কথা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে।

তাই নাকী বলে রাহেলা জিজ্ঞেস করল, ছেলেটা দেখতে কেমন?

এলেই দেখবি।

তাতো দেখবই।, আগে থেকে জানা থাকলে দোষ কী?

ছ’ফুটের উপর লম্বা, মানানসই স্বাস্থ্য, রং ফরসা, সহজ সরল সুন্দর ছেলে। দেখলে বোঝাই যায় না, সে একজন শক্তিমান ও মারামারীতে ওস্তাদ।

পাশের গ্রামেই তো বাড়ি, তুমি ওদের বাপ-দাদাদের চেনো নিশ্চয়?

তা চিনব না কেন? ওদের বংশের সবাইকেই চিনি। তবে ঐ ছেলেটাকে চিনতাম না। দশ বার বছর বয়সে হারিয়ে গিয়েছিল। আঠার বিশ বছর পর কিছুদিন আগে ফিরে এসেছে।

ওমা, তাই নাকী? তা ওকে চিনলে কীভাবে?

কীভাবে শফিকে চিনলেন, সে কথা চেয়ারম্যান বললেন।

রাহেলা জিজ্ঞেস করল, আপ্যায়ন করার সময় তুমি থাকবে তো?

না, থাকতে পারব না। পাশের গ্রামে মিটিং আছে যেতে হবে। তা ছাড়া আমার না থাকাটাই ভলো মনে করি। এবার যা, একটু গড়িয়ে নিয়ে বেরোব।

রাহেলার মুখে প্রতিশোধ নেয়ার কথা শোনার পর থেকে ডালিয়া বেশ আতংকিত হয়ে রয়েছে। এত সুন্দর ছেলেটার হাত পা ভেঙ্গে লুলা করে দেবে ভেবে শফির প্রতি ভীষণ মায়া অনুভব করছে। তাই রাহেলা তাকে। ঘুমাতে বলে যখন তার বাবার কাছে চলে গেল তখন মামা কী করবেন না করবেন চিন্তা করে ঘুমাতে পারল না। বিছানায় শুয়ে থাকা অসহ্য মনে হতে একটু পরে মামার রুমের দরজার আড়ালে এসে বাপ বেটির কথা শুনে কিছুটা স্বস্তি পেল। ভাবল, আজ তা হলে শফির কোনো বিপদ হবে না। আরও ভাবল, মোবারক চাচা কে? তার ঠিকানাই বা কোথায়? কত শক্তিমান লোক সে? যে নাকী মেরে শফির হাত পা ভেঙ্গে লুলা করে দেবে। মামা রাহেলাকে চলে যেতে বলায় দ্রুত ফিরে এসে বিছানায় শুয়ে ঘুমের ভান করে রইল।

রাহেলা ফিরে এসে বলল, কী রে ডালিয়া, ঘুমিয়ে পড়েছিস নাকী?

ডালিয়া বলল, না ঘুমাইনি, এমনি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি।

তারপর সবকিছু জেনেও না জানার ভান করে জিজ্ঞেস করল, মামা কী বললেন?

শফিকে শায়েস্তা করার ব্যাপারে বাবা যা কিছু বলেছেন, সেসব বলে বলল, আজ ছেলেটা এলে তোকে ও আমাকে আপ্যায়ন করিয়ে বিদায় দিতে বলেছে। তুই কী বলিস?

ডালিয়া বলল, আমি আবার কী বলব? এটা তোদের ব্যাপার তোরা বুঝবি।

রাহেলা বলল, তা ঠিক। তবে আপ্যায়ন করানোর সময় বাবা তোকেও আমার সঙ্গে থাকতে বলেছে। থাকবি তো?

কথাটা মামার মুখে শোনার পর থেকে ডালিয়ার তনুমনুতে আনন্দের। শীহরন খেলছে। এখন আবার রাহেলার কথা শুনে সেই শীহরণ আরও বেড়ে গেল। কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল, ঠিক আছে থাকব।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *