জন-ট্যান সিরিজ

এই কাহিনি শ’দুয়েক বছর পরের এক পৃথিবীর।

ক্রমশ কমে আসা সবুজ আর নীলের প্রায় সবটাই তখন মুছে গেছে বিশ্বযুদ্ধের তাপ আর বিকীরণে। সেই সঙ্গেই পৃথিবীর এক মস্ত অংশ থেকে হারিয়ে গেছে জীবন। কিন্তু সর্বনাশা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে সেনাবাহিনীর একাংশ বুঝতে পারল, অন্য রাষ্ট্র বা ধর্ম-জাতি-ভাষার মানুষ নয়, এই যুদ্ধ চাইছে অতিবৃহৎ বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে একদা উঠে এসেছিল আধুনিক রাষ্ট্র। তার পরের ধাপ হয়ে এবার ক্ষমতা নিতে চাইছে ওই সংস্থাগুলো। সেনাবাহিনীর একাংশ বিদ্রোহী হয়ে উঠল। তারা গোপনে মিলিটারি রিসোর্স সরিয়ে নিতে লাগল। তাই দিয়ে তারা আঘাত হানতে শুরু করল এই বৃহৎ সংস্থাগুলোর ওপর। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত পৃথিবীতে গড়ে উঠল এক বিচিত্র ব্যবস্থা। প্রধান শহর বা মেগাপলিসগুলোতে প্রশাসনের দায়িত্বে রইল সিটিবোর্ড বা কাউন্সিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পেল মিলিশিয়া। শহরের বাইরের বিস্তীর্ণ মরুভূমি, সমুদ্র, আর অন্যান্য প্রায় বর্বর হয়ে যাওয়া এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখল মিলিটারি বা সেনাবাহিনী। অর্থনীতির প্রতিটি ধাপ নিজের মুঠোয় নিয়ে সর্বশক্তিমান হয়ে রইল অতিবৃহৎ সংস্থাগুলো। তবে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তারা পেল না। সিটিবোর্ড বা কাউন্সিল-এর, ক্ষেত্রবিশেষে মিলিটারির নিঃশব্দ সমর্থনে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেল বিদ্রোহীরা।

আমাদের এই গল্পগুলো যেখানে বা যার আশেপাশে ঘটছে, সেই হাভেন এমনই এক মেগাপলিস। মরুভূমির মধ্যে গড়ে ওঠা সেই শহরের প্রশাসন চালায় কাউন্সিল। টহল দেয় মিলিশিয়া। কিন্তু তার আর্থিক ভাগ্যনিয়ন্তা হল মেগাকর্প। হাভেন মিলিশিয়ার একজন ডাকাবুকো অফিসার হলেন ট্যান, ওরফে তনয়া দত্ত। প্রশান্ত মহাসাগরের এক কোণে শেষ লড়াইয়ের সময় মিলিটারি এক সুপার-সোলজার মহাযোদ্ধাকে পাঠিয়েছিল। তার নাম সেন। রেকর্ড বলছে, সেন আর তার স্ত্রী নাওকো মারা গেছিল ওই যুদ্ধেই। রেকর্ড এও বলছে যে মিলিটারির এক বহুমূল্য অ্যাসেট সেই সময়েই হারিয়ে গেছিল। সে ছিল পৃথিবীর শেষ অ্যান্ড্রয়েড, যাকে তৈরি করা হয়েছিল মূলত নজরদারির জন্য।

এই কাহিনি ‘জন’ নাম বয়ে বেড়ানো সেই অ্যান্ড্রয়েডের। এই কাহিনি সেন-এর। এবং, এই কাহিনি তনয়া’র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *