অ্যান্টিক আতঙ্ক
কুকড়াঝোরার নেকড়েমানুষ
খুনি ম্যাজিক

খুনি ম্যাজিক – ৮

আট

পিঠে-টিঠে শেষ করে আমাদের বেরোতে একটু দেরিই হয়ে গেল। সেদিনের মতন ট্রেনে-বাসে নয়, বুধোদা আজ নিজের গাড়ি নিয়েই বেরিয়েছিল। তাতেও কি স্বস্তি আছে? বিটি রোডে উঠে দেখি মারাত্মক জ্যাম। আমরা অবশ্য বেরোবার সময়েই প্রতাপদাদুকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলাম, আমরা আসছি। সুবিনয় মুস্তাফিকে বাড়ির দলিল-টলিল যা হ্যান্ডওভার করার উনি যেন আমরা পৌঁছনোর পরেই করেন।

আরো কিছু পরে এম জি রোড ধরে চিৎপুরের মোড়ে যখন পৌঁছেছি তখন ঘড়িতে বাজে সাড়ে-সাতটা। সবেমাত্র বুধোদা বলেছে, এবার প্রতাপদাদুকে একটা ফোন করে বলে দেওয়া উচিত আমরা পৌঁছে গেছি, তখনই একদম কাকতালীয়ভাবে বুধোদার মোবাইলে প্রতাপদাদুর কল ঢুকল। ড্রাইভ করার সময় বুধোদার মোবাইল স্পিকার-মোডে দেওয়া থাকে, তাই আমিও দিব্যি পরিষ্কার ওদের কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রতাপদাদু ভীষণ উত্তেজিত গলায় বললেন, সাংঘাতিক ব্যাপার বোধিসত্ত্ব। সুবিনয়টা কতবড় শয়তান তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না।

কেন? কী হল?

আমি ধরে ফেলেছি। একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেছি। এই জিনিস যে জন্ম থেকে আমার চোখের সামনে পড়ে রয়েছে সেটা মা না বললে আমি বুঝব কেমন করে? ওঃ, শয়তান শয়…

প্রতাপদাদুর গলা থেকে হঠাৎ একটা বিশ্রী ঘড়ঘড়ে শব্দ বেরোতে শুরু করল। বড়জোর আধমিনিট। তারপরে হঠাৎই আওয়াজটা থেমে গেল। বুধোদা চিৎকার করে উঠল—হ্যালো! প্রতাপবাবু, শুনতে পাচ্ছেন? হ্যালো! কী হল আপনার?

তারপর ফোনটাকে ড্যাশবোর্ডের ওপরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বুধোদা বাকি দুশোমিটার রাস্তায় যেভাবে গাড়িটাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল, নেহাত পাগল না হলে ওই রাস্তায় ওভাবে কেউ গাড়ি চালায় না। আমি মাঝখানে একবার শুধু জিগ্যেস করেছিলাম, কী হল বুধোদা? বুধোদা দাঁতে দাঁত চিপে বলল, যদি ভুল না করে থাকি, ওই ঘড়ঘড়ানিটা প্রতাপবাবুর শেষ নিশ্বাস।

প্রতাপবাবুর ফোন আসার ঠিক দু-মিনিটের মধ্যে আমি আর বুধোদা গাড়ির দুদিকের দুটো দরজা খুলে ওনার বাড়ির সামনে নেমে পড়লাম। আমি কলিং-বেলের সুইচটা প্রাণপণে চেপে ধরেছিলাম। বুধোদা পেছন থেকে অধৈর্যভাবে এক-ঝটকায় আমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল, আঃ। দরজাটা ভেজানো রয়েছে দেখতে পাচ্ছিস না? সত্যিই সদর-দরজাটা আলতো করে ভেজানো ছিল। আমরা ওটা ঠেলে ভেতরের দালানে পা দিলাম। সামনেই প্রতাপদাদুর সেই ড্রইং কাম বেডরুম। আগের দিন এই ভেতরের দরজাটা খোলা থাকতেই দেখেছিলাম। কিন্তু আজ দেখলাম দরজাটা বন্ধ। বুধোদা দুবার নক করে উত্তর পেল না। তখন দরজায় ঠেলা মারল।

দরজাটা খুলল না।

বুধোদা আবার ঠেলা দিল, এবার বেশ জোরে। একইসঙ্গে উঁচু-গলায় ডাকল প্রতাপবাবু! প্রতাপবাবু! শুনতে পাচ্ছেন? আমি বোধিসত্ত্ব। দরজা খুলুন।

তবুও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না।

আমি আর বুধোদা একবার চোখে চোখে কথা বলে নিয়েই একসঙ্গে শোলডার-চার্জ করলাম—একবার, দু-বার, তিনবার। চতুর্থবারের ধাক্কায় ভেতর থেকে লাগানো ছিটকিনি মড়মড় করে ভেঙে পড়ল। আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়তে-পড়তেও সামলে নিলাম। দেখলাম ঘরের মেঝের ওপরে চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছেন প্রতাপরঞ্জন রক্ষিত। বিস্ফারিত দুটো চোখের দৃষ্টি যেভাবে ঘরের সিলিং-এর দিকে স্থির হয়ে রয়েছে তাতে বুঝতে অসুবিধে হল না যে, উনি মারা গেছেন।

বুধোদা বলে উঠল ওঃ মাই গড! রুবিক, ঘরের ভেতরে ঢুকিস না। দেখি সুজন ডিউটিতে রয়েছে কিনা। তাহলে কাজটা সহজ হয়।

বড়বাজার থানার ওসি সুজন সরকার বুধোদার কলেজের জুনিয়র। তাছাড়া গত দুবছরের মধ্যে দুটো অ্যান্টি-স্মাগলিং-এর কেসে বুধোদার থেকে অনেক সাহায্যও পেয়েছেন। কপাল ভালো, সুজনদা ডিউটিতে ছিলেন। বুধোদার ফোন পাওয়ার পাঁচমিনিটের মধ্যে দলবল নিয়ে চলে এলেন।

রহস্যটা জমাট বাঁধল ঠিক এর পরেই। কারণ আমরা পুলিশের সঙ্গে ঘরে ঢোকার পরে কয়েকটা জিনিস বোঝা গেল।

এক, প্রতাপদাদু খুন হয়েছেন। ওনার ব্রহ্মতালুর ওপরে কেউ সপাটে কোনো ভারী জিনিস দিয়ে মেরেছে। যেটা দিয়ে মারা হয়েছে সেটাও ওনার ডেডবডির পাশেই পড়েছিল—একটা পেতলের ফুলদানি। আগেরদিন ফুলদানিটাকে সেন্টার টেবিলের ওপরে দেখেছিলাম।

দুই, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল কিন্তু ঘরের ভেতরে প্রতাপদাদু ছাড়া দ্বিতীয় কেউ ছিল না।

তিন, ওই ঘর থেকে পালানোর কোনো রাস্তা নেই। একটামাত্র জানলা, সেটা খোলা ছিল ঠিকই, কিন্তু জানালার গ্রিল অক্ষত ছিল। ওই ঘন বুনোটের লোহার গ্রিলের ভেতর দিয়ে একটা বাঁদরের পক্ষেও বাইরে বেরোনো অসম্ভব।

সুজনদা আর তার সঙ্গে যে কনস্টেবল ছিলেন ওনারা দুজনে তো বটেই, আমি আর বুধোদাও সঙ্গে-সঙ্গেই ভেবে নিয়েছিলাম এর একটাই অর্থ হয়। খুনি ওই ঘরের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। সুজনদার সার্ভিস-রিভলভারের সেফটি-ক্যাচ খোলার ক্লিক শব্দটা পরিষ্কার শুনতে পেলাম। উনি খুব কেটে কেটে উচ্চারণ করলেন, বোধিসত্ত্বদা, তুমি আর রুবিক একটু বাইরে গিয়ে দাঁড়াও। ইট মে বি ডেঞ্জারাস। কোণঠাসা ক্রিমিনাল তো। আমি দেখে নিচ্ছি।

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আমি আর বুধোদা পুরো সার্চিং-অপারেশনটাই দেখতে পেলাম। ওইটুকু একটা ঘর, কতক্ষণই বা লাগে খুঁজে দেখতে। সুজনদা একে একে খাটের তলা, সোফা আর দেয়ালের মাঝের অংশটা, প্রত্যেকটা আসবাবের পেছনদিক এমনকী কাঠের আলমারিটা অবধি খুলে দেখল। কাউকেই পাওয়া গেল না।

ওনারা দুজনেই ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। কোনো পুলিশের মুখে এমন হতভম্ব ভাব আমি আগে কখনো দেখিনি। আমি নিজের মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না। তবে দেখতে পেলে নিশ্চয় নিজের মুখটাও ওইরকমই লাগত। শুধু বুধোদা দেখলাম ভুরু কুঁচকে কী যেন ভেবেই চলেছে।

বাড়ির বাইরে রাস্তা থেকে কিছুক্ষণ ধরেই একটা গোলমালের শব্দ ভেসে আসছিল। অনেক মানুষের উত্তেজিত গলার আওয়াজ। এরকম জায়গায়, কোনো বাড়ির বাইরে পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ালে, কিছু মানুষ জড়ো হয়ে যাবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতটা চেঁচামেচি স্বাভাবিক নয়। শুধু আমাদেরই নয়, সুজনদারও নিশ্চয় কিছু অস্বাভাবিক লেগেছিল। উনি সবেমাত্র কী হয়েছে দেখার জন্যে সদর দরজার দিকে দু-পা এগিয়েছেন, হঠাৎই প্রায় দশ-বারোজন লোক, যাদের দেখলে আশেপাশের কুলি, মুটে কিম্বা দোকানদার বলেই মনে হয়, ঠেলাঠেলি করে ভেতরে ঢুকে আমাদের ঘিরে ধরল। প্রায় সকলেই বাংলা-হিন্দি মেশানো ভাষায় উত্তেজিত গলায় চিৎকার করে বলতে লাগল, শিগগির বাইরে চলুন। দেখুন আপনাদের গাড়ি একটা বাচ্চাকে কেমন ধাক্কা মেরেছে। পুলিশ বলে কি মাথা কিনে নিয়েছেন নাকি? ইত্যাদি।

কথাটা ওরা ভুল বলেনি। গাড়িটা ঠিক বড়বাজার থানার না হলেও ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের বটে। সুজনদার ফোন পেয়েই ওনারা প্রতাপবাবুর বাড়িতে আসছিলেন। একটা বাচ্চাকেও যে আরেকটু হলেই চাপা দিচ্ছিলেন সেটাও ঠিক। তবে কপাল ভালো, একটু কাটাছড়ার ওপর দিয়েই বাচ্চাটা বেঁচে গেছে। ফরেনসিকের গাড়ির ড্রাইভার জনতার গলার ওপরে গলা তুলে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, তাঁর কোনো দোষ নেই। তিনি পরিষ্কার দেখেছেন একটা লোক ধাক্কা মেরে বাচ্চাটাকে তাঁর গাড়ির সামনে ফেলে দিয়েই কোথায় পালাল। সুজনদা আর বুধোদা মিলে উত্তেজিত ড্রাইভার আর ক্ষিপ্ত জনতাকে কোনোরকমে আলাদা করে আবার শান্তি ফেরাল। ফরেনসিকের লোকজন ঘরের ভেতরে ঢুকে তাদের স্যাম্পেল সংগ্রহের কাজ শুরু করলেন। সবকিছু শেষ হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স এল। প্রতাপদাদুকে ওরা পোস্টমর্টেমের জন্যে নিয়ে যাবে।

আমি আর বুধোদা উলটোদিকের একটা বাড়ির রকে বসেছিলাম। কিছুই ভালো লাগছিল না। মাত্র দুদিনের আলাপেই প্রতাপদাদুকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। অদ্ভুত একটা আত্মসম্মানবোধ দেখেছিলাম ওনার মধ্যে। আজ সেই প্রাণবন্ত মানুষটাকেই ওরা স্ট্রেচারে শুইয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বুধোদাও দু-হাতের মধ্যে মুখ ঢেকে চুপ করে বসেছিল। সুজনদা এতক্ষণ ওদিকে ব্যস্ত ছিলেন। এবার আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, বোধিসত্ত্বদা, রাত হয়েছে। তোমরা এবারে রওনা হয়ে যাও। তবে বুঝতেই পারছ, কাল থেকেই তোমাদের দুজনকে কয়েকবার পুলিশ স্টেশনে আসতে হবে। আসলে তোমরাই তো প্রথম মার্ডার সিনে পৌঁছেছিলে।

বুধোদা ম্লান হেসে বলল, বুঝতে পারছি। আমাদের দুজনকে সন্দেহের বাইরে রাখতে গেলে মেনে নিতে হয় খুনটা ভূতে করে গেছে। বন্ধ ঘরের মধ্যে আর কে প্রতাপবাবুর মাথায় ফুলদানির বাড়ি মারবে? ফরেনসিকের ওনারা কী বলছেন—কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট-টিন্ট…?

সুজনদা হাত উলটে বললেন, অ্যাপারেন্টলি নাথিং। এমনকী ফুলদানিটাকেও মনে হচ্ছে রুমাল-টুমাল জড়িয়ে তুলেছিল। তবে আগে ওদের কাছ থেকে ফাইনাল-রিপোর্ট পাই, তারপর তোমাকে জানাব। আচ্ছা গুডনাইট।

হেমকুঞ্জের সামনে যখন পৌঁছলাম, তখন রাত প্রায় একটা। গাড়িটাকে কম্পাউন্ডের ভেতরে ঢুকিয়ে বুধোদা বলল, কাল আর বেরোব না বুঝলি, এক যদি সুজন না ডাকে। তুই সময় পেলে আসিস।

পরের দিন স্কুলে থেকেই চলে গেলাম বুধোদার বাড়ি। তখনও ভালো করে সন্ধে হয়নি। দেখলাম বুধোদা ওর ঘরের ফ্রেঞ্চ-উইন্ডোর সামনে একটা বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে একদৃষ্টিতে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো কিছু পড়ছে না কিম্বা কোনো অ্যান্টিক নিয়ে নাড়াচাড়া করছে না—স্রেফ ভাঁজ-করা দু-হাতের ওপর মাথা হেলিয়ে দিয়ে বসে আছে। বুধোদাকে এই অবস্থায় শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারলাম না। আমার পায়ের আওয়াজ পেয়ে বুধোদা একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে বলল, বোস!

আমি খাটের ওপরে বসে বললাম, কিছু বুঝতে পারলে বুধোদা?

উঁহু। সারাদিন ওই একটা বিষয় নিয়েই চিন্তা করে যাচ্ছি। কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না। ঘরটা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তুই আমি মিলেই তো দরজাটা ধাক্কা দিয়ে ভাঙলাম। যখন ভেঙেছি তখন অলরেডি প্রতাপবাবু ওয়াজ ডেড—সে ব্যাপারেও সন্দেহ নেই। নিজের মাথায় কেউ নিজে অত জোরে স্ট্রাইক করতে পারে না, এটা ফরেনসিকের বেসিক প্রিন্সিপল। অত জোরে মারার জন্যে হাতটাকে যতদূর থেকে নামিয়ে আনতে হয়, নিজে নিজেকে মারলে ততটা জায়গা পাওয়া যায় না। তাহলে এটা আত্মহত্যাও নয়। অথচ…

আমি কথাটা শেষ করলাম—অথচ ঘরের মধ্যে আর কেউ ছিল না।

ঠিক। ঘরের মধ্যে কেউ ছিল না। এবং যেহেতু পুলিশ-কোর্ট- ইনভেস্টিগেশনের দুনিয়ায় অলৌকিকের কোনো জায়গা নেই, কাজেই এর একমাত্র লৌকিক ব্যাখ্যা যা হতে পারে, সেটাই হবে। খুনটা তুই আর আমি মিলেই করেছি। একজন ঘরের ভেতরে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে প্রতাপবাবুর মাথায় ফুলদানির বাড়ি মেরেছে আর তারপরে অন্যজন বাইরে থেকে ধাক্কা মেরে ছিটকিনি ভেঙেছে।

অবশ্য অমন জটিল পদ্ধতিতে খুন করলাম কেন, আমাদের মোটিভ কী, কেন আমরা পালিয়ে না গিয়ে পুলিশ ডাকলাম—এসব প্রশ্ন একটা সময়ে উঠবে। কিন্তু সেসব নিয়ে এখন ভাবছি না। এখন শুধু একটা প্রশ্নই আমাকে ঘুমোতে দিচ্ছে না। ওই নিরীহ বৃদ্ধকে মারল কে? কেন? অ্যান্ড অ্যাবাভ অল—কীভাবে?

আমার সামনেই খাটের ওপরে প্রতাপবাবুর উপহার সেই হাতকড়াটা পড়েছিল। কথা বলতে বলতে আমি অন্যমনস্কভাবেই সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম।

বুধোদা নিজের মনেই বলে যাচ্ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তরে ন্যাচরালি একজনের নামই মনে আসে। সুবিনয় মুস্তাফি। তোর মনে আছে রুবিক, প্রতাপবাবু কেমন উত্তেজিতভাবে চিৎকার করে উঠেছিলেন—সুবিনয়টা কতবড় শয়তান তুমি ভাবতে পারো? ধরে ফেলেছি, আমি হাতেনাতে ধরে ফেলেছি। মনে হয় সুবিনয় মুস্তাফি তখন ওনার সামনেই বসেছিলেন। হাতের নাগাল থেকে দাঁও ফসকে যাচ্ছে দেখে সুবিনয় মুস্তাফির মতন চরিত্রের পক্ষে প্রতাপবাবুকে তক্ষুনি খুন করে ফেলাটাও কিছুই আশ্চর্য নয়। শুধু ওই একটা পয়েন্টেই ওনার দিকে আঙুল তোলা যাবে না—খুনের জায়গায় উনি ছিলেন না। কেউই ছিল না।

আমি মন দিয়েই বুধোদার কথাগুলো শুনছিলাম, কিন্তু হঠাৎই আমার চোখ পড়ে গেল হাতকড়াটার ভেতরের দিকে খোদাই করা দুটো রোমান অক্ষরের দিকে। পাশাপাশি দুটো এইচ। দুটো কড়ারই ভেতরের দিকে, মানে যে-অংশটা কব্জির সঙ্গে ঠেকে থাকে, সেই জায়গাটায় স্টিলের ওপরে বেশ গভীরভাবে খোদাই করা রয়েছে এইচ অক্ষরটা, পাশাপাশি দুবার।

আমার কেন জানি না মনে হল এটা গুরুত্বপূর্ণ, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইচ এইচ। প্রিন্স রাজনের ইনিশিয়াল নয়। এমনকী প্রিয়রঞ্জন রক্ষিতেরও নয়। ম্যাজিকের দুনিয়ায় এইচ এইচ একজনই—হ্যারি হুডিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *