অ্যান্টিক আতঙ্ক
কুকড়াঝোরার নেকড়েমানুষ
খুনি ম্যাজিক

খুনি ম্যাজিক – ১

এক

আজকাল রবিবার ছাড়া বুধোদার সঙ্গে দেখা হয় না। ওর অ্যান্টিক গুডসের ব্যবসা, যার নাম ‘মহারাজা কালেকশনস’, সাঙ্ঘাতিক জমে গিয়েছে। সপ্তাহের বাকি ছটা দিন বুধোদা ওই ব্যবসার কাজে সকাল থেকে সন্ধে অবধি ব্যস্ত তো থাকেই; বাড়ি ফেরার পরেও হয় ল্যাপটপের স্ক্রিনে নয় বইয়ের পাতায় ডুবে যায়। বুঝতে অসুবিধে হয় না, কোনো না কোনো অ্যান্টিকের বিষয়েই পড়াশোনা করছে।

রবিবার সকালের দিকটা আবার ওর ভিজিটরদের জন্য বরাদ্দ। তাদের মধ্যে কেউ অ্যান্টিক বিক্রি করতে আসেন, কেউ আসেন কিনতে। তবে ওই সময়টায় হেমকুঞ্জের বৈঠকখানায় আমি হাজির থাকলে বুধোদা খুশিই হয়। ও নিশ্চয় বুঝতে পারে, ওর সামনে বসে নানা ধরনের অ্যান্টিকের কথা শুনতে-শুনতে আমারও অ্যান্টিক সম্বন্ধে একটা আগ্রহ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। নিজের ভালোলাগাটা অন্য কারুর সঙ্গে শেয়ার করে নিতে কোন মানুষেরই বা ভালো না লাগে?

আজ ওরকমই একটা রোববার। বেলা দশটা নাগাদ ক্যাজুয়ালি একবার হেমকুঞ্জের একতলার বিশাল বৈঠকখানায় ঢুকে পড়েছিলাম। দেখলাম, বুধোদা আর একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক মুখোমুখি বসে কথা বলছেন। ভদ্রলোকের মাথাভর্তি ধবধবে সাদা চুল, মুখের চামড়ায় ভাঁজ আর কুঁজো হয়ে-যাওয়া লম্বা শরীরটা দেখলে বোঝা যায়, বয়স আশির একটু ওপরের দিকেই হবে। উনি ধুতির ওপরে একটা বাদামি-রঙের ফ্ল্যানেলের পাঞ্জাবি পরেছিলেন যার কলারের পেছনদিকটায় বেশ খানিকটা কাপড় ফাটা। তাছাড়া পাঞ্জাবির রঙের সঙ্গে একেবারেই বেমানান ফটফটে সাদা বোতামগুলো সস্তা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। বুধোদাদের বৈঠকখানার বাইরে যে চটিদুটো খোলা ছিল সেগুলোর হালও ভালো নয়। বুঝতেই পারছিলাম, সাধারণত যেসব কোটিপতি অ্যান্টিক-সংগ্রাহকেরা বুধোদার সঙ্গে দেখা করতে আসেন ইনি তাদের দলে নন। এনার আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। অতএব ধরেই নিলাম, ইনি বিক্রেতাদের দলে।

সেটা মনে হওয়ার আরেকটা কারণ, ভদ্রলোকের চেহারায় এমন একটা আভিজাত্য রয়েছে, বয়সের ভারেও যেটা পুরোপুরি চাপা পড়েনি। হতে পারে ইনি এককালের জমিদার-নন্দন, এখন আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে বলে বাড়ির রুপোর বাসন, ঝাড়বাতি কিম্বা পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া পুরোনো কয়েন বুধোদার কাছে বিক্রি করতে এসেছেন।

বুধোদা আমাকে হাতের ইশারায় বসতে বলল। আমি বুধোদার পাশে গিয়ে বসলাম। ভদ্রলোক চোখে প্রশ্নচিহ্ন নিয়ে বুধোদার দিকে চাইলেন। বুধোদা বলল, আমার পাড়াতুতো ভাই, মাল্যবান মিত্র। ডাকনাম রুবিক। আপনি ওর সামনেই সব কথা বলতে পারেন। আমাদের এই অ্যান্টিকের লাইনে যেরকম সিক্রেসি মেইনটেইন করতে হয়, সেটার সঙ্গে রুবিক ছোটবেলা থেকেই পরিচিত; কোনো কথাই পাঁচকান করবে না।

ভদ্রলোক বললেন, নিশ্চিন্ত হলাম। দেখুন মিস্টার মজুমদার, আমার বিরাশিবছর বয়স। জীবনে আপস অ্যান্ড ডাউনস কম দেখিনি। নিজেকে যথেষ্ট স্টেডি বলেই মনে করি। কিন্তু এই গত দশদিনের ঘটনায় আমার নার্ভগুলো বেশ ইয়ে হয়ে গেছে। চারিপাশের কাউকেই আর সন্দেহের ঊর্ধ্বে বলে মনে করতে পারছি না।

বুধোদা আমার দিকে ফিরে বলল, রুবিক, ইনি হচ্ছেন মিস্টার প্রতাপ রক্ষিত। উনি অ্যান্টিক নিয়ে কিছু সমস্যায় পড়েছেন। আমাকে গতকাল ফোন করেছিলেন, আমি বলেছিলাম আজ আসতে। এইমাত্রই উনি এসে পৌঁছলেন আর পেছন-পেছন তুইও ঘরে ঢুকলি। ভালোই হল। পুরো ব্যাপারটা প্রথম থেকেই শুনতে পাবি। বলুন মিস্টার রক্ষিত।

প্রতাপবাবু দুহাতের তালুর মধ্যে মুখটা ঢেকে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। নিশ্চয় তার মধ্যেই কী বলবেন তা একটু গুছিয়ে নিলেন। তারপর একটানা বলে চললেন—

আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী জানেন, মিস্টার মজুমদার? সমস্যার উৎসটা আমি জানি না। শুধু বুঝতে পারছি আমার ঘরে একটা দামি জিনিস রয়েছে। আর সেইটা হাতানোর জন্যে সুবিনয় আমাকে চাপ দিচ্ছে। দাঁড়ান। তার আগে আমি কে আর সুবিনয়-ই বা কে, সেটা বলে নিই।

আমার পুরো নাম প্রতাপরঞ্জন রক্ষিত। চিৎপুরের নাখোদা মসজিদের পেছনে একটা গলি, নাম তাহের আলি লেন, ওখানেই আমার পৈতৃক বাড়ি। বাবার নাম ঈশ্বর প্রিয়রঞ্জন রক্ষিত। ওনার আরেকটা নাম ছিল—’স্টেজ নেম’। প্রিন্স রাজন।

দাঁড়ান, দাঁড়ান। প্রতাপবাবুকে কথার মধ্যে থামিয়ে দিয়ে বুধোদা সোফা থেকে প্রায় উঠেই দাঁড়াল। বলল, প্রিন্স রাজন মানে ম্যাজিশিয়ান প্রিন্স রাজন? আপনি তাঁর ছেলে?

বুধোদার চোখদুটো গোল-গোল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার চেয়েও বেশি গোল-গোল চোখ করে প্রতাপবাবু বললেন, আপনি আমার বাবার নাম শুনেছেন? আমি তো ভাবতাম আমি ছাড়া আর কারুর ওই নামটা মনে নেই।

বুধোদা একটু কিন্তু-কিন্তু করে বলল, আমিও কিন্তু নামটা বাদ দিলে ওনার সম্বন্ধে আর খুব বেশি কিছু জানি না। ক্রিস্টোফারের ‘ইলাস্ট্রেটেড হিস্ট্রি অফ ম্যাজিকে’ প্রিন্স রাজনের সম্বন্ধে অল্প কিছু কথা পড়েছিলাম। বোধহয় নাইনটিন-থার্টিজের মাঝামাঝি বোম্বে আর কলকাতায় কয়েকটা শো করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। তখন ওনার বয়স খুবই কম। তারপর শো করার জন্যে ইউরোপ গিয়েছিলেন। তারপর যে কী হয়েছিল মনে পড়ছে না।

প্রতাপ রক্ষিত আরও কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে বুধোদার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। বোধহয় বুঝতে পারছিলেন, বুধোদা ভারতীয় জাদুবিদ্যার ইতিহাসটা গুলে খেয়েছে। আমি অবশ্য অবাক হইনি। কারণ আমি জানতাম, বুধোদার আটটা বইয়ের আলমারির আটচল্লিশটা তাকের মধ্যে চারটে তাক ভরে রয়েছে ম্যাজিক সংক্রান্ত নানারকমের বই, পত্রপত্রিকা আর ম্যাজিশিয়ানদের জীবনীতে।

আসলে সভ্যতার শুরু থেকে যে-ক’টা বিষয়ে মানুষ নিজের রুচি আর বুদ্ধির চরমসীমা দেখিয়েছে, তার সবক’টা নিয়েই বোধিসত্ব মজুমদারের কিছুটা পড়াশোনা রয়েছে। তার মধ্যে যেমন পেইন্টিং রয়েছে, স্কাল্পচার রয়েছে, লিটরেচার রয়েছে তেমনি আবার রন্ধনশিল্প রয়েছে। ম্যাজিকও রয়েছে।

বুধোদা অ্যান্টিকের খোঁজে ইতিহাস পড়ে না। ইতিহাসকে খুঁজে বেড়ায় অ্যান্টিকের মধ্যে। এইখানেই বুধোদার সঙ্গে অন্য সব অ্যান্টিক-হান্টারের তফাত।

হেমকুঞ্জের হেল্পিং-হ্যান্ড কানাইদা আমাদের তিনজনকেই চা দিয়ে গিয়েছিল। প্রতাপবাবু চায়ে একটা চুমুক দিয়ে কাপটা নামিয়ে রেখে বললেন, মিস্টার মজুমদার, আপনার স্মৃতিশক্তি অসামান্য। আপনি বললেন, বাবা ইউরোপে শো করতে যাওয়ার পরে কী হয়েছিল সেটা আপনার মনে পড়ছে না। আসলে মনে পড়ার মতন কিছু নেই। তারপরে আর কিছুই হয়নি। বাবা জার্মানি থেকে ফেরেননি। ওখানেই উনি মারা গিয়েছিলেন।

বুধোদা অবাক হয়ে বলল, মারা গিয়েছিলেন! জার্মানির মাটিতে?

একদম তাই। আমার বয়স তখন দু-বছর। কাজেই সেই সময়ের স্মৃতি বলতে কিছুই নেই। বড় হওয়ার পরে মায়ের মুখে যা শুনেছি আপনাকে বলছি।

সালটা ছিল উনিশশো-আটত্রিশ। বাবার তখন মাত্র আঠাশবছর বয়স। বাবা জার্মানি গেলেন, খেলা দেখাতে। সঙ্গে সামান্য সাজসরঞ্জাম আর মাত্র একজন সহকারী। তার বেশি কিছু নিয়ে যেতে গেলে যে জাহাজভাড়া দিতে হত, সেটাও তখন বাবার কাছে ছিল না।

বাবার প্ল্যান ছিল, প্রথমে ওখানকার কোনো ইম্প্রেশারিওকে খেলা দেখিয়ে বশ করবেন। তারপর হল ভাড়া করা, সাজসরঞ্জাম জোগাড় করা ইত্যাদি বাকি কাজগুলো সেই ইম্প্রেশারিওই করবে।

বুধোদা বলল, প্ল্যানটা খুব একটা খারাপ ছিল না। ওইসময়ে ইওরোপ আর আমেরিকায় ছোট-বড় সমস্ত শো-ম্যানকেই ইম্প্রেশারিওর মাধ্যমে শো করতে হত। শিল্পী শুধু স্টেজে উঠে নিজের খেলাটুকু দেখাবেন, সে নাচ হোক, মূকাভিনয় হোক, কিম্বা ম্যাজিক। আর বাকি যত ঝক্কি—হলভাড়া থেকে বিজ্ঞাপন, টিকিট বিক্রি—সবকিছু সামলাবে ওই মাঝের লোকটা, যার নাম ইম্প্রেশারিও। এটাই ছিল দস্তুর। যাই হোক, তারপর?

প্রতাপবাবু বললেন, বাবার কপাল ভালো ছিল। প্রথমেই উনি মিউনিখের একনম্বর ইম্প্রেশারিও মার্টিন জিগলারের সুনজরে পড়ে গেলেন। তবে সেটা এমনি এমনি নয়। বাবা ছিলেন অসামান্য কনজিওরার। মঞ্চ, সাজসরঞ্জাম, লোকলস্কর কিছুই লাগত না। হাতের কাছে যা পাওয়া যেত, সে একটা কয়েনই হোক কিম্বা এক প্যাকেট তাস, তাই দিয়েই বাবা মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে পারতেন।

আমি বুধোদাকে ফিসফিস করে জিগ্যেস করলাম, কনজিওরার মানে কী গো?

বুধোদা বলল, ম্যাজিক এই আর্টটাকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়। এক, ইলিউশন। অনেকে বাংলায় বলেন ‘মঞ্চমায়া’। যেমন ধর, করাত দিয়ে জ্যান্ত মেয়েকে কেটে দুভাগ করে আবার জোড়া লাগিয়ে দেওয়ার খেলাটা কিম্বা শূন্যে মানুষ ভাসিয়ে রাখার খেলা। ইলিউশনের খেলা দেখাতে গেলে লুকোনো যন্ত্রপাতি, বড় স্টেজ, সহকারী-টহকারীর প্রয়োজন হয়।

আর দুই, কনজিওরিং অ্যাক্ট, মানে সোজা বাংলায় হাতসাফাই। একঘর লোকের মাঝখানে বসে চোখের পলকে কোনো জিনিসকে ভ্যানিশ করে দেওয়া কিম্বা উল্টো-পথে হাওয়া থেকে যাহোক কিছু মুঠোয় ধরে ফেলা— এগুলো ইলিউশনের ট্রিক। এই খেলাগুলো দেখানোর জন্যে বছরের-পর-বছর সাধনা ছাড়া আর কিছু লাগে না।

প্রতাপবাবু বলে উঠলেন, বাবার এই সাধনাটা ছিল। একটা মজার ব্যাপার শুনবেন? জামার আস্তিনের ভেতরে লুকিয়ে-রাখা পায়রা কিম্বা তাস চোখের পলক ফেলার আগে হাতের মুঠোয় বার করার খেলাটা অনেক ম্যাজিশিয়ানই দেখিয়ে থাকেন। কিন্তু মায়ের মুখে শুনেছি, বাবার একটা প্রিয় খেলা ছিল খালি চোঙার মধ্যে থেকে দুটো ছোট-ছোট ছেলেমেয়েকে বার করে দ্যাখানো। বুঝতেই পারছেন, ছেলেমেয়ে দুটোকে বাবা নিজের ম্যাজিশিয়ানের আলখাল্লার মধ্যেই লুকিয়ে রাখতেন। হলভর্তি লোকের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দুটো বাচ্চাকে ওইভাবে আলখাল্লার ভেতর থেকে খালি চোঙার মধ্যে চালান করতে গেলে কতটা স্কিল লাগে ভাবতে পারছেন?

সত্যিই অভাবনীয়। বুধোদা বলল।

সবকিছুতেই ওনার এই সাধনা আর দক্ষতা ছিল। মিউনিখে থাকাকালীন মাত্র চার-পাঁচমাসের মধ্যেই জার্মান ভাষাটা এমনভাবেই শিখে নিয়েছিলেন যে, ওনার কথা শুনলে কেউ বুঝতে পারত না একজন অ-জার্মান কথা বলছেন।

যাই হোক, বাবার জার্মানি যাওয়ার গল্পটা আগে শেষ করি। মিউনিখে পৌঁছে বাবা একরকম জোরজার করেই মার্টিন জিগলারকে নিজের কিছু খেলা দেখিয়েছিলেন। জিগলার ছিলেন শো-বিজনেসের জহুরি। খেলাগুলো দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এ ছেলে অনেক দূরে যাবে। তিনি বাবাকে মিউনিখের একটা ছোট হলে একমাস শো-এর ব্যবস্থা করে দিলেন।

একমাস পেরিয়ে দু-মাস হল, দু-মাস পেরিয়ে তিনমাস। শো-এর পর শো হাউসফুল চলতে লাগল। ভারতীয় জাদুকর প্রিন্স রাজনের নাম মিউনিখ ছাড়িয়ে গোটা জার্মানিতে ছড়িয়ে পড়ছিল। সেইসময় বাবা নিয়মিত মা-কে চিঠি লিখতেন। চিঠিগুলো এখনও আমার কাছে রয়েছে। প্রতিটা চিঠিতেই বাবা একটা কথা লিখতেন। তিনি খেলাগুলোকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছেন। যা অর্থ উপার্জন করছেন তার একটা বড় অংশই খরচ করছেন ম্যাজিকের নতুন-নতুন সাজসরঞ্জাম, নতুন স্ক্রিন, মিউজিক, লাইটিং আর অ্যাসিস্ট্যান্টদের পেছনে। প্রত্যেকটা খেলাকে ভারতীয় পুরাণের কোনো না কোনো গল্পের সঙ্গে গেঁথে দিচ্ছেন—যাতে খেলাগুলো ইউরোপিয়ান দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

প্রায় প্রতিটি চিঠির শেষেই ক্ষমাপ্রার্থনার সুরে লিখতেন—উমা, সেইজন্যেই এমাসেও তোমাদের খুব বেশি টাকা পাঠাতে পারলাম না। জানি, তোমার আর খোকার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের মুখ চেয়ে এই কষ্ট সহ্য করো। আমি শিগগিরি দেশে ফিরব। কিন্তু যখন ফিরব তখন আর খালি হাতে ফিরব না। এমন ম্যাজিক নিয়েই ফিরব যাতে আমাকে আর কখনো পেছন ফিরে তাকাতে না হয়।

উনিশশো উনচল্লিশের শুরুতে বাবা খুব খুশি হয়ে মা-কে লিখলেন, মিউনিখের সবচেয়ে বড় হলে টানা তিনমাস শোয়ের জন্যে কন্ট্রাক্ট সই করলাম। মনে হয় এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার পালা।

বিধাতা সেই চিঠি পড়ে বোধহয় লুকিয়ে হেসেছিলেন। কারণ ঠিক তার পরে-পরেই শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *