অদ্ভুত রামায়ণের গল্প

অদ্ভুত রামায়ণের গল্প

অদ্ভুত রামায়ণে এই গল্পটি আছে।

শ্রীরামচন্দ্র বিষ্ণুর অবতার হইয়াও কেন মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন? সকলেই বলিবে, রাবণকে বধ করিবার জন্য তিনি রামরূপে অযোধ্যায় জন্মিয়াছিলেন। কিন্তু অদ্ভুত রামায়ণ বলে— তাহা কারণ নহে, তাঁহার পরম ভক্ত নারদের অভিশাপে বিষ্ণুকে রামরূপে পৃথিবীতে আসিতে হইয়াছিল। আর বনে বনে এত দুঃখকষ্ট ভোগ করিতে হইয়াছিল। গল্পটি এই—

যদিও আমরা নারদকে জানি দীর্ঘ শ্বেতশ্মশ্রুযুক্ত একজন বৃদ্ধ ঋষি হিসাবে, ঢেঁকিতে চড়িয়া তিনি চিরকাল ত্রিভুবনে ঘুরিয়া বেড়ান আর ভগবানের গুণগান করেন; তথাপি একদিন নারদেরও যৌবনকাল ছিল। যৌবনে অতি রূপবান পুরুষ ছিলেন তিনি। তাঁহার শখও ছিল খুব। বড়ঘরের জামাতা হইবার বাসনা ছিল অত্যন্ত।

একদিন যুবক নারদ গোলোকে বিষ্ণুর নিকট গিয়া কহিলেন,—‘প্রভু, বহুদিন অকৃতদার আছি, এখন আমার বিবাহ করিতে সাধ হইয়াছে। আমার যোগ্য পাত্রী কোথায় আছে কৃপা করিয়া বলুন।’

বিষ্ণু কহিলেন,—‘নারদ, তুমি বিবাহ করিয়া সংসারী হইবে, ইহা বড় আনন্দের কথা। তুমি অযোধ্যায় রাজা অম্বরীষের বাড়িতে যাও। তাহার কন্যা ‘শ্রীমতী’ রূপে-গুণে অতুলনীয়া। সে-ই তোমার যোগ্য পাত্রী হইবে। তুমি রাজার নিকট গিয়া তাহার এই কন্যাকে পত্নীরূপে প্রার্থনা করো।’

বিষ্ণুর নিকট সংবাদ পাইয়া নারদ আহ্লাদিত হইয়া বিদায় লইলেন। ইহার পরই বিষ্ণুর নিকট আসিলেন পর্বত ঋষি। ইনিও নারদের মতো রূপবান ও গুণবান এবং বিষ্ণুর পরম ভক্ত। পর্বত ঋষিরও বিবাহ করিতে সাধ হইয়াছিল। তিনিও বিষ্ণুর নিকট উপযুক্ত কন্যার সন্ধান করিলেন। বিষ্ণুও তাঁহাকে একই কথা বলিয়া অযোধ্যায় অম্বরীষ রাজার নিকট যাইতে বলিলেন।

অম্বরীষ রাজা সিংহাসনে বসিয়াছিলেন। এমন সময় তাঁহার সভায় নারদ আসিয়া উপস্থিত।

অম্বরীষ রাজাও পরম বিষ্ণুভক্ত, তিনি বিষ্ণুর প্রধান ভক্ত ছিলেন। নারদকে দেখিয়া অবিলম্বে সিংহাসন হইতে নামিয়া অতি সম্ভ্রমের সহিত তাঁহার হাত ধরিয়া সিংহাসনে বসাইলেন। অতঃপর জোড়হাতে কহিলেন,—‘দেবর্ষি, আপনার শুভাগমনের কারণ কী? বলুন আমার কী করিতে হইবে?’

নারদ প্রসন্ন হইয়া কহিলেন,—‘মহারাজ, বিষ্ণুর নিকট জানিলাম আপনার একটি পরম রূপবতী ও গুণবতী কন্যা আছে। আমি এই কন্যাটিকে বিবাহ করিতে চাই।’

অম্বরীষ কহিলেন,—‘দেবর্ষি, আপনি আমার কন্যা গ্রহণ করিবেন, এ তো আমার পরম সৌভাগ্যের কথা! আপনি দুইদিন পরে আসিবেন তাহার পর আপনাকে যথার্থ কথা দিব। রানির সহিত আমার একটু পরামর্শ করা দরকার। কন্যা শ্রীমতীকেও ইহা একবার জ্ঞাত করানো প্রয়োজন।

কী জানি, সে আবার পূর্বেই কাহাকেও মনে মনে পতিত্বে বরণ করিয়াছে কি না— সে খবরও লইতে হইবে।’

নারদ প্রীত হইয়া কহিলেন,—‘রাজন্, আমি দুইদিন পরে আবার আসিব। ইহার ভিতর সমস্ত স্থির করিয়া ফেলুন।’

নারদ বিদায় লইয়া যাইতে যাইতে অম্বরীষের সভায় আসিলেন পর্বত ঋষি। অম্বরীষ তাঁহাকেও জানিতেন বলিয়া সাদর অভ্যর্থনা করিলেন।

পর্বত ঋষিও রাজার কাছে তাঁহার কন্যা প্রার্থনা করিলেন বিবাহ করিবার জন্য।

অম্বরীষও কহিলেন,—‘ঋষিবর, আপনি আমার কন্যা গ্রহণ করিবেন, এ তো আমার সৌভাগ্যের কথা! কিন্তু বড়ই বিপদে পড়িয়াছি। এইমাত্র দেবর্ষি নারদ আসিয়া আমার কন্যা প্রার্থনা করিয়া গেলেন। আপনারা উভয়েই যোগ্য পাত্র। আপনি আগামী পূর্ণিমার দিন আসিবেন। নারদকেও ওইদিন আসিতে বলিব। আমার কন্যা শ্রীমতী আপনাদের উভয়ের মধ্যে যাঁহাকে নির্বাচন করিবে, তিনিই আমার জামাতা হইবেন।’

পর্বত ঋষি উত্তর দিলেন,—‘আচ্ছা, উত্তম কথা। আমি আগামী পূর্ণিমার দিনই আসিব— নারদকেও আসিতে বলিবেন।’

পর্বত মনে মনে ভাবিলেন,—‘আমার রূপ অতি অসাধারণ, নারদ সব বিষয়ে আমাপেক্ষা হীন। আমাকে দেখিলে অম্বরীষের কন্যা আর নারদের পানে চাহিবেই না। সুতরাং আমিই অম্বরীষের জামাতা হইব।’

দুইদিন পরে নারদ আসিলে অম্বরীষ কহিলেন,—‘দেবর্ষি, আপনি সেদিন বিদায় গ্রহণ করিয়া চলিয়া গেলেই পর্বত ঋষি আসিয়া আমার কন্যা প্রার্থনা করিলেন। আমি তাঁহাকে আগামী পূর্ণিমার দিন আসিতে বলিয়াছি, আপনিও কৃপা করিয়া ওইদিন আসিবেন। ওইদিন আমার কন্যা আপনাদের উভয়ের মধ্যে যাঁহার কণ্ঠে মালা দিবে, তিনিই আমার জামাতা হইবেন।’

এই কথা শুনিয়া নারদ চিন্তা করিলেন— আমি রূপে-গুণে পর্বত ঋষি হইতে শ্রেষ্ঠ। অম্বরীষের কন্যা শ্রীমতী আমাকেই পতিত্বে বরণ করিবে। পর্বত ঋষিও এই কথাই ভাবিলেন।

নারদ তখন চুপি চুপি বিষ্ণুর নিকটে গিয়া নিবেদন করিলেন,—‘প্রভু, অম্বরীষ কন্যাদানে সম্মত হইয়াছেন, কিন্তু পর্বত ঋষি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হইয়াছে। আগামী পূর্ণিমার দিন রাজা আমাদের উভয়কে রাজসভায় উপস্থিত হইতে বলিয়াছেন। আমাদের মধ্যে যাহাকে পছন্দ হয় শ্রীমতী তাহার কণ্ঠেই বরমাল্য দিবে। প্রভু, আপনার নিকট আমার একটি নিবেদন আছে। নির্বাচনের সময় পর্বতের মুখখানা যেন বানরের মতো দেখিতে হয়— তাহার ব্যবস্থা করুন।’

নারায়ণ মৃদুহাস্য করিয়া কহিলেন,—‘হে নারদ, তুমি আমার পরম ভক্ত, তোমার অনুরোধ আমার রক্ষা করিতেই হইবে।’

নারদ হৃষ্টচিত্তে বিদায় লইলেন। কিছুক্ষণ পর পর্বত ঋষি বিষ্ণুর নিকট উপস্থিত হইলেন। তিনিও নারদের মতোই অনুরোধ করিলেন।

বিষ্ণুও কহিলেন,—‘আচ্ছা, আচ্ছা, তাহাই হইবে।’ এদিকে অম্বরীষ রাজা মহাবিপদে পড়িলেন। তাঁহার কন্যা শ্রীমতী একজনকেই বরণ করিবে। যাঁহাকে পতিত্বে বরণ করিবে না, সে-ই ভীষণ ক্রুদ্ধ হইয়া অভিশাপ দিবে। ইহার একমাত্র উপায় নারায়ণের শরণ লওয়া। তিনি দিবারাত্র একমনে নারায়ণকে ডাকিতে লাগিলেন,—‘হে নারায়ণ, রক্ষা করো। ভক্তের মান-প্রাণ বাঁচাও প্রভু! ঋষির শাপে যেন ধ্বংস না হই।’

পূর্ণিমার দিন দুই ঋষি রাজসভায় উপস্থিত হইলেন। রাজকন্যার আজ স্বয়ংবর, কিন্তু রাজ্য জুড়িয়া একটা বিপদের ছায়া পড়িয়াছে। কোনও সমারোহ নাই, কোনও ঘটা নাই, কোনও ধুমধাম নাই।

ঋষিরা সভায় আসিয়া কহিলেন,—‘অবিলম্বে কন্যা আনয়ন করুন।’

পূর্ণিমার সন্ধ্যায় গগনে পূর্ণচন্দ্র উঠিল; এমন সময় বরমাল্যহস্তে শ্রীমতী ধীরে ধীরে পূর্ণচন্দ্রের মতোই রূপের ডালি লইয়া সভায় আসিলেন। শ্রীমতীর অপরূপ রূপ দেখিয়া দুই ঋষিই অবাক হইয়া গেলেন, তাঁহাদের মাথা ঘুরিয়া গেল।

দুই ঋষি পাশাপাশি সিংহাসনে বসিয়া আছেন। শ্রীমতী দেখিলেন দুইটি বানরমুখো লোক বসিয়া আছে— অতি কদাকার চেহারা। ভয়ে তিনি আর্তনাদ করিয়া উঠিলেন, কিন্তু পরক্ষণেই দেখিলেন উভয়ের মাঝখানে একজন অসামান্য রূপবান যুবক দাঁড়াইয়া মৃদু মৃদু হাসিতেছে। তাঁহার গাত্রের বর্ণ নবদূর্বাদলের মতো শ্যাম, হাতে ধনুর্বাণ, আর তাঁহার চারিপাশে স্বর্গীয় জ্যোতির ছটা।

অম্বরীষ-কন্যা আর থাকিতে পারিলেন না, অবিলম্বে বেদীর উপর উঠিয়া সেই অপূর্ব সুন্দর যুবকের কণ্ঠে বরমাল্য দিলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্তর্হিত হইলেন। শ্রীমতীকে আর কেহ দেখিতে পাইল না।

নারদ ও পর্বত অস্থির হইয়া প্রশ্ন করিলেন,—‘কন্যা কই এইমাত্র তাহার অসামান্য রূপে আমাদের চক্ষু ধাঁধিয়া গিয়াছিল— ইহার পর সে গেল কোথায়?’

রাজা অম্বরীষ যুক্তহস্তে কহিলেন,—‘অতি অলৌকিক ব্যাপার দেখিলাম। সহসা আপনাদের উভয়ের মধ্যে একজন দিব্যপুরুষ আবির্ভূত হইলেন। তাঁহার গায়ের বর্ণ নবদূর্বাদলের মতো, অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ও চারিধারে স্বর্গীয় জ্যোতিঃ। আমার কন্যা যেই তাঁহার কণ্ঠে মাল্য দিল, অমনি তিনি অদৃশ্য হইলেন। হায়, হায়, আমার কী হইল!’ এই বলিয়া রাজা কাঁদিতে লাগিলেন।

দুই ঋষি ক্ষিপ্ত হইয়া কহিলেন,—‘রাজা আপনিই আমাদের প্রতারণা করিয়াছেন। আপনার কথায় আমরা বিশ্বাস করি না— আপনিই কন্যা সরাইয়াছেন।’

রাজা কহিলেন,—‘আপনারা অসম্ভব কথা কহিতেছেন। আপনাদের চোখের নিকট হইতে আমি কন্যা সরাইব কীরূপে? আমি তো কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না।’

তখন উভয় ঋষি কিছু স্থির করিতে না পারিয়া আবার বৈকুণ্ঠে নারায়ণের কাছে উপস্থিত হইলেন।

নারায়ণ হাসিতে হাসিতে কহিলেন,—‘কাহার ভাগ্যে কন্যালাভ হইল?’

নারদ উত্তর করিলেন,—‘প্রভু, আপনি রহস্য করিয়াছেন। এ আপনারই কীর্তি, আপনিই কন্যা সরাইতেছেন।’

নারায়ণ কহিলেন,—‘ব্যাপার কী, খুলিয়া বলো।’

নারদ কহিলেন,—‘আমাদের উভয়ের মধ্যে নবদূর্বাদলশ্যাম দ্বিভুজ ধনুর্ধর মূর্তি ধরিয়া কে আবির্ভূত হইয়াছিলেন?’

নারায়ণ কহিলেন,—‘তোমরা আমাকে সন্দেহ করিতেছ কিন্তু আমার বর্ণ নবদূর্বাদলের মতো নয়। আমি দ্বিভুজ নহি চতুর্ভুজ; আমার হস্তে ধনুর্বাণ থাকে না, থাকে শঙ্খ, চক্র, গদা আর পদ্ম।

আমাকে মিথ্যা সন্দেহ করিতেছ কেন? এ জগতে কত মায়াবী পুরুষ আছে খুঁজিয়া দেখো। আমি ইহার কিছুই জানি না।’

নারদ ও পর্বত ঋষি নারায়ণের কথায় চটিয়া গেলেন। নারদ পর্বত ঋষিকে কহিলেন,—‘চলো পর্বত, ত্রিভুবন খুঁজিয়া দেখা যাক কোথায় ওইরূপ মায়াবী পুরুষ আছে!’

পর্বত ঋষি কহিলেন,—‘আমার বিবাহের সাধ মিটিয়াছে আর আমার খুঁজিবার দরকার নাই। তুমি খোঁজ করিতে যাও, আমি চলিলাম তপস্যা করিতে।’

নারদ একাই ত্রিভুবন খুঁজিতে বাহির হইলেন, কিন্তু বহু অনুসন্ধান করিয়া কোথাও খুঁজিয়া না পাইয়া পুনরায় অম্বরীষের সভায় ফিরিয়া আসিলেন।

নারদ অম্বরীষকে প্রশ্ন করিলেন,—‘আপনার কন্যার সন্ধান পাইয়াছেন কি?’

অম্বরীষ উত্তর দিলেন,—‘না মহর্ষি, কোনও সন্ধান পাই নাই।’

নারদ কহিলেন,—‘দেখুন অম্বরীষ, আপনি আমাকে প্রতারণা করিয়াছেন। আপনি নিশ্চয়ই জানেন। আপনি আমার নিকট গোপন করিতেছেন। ইহার প্রতিফল অবশ্যই পাইবেন।’

রাজা অম্বরীষ ইহাতে ভীত হইয়া কম্পিত-কণ্ঠে কহিলেন,— ‘ঋষিবর, আপনি সম্পূর্ণ জ্ঞাত আছেন; আমি জীবনে মিথ্যা কহি না। আমার কথা বিশ্বাস করুন। আপনি যদি বিবাহ করিতেই চান, আমি অন্য কন্যা আপনাকে সম্প্রদান করিতেছি। আপনি প্রসন্ন হউন।’

নারদ কহিলেন,—‘না, আমি অন্য কোনও কন্যা চাহি না। শ্রীমতীকেই আমি চাই।’

রাজা অম্বরীষ শ্রীমতীকে আনিতে পারিলেন না। নারদ তাঁহাকে অভিশাপ দিলেন,—‘আমাকে মোহে মুগ্ধ করিয়া আপনি অপরকে কন্যাদান করিয়াছেন, সেই অপরাধে আপনাকে মোহের অন্ধকারে আচ্ছন্ন করুক। আপনার জ্ঞান, বুদ্ধি, স্মৃতি সব লুপ্ত হউক।’

এই অভিশাপ দেওয়া মাত্র মোহান্ধকারের একটি আবর্ত রাজার দিকে অগ্রসর হইতে লাগিল। রাজা ভয়ে কাঁপিতে কাঁপিতে ছুটিয়া পলাইতে লাগিলেন। আবর্ত তাঁহাকে অনুসরণ করিল। অম্বরীষ—‘হে নারায়ণ, রক্ষা করো’ বলিয়া মূর্ছিত হইয়া পড়িলেন।

এদিকে বিষ্ণুচক্র মধ্যাহ্ন-সূর্যের মতো জ্বলিতে জ্বলিতে আসিয়া সেই অন্ধকার আবর্তের পথরোধ করিয়া তাহাকে নারদের দিকে ঘুরাইয়া দিল। বিপদ দেখিয়া নারদ আকাশপথে ছুটিতে লাগিলেন, চক্রতাড়িত অন্ধকারও তাঁহার পশ্চাতে ছুটিয়া চলিল।

চক্র সেই অন্ধকার আবর্তকে ক্রমাগত তাড়া করিতেছে; সেও নারদকে ছাড়িতেছে না। নারদ যেদিকে যান সেই দিকেই ওই আবর্তও চারিদিকে অন্ধকার করিয়া ছুটিতে থাকে। দিবসের সূর্য, রজনীর চন্দ্র, গ্রহ-নক্ষত্র সব অন্ধকারে আচ্ছন্ন হইয়া গেল।

অবশেষে নারদ দেবরাজ ইন্দ্রের শরণ নিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রও কিছু করিতে পারিলেন না। তখন নারদ ব্রহ্মলোকে গিয়া ব্রহ্মার চরণে নিবেদন করিলেন,—‘তাত, রক্ষা করুন।’ কিন্তু তিনিও কিছুই করিতে পারিলেন না। তখন নারদ কৈলাসে গিয়া শিবকে ধরিবেন স্থির করিলেন। কিন্তু কৈলাসে গিয়াও নারদ শিবের সাক্ষাৎ পাইলেন না।

অগত্যা নারদ বিষ্ণুলোকে গিয়া বিষ্ণুর চরণতলে মূর্ছিত হইয়া পড়িলেন। মূর্ছাভঙ্গের পর দেখিলেন সেই অন্ধকার আবর্ত আর নাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *