সর্বংসহ কালীগুণীন – সৌমিক দে
ভূমিকা
ভয় জিনিসটার আভিধানিক অর্থ বলে কিছু নেই। ধরুন আপনি মনের সুখে একটা পাহাড়ের নীচের ছবির মতো পথ ধরে হেঁটে চলেছেন। সন্ধে হয়ে এসেছে। নির্জন, আলো-আঁধারি পথটা পেরোনোর সময় হঠাৎ পাহাড়ের চূড়ায় অজস্র পাখির দল একসঙ্গে আতঙ্কে চিৎকার করে ঘুরপাক খেতে আরম্ভ করল! আপনি চমকে অনুভব করলেন যে আপনার সামনের পাহাড়টা যেন আপনাকে খর চোখে দেখছে! তার গরম নিঃশ্বাসের ক্ষীণ শব্দ শোনা যাচ্ছে! সেটা নড়েচড়ে উঠছে! মাটিতে তার কম্পন অনুভূত হচ্ছে!
হঠাৎ ঘুরপাক খাওয়া পাখিগুলো ভীষণ আতঙ্কে ছিটকে গেল দিকবিদিকে! যেন চূড়ায় খুব ভয়ংকর কিছু একটা দেখতে পেয়েছে তারা! সেইসময়ে যে হিমেল স্রোতটা আপনার শিরদাঁড়া বেয়ে নামবে, সেটাকে বলে ভয়! এইরকম অজস্র ভয় আমাদের চারদিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে! শুধু সময় হলে তখন তাদের দাঁত, নখ বেরিয়ে আসে।
যদি আপনি ভয় পাওয়ার থেকেও ভয়কে মুখের মতো জবাব দিতে ভালোবাসেন, তবে আপনার ঠিকানা হতে পারে ‘সর্বংসহ কালীগুণীন’। বহু গাঁ-গঞ্জের উপর ঘটে-যাওয়া ভয়ংকর ধূর্ত প্রেতের নৃশংস নরমেধ, হাজার হাজার বছর আগের দু-খানি দুর্বোধ্য হেঁয়ালি আর ততধিক ধূর্ত তান্ত্রিকের সঙ্গে সেই প্রেতের বুদ্ধির দাবাখেলার তিন-খানা ভয়ঙ্কর ঘটনার স্বাদ পাবার ঠিকানা এইমুহূর্তে আপনার হাতেই রয়েছে।
সৌমিক দে
কলকাতা
.
কালীগুণীন ও সর্বনাশের হেঁয়ালি
পুরাণের সবচেয়ে রহস্যময়, বর্ণময় এক দাপুটে মহারাজ, জলধরের কাছে লুকিয়ে রেখে গেলেন দুইটি মহা সর্বনাশা রহস্য। একটি রাক্ষুসে মালা এবং একখানা পুঁথি। শিখিয়ে দিলেন তাকে লুকানোর অভূতপূর্ব কৌশলবিধি। সেই মহা সর্বনাশা শক্তি যদি হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্তমানের উপরে? কালীপদ কি পারবে গুপ্ত হেঁয়ালির মর্মোদ্ধার করে সেই মারণশক্তিকে প্রতিহত করতে?
কালীগুণীন আর ধ্বংসের পুঁথি
পরমাশ্চর্য এক পুঁথির থেকে দাঁত, নখ বিস্তার করে উঠে দাঁড়ালো কোন রাক্ষুসে মরণদূত? এক হেঁয়ালির পিছু করতে করতে কালীপদ পৌঁছে গেল মুঙ্গেরের এক অতি রহস্যময় তালুকে। কী রহস্য লুকিয়ে আছে গাঁয়ের আনাচে কানাচে? কেন সেখানে স্থানীয় অধিবাসীরা সন্ধ্যা নামলেই কানফাটানো শব্দে দামামা, খোল, করতাল বাজানো আরম্ভ করে? কোন ঘুম-ভাঙা রাক্ষসের গর্জনকে ধামাচাপা দিতে চায় তারা?
কালীগুণীন বনাম শাণিয়াড়ির প্রেত
জমিদার তারাপ্রসন্ন আটকে দিলেন কুটিল কাপালিক ভৈরব এবং তরঙ্গিণীর পৈশাচিক অভিসন্ধি। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই গ্রামে আবির্ভাব ঘটল এক মহা সংহারক অপশক্তির— পানিমুড়া। গোটা গ্রাম শ্মশান হয়ে যাবার উপক্রম। জলে নামলেই মৃত্যু অনিবার্য। কালীগুণীন কি পারবে বাঁচাতে শাণিয়াড়ির জনজীবন?
.
লেখক পরিচিতি লেখক সৌমিক দের জন্ম ১৯৮৪ সালের ১২ই জুলাই কলকাতার সল্টলেকে। ভারতীয় পুরাণ, উপকথা ও তন্ত্রবিদ্যার প্রতি লেখকের আকর্ষণ সেই ছোট থেকেই। আর এর প্রতিফলনও দেখা যায় লেখকের লেখালেখিতে। লেখক গল্পে ভৌতিক পরিবেশ তৈরিতেও সমান দক্ষ। লেখকের সৃষ্ট কালীগুণীন সিরিজটি ভারত ও বাংলাদেশের পাঠকমহলে ইতিমধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সৌমিক তাঁর লেখালেখি শুরু করেন ভৌতিক সাহিত্যচর্চার অন্যতম গ্রুপ ভূতভুতুম থেকে। এখানেই প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ‘কালীগুণীন ও কানাওলার ফাঁদ’ গল্পটি, এবং পরবর্তীতে ভূতভুতুমের একনিষ্ঠ উদ্যোগে বিভা পাবলিকেশন থেকে মুক্তি পায় এই সিরিজের প্রথম বই ‘কালীগুণীন ও ছয় রহস্য’। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘কালীগুণীনের কিস্তিমাত’, ‘কালীগুণীন ত্রাহিমাম’ এবং ‘কালীগুণীনের মরণপাঞ্জা’। লেখক বর্তমানে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরে কর্মরত। এই বইটি এই সিরিজের পঞ্চম বই। কালীগুণীন সিরিজের পাঁচটি বই ছাড়াও লিখেছেন অজস্র ছোট গল্প এবং কবিতা।






কালীগুনিন ও বজ্র সিন্দুক রহস্য এইটা সম্ভব হলে আপলোড করবেন প্লিজ।