পেত্নি সমগ্র – সংকলক ও সম্পাদক : অমিতাভ চক্রবর্তী
মহিলা ভূতের গল্প সংকলন
Petni Samagra
এই সংগ্রহে যাঁদের কাহিনিগুলি মুদ্রিত হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সঙ্গে অথবা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সকলের সন্ধান না পাওয়ায় অনুমতি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানানো হল। বিষয়টি তাঁদের নজরে এলে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হল যাতে উপযুক্ত স্বীকৃতি প্রদান করা সম্ভব হয়।
প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২৫
প্রচ্ছদ : অর্ক চক্রবর্তী
গ্রন্থ পরকিল্পনা: সৌম্যেন পাল
.
ফ্ল্যাপের লেখা
গত প্রায় দেড়শো বছরে বাংলা ভাষায় দিক্পাল সব সাহিত্যিকরা নানান ধরনের ভৌতিক রচনা লিখেছেন। তাঁদের মধ্যে হেমেন্দ্রকুমার রায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে আরম্ভ করে হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, মনোজ সেন, মানবেন্দ্র পাল, মঞ্জিল সেন সকলেই আছেন। এই গ্রন্থে শুধুমাত্র সেইসব রচনাই রাখা হয়েছে যা কোনো নারী অশরীরীকে কেন্দ্র করে লেখা অর্থাৎ সহজ ভাষায় যাদের আমরা পেত্নি, শাঁকচুন্নি, ডাইনি ইত্যাদি নামে উল্লেখ করে থাকি। ‘পেত্নি সমগ্র’ হল মহিলা ভূতের গল্প সংকলন। এই ধরনের কোনো গ্রন্থ বাংলা বইবাজারে আগে কখনো প্রকাশিত হয়েছে কি না জানা নেই। আর, দ্বিতীয়ত, এই গ্রন্থের বহু রচনা অগ্রন্থিত ও যেগুলো ইতিপূর্বে গ্রন্থিত সেগুলোও কিঞ্চিৎ দুষ্প্রাপ্য কারণ তা এক সময় কোনো-না-কোনো গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হলেও আজ সেসব গ্রন্থ দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত না-হয়ে রয়েছে।
.
ভূমিকা
‘ভূত’ অর্থাৎ অতীত; মানে যা ঘটে গিয়েছে। আবার, ভূত মানে অশরীরীও। সাধারণত এমন কোনো প্রাণী, যে এককালে জীবিত ছিল, কিন্তু মৃত্যুর পরও তার অস্তিত্ব কোনো-না-কোনোভাবে রয়ে গিয়েছে, ‘ভূত’ শব্দটা শুনলে তাদের কথাই সর্বপ্রথম আমাদের মস্তিষ্কে আসে। সেই প্রাণীকে যে মানুষই হতে হবে, এমনটা কিন্তু নয়। এ বিষয়ে যাঁরা পড়াশোনা ও গবেষণা করে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের কথা অনুযায়ী, যেকোনো প্রাণী মৃত্যুর পর ‘অশরীরী’ হয়ে দেখা দিতে পারে; বা, বলা ভালো ‘অশরীরী’ হয়ে নানানভাবে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে পারে। আজকের এই আধুনিক সমাজেও সারা বিশ্বজুড়ে এমন কোটি কোটি মানুষ আছেন যাঁরা ভূতের অস্তিত্বকে স্বীকার করেন। আবার এমনও বহু মানুষ আছেন যাঁরা পুরো বিষয়টিকেই ফুৎকারে উড়িয়ে দেন। তাঁদের মতে পুরো ব্যাপারটাই নির্জলা মিথ্যা ও গাঁজাখুরি গল্পগাথা ছাড়া আর কিছু নয়। কাজেই বলা যেতে পারে, ‘ভূত আছে’ আর ‘ভূত নেই’, এই দুই বিশ্বাসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানুষ আজ ভূতকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
তা, ভূতের ব্যাপারটা সত্যি হোক বা না হোক, এ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বা কৌতূহলের কিন্তু খামতি নেই। সেক্ষেত্রে এমন একটা বিষয়ের ছাপ বা প্রভাব যে সাহিত্য জগতের ওপরেও পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। যুগ যুগ ধরে সারা বিশ্বজুড়ে এই বিষয়ের ওপর সাহিত্য রচিত হয়েছে এবং তা পাঠক-পাঠিকাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আমাদের বাংলা সাহিত্যজগৎও এই ব্যাপারে পিছিয়ে নেই। গত প্রায় দেড়শো বছরে দিপাল সব সাহিত্যিকরা নানান ধরনের ভৌতিক রচনা লিখেছেন। তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রমথ চৌধুরী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রকুমার রায় থেকে আরম্ভ করে মঞ্জিল সেন, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র পাল, গৌরী দে সকলেই আছেন। সত্যি বলতে, যদি ভালোভাবে দেখা যায়, তাহলে হয়তো এই ব্যাপারেই নিশ্চিত হতে হবে যে, ভূতের গল্প লেখেননি এমন বাঙালি সাহিত্যিকের আবির্ভাব সম্ভবত এখনও পর্যন্ত হয়নি কারণ বর্তমান সাহিত্যিকরাও এই ধরনের রচনা লিখে চলেছেন। এই ধরনের রচনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ আজও এতটুকু ম্লান হয়নি। আজ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যত গল্প-সংকলন প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে সম্ভবত ভৌতিক-কাহিনির সংকলনই সবার শীর্ষে থাকবে।
এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, তাহলে আবার এই একই ধরনের গ্রন্থ নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা বা যৌক্তিকতা কোথায়!! এই বিষয়ে দুটো কথা বলে চেষ্টা করব পাঠক-পাঠিকাদের এই জিজ্ঞাসার নিরসন করার। আমাদের এই গ্রন্থে আমরা শুধুমাত্র সেইসব রচনাই রেখেছি যা কোনো নারী অশরীরীকে কেন্দ্র করে লেখা অর্থাৎ সহজ ভাষায় যাদের আমরা পেতনি, শাঁকচুন্নি, ডাইনি ইত্যাদি নামে উল্লেখ করে থাকি। এই ধরনের কোনো গ্রন্থ বাংলা বইবাজারে আগে কখনো প্রকাশিত হয়েছে কি না জানা নেই। আর, দ্বিতীয়ত, এই গ্রন্থের বহু রচনা অগ্রন্থিত ও যেগুলো ইতিপূর্বে গ্রন্থিত সেগুলোও কিঞ্চিৎ দুষ্প্রাপ্য কারণ তা এক সময় কোনো-না-কোনো গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হলেও আজ সেসব গ্রন্থ দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত না-হয়ে রয়েছে। এ ছাড়াও, আরেকটা কথা জানিয়ে রাখি যে, অনেক সাহিত্যিকের ক্ষেত্রেই এটা দেখা গিয়েছে যে, তাঁদের কোনো রচনা যখন কোনো পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় তার সঙ্গে, সেই একই রচনা যখন গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়, তার কিঞ্চিৎ বা বিস্তর ফারাক থাকতে। আমরা এই গ্রন্থে সেই সমস্ত রচনা, যেগুলোর প্রথম প্রকাশের স্থান ও কাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলোর প্রথম ভার্সানটিকেই রেখেছি। যেগুলোর প্রথম প্রকাশের স্থান ও কাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর যে ভার্সানটি পাওয়া গিয়েছে সেটিকেই রাখা হয়েছে। চেষ্টা করেছি যতটা বিস্তৃত সময়কাল এই গ্রন্থে ধরে রাখা যায় তা করার। সেইজন্য লেখা বাছবার সময় গত এক-শো বছরের এই বিষয়ে লেখা রচনাগুলো নিয়ে বসেছিলাম। প্রায় প্রত্যেকটি লেখার শেষেই তার প্রথম প্রকাশের স্থান ও কালের উল্লেখ আছে।
বুক ফার্ম-এর অন্যতম কর্ণধার শ্রীশান্তনু ঘোষ মহাশয় প্রথম আমাকে এমন একটা গ্রন্থ নিয়ে আসার কথা বলেন। আইডিয়াটায় আমি বেশ নতুনত্ব দেখতে পাই ও সঙ্গেসঙ্গেই তাঁর এ প্রস্তাব আমি গ্রহণ করি। তিনি প্রথম দিন থেকেই সঙ্গে ছিলেন এবং সমস্ত ধরনের সহযোগিতা করেছেন। আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানাই শান্তনুদা ও বুক ফার্মের পুরো টিমকে। কৃতজ্ঞতা জানাই আমার মা, বাবা ও অন্যান্য গুরুজনদের ও বন্ধুস্থানীয়দের, যাঁরা সর্বদাই আমায় বই পড়তে ও বই সংগ্রহ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বন্ধু শ্রীসমুদ্র বসুকে যিনি সর্বদাই আমায় এই ধরনের কাজের জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন ও বিভিন্নভাবে পথপ্রদর্শন করেছেন। সর্বশেষ এই গ্রন্থ যদি বাংলার পাঠকমহলে সমাদর লাভ করে তাহলেই আমার এই উদ্যোগকে সার্থক বলে মনে করব। প্রসঙ্গত, এই বইটি বাংলার যাবতীয় মহিলা ভূতের গল্পের অখণ্ড সমগ্র নয়, পাঠকমহলের সাড়া পেলে আমরা পরবর্তী খণ্ডের আয়োজন করবো।
বইটির নামকরণের ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘পেত্নি’ শব্দটি ব্যবহৃত হলেও, সংকলনের মধ্যে বর্তমান বানানবিধি (সংসদ অভিধান) অনুযায়ী ‘পেতনি’ রাখা হয়েছে।
অমিতাভ চক্রবর্তী


Please upload ক্ষত written by সৌমিত্র শংকর ঘোষ
Please upload ক্যানভাসে কেউ মড়া এঁকেছে written by অশ্বত্থামা
পেত্নি সমগ্র ২ দেবেন