দ্য লিটল প্রিন্স – আন্তোইন দি সেইন্ট জুঁপেরী
দ্য লিটল প্রিন্স – আন্তোইন ডি সেইন্ট জুঁপেরী
ফ্রেঞ্চ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদঃ ক্যাথরিন উডস
ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদঃ মুরাদুল ইসলাম
উৎসর্গ
লিয়ন উয়ের্থকে।
যেসব ছোটরা এই বইটি পড়বে তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই বইটি একজন বড় মানুষকে উৎসর্গ করার জন্য। এ জন্য অবশ্য আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছেঃ সে এই পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আরেকটি কারণঃ সে সবকিছু বুঝতে পারে। ছোটদের জন্য লেখা বইও। তৃতীয় কারণঃ সে ফ্রান্সে ঠান্ডা এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাস করছে। তার আনন্দের প্রয়োজন। এই কারণগুলি যদি যথার্থ মনে না হয়, তাহলে আমি বইটি উৎসর্গ করব সেই ছোট বাচ্চাটিকে যার থেকে এই লিয়ন ওয়ের্থ বড় হয়ে উঠেছে। সব বড়রাই একসময় ছোট বাচ্চা ছিল, যদিও খুব কম সংখ্যক বড় মানুষ তা মনে রাখেন।
আমি আমার উৎসর্গকে ঠিক করছিঃ
লিয়ন ওয়ের্থকে
যখন সে ছোট বালক ছিল।
.
লিটল প্রিন্স সম্পর্কে কিছু কথা
ধারনা করা হয়, এই বই হচ্ছে ফ্রেঞ্চ ভাষার সবচেয়ে বেশি পঠিত ও অনুদিত বই। ফ্রান্সে ভোটের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দির সবচেয়ে সেরা বই নির্বাচিত হয়েছিল এটি। এ পর্যন্ত ২৫০ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং মোট বিক্রির পরিমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন কপি!
ডিসেম্বর ৩০, ১৯৩৫ সালে আন্তোইন দি সেইন্ট জুঁপেরী (বা অঁতোয়ান দ্যা স্যাঁৎ-একজ্যুপেরি, উচ্চারন নিয়ে সন্দেহ আছে) অর্থাৎ এই বইয়ের লেখক তার বিমান নিয়ে সাহারা মরুভূমিতে দূর্ঘটনায় পড়েন। তার সাথে ছিলেন আন্দ্রে রিভট। তারা রেইড নামে একটা রেসে ছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল পূর্বের একটা স্পিড রেকর্ড ভাঙ্গা এবং ১৫০০০০ ফ্রাংক পুরস্কার জেতা। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে সেটা সম্ভব হয় নি। প্লেন ক্র্যাশ করে এবং সৌভাগ্যজনকভাবে তারা বেঁচে যান।
কিন্তু বেঁচে গিয়ে পড়লেন আরো বিপদে। জনশূন্য মরুভূমিতে খাদ্য এবং পানিবিহীন। প্রচন্ড সূর্যতাপে পানিশুন্যতা দেখা দিল। তাদের বিভিন্ন ধরনের হ্যালোসিনেশন শুরু হল। সৌভাগ্যক্রমে চতুর্থ দিনে একদল যাযাবর বেদুঈনের কাফেলা তাদের দেখা পায় এবং সেই বিশাল নিষ্ঠুর মরুভূমি থেকে উদ্ধার করে।
এই ছোট নভেলায় মূল কাহিনী একজন বৈমানিক যিনি প্লেন ক্র্যাশ করে সাহারা মরুভূমিতে গিয়ে পড়েন। তা মূলত জুঁপেরীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে।
.
আন্তোইন দি সেইন্ট জুঁপেরী
আন্তোইন দি সেইন্ট জুঁপেরী ছিলেন ফ্রান্সের একজন কবি, লেখক এবং প্রসিদ্ধ বৈমানিক। জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২০ জুন। মৃত্যুবরন করেন ৩১ জুলাই ১৯৪৪ সালে। তার সবেচেয়ে বিখ্যাত বই “দ্য লিটল প্রিন্স”। তিনি ফ্রান্সের সবচেয়ে বেশি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক এবং আমেরিকার ন্যাশনাল বুক এওয়ার্ড ও পেয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ থেকেই তিনি বিখ্যাত বৈমানিক ছিলেন। যুদ্ধ শুরু হলে ফ্রেঞ্চ এয়ার ফোর্সে যোগ দেন। ১৯৪০ সালে ফ্রান্স জার্মানীর সাথে যুদ্ধবিরতি ঘোষনার পর তিনি ফ্রেঞ্চ এয়ার ফোর্স থেকে অব্যাহতি নিয়ে আমেরিকায় চলে যান আমেরিকাকে নাৎসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্ররোচিত করতে।
১৯৪০ সালে ফ্রান্স যখন জার্মানীর সাথে যুদ্ধবিরতি করে তখন চার্লস দি গলে তা মেনে নেন নি এবং গঠন করেন ফ্রান্স ফ্রি ফোর্স। এই ফোর্সের কাজ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে্র অক্ষশক্তি তথা জার্মানী, জাপান এবং ইটালীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া। তাদের এয়ার ফোর্সের নাম ছিল ফ্রি ফ্রান্স এয়ার ফোর্স। আন্তোনিও ডি সেইন্ট এক্সুপেরী অভিজ্ঞ পাইলট হিসেবে উত্তর অফ্রিকায় এই ফোর্সে যোগ দেন। ১৯৪৪ সালের জুলাইয়ে এর একটি মিশনে তিনি হারিয়ে যান এবং ধারনা করা হয় মারা যান।
তার স্মৃতিকথা Terre des homes নামে একটি বড় মানবতাবাদী সংঘটনের নামকরন করা হয়েছে।





ভাই কী বলে ধন্যবাদ দিই!
আমি কল্পনাও করি নিই এত দ্রুত অনুরোধ রক্ষা করবেন। যাহোক অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনার ওয়েবসাইট না থাকলে হয়তো এখনো পর্যন্ত কোন বই পড়া হতো না।