দ্য লিটল প্রিন্স – ১৫

অধ্যায় – পনের

ছোট রাজপুত্র ভূগোলবিদের সাথে দেখা করল।

ষষ্ট গ্রহটা তার আগেরটা থেকে প্রায় দশগুণ বড় ছিল। সেখানে থাকতেন একজন ভদ্রলোক যিনি বড় বড় বই লিখতেন।

ছোট রাজপুত্রকে আসতে দেখে তিনি বলে উঠলেন, “আরে! এই তো একজন অনুসন্ধানকারী!”

ছোট রাজপুত্র টেবিলে বসল এবং ছোট ছোট কিছু নিঃশ্বাস ফেলল। সে ইতিমধ্যেই অনেক জায়গা ভ্রমণ করে ফেলেছে!

ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কোথা থেকে এসেছ?”

“এই বড় বইটা কী? আপনি কী করছেন?” ছোট রাজপুত্র পালটা প্রশ্ন করল।

ভদ্রলোক উত্তরে বললেন, “আমি একজন ভূগোলবিদ।”

ছোট রাজপুত্র জিজ্ঞেস করল, “ভূগোলবিদ কী?”

ভূগোলবিদ হচ্ছেন একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যিনি পাহাড়, নদী, সাগর, শহর, মরুভূমি ইত্যাদির অবস্থান জানেন।

এটা খুব ভাল। এখানে শেষ পর্যন্ত একজন লোক পাওয়া গেল যার সত্যিকারের কোন পেশা আছে। ছোট রাজপুত্র ভূগোলবিদের গ্রহের আশপাশে তাকিয়ে দেখল। এটি ছিল তার দেখা সবচেয়ে অসাধারণ এবং মহিমান্বিত গ্রহ।

ছোট রাজপুত্র বলল, “আপনার গ্রহটি অনেক সুন্দর। এতে কোন সমুদ্র আছে?”

ভূগোলবিদ উত্তর দিলেন, “আমি বলতে পারবো না।”

“অহ! তাহলে কি কোন পাহাড় আছে?”

ভূগোলবিদ উত্তর দিলেন, “আমি বলতে পারবো না।”

“তাহলে কোন শহর, নদী, অথবা মরুভূমি?”

“আমি এগুলোও বলতে পারবো না।”

“কিন্তু আপনি তো একজন ভূগোলবিদ!”

ভূগোলবিদ উত্তরে বললেন, “ঠিক বলেছ। আমি একজন অনুসন্ধানকারী না। আমার গ্রহে একজনও অনুসন্ধানকারী নেই। এটা ভূগোলবিদের কাজ না গিয়ে নদী, পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি গোনে দেখা। ভূগোলবিদ এর চেয়ে বরং আলস্যে বসে থাকবেন। তিনি কখনো তার ডেস্ক ছেড়ে যান না। কিন্তু তিনি তার এই অধ্যয়নে অনুসন্ধানকারীর সাহায্য নেন।  তিনি তাদের প্রশ্ন করেন। তারা তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে যা উত্তর দেয় তিনি তা লিখে রাখেন। এবং যদি কোন অনুসন্ধানকারী বর্নিত কোন ঘটনা কৌতুহল উদ্দীপক হয় তাহলে তিনি ঐ অনুসন্ধানকারীর নৈতিক চরিত্র সম্পর্কে তদন্তের আদেশ দেন।”

“এটা কেন?”

“কারণ একজন অনুসন্ধানকারী যে মিথ্যা কথা বলে সে ভূগোলবিদের বইয়ে ভয়াবহ বিপর্জয় ডেকে আনতে পারে। ঠিক তেমনি একজন মদ্যপ অনুসন্ধানকারীও পারে।”

“কিন্তু এটা কেন হয়?” ছোট রাজপুত্র প্রশ্ন করল।

“কারণ নেশাগ্রস্ত লোক এক জিনিসের জায়গায় দুইটা জিনিস দেখে। এক্ষেত্রে দেখা যাবে ওর কথা শোনে ভূগোলবিদ একটা পাহাড়ের জায়গায় দুইটা লিখে বসে আছেন।”

ছোট রাজপুত্র বলল, “আমি এরকম একজনকে চিনি। যে আপনার খারাপ অনুসন্ধানকারী হতে পারে।”

“হ্যা। এটা খুব সম্ভব। অনুসন্ধানকারীর নৈতিক চরিত্রের তদন্তের পর তার আবিষ্কার নিয়ে আরেকটি তদন্তের আদেশ দিতে হয়।”

“কেউ কি গিয়ে ঐ আবিষ্কার দেখে আসে?”

“না। সেটা খুব জটিল হয়ে পড়ে। এজন্য আবিষ্কারের প্রমাণ আনলেই চলে। যেমন কেউ যদি কোন বড় পাহাড়ের কথা বলে তাহলে তার সেই পাহাড়ের একটা বড় পাথর আনলেই হবে।”

ভূগোলবিদ হঠাৎ উৎফুল্ল হয়ে বললেন, “কিন্তু তুমি অনেক দূর থেকে এসেছ। তুমি একজন অনুসন্ধানকারী। তুমি আমাকে তোমার গ্রহ সম্পর্কে বলতে পারো।”

ভূগোলবিদ তার বড় রেজিস্টার খাতা বের করে পেনসিলে ধার দিতে শুরু করলেন। প্রথমে অনুসন্ধানকারীদের বর্ননা পেনসিলে লেখা হয়। তারপর প্রমাণের অপেক্ষা করা হয়। ঠিকঠাক মত প্রমাণ অনুসন্ধানকারী হাজির করতে পারলে তবেই তা কলমের সাহায্যে লেখা হয়।

আশাব্যঞ্জক দৃষ্টিতে ছোট রাজপুত্রের দিকে তাকিয়ে ভূগোলবিদ বললেন, “বলো।”

ছোট রাজপুত্র বলা শুরু করল, “আসলে যেখানে আমি থাকতাম ওটা বেশ সুন্দর গ্রহ না। এটা খুব ছোট ছিল। আমার তিনটা আগ্নেয়গিরি ছিল। দুইটা সক্রিয় এবং একটা মৃত। মৃত হলেও সামনে কী ঘটবে তা তো কেউ জানে না।”

ভূগোলবিদও বললেন, “সামনে কী ঘটবে তা কেউ জানে না।”

“আমার একটি ফুলও আছে।”

“আমরা ফুল রেকর্ড করি না,” ভূগোলবিদ উত্তর দিলেন।

“এটা কেন? আমার গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর জিনিস ছিল ঐ ফুলটি!”

ভূগোলবিদ উত্তর দিলেন, “আমরা ওগুলো রেকর্ড করি না। এগুলো হচ্ছে ক্ষণজন্মা।”

“ক্ষণজন্মা – মানে কী?”

ভূগোলবিদ উত্তরে বললেন, “ভূগোল হচ্ছে, এমন কিছু বই যাতে আমরা শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ন জিনিসগুলো লিখে রাখি। যেগুলো কখনো পুরনো হয় না। একটা পাহাড় সাধারনত তার জায়গা পরিবর্তন করে না, একটা সমুদ্র পানিশূন্য হয়ে পড়ে না। আমরা শাশ্বত জিনিসগুলো নিয়েই লিখি।”

ছোট রাজপুত্র বাধা দিয়ে বলল, “কিন্তু মৃত আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হতে পারে! আর ক্ষণজন্মা মানে কী?”

ভূগোলবিদ বললেন, “আগ্নেয়গিরি জীবিত বা মৃত হোক, দুটোই আমাদের কাছে সমান। আমাদের কাছে মুল ব্যাপার পাহাড়। এটি পরিবর্তিত হয় না।”

ছোট রাজপুত্র যে তার জীবনে কোন প্রশ্ন করে উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত থামে নি, পুনরায় প্রশ্ন করল, “কিন্তু ক্ষণজন্মা মানে কী?”

“এর অর্থ যা দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাবার বিপদের মধ্যে আছে।”

“আমার ফুল কি দ্রুত অদৃশ্য হবার বিপদের মধ্যে আছে?”

“অবশ্যই।”

“আমার ফুল ক্ষণজন্মা।” ছোট রাজপুত্র নিজে নিজে বলল। “তার মাত্র চারটি কাঁটা আছে নিজেকে রক্ষা করতে। এবং আমি তাকে একা গ্রহে ফেলে এলাম!”

এই প্রথম সময় ছোট রাজপুত্রের অনুশোচনা হল। কিন্তু সে সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করল, “আপনি আমাকে কোন জায়গা ভ্রমণ করার জন্য উপদেশ দিতে চান এখন?”

ভূগোলবিদ উত্তর দিলেন, “পৃথিবী নামক গ্রহে যাও। এর বেশ সুনাম আছে।”

এবং ছোট রাজপুত্র তার ফুলের কথা ভাবতে ভাবতে চলে গেল।

অধ্যায় – ষোল

কথক পৃথিবীর দীপ প্রজ্বলকদের সম্পর্কে বললেন।

সুতরাং, সাত নম্বর গ্রহটি ছিল পৃথিবী।

পৃথিবী একটি সাধারণ গ্রহ না। এখানে গুনলে প্রায় ১১১ জন্য রাজা (নিগ্রো রাজাদের কথা ভুলে যাওয়া হয় নি, তাদেরও ধরা হয়েছে), ৭০০০ জন ভূগোলবিদ, ৯০০,০০০ জন ব্যবসায়ী, ৭,৫০০,০০০ জন মাতাল, ৩১১,০০০,০০০ জন অহংকারী মানুষ – মোটকথা ২ ০০০ ০০০ ০০০ জন বড় মানুষ।

পৃথিবীর আকার সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে আমি তোমাকে বলতে পারি বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পূর্বে  এখানে ছয়টি মহাদেশে প্রায় ৪৬২,৫১১ জন দীপ প্রজ্বলকের বিশাল বাহিনী লাগত রাস্তার বাতিগুলি জ্বালাতে।

দূর থেকে দেখলে যাদের মনে হবে কোন জমকালো প্রদর্শনী। অপেরার নাচের দলের মত এদের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রিত। প্রথমে নিউজিল্যান্ড এবং অষ্ট্রেলিয়ার দিপ প্রজ্বলকেরা তাদের বাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। তারপর চীন এবং সাইবেরিয়ার বাতি প্রজ্বলকেরা। তারপর রাশিয়া এবং ইন্ডিজের বাতিজ্বালকেরা, তারপর আফ্রিকা এবং ইউরোপের বাতিজ্বালকেরা, তারপর দক্ষিণ আমেরিকা, এবং তারপর উত্তর আমেরিকা। এভাবে এবং তারা কখনো তাদের এই নিয়ম ভঙ্গ করতে পারবে না। তাহলেই এটা হবে চমৎকার।

শুধুমাত্র উত্তর মেরুর মাত্র একটি বাতি জ্বালানোর দায়িত্বে যে আছে সে এবং দক্ষিণ মেরুর একটি বাতির দায়িত্বে থাকা তার সহকর্মী – এই দু’জন শুধুমাত্র পরিশ্রম থেকে বেঁচে যাবে। তাদের বছরের মাত্র দুটি সময়ে ব্যস্ত থাকতে হবে।

অধ্যায় – সতের

ছোট রাজপুত্র সাপের সাথে পরিচিত হল।

যখন কেউ রসিকতা করে তখন এর মাঝে কিছু কিছু সত্য থাকতে পারে।  আমি বাতিজ্বালক বা দীপপ্রজ্বলক সম্পর্কে যা তোমাকে বলেছি হয়ত তা পুরোপুরি সত্য না। আমি জানি এতে যারা আমার গ্রহ চেনে না তারা ভুল ধারনা পেতে পারে।  মানুষেরা পৃথিবীতে খুব ছোট জায়গাব্যাপী বাস করে। বিশ মাইল দৈর্ঘ্য ও বিশ মাইল প্রস্থের একটি মাঠে দুই বিলিয়ন লোক দাঁড়াতে পারবে।  সব মানুষকে একটি ক্ষুদ্র প্যাসিফিক দ্বিপে আটকানো সম্ভব।

বড়রা এটা অবশ্যই বিশ্বাস করবে না যদি তুমি তাদের বলো। তারা মনে করে তারা খুব বেশি জায়গা দখল করে আছে।  তারা নিজেদের ভাবে বাওবাব গাছের মত গুরুত্বপূর্ন। তুমি তাদের উপদেশ দিবে যেন তারা নিজেরা হিসেব করে নেয়। তারা ছবি বা ফিগার খুব পছন্দ করে। এগুলি তাদের খুশি করবে। কিন্তু অতিরিক্ত কাজ করতে গিয়ে তোমার সময় নষ্ট করো না। আমি জানি আমার প্রতি তোমার বিশ্বাস আছে।

ছোট রাজপুত্র যখন পৃথিবীতে আসল তখন চারপাশে কোন মানুষ না দেখে সে অনেক আশ্চর্য হয়েছিল। চাদের উজ্জ্বল আলোতে যখন সোনার কুন্ডলীর মত সাপের শরীর চমকে উঠল, তখন সে ভুল করে অন্য কোন গ্রহে চলে এসেছে ভেবে কিছুটা ভয় পেল।

ছোট রাজপুত্র বিনীতভাবে বলল, “শুভ সন্ধ্যা।”

সাপ উত্তরে বলল, “শুভ সন্ধ্যা।”

“এটা কোন গ্রহ যাতে আমি নেমে এসেছি?” ছোট রাজপুত্র জিজ্ঞেস করল।

উত্তরে সাপ বলল, “এটি পৃথিবী। এই জায়গা আফ্রিকা।”

“অহ! তাহলে কি পৃথিবীতে কোন মানুষ নেই?”

সাপ বলল, “এটি মরুভূমি। মরুভূমিতে কোন মানুষ নেই। পৃথিবী অনেক বড়।”

ছোট রাজপুত্র একটি পাথরে বসে পড়ল এবং আকাশের দিকে মাথা তুলে তাকাল।

“আমি বিস্মিত! যেন আকাশের এই তারাগুলি স্বর্গে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে একদিন আমরা আমাদের নিজেকে খোঁজে পাই। আমার গ্রহের দিকে তাকাও। এটা ঠিক ওইখানে আমাদের উপরে। কিন্তু আসলে কত দূরে!”

সাপ বলল, “এটা অনেক সুন্দর। তুমি কীজন্য এখানে এসেছে?”

ছোট রাজপুত্র বলল, “একটা ফুলের সাথে আমার কিছু সমস্যা হচ্ছিল।”

“অহ!” সাপ বলল।

তারপর তারা উভয়েই কিছুক্ষণ নিরব থাকল।

ছোট রাজপুত্র আবার কথা শুরু করল, “মানুষেরা কোথায়? এখানে মরুভূমি কিছুটা নির্জন জায়গা…”

সাপ উত্তরে বলল, “মানুষের মাঝেও এই জায়গাটা নির্জন।”

ছোট রাজপুত্র স্থির দৃষ্টিতে অনেকক্ষন সাপটির দিকে তাকিয়ে রইল।

শেষ পর্যন্ত সে বলল, “তুমি একটি মজার প্রানি। একটি আঙ্গুলের থেকে তুমি মোটা না।”

সাপ বলল, “কিন্তু আমি একজন রাজার আঙ্গুলের থেকেও বেশি ক্ষমতাশালী।”

ছোট রাজপুত্র হাসল।

“তুমি বেশি ক্ষমতাবান না। তোমার পাও নেই। তুমি ভ্রমণ করতেও পারবে না…”

সাপ উত্তরে বলল, “আমি তোমাকে এতদুর বহন করে নিয়ে যেতে পারি যা একটা জাহাজও পারবে না।”

সাপ নিজেকে ছোট রাজপুত্রের পায়ে জড়িয়ে ফেলল একটি ব্রেসলেটের মত করে।

সাপ আবার বলল, “আমি কাউকে স্পর্শ করলে তাকে ঐ জায়গায় পাঠিয়ে দিতে পারি যেখান থেকে সে পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু তুমি নির্দোষ, এবং তুমি এসেছে দূরের তারকা থেকে…”

ছোট রাজপুত্র কোন উত্তর দিল না।

সাপ বলল, “তোমার প্রতি আমার মায়া জন্মেছে। এই গ্রাণাইটের পৃথিবীতে তুমি খুব দূর্বল। আমি তোমাকে কোনদিন সাহায্য করতে পারি, যদি তুমি কখনো তোমার গ্রহের জন্য খুব বেশি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ো, তাহলে আমি…”

ছোট রাজপুত্র বলল, “আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি। কিন্তু তুমি সব সময় এমন হেঁয়ালি পুর্ণ কথা বলো কেন?”

উত্তরে সাপ বলল, “আমি সব হেঁয়ালির সমাধান করি।”

এবং তারা উভয়েই নিরব হয়ে গেল।

অধ্যায় – আঠার

ছোট রাজপুত্র মানুষের খোঁজে বের হল এবং একটি ফুলের দেখা পেল।

ছোট রাজপুত্র মরুভূমি অতিক্রম করে একমাত্র ফুলের দেখা পেল। এটি ছিল তিন পাঁপড়ির একটা ফুল, কোন কাজেরই না।

“শুভ সকাল,” ছোট রাজপুত্র বলল ফুলটিকে।

ফুলটাও বলল, “শুভ সকাল।”

ছোট রাজপুত্র শান্তভাবে জিজ্ঞেস করল, “মানুষেরা কোথায়?”

ফুল অনেক আগে একটি ক্যারাভানকে যেতে দেখেছিল।

সে বলল, “মানুষেরা? আমার মনে হয় তারা ছয় সাত জন আছে। আমি তাদের কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম। কিন্তু কেউ জানে না তাদের কোথায় পাওয়া যাবে। বাতাস তাদের উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাদের কোন শেকড় নেই এবং এটাই তাদের জীবনকে কঠিন করে তোলে।”

“বিদায়,” বলল ছোট রাজপুত্র।

ফুল উত্তরে বিদায় জানাল।

অধ্যায় – উনিশ

ছোট রাজপুত্র একটি পর্বত শ্রেণী বেয়ে উঠল।

এরপর ছোট রাজপুত্র একটি উঁচু পাহাড় বেয়ে উঠল। একমাত্র পাহাড় যা সে চিনত, তাতে তিনটি আগ্নেয়গিরি ছিল এবং সেটি ছিল তার হাটুর সমান। এবং সে মৃত আগ্নেয়গিরিকে পা রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করত।

ছোট রাজপুত্র ভাবল, “এই পাহাড়ের মত উঁচু পাহাড় থেকে আমি পৃথিবীটাকে একবারেই দেখতে পারব এবং মানুষদেরও…।”

কিন্তু সে সুইয়ের মত ধারালো পাহাড়ের চূড়া ছাড়া কিছুই দেখতে পেল না।

সে বিনীত ভাবে বলল, “শুভ সকাল।”

প্রতিধ্বনি হল, “শুভ সকাল, শুভ সকাল, শুভ সকাল…”

“তুমি কে?” ছোট রাজপুত্র জিজ্ঞেস করল।

“তুমি কে? তুমি কে? তুমি কে?”  উত্তর আসল প্রতিধ্বনি থেকে।

“কিন্তু আমার বন্ধুরা, আমি খুব একা,” সে বলল।

প্রতিধ্বনি উত্তর দিল, “আমি খুব একা, খুব একা, খুব একা।”

“কি বিচিত্র গ্রহ! এটি একইসাথে শুকনো, ধারালো, কঠোর এবং ভয়ংকর। এবং লোকগুলির কোন চিন্তা করার ক্ষমতা নেই। তারা যা শোনে তাই বলে। আমার গ্রহে আমার একটি ফুল ছিল যা সর্বদাই প্রথমে কথা বলত…।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *