আদিবাসী লোককথা – দ্বিতীয় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
আদিবাসী লোককথা – দ্বিতীয় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
(সৌজন্যে – Sisir Suvro)
.
আফ্রিকার আদিবাসী লোককথা
ইঁদুর সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। সর্দারের শক্ত বাড়ির অনাচে-কানাচে থেকে গরিব মানুষের রান্নাঘর, সব জায়গায় ইঁদুর ঘুরে বেড়ায় ইঁদুর গল্পের সন্তান বুনল। এই গল্পগুলো হলো ইঁদুরের ছেলেমেয়ে। ইঁদুরের মতো ছোট্ট নগণা চঞ্চল একটি প্রাণীকে আফ্রিকার আদিবাসী মানুষ পশুকথার নায়ক করে তুললেন। এই মানসিকতার মধ্যেই আফ্রিকার লোককথার প্রাণ লুকিয়ে রয়েছে। পশুকে ঘিরে অগুণতি গল্পের জাল বুনেছেন এদেশের মানুষ। লোকপুরাণে দেবতাদের সম্পর্কেই গল্প বেশি থাকে, আফ্রিকার লোকপুরাণেও পশু-পাখির মেলা। অধিকাংশ দেবতাই পশুপাখি।
আফ্রিকার লোককথার একটি বিশেষত্ব রয়েছে। লোককথার আন্তর্জাতিকতা সর্বজনস্বীকৃত। স্বাধীনভাবেই এগুলো গড়ে উঠেছে। কিন্তু আফ্রিকার লোককথা আক্ষরিক অর্থে মাইগ্রেটেড হয়েছে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি বিস্তৃত এলাকায়। উপনিবেশবাদীরা একসময় ক্রীতদাস আনতেন আফ্রিকা থেকে। তাদের উত্তরপুরুষেরা লোককথার অলিখিত মৌখিক ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছেন। তাদের আদি বাসভূমির অন্য কোনো স্মৃতি আজ বেঁচে নেই, বেঁচে নেই তাদের মাতৃভাষা,-কিন্তু পুরুষ পরম্পরায় লোকসংগীত ও লোককথা আজও সজীব রয়েছে। এই অর্থে আফ্রিকার আদিবাসীদের লোককথা যেভাবে বিশ্বপরিক্রম করেছে তার আর কোনো নজির নেই। অন্য অনেক দেশের লোককথা অনূদিত হয়ে গ্রন্থাকারে নানাস্থানে প্রচারিত হয়েছে, কিন্তু লোকসমাজ সেগুলো কোনোভাবেই গ্ৰহণ করেন নি, সাক্ষর হয়েও নয়। আসলে সেগুলো পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, ঐতিহ্যের গভীরে সেগুলো প্ৰবেশধিকার পায় নি। এই ক্ষেত্রে আফ্রিকা সত্যিই বিশ্বজয় করেছে।
আফ্রিকার লোককথার সংখ্যা কত? এ ব্যাপারে ভারত ছাড়া আর কোন এলাকাই তার পাশে দাঁড়াতে পারবে না। আফ্রিকায় যে হাজার হাজার আদিবাসী গোষ্ঠী রয়েছেন, তাদের একটি গোষ্ঠীরও সমস্ত লোককথা আজ পর্যন্ত সংগৃহীত হয়নি। ১৮৩৮ সালে এম. এ. ক্লিপাল আমেরিকার ইণ্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয় হাজার আফিকার লোককথার একটি পঞ্জি প্ৰকাশ করেন। কিন্তু বিশাল লোককথা ভাণ্ডারের কতটুকুই বা সেদিন অনুদিত হয়েছিল? বি. স্ট্রাক ১৯২৫ সালে বার্লিনে আফ্রিকার লোককথা বিষয়ে একটি গ্রন্থ প্ৰকাশ করে অনুমান করেছিলেন, আড়াই লক্ষ লোককথা আফ্রিকার আদিবাসীদের মধ্যে রয়েছে। আধুনিক গবেষকগণ এই সংখ্যাকে বহুগুণ বাড়াবার সপক্ষে। কেননা, এখনও পৰ্যন্ত বহু আদিবাসী গোষ্ঠীর তেমন কোনো লোককথার সংগ্ৰহ প্ৰকাশিত হয় নি।
আফ্রিকার আদিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘ লোককথা প্ৰায় অনুপস্থিত। এই গ্রন্থের ‘যাদু আয়না ও সুন্দরী মেয়ে’র মতে রূপকথা প্রায় বিরল। এল, ফ্রোবেনিয়াস ও ডি. সি. ফক্স ১৯৩৭ সালে নিউ ইয়র্ক থেকে প্ৰকাশিত ‘আফ্ৰিকান জেনেসিস’ গ্রন্থে কয়েকটি দীর্ঘ লোককথা প্ৰকাশ করেছিলেন। আধুনিক লোকসংস্কৃতিবিদগণ মনে করেন, লোককথার আদি রূপ খুব সংক্ষিপ্ত ছিল। পরবর্তীকালে কথকের চিন্তা মিশে সেগুলি দীর্ঘ হয়েছে। কেননা, আদিম মানুষ বিস্তৃত চিন্তাকে সুত্রবদ্ধ করতে অপারগ ছিলেন। তাই, দুটো গল্প যদি একই বিষয় ও নায়ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, তবে সংক্ষিপ্ত গল্পটিকে পুরনো ঐতিহ্য-অনুসারী বলে এর মত দিয়েছেন। এই হিসেবে আফিকার অধিকাংশ লোককথা পুরনো কালের মৌখিক ঐতিহ্যকে বহন করে বয়ে এসেছে। অবশ্য, অনেক সময় একটি কেন্দ্রীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে গল্পের চক্র গড়ে উঠেছে। একটি সূত্র যুক্ত করে গল্প থেকে অন্য অন্য গল্প গাথা হয়েছে। এগুলো অধিকাংশই প্রবঞ্চক ধূর্ত ট্যাটনের (টি কস্টার ) গল্প।
আফ্রিকার আদিবাসী লোকপুরাণ ও কিংবদন্তির মধ্যে আদিবাসী ইতিহাসের সন্ধান করছেন অনেকেই। কেননা, অলিখিত মৌখিক উপাদান ছাড়া অন্য পথ অবশিষ্ট নেই। হয়তো একদিন যা ছিল সামাজিক ইতিহাস, পরে তাই হয়ে উঠেছে লোককথার প্রাণবস্তু। কিছু কিছু সূত্রও পাওয়া যাচ্ছে নিঃসন্দেহে, কিন্তু এখনও অনুসন্ধান সম্পূর্ণ হয়নি। এই শ্রমসাধ্য পদ্ধতি সকল জাতির ইতিহাস-অনুসন্ধানে একদিন পরম সহায়ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।
আফ্ৰিকার আদিবাসী কথকেয়। যখন সন্ধ্যার আধো-অন্ধকারে লোককথা বলতে শুরু করেন, তখন তাকে মনে হবে তিনি শুধুই গল্প-বলিয়ে নন, তিনি অভিনেতা, তিনি নাট্যকার। বিভিন্ন চরিত্রে বিচিত্র সংলাপে তিনি একাই অভিনয় করে চলেছেন, নাটকীয় জল বিস্তার করে চলেছেন।
অন্যান্য সকল দেশের আদিবাসীদের মতো আফ্রিকার আদিবাসীদের কাছে এসব লোককথার কাহিনী অবাস্তব নয়, জীবনের মতোই সত্য। এগুলো অবশ্যই ঘটেছে,-তারা সামান্য অবিশ্বাসও প্ৰকাশ করবেন না। মানুষের নানাবিধ দুষ্কর্মের জন্য আজ আর এসব ঘটে না। কিন্তু যা তারা গল্পে শুনছে তা সর্বাংশে সত্য বলে মানছেন। এখানে লোককথা ও আদিবাসী জীবনের মধ্যে কোনো কৃত্রিম ব্যবধান নেই। তাই প্ৰতিদিনের কাজকর্মে লোককথাগুলোর সামাজিক মূল্য ও তাৎপৰ্য রয়েছে। এখনও আফ্ৰিকার আদিবাসী গোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষের জীবনাচরণকে এইসব লোককথা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে। আফ্রিকার আমাজুলু আদিবাসী গোষ্ঠীর একটি গল্পে রয়েছে, এই দুনিয়ায় কত কিছুই না ঘটে, আমরা জানি না, জানে ঐ নুয়ে পড়া বুড়োবুড়িরা। আমরা জানি না, কিন্তু ওদের কথাও অবিশ্বাস করি না। অবিশ্বাস করতে নেই।
.
ভারতের আদিবাসী লোককথা
ভারতের বিশাল প্ৰাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ উপনিবেশবাদীদের বহুকাল থেকে আকৃষ্ট করে এসেছে। ভারতবর্ষ দীর্ঘদিন আগেই উপনিবেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিদেশিরা আমাদের দেশের আদিবাসীদের মধ্যে তাদের শাসনের জাল তেমনভাবে বিস্তার করেননি, যেমন করেছিলেন আফ্রিকায়। কিছু আদিবাসী গোষ্ঠী বিদেশিদের সংস্রবে এসেছিলেন, খনি ও চা বাগিচায় শ্রমিক হয়েছেন, স্বাধীনতা হরণের অপচেষ্টা রুখতে বিদ্রোহ করেছেন, খ্ৰীস্টিয় মিশনারীদের দ্বারা প্ৰলুব্ধ ও ধর্মান্তরিত হয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ গোষ্ঠীই এই ছোঁয়াচ থেকে বেঁচে গিয়েছেন। আর ‘ভদ্রলোক হিন্দু জনগোষ্ঠী’র মানুষের আদিবাসীদের সঙ্গে কোনোকালে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন নি। স্বাধীনতার পরে রাস্তাঘাট, খনি এলাকার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ উন্নয়ন প্রভৃতির ফলে যোগাযোগ সহজ হয়ে আসছে। এইসব কারণে আমাদের দেশের আদিবাসী সংস্কৃতি অনেকাংশে অপরিচিতই থেকে গিয়েছিল। তাদের উন্নত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিস্তৃত পরিচয় আমরা পাই কিছু উদারহৃদয় বিদেশিদের মাধ্যমে। তাদের অক্লান্ত নিষ্ঠা ও পরিশ্রমে অসংখ্য লোককথা সংগৃহীত হয়েছে। কিন্তু যা সংগৃহীত হয়েছে তার হাজার গুণ বেশি লোককথা মৌখিক ঐতিহ্যেই রয়ে গিয়েছে।
ভারতীয় আদিবাসী লোককথা যে কত সমৃদ্ধ তার পরিচয় এই স্বল্পসংখ্যক প্ৰকাশিত গল্পগুলো থেকেই অনুধাবন করা যাবে।
ভারততত্ত্ববিদ কিছু পণ্ডিত মনে করতেন, ভারতের বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, পঞ্চতন্ত্র, পিলাপের গল্পসংগ্রহ থেকে অসংখ্য গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের একপ্ৰান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিষয়টি উলটো দিক থেকে বিচার করার সময় এসেছে। এবং বর্তমানের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিসম্পন্ন লোকসংস্কৃতিবিদরা সেইভাবেই চিন্তা করে চলেছেন। রামকথা গ্রথিত করবার জন্য কবি বাল্মীকি নাকি তার শিষ্যদের দূর-দূরান্তে পাঠিয়েছিলেন। রামের কাহিনী তারা সংগ্রহ করে আনবেন। একটি দৃষ্টান্তের মধ্যেই প্রকৃত সত্য নিহিত রয়েছে। লোকসমাজের মধ্যে ঐতিহ্যবাহিত হয়ে যেসব কাহিনী আবহমান কাল ধরে চলে আসছে, শিষ্যদের মাধ্যমে সেসব কাহিনী শুনেই কবি বাল্মীকি সেগুলিকে লিখিত আকার দিয়েছিলেন। অবশ্য মহাকবির মনের মাধুরী, যুক্ত হয়েই সেগুলো গ্রথিত হয়েছিল। বাইরে থেকে আরোপিত কোনো লোককথা লোকসমাজ বেশিদিন মনে রাখেন না! আপনি সমাজের নিজস্ব সৃষ্টিই তাদের ঐতিহ্যে বহমান থাকে। তাই বেদ থেকে পিলপের সংগ্ৰহ পৰ্যন্ত সমস্ত গ্রন্থেই যেসব লোককথা রয়েছে তার অধিকাংশই এসেছে লোকসমাজের মৌখিক ঐতিহ্য থেকে। আর এই লোকসমাজের এক বিরাট অংশই হলেন ভারতীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠি। যা সত্য তা কারও ভালো-লাগা মন্দ-লাগা কিংবা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না। লোকসমাজ থেকে লোককথা উন্নত লিখিত সাহিত্যে অনুপ্ৰবেশ করেছে,– এই সত্য নিয়ে আজ আর কোনো তর্ক চলে না।
দু-একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, মহাভারতের শান্তিপর্বে ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে ‘সন্ধিবিগ্রহের সময়-মার্জার মুষিক বৃত্তান্ত” শুনিয়েছেন। এই পশুকথাটি আজ থেকে সত্তর বছর আগে বস্তার জেলার মারিয়াদের মধ্যে থেকে সংগৃহীত হয়েছে। যে বৃদ্ধার কাছে সংগ্ৰাহক গল্পটি শোনেন, তিনি মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না, রামায়ণ-মহাভারতের নাম শোনেন নি। তাকে পাঁচবার বিভিন্ন দিনে গল্পটি বলতে বলা হলে একইভাবে গল্পটি তিনি শোনান। তার রক্তে-চিন্তায় মিশে ছিল এই মৌখিক ঐতিহ্য। লোকসমাজের লোককথাই লিখিত উন্নত সাহিত্যে স্থান পেয়েছে। মহাভারতের শান্তিপর্বের “আকৃতজ্ঞের অধোগতি-কুক্কুর-শরভ বৃত্তান্ত” গল্পটি সংগৃহীত হয়েছে মধ্যভারতের গোন্দ আদি বাসী এক বৃদ্ধের কাছ থেকে। এই বৃদ্ধের সামাজিক অবস্থান একই রকমের। এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। পঞ্চতন্ত্রের অনেক গল্পের উৎসস্থান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মৌখিক সাহিত্য।
যে কয়েক হাজার আদিবাসী লোককথা সংগৃহীত হয়েছে তার বৈচিত্র্য ও ঐশ্বৰ্য আমাদের বিস্মিত করে। এদের লোককথার প্রতিটি বিভাগই সমানভাবে উন্নত। আমাদের দেশের সকল আদিবাসী গোষ্ঠী অত্যন্ত দরিদ্র, অধিকাংশই ভূমিহীন ক্ষেতমজুর কিংবা ভাগচাষী, সবচেয়ে অনুর্বর জমিতে চাষ করেন, অরণ্যের সম্পদ থেকে বঞ্চিত, পুরনো অধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন, আলোকিত জনসমাজের সঙ্গে নিবিড় একতা অনুভব করেন না,-এসবই সত্যি। কিন্তু তাদের অনন্য মৌখিক ঐতিহ্যবাহিত লোককণার পরিচয় পেলে মনে হবে, সে সংস্কৃতি তথাকথিত উন্নত সংস্কৃতির চেয়ে কোনো অংশে খাটো নয়। তাদের সংস্কৃতি বৃহৎ ভারতীয় বটবৃক্ষের সবুজ সতেজ পত্রগুচ্ছ, যেমন অন্য সংস্কৃতির পত্রগুচ্ছও একই গাছে পাশাপাশি মিলেমিশে রয়েছে।
.
আমার কথাটি
এক সময় পাশ্চাত্যের ভারততত্ত্ববিদ নৃতাত্ত্বিক লোকসংস্কৃতিবিদ পণ্ডিতজন মনে করতেন, পৃথিবীর যাবতীয় লোককথার উৎসস্থান ভারতবর্ষ। এই মূল ভূখণ্ড থেকেই অন্য প্ৰান্তে লোককথা ছড়িয়ে পড়েছিল। ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে তারা বলেছিলেন, সুদূর অতীতকাল থেকেই ভারতের সঙ্গে বহির্বিশ্বের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ঘটেছিল। বেদ-উপনিষদ-রামায়ণ-মহাভারত-পুরাণ-পঞ্চতন্ত্র প্রভৃতির বিশাল গল্পভাণ্ডার দেখে তারা এই সিদ্ধান্থে এসেছিলেন। বহুকাল ধরে এই বিশ্বাস দৃঢ় ছিল।
এর কিছু পরবর্তী সময়ে ভারতবর্ষের পাশে আফ্রিকার নামও যুক্ত হল। অর্থাৎ, তারা বললেন, ভারতবর্ষ ও আফ্রিকা থেকে লোককথা অন্যত্র ছডিয়েছে। অবশ্য আজকের দিনে মাইগ্রেশনের এই তত্ত্ব বাতিল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তবু মনে রাখতে হবে, এই দুই ভূখণ্ডের গল্প-সম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য একদিন তাদের এভাবে ভাবাতে বাধ্য করেছিল।
ব্যাপক মাইগ্রেশনের এই তত্ত্ব বর্তমানে কোনোভাবেই বিশ্বাস করার উপায় নেই। তবু আফ্রিকা ও ভারতের আদিবাসীদের লোককথায় সামাজিক মনের এক আশ্চৰ্য সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। এই দুই ভূখণ্ডের আদিবাসীগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি গল্প বলেছেন পশুকে ঘিরে। খরার ফলে জীবনে দুঃসহ কষ্ট, অনুর্বর জমিতে চাষের দুর্বিসহ যন্ত্রণা, সামাজিক অবিচার-বারবার গল্পে চিত্রিত হয়েছে। সামাজিক বঞ্চনা ও প্রতিকূল পরিবেশ অসংখ্য গল্পের প্রাণ।আয় ট্যাটনের লোককথার বৈচিত্র্য তো অনন্য।
আদিবাসীদের লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যে আমরা যেন গৰ্ববোধ করতে পারি। কেননা, এই মহান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী আমরা সকলেই।



Leave a Reply