যে গল্পের শেষ নেই

যে গল্পের শেষ নেই

ছোট ছোট উঁচু-নিচু পাহাড়। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে এক নদী। নদীর দুপারে দুটি গ্রাম। চওড়া নদী, টলটলে জল। দু গাঁয়ে থাকে ইঁদুর। অনেক অনেক ইদুর। পাহাড়ের কোলে, গাছের কোটরে তাদের সুন্দর বাড়ি। কোন দুঃখ নেই।

সব দিন সমান যায় না। একবার গাঁয়ে হল প্রচণ্ড খরা। সব ফসল জ্বলে গেল, সব ফল ছোটতেই ঝরে পড়ল, সরস বিট-গাজর মাটিতেই শুকিয়ে গেল। খাবার মতো কিছুই রইল না। নদীর জল খেয়ে তো আর বেঁচে থাকা যায় না?

পাতা-ঝরা এক গাছের নীচে সভা বসল। বুড়োরা বলল, আমরা অনেক দেখেছি। ফসল হতে আরও এক বছর লাগবে। না খেয়ে বেঁচে থাকা যাবে না। ছোটরা তো আগে মরবে। চলো, অন্য গাঁয়ে যাই। নদীর ওপারে অন্য গাঁয়ে। সুদিন এলে আবার ফিরে আসব।

বিশাল এক ডিঙিতে তারা উঠল। সবাই উঠল। ডিঙি ভেসে চলেছে। তাদের চোখে জল, তবু নতুন আশায় বুক নাচছে। খিদে আর কত সহ্য করা যায়!

মাঝ নদীতে ডিঙি। ওপার থেকে একটা ডিঙি এসেছে মাঝ নদীতে। কোথায় চলেছ? ওপারে। এপারে ভীষণ খরা। সব কিছু পুড়ে গিয়েছে। কিছু নেই খাবার। তা, তোমরা? তোমরা চলেছ কোথায়? ওপারে। এপারে সব শেষ। সব ফসল নষ্ট। কিছু নেই খাবার।

কথা নেই কারও মুখে। নদীর দুপারে দু গাঁয়ে একই অবস্থা। ওপারে গিয়ে লাভ নেই, এপারে এসে লাভ নেই। তাহলে? বাঁচার কোন পথ নেই। শুকিয়ে মরে কোন লাভ নেই। সবাই মিলে ঠিক করল, সুন্দর ঠান্ডা টলটলে জলে ডুবে মরবে। সেই ভালো।

একটা ইঁদুর চু চু করে কাঁদল। লাফ দিল জলে। হাবুডুবু খেল। তলিয়ে গেল জলে। আর একটা ইঁদুর চু চু করে কাঁদল, লাফ দিল জলে। হাবুডুবু খেল। তলিয়ে গেল জলে। আর একটা ইঁদুর চু চু…আর একটা ইঁদুর……..আর একটা…….আর….

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *