২. মনোজবাবুর সঙ্গে গল্প

।। ২ ।।

মনোজবাবুর সঙ্গে গল্প করার পর দু’দিন বাদে একেনবাবুর বাড়িতে আড্ডা মারছি, এক ভদ্রলোক একেনবাবুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। দেখে মনে হল আমাদেরই বয়সি। তাই “আপনি’ করে লিখছি না। পরিচয় দিল শুভেন্দু মিত্র বলে।

“মনোজদার কাছে আপনার কথা শুনে এসেছি।”

সঙ্গে সঙ্গেই কানেক্ট করতে পারলাম। এর বোনই মার্ডারড হয়েছে!

আমাদের দিকে একঝলক তাকিয়ে শুভেন্দু একেনবাবুকে বলল, “অসময়ে এসে আপনাকে বিরক্ত করলাম না তো?”

“আরে না স্যার। ছুটিতে আছি, সময় অসময় কি? এমনি বসে বসে গল্প করছি।” তারপর একটা চেয়ার দেখিয়ে বললেন, “বসুন, স্যার, বসুন।”

শুভেন্দু বসতে বসতে বলল, “আমাকে আবার ‘স্যার’ বলছেন কেন, আপনি আমার দাদার মতো।”

প্রমথ গম্ভীর ভাবে বলল, “উনি ওঁর ভাইপোকেও ‘স্যার’ বলেন।”

অচেনা কারোর কথার পিঠে এ ধরণের মন্তব্য করা যে নিতান্ত অভদ্রতা সেটা প্রমথকে কে বোঝায়! শুভেন্দু যে একটু অপ্রস্তুত হয়েছে পরিষ্কারই বুঝলাম।

“স্যার’-টা ইগনোর করুন।” প্রমথ যোগ করল। “হ্যাঁ, আচ্ছা মানে.” শুভেন্দু ঠিক কী বলবে বুঝতে না পেরে একেনবাবুর দিকে তাকাল।

একেনবাবু আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনি যা বলার এঁদের সামনে স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন। আমাকে এঁরা নানা ভাবে সাহায্য করেন। আমরা একটা টিম।”

এই কথায় কাজ হল। শুভেন্দু শুরু করল, “আমি মনোজদার আন্ডারে কাজ করতাম। মনোজদাই বললেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। মনোজদা বোধ হয় আপনাকে বলেছেন আমার বোনের কথা।”

“হ্যাঁ স্যার, আমি শুনেছি। খুবই স্যাড ব্যাপার স্যার।”

“ছ-মাস হয়ে গেল ও মার্ডারড হয়েছে, কিন্তু পুলিশ কিছু কিনারাই করতে পারেনি। আমার মনে হয় পারবেও না বা করতে চায় না।”

“এটা কেন বলছেন স্যার?”

“প্রথমে যিনি তদন্ত করছিলেন, তিনি ভরসা দিয়েছিলেন দোষী ধরা পড়বেই। তারপর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। তার বদলে যিনি এসেছেন তিনি কোনো কথাই বলেন না। প্রশ্ন করলে বলেন, যা করার আমরা করছি।”

“এখন কে ইনভেস্টিগেট করছেন?”

“অধীর মুখার্জী বলে একজন।”

“আমি তো তাকে চিনি!”

“চেনেন! তাহলে আপনি যদি ওঁকে একটু চাপ দেন। তার থেকেও ভালো হয় আপনি নিজে প্রাইভেটলি যদি কেসটা নেন। মনোজদার কাছে আপনার অনেক সুখ্যাতি শুনেছি। আপনার কীর্তিকাহিনির কথাও বইয়ে পড়েছি…।”

আরও হয়তো দুয়েকটা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে যাচ্ছিল শুভেন্দু। কিন্তু একেনবাবু থামিয়ে দিয়ে বললেন, “অধীরের কাছে আমি নিশ্চয় খোঁজ নেব স্যার। কিন্তু আমি এখানে আছি আর সপ্তাহ দুয়েক। এর মধ্যে তো কিছু করে উঠতে পারব না।”

“আপনার কথা আমি পিসিকে বলেছি। ওঁর একান্ত অনুরোধ আপনি কেসটা নিন। পিসি নিজেই আসতেন, কিন্তু খাট থেকে পড়ে গিয়ে ক’দিন হল উনি শয্যাশায়ী। বেবি ছিল পিসির একমাত্র মেয়ে। তার খুনি এত বড়ো পাপ করেও শাস্তি পাবে না, তিনি ভাবতে পারছেন না। আমি অবশ্য এখানে আসার আগে পিসিকে বলেছিলাম, আপনি নিউইয়র্কের ডিটেকটিভ, নিশ্চয় আপনার ফি কয়েক লাখ টাকা। পিসি আপনাকে বলতে বলেছেন নিজের সোনাদানা যা আছে সব বেচে আপনার প্রাপ্য উনি মিটিয়ে দেবেন, শুধু খুনিকে ধরিয়ে দিন।”

“আরে ছি ছি, স্যার, টাকার প্রশ্ন উঠছে কেন! সমস্যাটা ফি নিয়ে নয়, সমস্যাটা হল সময়ের।”

শুভেন্দু একটু চুপ করে থেকে বলল, “পিসিকে তাহলে কী বলব?”

আমার খারাপ লাগল। আমি একেনবাবুকে বললাম, “কেসটা না হয় নাই নিলেন, কিন্তু একটু দেখুনই না, পুলিশকে কিছু সাহায্য করতে পারেন কিনা।”

এতে যেটুকু কাজ হল, তার থেকে বেশি কাজ হল একেবউদির কথায়। একেনবউদি কখন কাজের মেয়েটিকে নিয়ে চা দিতে ঢুকেছেন খেয়াল করিনি। একেনবউদি বোধহয় ভেতর থেকে আমাদের কথা শুনছিলেন। একেনবাবুকে বললেন, “একটা মেয়ে খুন হল, দেখো না কী করতে পারো।”

একেনবাবু শুভেন্দুবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “এরপর আর ‘না’ বলি কী করে স্যার। কেসটা না নিলেও যতটুকু পারি সাহায্য করব। নিন স্যার, চা খান।”

“থ্যাঙ্ক ইউ।” শুভেন্দু একেনবউদির দিকে একবার কৃতজ্ঞদৃষ্টিতে তাকাল।

.

চা খেতে খেতে দুয়েকটা মামুলি কথাবার্তার পর একেনবাবু বললেন, “এবার আপনার বোন আর খুনের ব্যাপারে যতটুকু জানেন বলুন।”

শুভেন্দু একটু চুপ করে থেকে শুরু করল

“নন্দিতা আমার একমাত্র পিসির একমাত্র মেয়ে। আমার থেকে বছর আটেকের ছোটো, পঁচিশ বছর সবে পূর্ণ হয়েছিল যখন মারা যায়। পিসেমশাই মারা গিয়েছিলেন নন্দিতা যখন স্কুলে পড়ে। সেই থেকে ও বড়ো হয়েছে ওর ঠাকুরদার বাড়িতে, বর্ধমান জেলার গুসকরা টাউনে। আমার নিজের কোনো বোন নেই, ওকে আপন বোন হিসেবেই দেখেছি চিরকাল। পিসেমশাই মারা যাবার পর পিসি প্রায়ই কলকাতায় আমাদের বাড়িতে আসতেন, আমরাও নিয়মিত গুসকরায় দেখা করতে যেতাম।

নন্দিতা যখন স্কুলের পড়া শেষ করে কলকাতায় পড়বে ঠিক করল, তখন বাবা বললেন, আমাদের সঙ্গে ও থাকবে। পড়াশুনোয় ভালো ছিল, যাদবপুরে চান্স পেয়ে গেল। ও যখন ফাইনাল ইয়ারে, বাবা হঠাৎ মারা গেলেন। সরকারি কোয়ার্টার ছেড়ে আমরা কোথায় যাব সে নিয়ে অনিশ্চয়তা। নন্দিতার কাকা তখন কলকাতায় মেয়েদের এক হস্টেলে ওর থাকার বন্দোবস্ত করে দিলেন। বি.এ পাশ করে আর পড়া হল না। বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। নিজের চেষ্টাতেই সাউথ সিটি মল-এ সেলসের কাজ জোগাড় করে ফেলল। সেখানে কাজ করতে করতেই সল্টলেকে ভালো মাইনের একটা চাকরি পেয়ে গেল। কল সেন্টারের কাজ। নাইট ডিউটি –রাত সাড়ে নটা থেকে সকাল সাড়ে ছটা। অফিসের গাড়ি রাত আটটার সময়ে তুলে নিয়ে যেত আর সকাল আটটা নাগাদ বাড়ি পৌঁছে দিত। ফলে ওর সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ কমই হত।

মাস ছয়েক আগে নন্দিতার অফিস থেকে একটা ফোন পেলাম। এমার্জেন্সির জন্যে আমার নম্বরটা ওদের কাছে ছিল। তখনই জানতে পারলাম অফিসের গাড়ি গতকাল রাতে তুলতে গিয়ে ওকে পায়নি। ফোনেও ওকে পাওয়া যাচ্ছে না! নন্দিতা বাইরে কোথাও গেলে আমাকে অন্তত জানায়। দু’দিন আগেও কথা হয়েছে। কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়নি তো?

যার সঙ্গে নন্দিতা মাঝে মাঝে ঘুরত, তাকে আমার মোটেই ভালো লাগত না। বয়সে নন্দিতার থেকে অনেকটাই বড়ো, চল্লিশের কাছাকাছি। পড়াশুনো কদুর কে জানে! স্কুল প্রকৃতি, কথাবার্তায় সোফেস্টিকেশনের অভাব। রেন্টাল কারের বিজনেস ছিল, প্রমোটারিও করত শুনেছি। নন্দিতা ওকে সমুদা ডাকত। ওর হস্টেলের কাছে মোড়ের মাথায় ছিল সমুদার অফিস। আমি মাকে কিছু না জানিয়ে সোজা সেখানে চলে গেলাম। লাকিলি সমুদাকে অফিসে পেয়ে গেলাম। নন্দিতা কোথায় জিজ্ঞেস করাতে সমুদা কেমন জানি থতমত খেয়ে গেল। আমি বললাম কাল রাত থেকে নন্দিতার খবর পাওয়া যাচ্ছে না, এর মধ্যে নন্দিতার সঙ্গে ওর কোনো কথা হয়েছে কি না। যদিও মুখে বলল হয়নি, কিন্তু বলার ধরনটা আমার ভালো লাগল না। মনে হল কিছু যেন গোপন করছে!

আমি সমুদাকে নিয়েই নন্দিতার হস্টেলে গেলাম। হস্টেলের সিকিউরিটি আমায় চেনে। বুঝলাম সমুদাকেও চেনে। তাই গেট খুলে দিল। নন্দিতার ঘরের দরজাটা বন্ধ, কিন্তু একটু ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। তখনই দেখলাম বীভৎস দৃশ্যটা! বিছানায় শোয়া অর্ধ-নগ্ন দেহ –উপর দিকটায় কিছু নেই, নীচে শুধু শালোয়ারটা রয়েছে। মাথাটা একদিকে হেলানো, গলায় দড়ি বাঁধা, বুক পেট রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

আমি আর্তনাদ করে ঘর থেকে ছুটে বেড়িয়ে এসে কোনোমতে পুলিশকে ফোন করলাম। আমার ভয়ার্ত চিৎকার শুনে নীচের সিকিউরিটি গার্ডও ছুটে এসেছে। পুলিশ না আসা পর্যন্ত আমরা নীচেই দাঁড়িয়ে রইলাম। হস্টেল-সুপার, নামটা ঠিক মনে নেই, পাশের বাড়িতে থাকেন। সিকিউরিটির কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনিও এলেন। ওঁর কাছেই শুনলাম আগের রাতে নাকি নন্দিতা ফোন করেছিল হোস্টেলে ফিরতে একটু দেরি হবে বলে। উনি রাত দশটার সময় একবার দেখে যান সবাই ঘরে ফিরেছে কি না। কেউ যদি রাত করে তাহলে ওঁকে জানিয়ে রাখে, যাতে তিনি অযথা দুশ্চিন্তা না করেন। সুতরাং নন্দিতা কারোর সঙ্গে বাইরে বেশ রাত করে ছিল। সেইজন্যেই আমার মনে হচ্ছিল সমুদা কিছু একটা লুকাচ্ছে!”

“ইন্টারেস্টিং স্যার,” একেনবাবু এতক্ষণ বাদে মুখ খুললেন। “কখন মিস নন্দিতা ফিরেছিলেন সেই রাতে?”

“সেটা কেউ জানে না। হস্টেলে ঢোকার দুটো দরজা। বোর্ডাররা সাইডের দরজা চাবি দিয়ে খুলে ঢুকতে পারে। ভিসিটারদের সামনের দরজা দিয়ে ঢুকতে হয়।”

“ব্যাপারটা ঠিক ক্লিয়ার হচ্ছে না স্যার। সামনের দরজা দিয়ে ঢুকলে সিকিউরিটি গার্ডের সামনে দিয়ে যেতে হয়, আর সাইডের দরজা শুধু লক থাকে, সেখানে কোনো গার্ড থাকে না সেটা বুঝলাম। কিন্তু সেখান দিয়ে ঢুকলে সিকিউরিটি গার্ড দেখতে পারে না কেন?”

“আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। হস্টেলটা চারতলা। সামনের দরজা দিয়ে ঢুকলে একটা লবি। সেখানে সিকিউরিটি গার্ড বসে থাকে। লবির পেছনে বাঁদিকে ওপরে যাবার লিফট। ডানদিকে দুটো সিঁড়ি নেমে একটা ছোট্ট প্যাসেজ। তার পাশে সাইডের দরজা। চাবি দিয়ে সাইডের দরজা খুলে লবিতে আসা যায় আবার উলটো দিকের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে যাওয়া যায়। কেউ যদি সাইডের দরজা দিয়ে ঢুকে সেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে যায়, তাহলে সিকিউরিটি গার্ডের চোখে নাও পড়তে পারে।”

“পায়ের আওয়াজ তো কানে আসবে স্যার।”

“মেট্রন যখন প্রশ্ন করেছিলেন তখন গার্ড বলেছিল কোনো আওয়াজ ও শোনেনি। পুলিশ অবশ্য গার্ডকে অনেক জেরা করেছে শুনেছি। পুলিশ আর কিছু জেনেছে কি না জানি না। সমুদাকেও জেরা করেছে। আমাকেও একবার থানায় ডেকেছিল, কাদের সঙ্গে নন্দিতার পরিচয় আছে জানতে। এছাড়া আমি সন্ধ্যেবেলা থেকে কোথায় ছিলাম, রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম কি না, এই নিয়ে নানান প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। বাড়িতে এসে মা’র সঙ্গেও কথা বলে গিয়েছিলেন বিকাশবাবু, অধীরবাবুর আগে যিনি কেসটা হ্যাঁন্ডেল করছিলেন।”

“ঠিক আছে স্যার, আমি অধীরের সঙ্গে কথা বলব। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যে কী করে উঠতে পারব বলতে পারছি না। আপনার মোবাইল নম্বরটা দিয়ে যান।”

শুভেন্দু নম্বরটা একটা কাগজে লিখে পকেট থেকে একটা ফোটো বার করল।

“নন্দিতা মারা যাবার কয়েকদিন আগে তুলেছিলাম।” চোখটা চিকচিক করে উঠল শুভেন্দুর। “জানি না ছবিটা আপনার কোনো প্রয়োজনে লাগবে কি না, কিন্তু আপনার জন্যেই একটা কপি এনেছি।”

“থ্যাঙ্ক ইউ স্যার,” ছবিটা হাতে নিয়ে ভালো করে দেখে একেনবাবু আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন।

প্যান্টস আর টপস পরা একটি যুবতী। অবিন্যস্ত ঘন চুল কানের ওপর দিয়ে আলগা করে পেছনে বাঁধা, কপালে ছোট্ট একটা টিপ, কানে ঝুমকো দুল। টানা ভুরুর নীচে আয়ত চোখ, নাকটা টিকালো, নীচের ঠোঁটটা একটু মোটা। দীর্ঘ গ্রীবা, সেটাকে জড়িয়ে একটা সরু হার বুকের খাঁজ পর্যন্ত নেমে এসেছে। শুধু সুন্দরী নয়, বেশ একটা সেক্সি ভাব আছে।

“কিছুদিন থাকুক স্যার এটা আমার কাছে,” একেনবাবু বললেন। “ আচ্ছা, মিস নন্দিতার পুরো নামটা কী ছিল?”

“নন্দিতা ঘোষ।”

“আর এই যে সমুবাবুর কথা বললেন, তাঁর পুরো নামটা কি?”

“সেটা বলতে পারব না। ভালো নাম বোধহয় সৌমেন বা সমীর।”

“আই সি। সমুবাবুর ঠিকানাটা কি আপনার জানা আছে?”

“গোলপার্ক থেকে বেরিয়ে কাঁকুলিয়া রোডের মোড়ে সাউথ কার রেন্টাল। বড়ো সাইনবোর্ড লাগানো, নম্বরটা মনে নেই।”

“ইনি ছাড়া অন্য কোনো বন্ধুর নাম বা ঠিকানা স্যার?”

“ভাস্বতী বলে ওর আরেক বন্ধু ছিল। মাঝেমধ্যে সে আমাদের বাড়িতে এসেছে।”

“উনিও কি কল সেন্টারে কাজ করতেন?”

“না, ভাস্বতী ওর সঙ্গে যাদবপুরে পড়ত। পরে কোনো একটা এয়ার লাইনে কাজ পেয়েছিল শুনেছি।”

“আর কেউ?”

“না, আর কারও কথা আমি জানি না।”

“সমুবাবুর সঙ্গে আপনার পরিচয় হল কী করে স্যার?”

“হঠাৎ করেই পরিচয়। একদিন নন্দিতার হস্টেলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখি নন্দিতার সঙ্গে সমুদা হস্টেল থেকে বেরোচ্ছে। নন্দিতা আমাকে এক্সপেক্ট করেনি। যাই হোক, তখনই পরিচয় হল।”

“ঠিক আছে স্যার, আপনার ফোন নম্বরটা তো দিয়েছেন, এরমধ্যে দরকার পড়লে যোগাযোগ করব।”

শুভেন্দু নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিল।