০১. গাড়ির দরজাটা বন্ধ হওয়ার পর

গাড়ির দরজাটা বন্ধ হওয়ার পর কাকাবাবু জানলার কাচ খুলে একবার ওপর দিকে তাকালেন। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সন্তু। মনখারাপের ভাবটা সে কিছুতেই লুকোতে পারছে না। কাকাবাবু বাইরে যাচ্ছেন, কিন্তু এবার সঙ্গে যেতে পারছে না সন্তু। কিছুতেই সম্ভব নয়। পরশু থেকে তার পরীক্ষা আরম্ভ।

কাকাবাবু বারবার বলেছেন, তিনি এবার কোনও অ্যাডভেঞ্চারে যাচ্ছেন না। কোনও রহস্য-টহস্যের ব্যাপার নেই। এমনিই বেড়াতে যাচ্ছেন বিমানের সঙ্গে। বড়জোর দিন সাতেক থাকবেন। সন্তু তাতেও কোনও সান্ত্বনা পায়নি। কাকাবাবু যেখানেই যান, সেখানেই কিছু-না-কিছু একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার ঘটে যায়।

কাকাবাবু ওপরের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়লেন। সন্তুও হাত নাড়ল বটে, কিন্তু তার মুখে হাসি ফুটল না।

কাকাবাবু বসেছেন সামনে ড্রাইভারের পাশে। পেছনে বিমান আর তার স্ত্রী দীপা। গাড়ি চলতে শুরু করার পর বিমান বলল, সন্তু বেচারা এল না বটে, কিন্তু ও কি এখন পড়াশোনায় মন বসাতে পারবে?

কাকাবাবু বললেন, আজ সকালটা ছটফট করবে বটে, তারপর ঠিক মন বসে যাবে। পরীক্ষার একটা ভয় তো আছে।

বিমান বলল, না, কাকাবাবু আজকাল দেখেছি ছেলেমেয়েরা পরীক্ষার আগে বিশেষ ভয়টয় পায় না। এখন সব সিস্টেম তো পালটে গেছে। বেশি মুখস্থ করারও দরকার হয় না।

কাকাবাবু বললেন, আমার ছোটবেলার কথা মনে আছে, ইস্কুলের ফাইনাল পরীক্ষার আগে প্রতি বছর ভয়ে বুক কাঁপত। প্রত্যেকবার মনে হত, এবার ঠিক ফেল করব! তাই শেষের দিনটায় ভাবতাম, ফেলই যখন করব, তখন আর পড়ে কী হবে? তাই টেক্সট-বইয়ের বদলে সেদিন গল্পের বই পড়তাম।

বিমান বলল, তারপর প্রত্যেক বছরই ফাস্ট হতেন। সবাই জানে, আপনি জীবনে কখনও শেষ পরীক্ষায় সেকেন্ড হননি।

কাকাবাবু হো হো করে হেসে উঠে বললেন, ও একটা বাজে গুজব বুঝলে! শেষের দিকে দু-একবার ফার্স্ট হয়েছিলাম, তাই অনেকে বলে আমি প্রত্যেক পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছি।

দীপা জিজ্ঞেস করল, সত্যিই আপনি কখনও সেকেন্ড-থার্ড হয়েছেন?

কাকাবাবু বললেন, অনেকবার। প্রত্যেকবার আমি ফার্স্ট হব, এমন স্বার্থপর আমি নই। অন্যরা কী দো করেছে? আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল সুপ্রিয়, সে এখন ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কে বড় কাজ করে। সে কখনও সেকেন্ড হলে তার চেয়ে আমার বেশি কষ্ট হত।

দীপা বলল, তাই আপনি ইচ্ছে করে তাকে ফার্স্ট করাতেন?

কাকাবাবু আবার হেসে বললেন, আরে না, না! সে আমার চেয়ে অনেক ভাল ছেলে ছিল। ইস্কুলে আমি ছিলাম বেশ ফাঁকিবাজ। ক্লাসের পড়ার বইয়ের চেয়ে গল্পের বই পড়ার দিকে ঝোঁক ছিল খুব। আর খুব কবিতা মুখস্থ করতাম।

দীপা বলল, আমি তো ইস্কুলে পড়াই। আমি লক্ষ করেছি। যেসব ছেলেমেয়ে শুধু টেক্সট বুক মুখস্থ না করে নানা রকম বাইরের বই পড়ে, তারাই কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট হয়। তারা অনেক বেশি শেখে।

বিমান বলল, আর ছোটবেলায় কবিতা মুখস্থ করলে তা মানুষ কখনও ভোলে না। আমি ক্লাস সিক্সে পড়বার সময় সুকুমার রায়ের সব কবিতা মুখস্থ করেছিলাম। ক্লাস এইটে উঠে পুরো মেঘনাদবধ কাব্য। আজও সবটা মনে আছে। দেখবে? সম্মুখ সমরে পড়ি বীর চূড়ামণি, বীরবাহু চলি যবে গেলা যমপুরে অকালে, তখন কহ গো দেবী অমৃতভাষিণী…

দীপা বলল, থাক, থাক, তোমাকে আর পরীক্ষা দিতে হবে না!

কাকাবাবু বললেন, কহ গো দেবী, না কহ হে দেবী?

বিমান বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, কহ হে দেবী! বাঃ, আপনারও তো বেশ মনে আছে!

দীপা বলল, আর কয়েকটা দিন পরে, সন্তুর পরীক্ষাটা হয়ে গেলে আমরা যদি যেতাম ভাল হত। সন্তু থাকলে বেশ মজা হয়।

বিমান বলল, দেরি করবার যে উপায় নেই। সামনের সোমবার থেকে বাড়িটা ভাঙতে শুরু করবে।

দীপা বলল, অত পুরনো বাড়ি। ভাঙবার সময় সাপটাপ বেরোবে না তো?

বিমান গম্ভীর মুখ করে বলল, বলা যায় না। শুনেছি, একতলার ঘরগুলো বহুদিন বন্ধ আছে। সেখান থেকে অজগর কিংবা পাইথন বেরোতে পারে। আর তহবিলখানার দিকে ভূত-পেত্নি তো আছেই, সে বেচারারা কোথায় যাবে কে জানে!

দীপা বলল, আমি সোমবারের আগেই ফিরতে চাই। বাড়ি ভাঙা-টাঙা আমি দেখতে পারব না!

গাড়িটা এলগিন রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের বাড়ির কাছেই আর-একটা বাড়ির সামনে থামল। বিমান ড্রাইভারকে বলল, দুবার হর্ন দাও।

এখান থেকে আর একজনকে তুলে নেওয়া হবে। এর নাম অসিত ধর। বিমানের এক বন্ধুর সূত্রে চেনা। এই অসিত ধর বছরের অনেকটা সময় ইংল্যান্ড-আমেরিকায় থাকে। পুরনো দামি জিনিসপত্র কেনাবেচার ব্যবসা আছে, ইংরেজিতে যেগুলোকে বলে অ্যান্টিক। বেশ ভাল ব্যবসা।

অসিত ধর তৈরিই ছিল, হর্ন শুনে নেমে এল।

খয়েরি রঙের সুট পরা বেশ ফিটফাট চেহারা। চোখে সানগ্লাস। সঙ্গে একটা বড় ব্যাগ আর ক্যামেরা।

বিমান কাকাবাবুর সঙ্গে আলাপ জমিয়ে দেওয়ার জন্য বলল, অসিতবাবু, ইনি হচ্ছেন মিঃ রাজা রায়চৌধুরী। খুব বিখ্যাত লোক, আমরা এঁকে কাকাবাবু বলি।

মুখ দেখেই বোঝা গেল, অসিত ধর কাকাবাবুর নাম আগে শোনোনি। কাকাবাবু সম্পর্কে কিছুই জানে না। সে ইংরেজি কায়দায় বলল, গ্ল্যাড টু মিট ইউ!

কাকাবাবু হাতজোড় করে বললেন, নমস্কার!

বিমান অসিত ধরকে পেছনের সীটে তুলে নিল।

গাড়ি আবার চলতে শুরু করলে বিমান বলল, কাকাবাবু, ইনি পুরনো ফার্নিচার, ঘড়ি, ছবিটবির ব্যবসা করেন। আমাদের আলিনগরের বাড়ির সব কিছুই তো বেচে দেব, ইনি দেখতে যাচ্ছেন যদি কিছু পছন্দ হয়।

অসিত ধর বলল, ঠিক সেজন্যও নয়। এমনিই বেড়ানো হবে। অনেকদিন তো কলকাতার বাইরে যাওয়া হয় না, প্রায় সারা বছরই বিদেশে কাটাতে হয়।

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, বিমান, তোমাদের এই বাড়িটা কতদিনের পুরনো?

দীপা বলল, ওটা কিন্তু বিমানদের নিজের বাড়ি নয়। মামাবাড়ি। ওর একমাত্র মামা গত বছর মারা গেলেন। তাঁর কোনও ছেলেপুলে ছিল না। তাই বিমানরা তিন ভাই ওই সম্পত্তি পেয়েছে।

বিমান বলল, হ্যাঁ, প্রায় ফাঁকতালে পেয়ে গেছি বলতে পারেন। আমার মামা খুব কিঞ্জুস ছিলেন। অত বড় বাড়িতে একা-একা থাকতেন, আমাদের কখনও যেতেও বলতেন না। ছোটবেলা কয়েকবার গেছি, ভাল করে কথাও বলতেন না আমাদের সঙ্গে। সেই মামা চুরাশি বছর বেঁচে তারপর মারা গেলেন। ওবাড়ি যে আমরা কখনও পাব, তা ভাবিওনি। মামার মৃত্যুর পর জানা গেল, তিনি কোনও উইল করেননি। তাই মামার উকিল আমাদের তিন ভাইকে ডেকে সম্পত্তি দিয়ে দিল।

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মামা বিয়ে করেননি?

হ্যাঁ করেছিলেন। এক সময় উনি বিলেতে থাকতেন, তখন মেমসাহেব বউ ছিল। সেই মেম-মামিমা এদেশে আসেননি। তিনিও এতদিনে আর বেঁচে নেই। বোধ হয়। আমার আর একজন মামা ছিলেন, ছোটমামা। তিনি তাঁর বিয়ের ঠিক আগের দিন ওই বাড়িতেই মারা যান। এসব অবশ্য আমার জন্মের আগেকার কথা। আমার মা তো বলেন যে, ছোটমামাকে নাকি ওই বাড়িতে ভূতে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলেছিল।

দীপা বলল, মা কিন্তু খুব বিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন কথাটা!

অসিত ধর বলল, সব পুরনো বাড়ি সম্পর্কেই এরকম কিছু ভূতের গল্প থাকে। সেগুলো খুব ইন্টারেস্টিং হয়।

বিমান বলল, বাড়িটা ঠিক কতদিনের পুরনো তা বলতে পারব না। তবে দুশো বছর তো হবেই। আমার মামাদের এক পূর্বপুরুষ নবাব আলিবর্দির কাছ থেকে জায়গির পেয়ে এই বাড়িটা বানিয়েছিলেন শুনেছি।

কাকাবাবু বললেন, আলিবর্দি? তা হলে তো আড়াইশো বছর আগে। আলিবর্দি মারা গেছেন সতেরোশো ছাপান্ন সালে।

দীপা বলল, তার মানে পলাশী যুদ্ধেরও আগে।

কাকাবাবু বললেন, হ্যাঁ, তা তো হবেই। আলিবর্দির নাতি সিরাজদ্দৌল্লা, নবাবি করেছিলেন মাত্র চোদ্দ মাস।

অসিত ধর বলল, ইতিহাসের সাল তারিখ আপনার তো বেশ মুখস্থ থাকে।

বিমান বলল, সন্তু এসব পটাপট বলে দিতে পারে।

কাকাবাবু বললেন, সন্তুর কাছে শুনে-শুনেই তো আমারও মুখস্থ হয়ে গেছে। তা এত পুরনো বাড়ি? আমাদের দেশে এত পুরনো বাড়ি খুব কমই আছে।

অসিত ধর বলল, এত পুরনো বাড়ি ভেঙে ফেলবেন? ইউরোপে এইসব বাড়ি ওরা খুব যত্ন করে রেখে দেয়। যার বাড়ি সে ভাঙতে চাইলেও গভর্নমেন্ট বাধা দেয়।

দীপা বলল, অত বড় বাড়ি ঠিকঠাক রাখার মতন সাধ্য আছে নাকি আমাদের!

অসিত ধর বলল, ফরাসি দেশে পুরনো আমলের রাজা-মহারাজা বা জমিদারদের বিরাট-বিরাট বাড়িগুলোকে বলে শাতো। এইরকম অনেকগুলো শাতো আমি দেখেছি। সেখানে ঢুকতেই চারশো-পাঁচশো বছরের ইতিহাস ফিল করা যায়।

বিমান বলল, কুচবিহারের রাজাদের বাড়িটা দেখেছেন, অত চমৎকার একটা প্রাসাদ, সেটারই কী ভাঙাচোরা অবস্থা এখন। ফরাসি দেশের শাতোগুলোর চেয়ে সেই রাজপ্রাসাদ কোনও অংশে কম সুন্দর ছিল না।

গাড়িটা কলকাতা ছাড়িয়ে বালি ব্রিজ পেরিয়ে দিল্লি রোডে পড়েছে। মেঘলা-মেঘলা আকাশ, গরম নেই, বেড়াবার পক্ষে খুব ভাল সময়।

অসিত ধর ফরাসি দেশের শাতোর গল্প শোনাতে লাগল। বর্ধমানের কাছাকাছি এসে হঠাৎ বৃষ্টি নামল। সে একেবারে সাঙ্ঘাতিক বৃষ্টি। চতুর্দিক অন্ধকার। এই বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালানোও বিপজ্জনক। সেইজন্য ওরা আশ্রয় নিল রাস্তার পাশে এক ধাবায়। গরম-গরম রুটি আর মাংস খাওয়া হল।

বৃষ্টির তেজ কমল প্রায় এক ঘন্টা পরে, তাও পুরোপুরি থামল না। রাস্তার অনেক জায়গায় জল জমে গেছে, গাড়ি চালাতে হল আস্তে-আস্তে।

বীরভূম জেলায় ঢুকে বড় রাস্তা ছেড়ে একটা সরু, কাঁচা রাস্তায় ঢুকতে হল। সে রাস্তায় আবার খুব কাদা। দুবার গাড়ির চাকা বসে গেল। দীপাকে শুধু গাড়িতে বসিয়ে অন্যরা সবাই গাড়ি ঠেলে তুলল।

অসিত ধর সাহেবি ধরনের মানুষ। তার ঝকঝকে পালিশ করা জুতো কাদায় একেবারে মাখামাখি। প্যান্টেও কাদা লেগেছে।

বিমান বলল, ইস, আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম। আমি গত সপ্তাহেও একবার এসেছিলাম, তখন রাস্তা এত খারাপ ছিল না।

অসিত ধর বলল, কষ্ট আবার কী! আমার তো বেশ মজা লাগছে। বেশ একটা অ্যাডভেঞ্চার হচ্ছে।

বিমান বলল, আজ আর বৃষ্টি থামবে না মনে হচ্ছে। আজ সন্ধেবেলা ভূতের গল্প খুব জমবে। পুরনো বাড়িতে এমনিতেই অন্ধকারে গা-ছমছম করে।

দীপা চেঁচিয়ে বলে উঠল, এই খবদার, ভূতটুতের কথা একদম উচ্চারণ করা চলবে না।

অসিত ধর খানিকটা অবাক হয়ে বলল, আপনি ভূত বিশ্বাস করেন নাকি?

দীপা বলল, মোটেই করি না। ভূত বলে আবার কিছু আছে নাকি। কিন্তু ওসব গল্পটল্প শুনতে আমার মোটেই ভাল লাগে না!

বিমান বলল, দীপা বিশ্বাস করে না বটে, কিন্তু অন্ধকারের মধ্যে ভূতের নাম করলেই ও ঠকঠক করে কাঁপে। অসিতবাবু, আপনি ভূতটুত মানেন না নিশ্চয়ই।

অসিত ধর বলল, এত ভাল-ভাল ভূতের গল্প শুনেছি যে, সত্যি বলে মানতে ইচ্ছে করে। ভূত দেখার ইচ্ছেও আছে খুব। ক্যামেরা এনেছি, ভূত দেখলেই ছবি তুলে ফেলব। ফরেনে সেই ছবি দেখলে হইচই পড়ে যাবে।

কাকাবাবু এতক্ষণ চুপ করে শুনছিলেন। এবার হেসে বললেন, ভূতের ছবি? এটা তো বেশ ভাল আইডিয়া! ভূতের গল্পগুলোতে শুধু আঁকা ছবি থাকে, ফোটোগ্রাফ কেউ কখনও দেখেনি!

গাড়ির ড্রাইভার বিলাস সারা রাস্তা কোনও কথাই বলেনি। এবারে সেও আর চুপ করে থাকতে পারল না। সে বলল, স্যার, ওনাদের ছবি তোলা যায় না। আমার এক কাকা একবার চেষ্টা করেছিল, ক্যামেরার ফিলিম সব সাদা হয়ে গেল।

বিমান উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করল, বিলাস, তোমার কাকা নিজের চোখে ভূত দেখেছেন নাকি?

বিলাস বলল, হ্যাঁ, স্যার। আমিও তো দেখেছি। আমি তখন কাকার পাশে ছিলাম!

বিমান বলল, বাঃ বাঃ! এই তো একজন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেল। রাত্তিরবেলা ভাল করে শুনিও তো ঘটনাটা! দীপা বলল, আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর।

অসিত ধর বলল, আমি এমন ক্যামেরা এনেছি, তাতে পুরো অন্ধকারেও ছবি তোলা যায়। ভূত দেখা গেলে তার ছবি উঠবেই!

কাকাবাবু বললেন, এবার মনে হচ্ছে, আমরা এসেই গেছি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *