৬. যষ্ঠ ইন্দ্রিয়

৬. যষ্ঠ ইন্দ্রিয়

ডুমাস বিচ, সুরাট, ২০২৩

রুদ্রাণীরা যখন ডুমাস বিচে পৌঁছল, সন্ধ্যা প্রায় নেমে এসেছে। পার্কিংয়ে গাড়িটা রেখে পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে এল দু’জনে।

তখনও সৈকত জুড়ে দোকানগুলো খোলা। তবে গুটিয়ে কেপার তোরজোর চলছে। সমুদ্রসৈকতে পুলিশও নেমে এসেছে। রুদ্রাণী আর সূর্য এসে দাঁড়াল একটা স্টলের সামনে। সেখানে তখনও ভুট্টাসিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে। দু’জনে দু’প্লেট ভুট্টাসিদ্ধ নিয়ে দোকানের দায়িত্বে থাকা মহিলাটির সঙ্গে কথা শুরু করে দিল।

মহিলাটির কথায় ধ্বনিত হচ্ছিল স্থানীয়দের বিশ্বাসই। এই সৈকতে ভূত আছে। এখানে মাঝেমধ্যেই লাশ ভেসে আসে। রাতের বেলায় হাহাকার শোনা যায়। রাতে কেউ ভুল করে চলে এলে আর ফিরে যেতে পারে না। যে-কারণে রাতে কাউকে এখানে আসতে দেওয়া হয় না।

রুদ্রাণী বুঝতে পারছিল, এই সৈকতটা ঘিরে একটা রহস্যের পর্দা কেনা আছে। কালো সৈকত থেকে অনেকটা দূরে সমুদ্র। এখান থেকে কাউকে জলপথে নিয়ে যেতে হলে তাকে অনেকটা হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তবে এই জায়গাটাও ভীষণ কাদা কাদা। মনে হয় যেন জল ছিল।

মহিলাটির দিকে ফিরে রুদ্রাণী জিজ্ঞেস করল, “সমুদ্রের জল কি দূরেই থাকে?”

মহিলা মাথা নাড়লেন, “না, না। পারের কাছাকাছিও চলে আসে। এই গভীর রাতে বা ভোরের দিকে জলটা আসে।” রুদ্রাণী বুঝল, জোরার যখন আসে, তখন জল বেড়ে যায়।

রুদ্রাণী আর সূর্য পরস্পরের দিকে এক বার তাকিয়ে নিল। অর পরে সূর্য জানতে চাইল, “এখানে জাহাজ দেখা যায়?”

মাঝেমধ্যে যার বইকী। অনেক দূরে সমুদ্রে থাকে। বেশ বড় জাহাজ। তাই দূর থেকেও দেখা যায় দিনের বেলা। রাতে মাঝেমধ্যে আলো দেখা যায় সমুদ্রের বুকে। মাছ ধরা ট্রলারও ঘোরাঘুরি করে।”

কথাবার্তা চলার ফাঁকেই দু’জনে দেখল পুলিশ এসে তাড়া দিচ্ছে দোকানপাঠ বন্ধ করার জন্য। দু’জন কনস্টেবল রুন্দ্রাণীদের দিকে এগিয়ে এসে নির্দেশ দিল, “আপনারা এখন যান। সময় হয়ে গিয়েছে। বিচ খালি করে দিতে হবে।” রুদ্রাণী কী একটা বলতে যাচ্ছিল। লাভ হবে না ভেবে মুখ বন্ধ রাখাই শ্রেয় মনে করল।

দুজনে আবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পার্কিংয়ের দিকে এগোতে লাগল। পার্কিং মানে একটা ফাঁকা মাঠের মধ্যে পর পর রাখা গাড়ি। গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে সূর্য বলল, “কী বুঝলে?”

“জায়গাটা অত্যন্ত সন্দেহজনক। পাচার করার পক্ষে আদর্শ। সামনেই আরব সাগর। আর তার ও পারে…।” রুদ্রাণী কথা শেষ করল না।

সূর্যও মাথা নাড়িয়ে বলল, “আমিও এই রকমই শুনেছিলাম। কিন্তু এখানে আর কিছু করার নেই। আমাদের কাছে কোনও খবরই নেই। কোথায় খোঁজ করব? কী জানতে চাইব?”

রুদ্রাণীও বুঝতে পারছিল, কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে তারা। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টায় এই ডুমাস বিচে এসেছিল। কিন্তু সেই খড়কুটো হাওয়ায় উড়ে গিয়েছে। তাজন্তা মেয়েটার কথা ভেবে বিষণ্ণ হয়ে গেল রুদ্রাণীর মুখটা।

হন্ডা সিটি মাঠ ছাড়িয়ে রাস্তায় পড়ল। রুদ্রাণীদের পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না পিছনে কী ঘটছে। গাড়িটা একটু দূরে যাওয়া মাত্র ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটা লোক মোবাইলটা কানে তুলল – “গাড়িটা এই মাত্র বেরিরে গেল।”

.

একটু এগোনোর পরেই রুদ্রাণীরা দেখতে পেল, পুলিশ রাস্তার ব্যারিকেড করে দিয়েছে। ও দিক থেকে আসা কোনও গাড়ি আর সমুদ্রের দিকে যেতে পারবে না।

অন্ধকার চিরে হন্ডা সিটি একটু এগিয়ে ডুমান রোডে গিয়ে পড়ল। তার পরে এগিয়ে চলল সুরাটের দিকে। ডুমান পুলিশ স্টেশন পার হয়ে আর একটু এগিয়ে বাওরার পরেই ঘটনাটা ঘটল।

সূর্যের নজর সামনের দিকে ছিল। রিয়ার ভিট নিবর দিয়ে কী দো হচ্ছে, সেটা ঠিক খেয়াল করেনি। খেয়াল করেনি যে, পিছনের লরিটা অনেকটাই ছ চলে এসেছে। খেয়াল করার সুযোগও পেল না। কিছু বোঝার আগেই এনে বাবা মারল লরিটা।

অনেক চেষ্টা করেও গাড়িটাকে নিরন্ত্রণে রাখতে পারল না পূর্ব। বাঁ দিকে ঘুরে রাস্তার পাশে একটা লাইটপোস্টে ধাক্কা মারল হন্ডা সিটি। তবে সেই ধাক্কার প্রভাব অনেকটাই সামলে দিল সামনে থাকা এয়ার ব্যাগ দু’টো।

মারাটা ঝনঝন করে উঠল রুদ্রাণীর। চোখে মুহূর্তের জন্য অন্ধকার দেখল। তার পরে নিজেকে সামলে নিয়ে ফিরে তাকাল সূর্যের দিকে। সূর্যও  নিজেকে সামলে নিয়েছে অনেকটা। এয়ারব্যাগ থেকে তত ক্ষণে হাওয়া বেরিয়ে যাওয়ায় সিটবেল্ট খুলে ফেলতে সমস্যা হল না আরোহীদের। তার পরে দু’পাশের দরজা খুলে নেমে এল দুজনে। বাইরে তখন লোক জমতে শুরু করেছে।

সূর্যের কপালের কাছটা ছড়ে গিয়েছে। রুদ্রাণীর ডান কাঁধে অল্প যন্ত্রণা। দু’জনেই সে সব পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে গেল গাড়ির পিছন দিকটায়। ডিকির ডান দিকটা তুবড়ে গিয়েছে। চাকার রিমটা ভেঙেছে। সামনের বনেটটাও জখম। এটা স্পষ্ট যে-আপাতত চালানো যাবে না গাড়িটা। রুদ্রাণীর দিকে ফিরে চাপা গলায় সূর্য বলল, “গাড়িটা আপাতত চলবে না। আমরা আটকে গেলাম।”

রুদ্রাণী প্রশ্ন করতে যাচ্ছিল, কিন্তু থেমে গেল পুলিশের গাড়িটা দেখে। ভিড় সরিয়ে এগিয়ে এল ডুমাস থানার সেই অফিসার।

“কী ভয়ানক কাণ্ড! দুর্ঘটনা ঘটালেন কী করে?”

সূর্য জবাব দেওয়ার আগেই অফিসার ভদ্রলোক এগিয়ে এল, “ওহ মাই গড, আপনাদের তো চোট লেগেছে। তাড়াতাড়ি আমাদের গাড়িতে উঠে পড়ুন। আপনাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।”

সূর্য একটু কড়া গলায় বলল, “লরিটা ধরার ব্যবস্থা আগে করুন।

অফিসার এ বার ঠান্ডা গলায় জবাব দিল, “লরি নিয়ে আপনি ভাববেন না। কিন্তু কলকাতার এক জন সিআইডি অফিসার আর মুম্বই থেকে আসা সিবিআইয়ের এক অফিসার আমার এলাকায় দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে আর আমি তাদের চিকিৎসা করাতে দেরি করেছি, এটা জানাজানি হলে আমার তো চাকরি চলে যাবে!”

গাড়িটার দিকে ইঙ্গিত করে অফিসার একটু কঠিন ভাবেই বলে উঠল, “উঠে পড়ুন, স্যার-ম্যাডাম। এখানকার কেস আমি সামলে নেব। আপনাদের গাড়িটা নিয়েও চিন্তা করতে হবে না।”

রুদ্রাণীরা বুঝল, রাজি না-হলে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। দু’জনে নীরবে গিয়ে স্কোরপিওয়র মাঝের সিটে বসে পড়ল। গাড়ি ছুটতে লাগল সুরাটের দিকে।

শহরে ঢুকে পুলিশের গাড়ি সোজা চলে এল সিভিল হসপিটালে। সেখানে আরও ঘন্টাখানেক কাটল। চিকিৎসা শেষ হতে হতে বেজে গেল রাত দশটা। কর্তব্যপরায়ণ অফিসার তখনও সঙ্গেই ছিল। দু’জনকে দেখে বলল, “যাক, এ বার নিশ্চিন্ত। চলুন, আপনাদের একটা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিই। তার পরে আমার ছুটি। গাড়ি গ্যারেজে চলে গিয়েছে। সারাই হয়ে চলে আসবে।”

সূর্য জানত প্রতিবাদ করে লাভ হবে না। করলও না। শুধু জিজ্ঞেস করল, “লরিটার কোনও হদিশ পাওয়া গেল?”

“আপনারা ও সব নিয়ে একদম ভাববেন না স্যার। সব ঠিক হয়ে যাবে।”

সূর্য কথা না বলে সুরাট পুলিশের গাড়িতে গিয়ে উঠল।

একটা হোটেলে চেক ইন করিয়ে দিয়ে তবে ফেরার পথ ধরল ডুমাস থানার অফিসার। ঘড়িতে রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা।

দু’টো ঘর নেওয়া হলেও দু’জনেই বসে ছিল একটা ঘরে। বসে ছিল বলাটা অবশ্য ভুল। রুদ্রাণী অস্থির হয়ে ঘরের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছিল। কিছুতেই শান্ত হতে পারছিল না।

তার দিকে তাকিয়ে সূর্য বলে উঠল, “কী হল তোমার? সমস্যাটা কোথায়?”

“মনটা খুব খচখচ করছে। কেন জানি না মনে হচ্ছে, আজ রাতেই কিছু একটা হবে।”

“মানে?”

রুদ্রাণী ঘুরে তাকাল সূর্যের দিকে, “ব্যাপারটা তুমি একটু ভাবো। আমাদের মারার জন্য অ্যাক্সিডেন্টটা ঘটানো হয়নি। ঘটানো হয়েছে আমাদের গাড়িটা বিগড়ে দেওয়ার জন্য। আর আমাদের ডুমাসের বাইরে পাঠানোর জন্য। কেউ এক জন চায় না, আজ রাতে আমরা ওই দিকটায় থাকি বা যেতে পারি।”

সূর্য চুপ করে রইল। তার মনেও যে-একটা সন্দেহ তৈরি হয়নি, তা নয়। কিন্তু এখন কী করা যাবে?

সূর্যের অনুচ্চারিত প্রশ্নের জবাবই যেন দিয়ে দিল রুদ্রাণী, “কোনও মতে এক বার যদি ডুমাস বিচে ফিরে যেতে পারতাম। আমার মন বলছে, কিছু একটা হবে আজ রাতে।”

প্রযুক্তি, বুদ্ধি, সোর্সের পাশাপাশি আরও একটা ব্যাপারের উপরে ভরসা রাখে বিশ্বজোড়া পুলিশ ফোর্স। সেটা হল, ইনস্টিংক্ট। অনুভূতি। ষষ্ঠ ইন্দ্ৰিয়। রুদ্রাণীর মতো সূর্যেরও মনে হচ্ছিল, হয়তো সত্যিই আজ কিছু হবে। তাও প্রশ্নটা করে বসল, “এতটা মরিয়া কি ওরা হবে? পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা মেরে দিল?”

রুদ্রাণীর চোখ দু’টো উত্তেজনায় জ্বলে উঠল, “অজন্তাকে অপহরণ করা থেকেই তো পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটা ডেসপারেশনের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই মেয়েটাকে হাতে পেতে ওরা মরিয়া হয়ে আছে। কেন, বলতে পারব না। তবে এইটুকু জানি, এই অজন্তার জন্য গ্যাংটা ঝুঁকির পর ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ওপর হামলাটাও সেই মরিয়া মনোভাবেরই ছাপ।”

অল্প সময় ভাবল সূর্য। তার পরে ফোনটা বার করল পকেট থেকে।

“কাকে ফোন করছ?”

“আমার এক বন্ধুকে। এখানেই থাকে। ওকে একটা গাড়ি নিয়ে আসতে বলছি হোটেলে।”

আধ ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধু চলে এল হোটেলের ঘরে। দ্রুত তাকে পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে দিল সূর্য। সব শুনে বন্ধুর প্রশ্ন, “কী করতে চাস তোরা?”

“আরও এক বার ডুমাস বিচে যাব। রাত দেড়টা-দু’টো নাগাদ জলটা পারের কাছে চলে আসে বলে শুনেছি। কিছু হলে তখনই হবে। এখনও সময় আছে। তোর গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লে পৌঁছে যাব।”

বন্ধু মাথা নাড়িয়ে বলল, “জোয়ারের সময় জলটা কাছে চলে আসে। আজ সেই জোয়ার আসতে অবশ্য এখনও বেশ কিছুটা দেরি।” তার পরে হঠাৎ কী মনে হতে বলল, “তোরা একটা ব্যাপার মাথায় রাখছিস না। এই হোটেলের ব্যবস্থা ওই পুলিশ অফিসারই করে দিয়েছে। ওর চেনা হোটেল। তোরা এত রাতে বেরোলে নিশ্চিত ভাবে খবরটা ওই পুলিশটার কাছে চলে যাবে।”

সূর্য আর রুদ্রাণী কেউ ব্যাপারটা ভাবেনি। তারা সুরাট ছাড়া পর্যন্ত নিঃসন্দেহে নজরদারি চলবে।

বন্ধু আবার বলতে শুরু করল, “আমি দেখে এলাম, রিসেপশনে এক জন লোকই রয়েছে। আমাকে সে ভাবে খেয়ালও করল না। লিফটটা রিসেপশনের সামনে। কিন্তু সিঁড়িটা একটা পাশে। একটা কাজ করা যায়।”

“কী?”

“আমি এই ঘর থেকে রিসেপশনে ফোন করে ওকে ব্যস্ত রাখছি। তোরা সিঁড়ি দিয়ে নেমে বেরিয়ে যা। আমার গাড়িটা হোটেলের সামনেই আছে। ভাগ্য খুব খারাপ না-হলে তোদের কেউ দেখবে না।”

দু’জনেরই মনে ধরল কথাটা। রুদ্রাণী বলে উঠল, “তা হলে আর দেরি করে লাভ নেই।”

সূর্য আবার জুতোটা পরতে পরতে প্রশ্ন করল, “তোমার সঙ্গে কি অস্ত্র আছে? আমার কাছে কিন্তু কিছু নেই।”

“চিন্তা নেই, সঙ্গে পিস্তলটা রয়েছে।”

বন্ধু গাড়ির চাবিটা সুর্যের দিকে ছুড়ে দিয়ে ফোনের দিকে হাত বাড়াল।  সূর্য আর রুদ্রাণী দ্রুত নেমে এল সিঁড়ি দিয়ে।

প্ল্যানটা একটু ছেলেমানুষের মতো হলেও কাজ করে গেল। গাড়িটা যখন আবার ডুমাস বিচের দিকে রওনা দিল, রাত প্রায় একটা।

বিনা ঝামেলাতেই তাদের গাড়িটা চলে এল বিচের প্রায় কাছাকাছি। রাস্তায় বিশেষ গাড়ি-টাড়িও দেখা যায়নি। রুদ্রানী এ বার বলল, “হেড লাইট অফ করে দাও। চাঁদের হাল্কা আলো আছে। তবে বেশি দূর গাড়িতে না যাওয়াই তাল।”

সূর্য হেডলাইট নিভিয়ে আর কিছুটা এগিয়ে গাড়িটা থামিয়ে দিল।

“আমরা ওই পুলিশ চেকপোস্টের কাছে চলে এসেছি। গাড়ির ইঞ্জিন কম শব্দ করলেও আর এগোনো ঠিক হবে না।”

রুদ্রাণীও মাথা নেড়ে সায় দিল। তার পরে দু’জনে নেমে এল রাস্তায়। একটু এগোনোর পরেই চোখে পড়ল পুলিশের ব্যারিকেডটা। কিন্তু এখন ওখানে কেউ নেই। রাস্তার পাশে খালি মাঠটায় নেমে গিয়ে, যতটা সম্ভব নিজেদের আড়ালে রেখে, দ্রুত হাঁটতে শুরু করল রুদ্রাণী আর সূর্য।

অল্প চাঁদের আলোয় অন্ধকারটা যেন আরও জাঁকিয়ে বসেছে। দু’জনেরই দেখতে অসুবিধে হল না মন্দিরটা। সূর্যকে ইশারা করে রুদ্রাণী এগিয়ে চলল মন্দিরটার দিকে। এই মন্দিরের আড়াল থেকে নীচের সৈকতটা দেখা যায়। মানে, এই স্বল্প চাঁদের আলোয় যতটা দেখা সম্ভব।

রুদ্রাণী আর সূর্য দু’জনেই এসে দাঁড়াল মন্দিরটার সামনে। তার পরে নিজেদের আড়াল করে দেখার চেষ্টা করল, নীচে কী হচ্ছে। রুদ্রাণী ভেবেছিল, অন্ধকারে কিছুই দেখা যাবে না। কিন্তু এই সামান্য চাঁদের আলোতেও সৈকতের একটা দৃশ্য আবছা ভাবে ফুটে উঠল রুদ্রাণীদের সামনে।

রুদ্রাণীর হাত চলে গেল কোমরে গোঁজা সার্ভিস পিস্তলটায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *