নাত্‌ – কুটি মনসুর

নাত্‌

৩৬

নবির নাম হৃদয় ভরা যার,
নবিজির নামের বরকতে,
হইয়া যাবি ভব পার।

নূর নবিজির নীতি ধরো, ইসলামী লেবাস পরো,
ধর্ম মেনে কর্ম করো,
কর্ম গুণে হবি পার।

আওয়ালে-আখেরে নবি, জাহেরে-বাতোনে পাবি,
চার তরিকার মর্ম সবি,
দ্বীনের নবির এখতিয়ার।

নবির তরিকা করো সাধনা, খুশি হবেন পাক রাব্বানা,
নূর নবিকে হইলে চেনা,
চিনবি রে পাক পরওয়ার।

[রচনাকাল: ২৬-০৩-১৯৬২]

৩৬

নবি এমন পরশ রতন,
চিনলাম না মন থাকতে ভবে,
আউয়ালে-আখেরে নবি,
উম্মতের কাণ্ডারি হবে।

গাউস-কুতুব, আউলিয়া যারা,
নবিকে চিনেছেন তারা,
ছিলেন নবি আরশ তারা,
প্রমাণ শ্রেষ্ঠ চার কিতাবে।

আউয়ালেতে একিন গাছে,
ছিলেন নবি ময়ূর বেশে,
মানুষ কূলে অবশেষে,
জাহের হলেন এই ভবে।

আবদুল্লার পেশানি হতে,
মা আমেনার উদরেতে,
জাহের হলেন দুনিয়াতে,
মনসুর কয় তারে চিনতে হবে।

[রচনাকাল: ১১.১১.১৯৭৬]

৩৬

মন চলো রে যাই, মন চলো রে,
আমার নবিজির তালাশে চলো রে যাই,
মন চলো রে।

মনোপ্রাণ মোর কান্দে যাইতে রে মদিনা শহরে,
সেথায় নাকি শুইয়া রে আছে,
আমার দিনের পয়গম্বর রে।

নবিজির ঐ রওজার ধূলি রে দুই হাতে তুলিয়া,
আমার দুই চোখে লাগাইতাম রে ধূলি,
সুরমা বানাইয়া রে।

মনসুর বলে, যদি পাইতাম রে নবির চরণখানা,
এ জীবনে ধন্য রে হইতাম,
পুরাইতাম বাসনা রে।

[রচনাকাল: ০৪.০১.১৯৭০; প্রথম কণ্ঠশিল্পী: নীনা হামিদ]

৩৬

আরবও দেশে মোহাম্মদ এসে
শুনাইয়া গেছেন মধুর বাণী,
যে বাণী শুনিলে শান্তি আসে দিলে,
সে নাম ডাকলে জুড়ায় তাপিত প্রাণী।

মোহাম্মদ মোস্তফা নবি দোস্ত খোদার,
এমন নবি কেউ দ্বিতীয় নাই আর।
আখেরাতে উম্মতের ভার,
নবিকে দিলেন পাক রব্বানি।

মানুষের বেশে এলেন নবি হজরত,
পেয়েছিলেন তিনি মহর নবুয়ত।
ত্বরাইতে নিজের উম্মত,
সুপারিশ করবেন নবি সত্য জানি।

[রচনাকাল: ০১.০১.১৯৭৪]

৩৬

নবির দ্বীন সত্য জানো,
শোন রে ভাই মুসলমান,
পাঞ্জেগানা আদায় করো,
পড়ো খোদার পাক কোরান।

রাসুলুল্লার তরিক ধরো,
একশো তিরিশ ফরজ আদায় করো,
রোজা করো, নামাজ পড়ো, ঠিক রাখো নিজের ঈমান।

আল্লাহ্-নবি এক নূরেতে,
মিশে আছে এক সঙ্গেতে,
কালেমা তৈয়বেতে জানা যাবে তার প্রমাণ।

মনসুর বলে এ সংসারে,
নবিকে যে চিনতে পারে,
সুপারিশ করবে তারে কঠিনও হাশর ময়দান।

[রচনাকাল: ০৭.১০.১৯৫৫]

৩৬

দয়াল নবিজি আমার উম্মতের কাণ্ডার,
এমন দরদী নাই আর জগতে।
উম্মতের লাগিয়া কান্দিয়া কান্দিয়া নবি,
সুপারিশ করবেন আল্লার দরবারেতে।

শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত, মারফত,
আছেন মোহাম্মদ চার তরিকাতে।
আউয়ালে-আখেরে, বাতেনি-জাহেরে,
পাওয়া যায় নবিজীরে চার জায়গাতে।

ইঞ্জিল, তাওরাত, জাবুর তিন কিতাবের খবর,
শেষ নবি পয়গম্বর মোহাম্মদ নামেতে।
আবদুল্লার পেরেশানিতে ছিলেন নবি কুদরতে,
জন্মায় নবি মা আমেনার গর্ভেতে।

নবিজির তরে কোরান নাজিল করে,
ইসলাম প্রচার হয় সারা জগতে।
মনসুর কয়, মুমিন ভাই নবি বিনে গতি নাই,
নবির দেখা পাই যেন রোজ হাশরেতে।

[রচনাকাল: ০১.০৮.১৯৫৬]

৩৬

বাদশাহ তুমি দীন দুনিয়ার,
দয়াল নবিজি আমার।
নবিজি পিয়ারা খোদার,
হইলেন উম্মতের কাণ্ডার।

প্রিয় সে নবিজির নূরে
সারা জাহান সৃষ্টি করে,
সেই নবি রে চিনলাম না রে,
ভবে জীবন থাকতে আর।

নবির উম্মত হইয়া সবে,
কোন কাজে কাটাইলাম ভবে?
আখেরাতে পুলসেরাতে,
মন কেমনে হবে পার?

নবি নামের পাগল যারা,
সাফায়াত পাবে তারা,
নামের গুণে হবে তারা অকুল নদী পার।

[রচনাকাল: ২৭.০৮.১৯৮০]

৩৬

হায়, নবিজির প্রেমের প্রেমিক,
হইলো ভবে যে জনা,
নবিজিরে এ সংসারে,
চিনতে পারে কয়জনা?

আবু বকর সিদ্দিক নবির প্রেমেতে মজিলো,
পাও দিয়া সে সাপের গর্ত বন্ধ করে ছিলো।
গর্তের সাপ গর্তে রইলো,
নবিরে কামড় দিতে দিলো না।

ওয়াসকরনী পাগলায় নবির আরেক ভক্ত ছিলো,
ভক্তির জোরে পাগলা রে নবির গায়ের জামা দিলো।
পাগলা ব্যাটা নবির লাইগা,
হইয়াছিলো দিউয়ানা।

ওহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লার দত্ত শহীদ হইলো,
ওয়াসকরনী খবর পাইয়া কি কর্ম করিলো?
পাগলায় নিজের মুখের বত্রিশ দত্ত,
একটাও এই তো রাখলো না।

নবিজির আশেকী ছিলেন বিবি খাদিজায়,
বাদশাহী ছাইড়া দিয়া পরে নবির দেখা পায়।
মনসুর বলে, পরকালে নবি
দেখা দিও মোরে, ভুইলো না।

[রচনাকাল: ১০-০৭-১৯৬২]

৩৭

নাম শুনেছি দয়াল নবি, চোখে দেখি নাই,
উম্মতের কাণ্ডারি নবি, সর্বশাস্ত্রে পাই।

শেষের দিনে আখেরাতে,
পার হইতে পুলসিরাতে,
নিদানকালে হাসরেতে
নবি ছাড়া গতি নাই।

দ্বীনের নবি পয়গম্বর,
আল্লাহর বাণী প্রচার করে,
নবির উম্মত হয়ে কেন,
নবির কথা ভুইলা যাই?

আল্লাহর প্রিয় নবি ভবে,
ভক্তি-বিশ্বাস করতে হবে,
কুটি মনসুর কয়, তার শাফায়াত
আখেরাতে যেন পাই।

[রচনাকাল: ১১-০১-২০০৫]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *