খুঁজি খুঁজি নারি

খুঁজি খুঁজি নারি

আর.পি.এফের ব্যান্ডেল অফিস থেকে কেস ফাইলের কোনো কপি পাওয়া গেল না ঠিকই, কিন্তু ধুলো ঝেড়ে ফাইলটা বার করে দিয়েছিলেন অফিসার। বাকিটা ফর্মালিটিতে আটকাল। ফর্মালি অ্যাপিল করতে হবে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম সামন্তকে।

“কেসটা ঠিক কোনদিকে এগোচ্ছে স্যার?”

“বলা মুশকিল সামন্তবাবু। আচ্ছা এই মণি হালদারের সম্পত্তির পরিমাণ কত হবে আন্দাজ?”

“উরি বাবা! কোটি টাকার মালিক মশাই। কোটি টাকা।”

“কিন্তু মেয়েদের খুব সাধারণভাবে মানুষ করেছেন।”

“হ্যাঁ। রোয়াবে রাখেন বাড়ির লোকেদের।”

“হুম। আবার রান্নার লোক কবিতা বলছে মঞ্জু হালদার দুই মেয়ের প্রতি উদাসীন। ভায়োলেন্ট। বিশেষত ছোট মেয়ের প্রতি। অবশ্য তার কারণটা এতদিনে বুঝেছি। শুধু কনফার্ম করতে হবে।”

“কবিতা খামারু সব বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলে স্যার। গ্রামের মহিলা। বলে কিনা, মৌপিয়া নাকি একদিন বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে বন্ধ দরজার ওপর জুতো ছুঁড়ে মেরেছিল।” সামন্ত স্বভাবসিদ্ধ অবজ্ঞার হাসি হাসলেন; “মণি হালদারের সামনে দাঁড়ালে আমরাই পেচ্ছাপ করে দিই স্যার, আর জুতো ছুড়বে ওইটুকু মেয়ে! কবিতার কথায় বিশ্বাস করবেন না স্যার। আমার ঠাকুমা বলত, ধান একগুণ, আর ঘাস শতগুণ। আর ঘাস জ্বালালে শুধু ধোঁয়াই হয় স্যার।”

“পর্বতো বহ্নিমান ধূমাৎ, শোনেননি আগে? মণি হালদারকে তলব করুন, সেইসঙ্গে কবিতা খামারুকে।”

“ওই কমল মিত্র যা বলেছে, সেটা মণি হালদারকে জিজ্ঞাসা করবেন?” সামন্ত ঢোক গিললেন।

“সেটা আমার ওপর ছেড়ে দিন না। আপনার চাকরি যাবে না’ এটুকু শিওর। একটা জিনিস কি ভেবে দেখেছেন, মৌপিয়া নিজে আলাদা রান্না করে খেত মানে ও ওর বিপদটা বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু কে মিশাচ্ছে সেটা আইডেন্টিফাই করতে পারছিল না। বিষ দিয়ে খুন হচ্ছে না দেখে এইভাবে খুন। বাড়ির লোকের ওপর বৃত্তটা ছোট হয়ে আসছে সামন্তবাবু। বিধানের বিরুদ্ধে চার্জশিট ধোপে টিকবে না, বুঝেছেন? যদি না প্রমাণ করতে পারেন সেদিন রাতে খুনটা ও-ই করেছে।”

“খুন না করলে মুখ খুলছে না কেন? কাছাকাছি সবকটা সেল টাওয়ার ট্রায়াঙ্গুলেশন রিপোর্টে কিন্তু বলছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাম্প হাউজের ৩০ মিটারের মধ্যে কোনো মোবাইল অ্যাক্টিভিটি নেই, একমাত্র বিধানেরটা বাদে।”

“হুম। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা জটিল হলেও কেসটার পরিপ্রেক্ষিতে ভেবে দেখুন। সেকশন 313, সাব-ক্লজ(3) আই.পি.সি বলছে অ্যাকিউজড ইজ নট লায়াবল টু বি পানিশড ফর নট আনসারিং এ কোশ্চেন ডিউরিং এ ইনভেস্টিগেশন। চুপ থাকার জন্য কোর্ট ওকে শূলে দেবে না, উপযুক্ত প্ৰমাণ দাখিল না করার জন্য আপনাকে আমাকে দিতে পারে।”

“হুম।” সামন্ত কিন্তু কিন্তু করেও মেনে নিলেন।

“এই দীর্ঘ নীরবতার পিছনে ওর অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলেও বিষপ্রয়োগের সঙ্গে ওর টিকির যোগ প্রমাণ করতে পারবেন না। দুবছর দেখা বা কথা কোনোটাই হয়নি। বিধানের মোটিভটা ভাবুন। বাবার মৃত্যুর রিভেঞ্জ? নাকি গোপন কোনো রহস্য!”

“তাহলে কী উপায়?”

“হুম উপায়— ওয়েপনগুলোর কী হল?”

“এখনও কোনো লিড নেই স্যার।”

“খুব দরকার। তাড়াতাড়ি। লোকাল সোর্সকে কাজে লাগান। সেই রাতে একটা আনইউজুয়াল মুভমেন্ট হয়েছিল, কারুর কিচ্ছু চোখে পড়েনি! বিধান যদি খুন করে পালায় বা মণি হালদার যদি জামালকে দিয়ে খুনটা করিয়ে থাকে, মানে ছোট মেয়েকে পথে আনতে না পেরে…”

“মানে বিধানের সঙ্গে প্রেম?”

“হ্যাঁ।। বা ধরুন হুঁই মার্ডার কেসে উনি সত্যিই ইনভলভড। বিধানের আশঙ্কা সত্যি। মৌপিয়া প্রেমিকের মন পাওয়ার জন্য মিডিয়ায় বাপের কুকীর্তি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। অতএব…”

“হু। বুঝছি।” রণদীপ সামন্ত ঘাড়ের ঘাম মুছলেন। “কিন্তু জামাল তো সে রাতে কারখানায় ছিল।”

“ফাঁকতালে বেরিয়ে গিয়ে খুনটা করে আসলেই বা কে খেয়াল করেছে সামন্তবাবু! মনিবের মেয়ের খুনটাকে ধর্ষণের রূপ দেওয়ার জন্য পোস্টমর্টেম রেপটা…ছক মিলছে?”

“হুঁ।” সামন্ত উসখুশ করে ওঠলেন।

“দাঁড়ান শেষ হয়নি। কমল মিত্রর সুযোগটা ভুলবেন না। জামাইবাবুর ওপর রাগঝাল মেটানোর বেশ ভালো সুযোগ এটা। মোস্ট প্রমিসিং সন্তানকে মেরে ফেলা। কিন্তু রান্নাঘরের অ্যাক্সেসটা তলিয়ে ভাবুন। হয় বোন না হয় কবিতা। প্রিয়াঙ্কাকে সহযোগী বানানোটা একটু কষ্টকল্পনা। সবথেকে সোজা ক্যাচ কবিতা খামারু। টাকার বদলে সার্ভিস।”

“হুম।”

“নেক্সট প্রিয়াঙ্কা।”

“প্রিয়াঙ্কা!”

“হ্যাঁ। কেন নয়? বিষ দেওয়ার সুযোগ আছে, বোন মরে গেলে প্রপার্টি ওর একার। কিন্তু সেটাই কি একমাত্র কারণ? ঠিক বিশ্বাসযোগ্য নয়। নিজের পোক্ত অ্যালিবাই আছে। যদি করাতে হয় কাউকে দিয়ে করিয়েছে। ওর ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর কল রেকর্ডসটা…”

“আসতে পারি?”

আচমকা একটা মৃদু আওয়াজে কথার তাল কেটে গেল। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে থানার দরজায় দাঁড়িয়ে আছে এক যুবক। চোখে রূপোলি ফ্রেমের চশমা, জিন্সের প্যান্টের ওপর সাদা শার্ট, একটু ঝুঁকে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা।

ওকে দেখে সামন্ত হাঁই হাঁই করে ওঠলেন। “আরে কবে থেকে খবর দিয়েছি, রোজই আজ আসব কাল আসব করে যাচ্ছ। এবার তো ভাই তোমায় কনস্টেবল পাঠিয়ে তুলে আনতে হতো।”

সামন্তর বোমাবর্ষণে ছেলেটা সিঁটকে গেছিল। আমতা আমতা করে বলল, “আসলে শরীরটা ঠিক ছিল না। নাহলে চলে আসতাম।”

সামন্ত আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আনন্দ খুব কাজের ছেলে বুঝেছেন। কম্পিউটারের ধন্বন্তরি। কতবার যে ডিপার্টমেন্টের বাহাত্তরে ডেস্কটপটা ঠিক করেছে তার ঠিক নেই। পার্টসফার্টস যা লাগে ওই কলকাতা থেকে এনে দেয়। দেখ ভাই, এবার জামাকাপড় খুলতে চাইলেই নতুন বউয়ের মতো চিড়িক চিড়িক করে ছিটকে উঠছে,” বলেই সামন্ত খ্যাঁ খ্যাঁ করে একটা বিশ্রী হাসি দিলেন ছেলেটার চোখ মুখ লাল হয়ে গেল। সিপিইউ অন করতেই ডেস্কটপের মাঝবরাবর একটা রুপোলি ঝলক চিড়চিড় করে জ্বলে স্ক্রিনটা আবার ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেল।

“আপনাকে যা যা বললাম, সেগুলো একটু তাড়াতাড়ি করুন।” দরজা দিয়ে বেরোতে গিয়ে ছেলেটার সঙ্গে চোখাচুখি হল। কোনোদিকে মন না দিয়ে কাজ করে চলেছে। সন্ধ্যা নেমেছে বাইরে। মশা ভনভন করছে থানায়। বেরোলেই ছেঁকে ধরছে। ছেলেটাকেও দেখলাম, কাজের ফাঁকে ফাঁকে পা ঝাঁকিয়ে যাচ্ছে। দু একবার নিচু হয়ে পাটা চুলকালো।

গাড়িটাকে আগেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। ইচ্ছা হল, হাঁটতে হাঁটতে মেইন রোডের কাছে গিয়ে একটা অটো নেবো। হাঁটার সুবিধা হচ্ছে হাঁটতে হাঁটতে ভাবা যায়। রাস্তাটাও তুলনামূলক ফাঁকা, মাঝে মধ্যে দু-একটা গাড়ি, বাইক পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। মাথার মধ্যে আর.পি.এফের ফাইলে দেখা রিপোর্টটা ঘুরপাক খাচ্ছিল। কমল মিত্রের হতাশা, রাগ, জাত্যাভিমানের তলায় লুকানো সত্যিটা একমাত্র তুলে আনতে পারে সেই রিপোর্ট।

১৯৯৭ সালে মণিরঞ্জন হালদারের সঙ্গে মঞ্জু হালদারের বিয়ে হয়। কমল মিত্র আর মণি হালদার একই বয়সী হলেও কর্মক্ষেত্রে মণি হালদার সিনিয়র। একই স্টেশনে চাকরি করেন। মঞ্জু হালদারের সঙ্গে আলাপ এবং প্রেম তখনই। কমল মিত্রের নাইট শিফটের সময় বাড়ি থেকে খাবার আনতেন মঞ্জু হালদার। দুই পরিবারের কৌলিন্যের বেজায় পার্থক্য। শিক্ষিত সম্পন্ন বনেদী পরিবার আর যাই হোক ছাপোষা চাষার বাড়ির ছেলেকে মেনে নেবে না, ভালোই জানতেন দুজনেই। ছোটবেলায় মা মারা গিয়েছিলেন মিসেস হালদারের। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, ছোট ভাই শতদল আর বড়দাদা কমল। কমল মিত্রই বাড়ির গার্জিয়ান। কমলের তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও এরা দুজন বিয়ে করেন। কিন্তু বাড়ির সঙ্গে বিশেষত কমলের সঙ্গে মণি হালদারের সম্পর্ক মারাত্মক তিক্ত হয়ে যায়। মুখ দেখাদেখি বন্ধ হওয়া সম্ভব ছিল না, কিন্তু কাজের জায়গায় প্রতিদিনই অসম্ভাব বাড়তে থাকে। বাড়ির বিপুল সম্পত্তিতে মিসেস হালদারের কোনো ভাগ থাকবে না, ডেকে জানিয়ে দেন সিনিয়র মিত্র, মঞ্জু হালদারের বাবা।

২০০০ সালের কাছাকাছি সময় থেকেই ভারতীয় রেল সমস্ত বড়, মাঝারি, ছোটখাটো স্টেশনে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনে। অন্যতম হল রুট রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেমে ব্যাপক বদল। বলা যেতে পারে রেলের ইতিহাসে যন্ত্রনির্ভরতার জয়যাত্রা শুরু সেই সময় থেকে। আগে যে সিগন্যাল লিভারগুলো টেনে সিগন্যাল দিতে হতো, সেগুলো আস্তে আস্তে অবসলিট হতে শুরু করল। তাদের জায়গা নিল দুটো বোতাম। সিগন্যাল বোতাম আর রুট বোতাম। দু চারটে লোকের আর একগুচ্ছ যন্ত্রপাতির ওপর রাজ্যের ট্রেনের দায়ভার।

যেদিনের ঘটনা সেদিন মণি হালদার কেবিনে ডিউটি দিচ্ছেন। কমল মিত্র স্টেশনে। কেবিনের ডেস্কটপে তখন কন্ট্রোল থেকে সিস্টেম মেসেজ ঢুকেছে। মণি হালদারের দায়িত্ব কোন ট্রেন কত নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে যাবে তা স্টেশন ম্যানেজারকে ওভার ফোন ইনফর্ম করা। স্টেশন ম্যানেজার তারপর মাইকে অ্যানাউন্স করবেন। সিস্টেম শো করছিল ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে যাবে।

মণি হালদার ফোনটা তুলে কমলকে ইনফর্ম করলেন। কমলের কানে হিডেন হিয়ারিং এইড— ছোট্ট— কর্ণগহ্বরে ঢুকানো। তখন থেকেই ডান কানে কম শোনেন কমল। এই কথা জানে শুধু বাড়ির লোক আর বিবাহসূত্রে মণি হালদার। আগের দিনই রাতে শালা ভগ্নীপোতের মধ্যে বিকট ঝগড়া হয়ে গেছে। কমল মিত্র জাতপাত তুলে কথা বলেছেন, আর মণি হালদার হিয়ারিং এইডের কথা ডিপার্টমেন্টে জানিয়ে দেবেন বলেছেন। জানালে অবধারিত সিনিয়রিটি লস এবং সাসপেনশন।

আর.পি.এফের রিপোর্ট বলছে কমল মিত্র ভুল করে এক নম্বরকে দুনম্বর শোনেন। এক্সপ্রেস ট্রেন সবাইকে হতচকিত করে এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে এবং প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত শতদল মিত্র সেই ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়।

এর পরের ঘটনাক্রম প্রেডিক্টেবল। শতদল, যে সেই সময়ে মাত্র উনিশ বছরের ছেলে, মঞ্জু হালদারের থেকে পনের বছরের ছোট, যাকে কিনা মিসেস হালদার মায়ের মৃত্যুর পর প্রায় সন্তানজ্ঞানে মানুষ করেছিলেন, তার মৃত্যুতে মিসেস হালদার পাগল হয়ে গেলেন। আর.পি.এফের রিপোর্ট যাই বলুক, কমল মিত্র তাকে বোঝাতে সক্ষম হলেন যে মণিরঞ্জন হালদার, মিত্র পরিবারের প্রতি আক্রোশে এই কাজ করেছেন। একের বদলে দুই শুনতে কমল মিত্রের ভুল হয়নি, কেবিন থেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বলা হয়েছিল। কমল মিত্র সাসপেন্ডেড হলেন এবং তাঁকে ডিমোট করে বীরভূমের প্রান্তিক এক স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হল। হালদার পরিবারে সংকটের শুরু এর পর থেকেই। বিশ্বাসের মতো ভঙ্গুর জিনিসের ওপর টিকে থাকা সম্পর্ক ভাঙতে বেশিদিন লাগে না, তা আমার থেকে আর বেশি কে জানবে! কিন্তু মৌপিয়ার জন্মটা… কমল মিত্রও পরিষ্কার করে কিছু বলেননি… আমার কাছে যেটা আছে সেটা হল আন্দাজ।

আকাশের দিকে তাকালাম। দিনের এই সময়টা এই মফস্বল জুড়ে একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা নেমে আসে। পাখির আওয়াজে কান পাতা দায় হয়, বিশেষতঃ রেল কোয়ার্টারগুলোর সামনে যে বিশাল বটগাছটা আছে তাতে এ সময়ে মেলা বসে যায়। আনমনে কখন এ দিকটা চলে এসেছি খেয়াল করিনি। রেলস্টেশন এলাকা হলেও তেমন জমজমাট নয়। তিনমাথার মোড়, হ্যালোজেন লাইটের নিচে গোটা চারেক দোকান— তেলেভাজার, মুদীর, একটা হোসিয়ারি, খাতাবইয়ের। বিধানের কোয়ার্টারে তালা দেওয়া। একাই থাকত। সরেজমিন একবার তদন্ত করব স্থির করে পাশের দরজায় ঠকঠক করতেই একটি ছেলে দরজা খুলল। ভুরু বিরক্তিতে কুঁচকানো থাকলেও আইডি দেখে সোজা হতে বেশি সময় লাগল না। চাবিটাও সুরুৎ করে বেরিয়ে গেল।

বিধানের ঘরের ভেতরটা ভীষণ অগোছালো। নীল রঙের রঙচটা দেওয়াল। পোস্টার, পতাকা, ফেস্টুনে ভরা মেঝে। বেডরুমটায় একটা রংচটা আলমারি, আর চৌকি। আলনায় হাল ফ্যাশনের জামাকাপড়। চৌকির তলাটায় উঁকি মারতেই কতকগুলো তেলের ড্রাম নজরে এল। টিনের গোলমুখ ড্রাম, ফাঁকা। সারি সারি! প্রতিটা ফাঁকা। টিনের গায়ে তেল চ্যাটচ্যাট করছে এখনও। ড্রামগুলোর পিছনে হাত বাড়াতেই লোহার একটা ভারী কিছু হাতে লাগল। সামনে ধরে টানলাম।

একটা ডাম্বেল! তার দুধারে নাট দিয়ে দুটো করে চাকার মতো ওয়েট লাগানো। টানতেই একদিকের নাট লুজ হয়ে একটা ওয়েট বেরিয়ে এলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *