বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার
আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা –
ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে আগে হর্ণ ব্যবসা।
বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার
প্রকাশক: সৈয়দ মোহাম্মদ রেজওয়ান
প্ৰথম প্ৰকাশ: মে’২০২২
প্রচ্ছদ – পরাগ ওয়াহিদ
.
উৎসর্গ-
দর্শনা বোসের অনুরাগী পাঠকদের উদ্দেশে
.
অগ্নিসম্ভব
বাঘমুণ্ডি, পুরুলিয়া
১লা অক্টোবর, ২০০৫
রাজাকে কদিন আগে ‘আবোল তাবোল’ পড়ে শোনালাম। খুব অবাক হয়েছে, একইসঙ্গে আনন্দও পেয়েছে। বাংলার বাইরে বড় হলে, আরও হাজারটা অপ্রাপ্তির মধ্যে একমাত্র এই অপ্রাপ্তিটার সঙ্গেই বোধহয় আপোষ করা যায় না। যে শিশু ‘আবোল তাবোল’ পড়েনি, তার ছেলেবেলাটা ঠিক কেমন ছিল তা কল্পনা করতে আমার কষ্ট হয়। যেমন ধরা যাক, ভর সন্ধেবেলা; আকাশবাতাস কাঁপিয়ে ঝড় উঠেছে, চারিদিক ঘন অন্ধকার। অথচ সেইবেলা ছাদে উঠে চাঁদটা যে কেমন গর্ গব গবা—স করে, আঁধারে ডুবে গেছে তার তো সেটা দেখাই হল না! কিংবা ঘেমো, চ্যাটচেটে একটা একলা দুপুরে, চিলেকোঠার কোনো এক ঘরে নিজের সঙ্গে সময় কাটাল যে বাচ্চা, সে কি আদৌ জানতে পারল, যে দরজাটার ওপারেই যে আকাশটা দাঁড়িয়ে আছে, তার গা ভর্তি কেমন টকটক গন্ধ? বৃষ্টি নামার পর আগাপাশতলা ভিজতে ভিজতে সে কি কখনও জিভ বার করে বৃষ্টি চেটেছিল? সে কি বুঝতে পেরেছিল, রামধনু ওঠার আগে আকাশের গন্ধটা কেমন মিষ্টি হয়ে যায়?
সুকুমার এক আশ্চর্য মানুষ! সুকুমারের ছবি দেখার আগে, আমার মানসলোকে তাঁর একখানি মূর্তি কল্পনা করা ছিল। আজ ডায়েরি লিখতে বসে, সেই মূর্তিটির কথা বড় মনে পড়ে যাচ্ছে। ছন্নছাড়া বেশের, উস্কোখুস্কো চুলের এক রোগাপাতলা মানুষ, প্রকাণ্ড একটি ফাঁকা মাঠ ধরে দৌড়াচ্ছেন। ডানে বাঁয়ে, আগে পিছে, উত্তরে দক্ষিণে, পুবে পশ্চিমে কোথায় যে যাবেন তা যেন ঠিক নেই। তাঁর গলা থেকে গমগম শব্দে যে শব্দ বেরোচ্ছে, তা গানও হতে পারে, কবিতাও হতে পারে। তাঁর হাতে যে মাদল বাজছে, তা সব বেঠিককে ঠিক করে দিচ্ছে। সব অসম্ভবকে সম্ভব! আমি যেন বহুদূর থেকে সেই শব্দ শুনছি, আর আমার শিরায় শিরায়, রক্তের প্রতিটা কণিকায় উন্মাদের মত কে যেন নাচছে! প্রতিটা মুহূর্তে আমি সেই হাজার হাজার অদৃশ্য বাঁধন অনুভব করতে পারছি যা আমাকে এতকাল আটকে রেখেছে, যাদের ছিঁড়ে আমি খ্যাপার মত, সৃষ্টিছাড়ার মত, একলঘেঁড়ের মত তাঁর দিকে ছুটে যাব। একদিন ঠিক তাঁকে ছুঁয়ে ফেলব, হাঁপাতে হাঁপাতে বলব, “এসেছি-ই-ই-ই, ভুলের ভবে এসে পড়েছি-ই-ই-ই!” নাহ! বড্ড আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। আসলে জীবন যত অনিশ্চিতের দিকে এগিয়ে চলে, ছেলেবেলা তত বেশি বেশি করে মনে পড়ে। সেই মৌয়া গাছের মত, যার মিষ্টি ছায়া, ব্লটিং দিয়ে শুষে, ধুয়ে মুছে সাবধানেতে ঘরে পুষে রাখে লোক। রাজা বলে, আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। তাই বারবার আবোলতাবোলের কথা বলি। ওকে চোখ পাকিয়ে বলেছি, বটে? তুই বুঝি আবোলতাবোলের আসল মানে বুঝিসনি? ও বোকার মত আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল।
বললাম সেকি! আচ্ছা বেশ! চল তোকে মানে বোঝাই। খিচুড়ি কবিতাটা শুনেছিস তো? কেমন হয় যদি নরমসরম সফেদহলুদ হাঁসের গায়ে সজারুর মত কাঁটা গজায়? বোকা একটা ছাগলের ধড়ে বিছের বিষাক্ত লেজখানি জুড়ে যায়? বা ধর, সাদা ফ্যাটেফেটে একটা গরুর পিছনে বাহারি, রঙচঙে মোরগপালক শোভা দেয়? সব কেমন পাল্টে যাবে না? আসলে তো সব ক্যামোফ্লেজ রে! কোনটা কে ধরতেই পারবি না। হাতিমির দশাটাই ভাব, দুটো পথই কিন্তু খোলা রেখেছে। সময় বুঝে জলে ঝাঁপাবে, বা জঙ্গলে পালাবে।
রাজা মাথা দুলিয়ে বলল, তাই তো! তাই তো! এ তো অবিকল…
মানুষের মতো তো? আমি ওর দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে বললাম, রোসো বাপু। আরও আছে। এই যে সুকুমার লিখে গেছেন, “কোন কাঠ পোষ মানে, কোন কাঠ শান্ত, কোন কাঠ টিমটিমে, কোনটা বা জ্যান্ত!” বল দেখি, এই অ্যাত্ত রকম স্যাম্পলের কাঠ নিয়ে তুই রোজ নাড়াঘাঁটা করিস কিনা? ও ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল। বড় বড় চোখ করে জানতে চাইল, তার মানে সুকুমার আদপে আবোলতাবোলে আবোলতাবোল লেখেননি, গভীর কোনো সামাজিক ব্যঙ্গ লিখে গেছেন?
আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম, সে অনেক ভারি ভারি তাত্ত্বিক আলোচনা। শুধু সামাজিক ব্যঙ্গ নয়, রাজনৈতিক স্যাটায়ারও বটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, বিদেশী জিনিস বয়কট, বঙ্গভঙ্গ, কুলীন বামুনদের ন্যাক্কারজনক ব্যবহার… অতশত বোঝাতে গেলে তো মহাভারত লিখতে হবে বাপু! তোর কি ধৈর্যে কুলাবে?
কী আশ্চর্য! রাজা একবারেই রাজি হয়ে গেল। পুরো আলোচনাটা শেষ করার পর বলল, ওর মাথায় নাকি দারুণ একটা প্ল্যান এসেছে। কী প্ল্যান জিজ্ঞাসা করতে অদ্ভুত একটা প্রস্তাব দিল।
আমাদের খেলাটা নাকি আবোলতাবোলের নিয়মে খেলতে হবে!





Thank you.
Piya sarkar er ‘brischik’ boiti din.
অধ্যায়গুলো সঠিক ক্রমে নাই
দুঃখিত, এবার ঠিক করে দেয়া হয়েছে। ধন্যবাদ।
Etar ager part brischik ta din
Piya sarkar er “Nihato hawar age o pore” boi ta deben
Operation Blue wings book ta deben please
Piya sarkar er ‘brischik’ boiti upload korun.ota ei golpo tir ager part