হিজরী দ্বিতীয় সালে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা

(১) উন্মুল মু’মিনীন হযরত আইশার সাথে রাসূলে করীমের বিবাহের বিস্তারিত বর্ণনা আমরা ইতোপূর্বে দিয়ে এসেছি। (২) এবং ঐ বছরে সংঘটিত প্রসিদ্ধ যুদ্ধসমূহের উল্লেখ ইতোপূর্বে করা হয়েছে এবং সে প্রসঙ্গে মুমিন ও মুশরিকদের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর আনসার ও মুহাজিরদের মধ্য থেকে মোট চৌদ্দ জন শহীদ হন। অন্যদিকে কুরায়শ মুশরিক বাহিনীর সত্তরজন নিহত হয়। (৩) বদর যুদ্ধের অল্প কিছুদিন পর আবু লাহাব আবদুল উয্যা ইবন আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যু হয়। (৪) বদর যুদ্ধে মুশরিকদের শোচনীয় পরাজয় ও মুমিনদের মহাবিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে যায়দ ইবন হারিছা ও আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা যখন মদীনায় পৌঁছেন, তখন তারা দেখেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কন্যা রুকাইয়া ইনতিকাল করেছেন এবং তাঁর দাফন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। অসুস্থ রুকাইয়াকে দেখাশুনা করার জন্যে রাসূলুল্লাহর নির্দেশক্রমে তার স্বামী হযরত উছমান ইবন আফফান মদীনায় অবস্থান করছিলেন। এ কারণে উছমানকে বদরের গনীমতের অংশ প্ৰদান করা হয় এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে পুরস্কার দান করবেন। (৫) এই বছরে কিবলা পরিবর্তন হয় এবং (৬) মুকীম অর্থাৎ বাড়ীতে অবস্থানকারীদের সােলাতের রাকাআত সংখ্য বৃদ্ধি করা হয়। (৭) এই সালে রমযানের রোযা ফরয হয়। (৮) এ বছরেই যাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয় এবং (৯) সাদাকায়ে ফিতরা ওয়াজিব করা হয়। (১০) এসময়ে মদীনার মুশরিকরা মুসলমানদের নিকট বশ্যতা স্বীকার করে এবং (১১) মদীনার ইয়াহুদী সম্প্রদায় যথা বনু কায়ানুকা, বনু নয়ীর, বনু কুরায়যা ও বনু

হারিছার ইয়াহুদীরা মুসলমানদের অধীনতা স্বীকার করে নেয়। (১২) মদীনার অধিকাংশ মুশরিক ও ইয়াহুদী মুখে ইসলামের ঘোষণা দেয়, কিন্তু অন্তরে মুনাফিকী নীতি অবলম্বন করে। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক পূর্বের ধর্ম-বিশ্বাসের উপর অটল থাকে আর কিছু সংখ্যক দোদুল্যমান অবস্থায় থাকে— না ইসলামের দিকে, না পূর্বের ধর্মের দিকে। যেমনটি এদের অবস্থা আল্লাহ কুরআন মজীদে বর্ণনা করেছেন।

ইবন জারীর বলেন, : (১৩) এই সালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) অনেকগুলি রক্তপণের কথা লি.ে দেন, যা তার তলোয়ারের খাপে আটকানো থাকত। ইবন জারীর বলেন, : কারও কারও মতে (১৪) হযরত আলীর পুত্ৰ হাসান এই সালে জন্মগ্রহণ করেন। ইবন জারীর বলেন, : ওয়াকিদী বলেছেন, ইবন আবু সাবুরা ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ আবু জাফর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, হিজরী। দ্বিতীয় সালের ফিলহাজ্জ মাসে হযরত আলী ফাতিমাকে বাসর ঘরে আনেন। ইবন জারীর বলেন, : এই বর্ণনা যদি সঠিক হয়, তা হলে প্রথম মতটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

তৃতীয় খণ্ড সমাপ্ত

ইফাবা (উন্নয়ন) ২০০২-২০০৩/অঃ সঃ/৪২১৫-৩২৫০

Print Friendly, PDF & Email
%d bloggers like this: