সৃষ্টিছাড়া

সৃষ্টিছাড়া

কলমের এক আঁচড়ে দুঃখী ঐ লোকটিকে সুখী করে
দিতে পারি আমি?
সে তার দুঃখের মধ্যে সমুদ্যত, মাতৃহন্তারক সম ক্রুর হাস্যে
নিঙড়ে নেয় চোখ
আমি তার কপাল রেখেছি আমলিন–সে তবুও ভুরুর গভীরে কাটা দাগ
দেখায় আঙুল তুলে, অসহিষ্ণু পায়ে
আমার কল্পিত পথ ছেড়ে যায়–
আমি তাকে বারংবার শান্ত হতে বলি
নিবিড় বন্ধুর মতো আমি তাকে মাটির গভীর শান্তি, রমণীর মেঘলা হাত
কিংবা বিংশ শতাব্দীর নীল বিছুরিত আলোর সমীপে
নিয়ে যেতে চাই
সে তবু অস্থির গর্জন করে, লণ্ডভণ্ড করে দেয় পর্দা
নারীর চিবুকে রাখে দাঁত, স্তনে নোখ, ঊরুতে ছড়ায়
তপ্ত শ্বাস
তার অতৃপ্তির মধ্যে খেলা করে ধ্বংস সুখ, আয়নার বদলে
অগ্নিকাণ্ডে দেখে মুখ
আমার বুকের মধ্যে সুষুপ্ত বাসনাগুলি ছিঁড়ে খুঁড়ে বদলে দিতে চায়
কলম সরিয়ে রেখে আমি তার মুখোমুখি বসি
কঠিন ভৎসনা করে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাই
সে তখনও ইয়ার্কির মুখভঙ্গি করে, পাঁজরা-কাঁপানো হাসি
দিয়ে, তুড়ি মেরে
আমাকে অগ্ৰাহ্য করে কালপুরুষের দিকে দেখায় তর্জনী!