অসমাপ্ত

অসমাপ্ত

মেঘের সঙ্গে কথা বলিনি, তাই বিস্মরণে দুঃখ নেই
পাতা পোড়ানো গন্ধ মনে পড়ে, ছেলেবেলার পাতা পোড়ানো
গন্ধ, কলকাতায় পাতা পোড়ে, গন্ধ পাই না–

কেউ কি ময়দানে গিয়ে গান গেয়ে কুকর্ম করেনি?
আমি রক্ষী ছিলাম, আমি খাকি পোশাকের মতো মুখে
চুপ করে গাছের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। হাওয়ায়
মেয়েদের নিশ্বাস দু’একজন আলাদাভাবে চিনতে পারতো
এ ছাড়া সিংহাসন
হারানো দুঃখে ভোরবেলা সম্রাটের প্রেত হয়ে যাওয়া
এ ছাড়া সিংহাসন
পেয়ে প্রেতের কলঙ্কহীন সম্রাটের সারারাত্রি জুড়ে।
যৌবন আসতে বড় দীর্ঘ সময় লাগে, প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি
ঊরু ও জিভের ঘোরতর দ্বন্দ্ব যেদিন শেষ হয়
তার পরেই বিস্মরণ, আগে সাদা মেঘ, আমি মেঘের সঙ্গে
কখনো কথা বলিনি। ময়দানের অন্ধকারে নিজেও খাকি
পোশাকের মতো মুখে দাঁড়িয়েছিলাম, চেয়ে দেখেছি বিরক্তিকর
রাক্রির রাস্তা–বিচার বিভাগীয় তদন্তের মতো নির্বোধ দীর্ঘ।

‘তুমি কেমন আছো? কতদিন দেখিনি তোমাকে—’
এ কথা কেউ শৈশবে শোনে না, শুধু এরই জন্য
অপেক্ষা যৌবনের, অন্ধকারে গাছের পাশে–ভালোবাসা
আসে ও চলে যায়
আমি ঘুমের মধ্যে অনেক ভালোবাসা বেসেছি
ও ভালোবাসা ভেঙে যায়
যারা ভালোবাসে না তারা শরীরে সুখী হয়ে পেনশন পায়
খামের চিঠি নানা ঠিকানায় ঘুরলে কেউ অভিমান করে না
পেটে আগুন জ্বলে, গ্রন্থের পাতা পোড়ে, গন্ধ পাই না।
প্রথম নরক দর্শনের আগে জেগে ওঠে ছেলেবেলার গন্ধ
‘তুমি কেমন আছো? কতদিন দেখিনি তোমাকে—’
হঠাৎ হুহু করে ওঠে, বুক মুচড়ে অসম্ভব দীর্ঘ নিশ্বাস
ছুটে আসে–মনে হয় ব্যর্থ অন্ধকারে দাঁড়ানো–
সন্দীপন অসুখ দেখেছিল, আমি অন্ধকারে অন্ধকার ছাড়া কিছুই
দেখিনি।