৬. পরিশিষ্ট

৬. পরিশিষ্ট

উপসংহার

সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ উনিশজন মুসলিম চরমপন্থী চারটি যাত্রীবাহী জেট বিমান হাইজ্যাক করে নিউ ইয়র্ক শহরের ওঅর্ল্ড টেড সেন্টারে দুটি এবং ওয়াশিংটনস্থ পেন্টাগনে একটি বিমান চালিয়ে দেয়, এতে তিন হাজারেরও বেশী মানুষ প্রাণ হারায়। চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হয় পেনসিলভেনিয়ায়। ছিনতাইকারীরা ছিল ওসামা বিন লাদেনের অনুসারী, যাঁর জঙ্গী ইসলাম সায়ীদ কুত্ত্বের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার এই ভয়াবহতা আধুনিকতার বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের যুদ্ধকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এ বইটি যখন প্রথম ২০০০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, আমি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলাম যে মুসলিমরা যদি তাদের ধর্মকে আক্রান্ত বলে ভাবতে থাকে তাহলে মৌলবাদী সহিংসতা আরও চরম আকার নিয়ে নতুন রূপ নিতে পারে। দুর্দশাগ্রস্ত বিমানে ওঠার আগে ছিনতাইকারীদের কেউ কেউ ঘনঘন নাইটক্লাবে যাতায়াত করত, অ্যালকোহলে আসক্ত ছিল তারা, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। তারা সাধারণ মুসলিম মৌলবাদীদের একেবারেই বিপরীত, যারা কঠোরভাবে অর্থোডক্স জীবন যাপন করে, এবং নাইট ক্লাবকে প্রকৃত বিশ্বাসের চিরন্তন শত্রু জাহিলিয়া প্রতীক বলে মনে করে।

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সেপ্টেম্বরের এই প্রলয়কাণ্ডে আতঙ্কে শিউরে উঠেছে এবং যুক্তি দেখিয়েছে যে এই ধরনের নৃশংসতা ইসলামের অধিকাংশ পবিত্র ধারণার পরিপন্থী। কুরান সব রকম আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিগ্রহের নিন্দা করে এবং শিক্ষা দেয় যে আত্মরক্ষার লড়াইই একমাত্র ন্যায় যুদ্ধ। কিন্তু ওসামা বিন লাদেন এবং তার অনুসারীরা দাবী করেছে যে ইসলাম আক্রান্ত। তিনি সৌদী আরবের পবিত্র ভূমিতে আমেরিকান বাহিনীর উপস্থিতি, আমেরিকান ও ব্রিটিশ ফাইটার প্লেন থেকে ইরাকে অবিরাম বোমা বর্ষণ: ইরাকে আমেরিকার নেতৃত্বে আরোপিত অবরোধ, যার ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নারী এবং শিশু প্রাণ হারিয়েছে– ইসরায়েলের হাতে শত শত প্যালেস্টাইনির মৃত্যু, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রধান মিত্র এবং সৌদী আরবের রাজ পরিবারের মত যেসব সরকারকে বিন লাদেন দুর্নীতিবাজ ও নিপীড়ক বলে মনে করেন যেসব সরকারের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন; ইত্যাদিকে দায়ী করেছেন। অবশ্য আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতির আলোকে এগুলোর কোনওটাই এধরনের মারাত্মক আক্রমণকে যুক্তিযুক্ত প্রতিপন্ন করতে পারে না, কুরান বা শরিয়া যার কোনও বিধান নেই ৷ ইসলামী আইন কোনও দেশে মুসলিমরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার অনুমোদন পেলে সেখানে যুদ্ধ ঘোষণা নিষিদ্ধ করেছে এবং জোরালভাবে নিরীহ বেসামরিক লোকের হত্যাকাণ্ডও নিষিদ্ধ করেছে। সব মৌলবাদীদের দর্শনের পেছনে ক্রিয়াশীল আতঙ্ক ও ক্রোধ সবসময়ই মৌলবাদীরা যে ট্র্যাডিশনকে রক্ষা করতে চায় তাকেই বিকৃত করতে বসে, সেপ্টেম্বর ১১-এর ঘটনার চেয়ে আর কোথাও তা এত স্পষ্ট নয়। ধর্মের এমন নিদারুণ অপব্যবহার খুব কমই দেখা গেছে।

হামলার পরপরই পশ্চিমা দেশগুলোর মুসলিমদের বিরুদ্ধে তীব্র পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। পথঘাটে আক্রান্ত হয় মুসলিমরা, ওরিয়েন্টাল চেহারার লোকদের জন্যে বিমানে আরোহন নিষিদ্ধ করা হয়, মহিলারা হিজাব পরে ঘর থেকে বেরুনোর সাহস হারিয়ে ফেলে আর “স্যান্ড নিগার”দের দেশে ফিরে যাবার আহ্বান জানিয়ে দেয়ালে দেয়ালে গ্র্যাফিটি দেখা যায়। ব্যাপকভাবে মনে করা হয়ে যে ইসলাম ধর্মে এমন কিছু আছে যা মুসলিমদের নিষ্ঠুর ও সহিংস হতে বাধ্য করে এবং মিডিয়া বেশ ঘনঘন এই ধারণাকে উৎসাহিত করে থাকে। এ ধরনের প্রবণতার বিপদ বুঝতে পেরে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু. বুশ দ্রুত ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ইসলাম এক মহান শান্তির ধর্ম এবং বিন লাদেন ও হাইজ্যকারদের ধর্মবিশ্বাসের সাধারণ প্রতিনিধি হিসাবে দেখা ঠিক হবে না। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালের শোকানুষ্ঠানে একজন মুসলিমকে পাশে রাখতে ভোলেননি তিনি এবং আমেরিকান মুসলিমদের প্রতি সমর্থন দেখানোর জন্যে বিভিন্ন মসজিদ সফর করেছেন। সম্পূর্ণ নতুন এবং দারুণ আশাব্যাঞ্জক ব্যাপার ছিল এটা। সালমান রুশদী সঙ্কট বা সাদ্দাম হুসেইনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ডেজার্ট স্টর্ম অভিযানের সময় তেমন কিছু ঘটেনি। আমেরিকানরা বইয়ের দোকানে ভীড় জমাচ্ছে, ইসলাম সম্পর্কে যতটা পারছে পড়ছে, এটা দেখাও প্রীতিকর; মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে বোঝার প্রয়াস পাচ্ছে তারা, যদিও এই সন্ত্রাসী হামলার আতঙ্কে কুঁকড়ে গিয়েছিল।

ইসলাম সম্পর্কে ন্যায় উপলব্ধি এবং জ্ঞান আহরণ পশ্চিমা জনগণের জন্যে আর কখনও এতটা জরুরি হয়ে ওঠেনি। সেপ্টেম্বর ১১-এ পৃথিবী বদলে গেছে। এখন আমরা বুঝতে পারছি যে সুবিধাপ্রাপ্ত পশ্চিমা দেশের বাসিন্দা হিসাবে আমরা আর এটা মনে করতে পারব না যে বাকি পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহে আমাদের কিছু আসে যায় না। আজ গাযা, ইরাক বা আফগানিস্তানে যা ঘটছে আগামীকাল নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন বা লন্ডনে তার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। অচিরেই ছোট ছোট দলগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করার ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠবে যা অতীতে কেবল শক্তিশালী জাতি রাষ্টের পক্ষে সম্ভব ছিল। এখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে লড়াইতে পা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নির্ভুল তথ্য উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের বিকৃত রূপ নির্মাণ, একে গণতন্ত্র ও জন্মগতভাবে শুভ মূল্যবোধের প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখা এবং মধ্যযুগীয় ক্রুসেডারদের গোঁড়া দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে বিপর্যয়কর। এটা কেবল বিশ্বে আমাদের সহযাত্রী ১.২ বিলিয়ন মুসলিমকেই ক্ষিপ্ত করে তুলবে না, বরং তা সত্যের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং অন্যের পবিত্র অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাকেও লঙ্ঘন করবে যা ইসলাম ও পশ্চিমা সমাজ উভয়ই সর্বোত্তম অবস্থায় বৈশিষ্ট্যায়িত করে।

(দ্বিতীয় সংস্করণ হতে গৃহীত-অনুবাদক)

ইসলামের ইতিহাসে প্রধান ব্যক্তিবর্গ

আব্বাস (প্রথম), শাহ (১৫৮৮-১৬২৯): ইরানে সাফাভীয় সাম্রাজ্যের স্বর্ণসময়ের অধিপতি, ইসফাহানে এক দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং ইরানিদের দ্বাদশবাদী অর্থোডক্সি শিক্ষা দেয়ার জন্যে বিদেশ থেকে শিয়া উলেমাদের আমদানি করেন।

আব্দ আল-মালিক: উমাঈয়াহ্ খলিফাহ্ (৬৮৫-৭০৫), এক গৃহযুদ্ধ অবসানের পর উমাঈয়াহ্ ক্ষমতা পুনর্বহাল করেন; ৬৯১-তে তাঁর উদ্যোগে ডোম অভ দ্য রক-এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

আব্দ আল-ওয়াহহাব, মুহাম্মদ ইবন (১৭০৩-৯২): একজন সুন্নী সংস্কারক যিনি ইসলামের মৌল বিষয়ে ফিরে যাবার লক্ষ্যে প্রবল প্রয়াস পেয়েছিলেন। বর্তমানে সৌদি আরব ইসলামের ওয়াহহাবিবাদ ধরণ অনুসৃত হচ্ছে।

আব্দু, মুহাম্মদ (১৮৪৯-১৯০৫): মুসলিমদের নতুন পাশ্চাত্য আদর্শ অনুধাবনে সক্ষম করে তোলা এবং দেশকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ইসলামী প্রতিষ্ঠানসমূহের আধুনিকায়নের প্রয়াস পেয়েছিলেন এই মিশরীয় সংস্কারক!

আবদুলফাযল আল্লামি (১৫৪১-১৬০২): সুফি ঐতিহাসিক এবং মোঘুল সম্রাট আকবরের জীবনীকার।

আবদুলহামিদ: অটোমান সুলতান (১৮৩৯-৬১): একচ্ছত্র শাসন পরিবর্তনকারী

গুলহান (Gulhane) ডিক্রি জারী করেন যার ফলে সরকার অটোমান প্রজাদের সঙ্গে চুক্তির সম্পর্কে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

আবু বকর: প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম; পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মুহাম্মদের(সঃ) পরলোকগমনের পর তিনি প্রথম খলিফাহ্ হন (৬৩২-৩৪)।

আবু আল-হাকাম (কুরানে আবু জাল, মিথ্যার পিতা নামেও আখ্যায়িত): মক্কায় মুহাম্মদের(স:) বিরোধিতাকারীদের নেতৃত্ব দেন তিনি।

আবু হানিফাহ্ (৬৯৯-৭৬৭): ফিকহ’র অন্যতম পুরোধা, জুরেসপ্রুডেন্সের হানাফি মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা।

আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ: গোপন ইমাম নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন শিয়াদের দ্বাদশ ইমাম, যিনি প্রাণরক্ষার জন্যে ৮৭৪-এ আত্মগোপন করেন বলে বর্ণিত আছে; ৯৩৪-এ তার “ঊর্ধ্বারোহণে”র (Occaltation) কথা ঘোষিত হয়: বলা হয়, ঈশ্বর অলৌকিকভাবে ইমামকে আড়াল করেছেন বলে তাঁর পক্ষে আর শিয়াদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব নয়। শেষ বিচারের অল্পদিন আগে মাহদি হিসাবে ঈশ্বরের শত্রুদের ধ্বংস করে ন্যায়বিচার ও শান্তির এক স্বর্ণযুগের সূচনা ঘটাতে ফিরে আসবেন তিনি। আবু সুফিয়ান আবু আল-হাকামের মৃত্যুর পর পয়গম্বর মুহাম্মদের (স: ) বিরোধিতাকারীদের নেতৃত্ব দেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন উপলব্ধি করেন যে মুহাম্মদ (স:) অপ্রতিরোধ্য, ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কার উমাঈয়াহ্ পরিবারের সদস্য ছিলেন তিনি এবং তাঁর পুত্র মুয়াবিয়াহ্ প্রথম উমাঈয়াহ্ খলিফা হন। আমাদ ইবন হানবাল (৭৮০-৮৩৩): হাদিস সংগ্রাহক, আইনবিদ এবং আহল আল-হাদিসের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তাঁর চেতনা ইসলামী জুরেসপ্রুডেন্সের হানবালি মতবাদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আমাদ ইবন ইদরিস (১৭৮০-১৮৩৬): মরোক্কো, উত্তর আফ্রিকা ও ইয়েমেনে সক্রিয় নব্য সুফি সংস্কারক, যিনি উলেমাদের পাশ কাটিয়ে ইসলামের অনুরণন সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রয়াস পেয়েছিলেন।

আমাদ খান, স্যার সাইয়ীদ (১৮১৭-৯৮): একজন ভারতীয় সংস্কারক যিনি পাশ্চাত্যের উদারপন্থার সঙ্গে ইসলামের সমন্বয়ের প্রয়াস পেয়েছিলেন। তিনি ইউরোপীয়দের সঙ্গে সহযোগিতা ও তাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্রহণ করার জন্যে ভারতীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আমাদ সিরহিন্দি (মৃত্যু: ১৬২৫): মোঘল সম্রাট আকবরের বহুত্ব মতবাদের বিরোধিতাকারী সুফি সংস্কারক।

আয়েশা: পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) প্রিয়তমা স্ত্রী, যাঁর হাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আবু বকরের কন্যা তিনি এবং প্রথম ফিৎনা সময় মদীনার আলী বিন আবি তালিব বিরোধীদের নেতৃত্ব দেন।

আকবর: ভারতের মোঘল সম্রাট (১৫৬০-১৬০৫)। হিন্দু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতার নীতির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি, তাঁর আমলে মোঘল সাম্রাজ্য ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখর প্রত্যক্ষ করে।

আলী ইবন আবি তালিব: পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) চাচাত ভাই, রক্ষী, এবং মেয়ে- জামাই; তাঁর নিকটতম পুরুষ আত্মীয়। ৬৫৬-তে চতুর্থ খলিফাহ্ হন তিনি কিন্তু ৬৬১-তে জনৈক খারেজি চরমপন্থীর হাতে নিহত হন। শিয়ারা বিশ্বাস করে পয়গম্বরের উত্তরাধিকারী হওয়া উচিত ছিল তাঁরই এবং তারা তাঁকে ইসলামী সমাজের প্রথম ইমাম হিসাবে শ্রদ্ধা করে। ইরাকের নাজাফে তাঁর সমাধি রয়েছে যা শিয়া তীর্থযাত্রীদের অন্যতম প্রধান স্থান।

আলী আল-হাদি: দশম শিয়া ইমাম। ৮৪৮-এ খলিফাহ্ আল-মুতাওয়াক্কিল কর্তৃক সামারায় তলব পান এবং সেখানে গৃহবন্দী হন। ৮৬৮-তে আসকারি দুর্গে পরলোকগমন করেন তিনি।

আলী আল-রিদা: অষ্টম শিয়া ইমাম। খলিফাহ্ আল-মামুন তাঁর সাম্রাজ্যের অসন্তুষ্ট শিয়াদের সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে ৮১৮-তে তাঁকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন, কিন্তু সেটা ছিল অজনপ্রিয় পদক্ষেপ এবং আল-রিদা পরবর্তী বছরেই মারা যান, সম্ভবত: খুন।

আলী যায়েন আল-আবিদিন (মৃত্যু:৭১৪): চতুর্থ শিয়া ইমাম, অতীন্দ্রিয়বাদী, যিনি মদীনায় অবসর জীবনযাপন করেছেন এবং সক্রিয় রাজনীতি হতে বিরত ছিলেন।

আকা মুহাম্মদ খান (মৃত্যু : ১৭৯৭) : ইরানে কাজার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

আউরেঙজেব: মোঘুল সম্রাট (১৬৫৮-১৭০৭) যিনি আকবরের সহিষ্ণু নীতিমালা পাল্টে দেন এবং হিন্দু ও শিখ বিদ্রোহ জাগিয়ে তোলেন।

বায়বরস, রুকন আদ-দিন (মৃত্যু: ১২৭৭) : মামলুক সুলতান, যিনি উত্তর প্যালেস্টাইনের আইন জালুটে মঙ্গোল হোর্ডদের পরাজিত করেন এবং সিরিয় উপকুলীয় এলাকার অধিকাংশ অবশিষ্ট ক্রুসেডার অবস্থানগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেন।

বান্না, হাসান আল- (১৯০৬-৪৯): মিশরীয় সংস্কারক এবং সোসায়েটি অভ মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৯-এ মিশরের সেক্যুলারিস্ট সরকারের হাতে প্রাণ হারান।

ভুট্টো, যুলফাকির আলী: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৭১-৭৭), যিনি ইসলাম পন্থীদের ছাড় দেন কিন্তু অধিকতর ধার্মিক জিয়া আল-হক কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত হন।

বিসতামি, আবু ইয়াযিদ আল- (মৃত্যু:৮৭৪): “মাতাল সুফি”দের (“drunken Sufis”) অন্যতম পুরোধা, যিনি ঈশ্বরের বিলীন (ফানাহ্) হওয়ার মতবাদ প্রচার করেছেন এবং এক দীর্ঘ অতীন্দ্রিয়বাদী অনুশীলনের পর আপন সত্তার গভীরতম প্রদেশে অলৌকিকের সন্ধান পেয়েছেন।

বুখারি, আল-(মৃত্যু: ৮৭০): আলহাদিসের বিশ্বস্ত সংকলনের রচয়িতা।

চেলেবি, আবু আল-সান্দ খোলা (১৪৯০-১৫৭৪): অটোমান শরিয়াহ্ ভিত্তিক রাষ্ট্রের আইনগত নীতিমালা প্রণয়ন করেন।

ফারাবি, আবু নাসর আল-(মৃত্যু: ৯৫০) : ফায়লাসুদের ভেতর সর্বাধিক যুক্তিবাদী, আবার সক্রিয় (Practising) সুফিও ছিলেন তিনি। আলেপ্পোর হামদানীয় রাজ দরবারে বাদ্যযন্ত্রী হিসাবেও কাজ করেছেন।

গানোউচি, রশিদ আল– (১৯৪১): নির্ধাচিত রেনেসাঁ পার্টির টিউনিসীয় নেতা নিজেকে যিনি “গণতান্ত্রিক ইসলামপন্থী” বলে বর্ণনা করেছেন।

গাযযালি, আবু হামিদ মুহাম্মদ (মৃত্যু: ১১১১): বাগদাদের ধর্মতাত্ত্বিক, যিনি সুন্নী ইসলামের সুনির্দিষ্ট অভিব্যক্তি দিয়েছেন এবং সুফিবাদকে ধার্মিকতার মূলধারায় নিয়ে এসেছেন।

হ্যাগার (হাজেরা) : বাইবেলে তিনি আব্রাহামের স্ত্রী এবং আব্রাহামের পুত্র ইশমায়েলের (আরবীতে ইসমায়েল) মাতা, ইসমায়েল আরব জাতির পিতায় পরিণত হন। এ কারণে হ্যাঁগার ইসলামের অন্যতম মাতৃস্থানীয় নারী হিসাবে শ্রদ্ধেয় এবং মক্কায় হজ্জ তীর্থযাত্রায় বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করা হয়।

হাক, যিয়া উল-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (প্রেসিডেন্ট-অনুবাদক) (১৯৭১-৭৭), যিনি অধিকতর ইসলামী সরকার পরিচালনা করেছেন, যদিও তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি হতে ধর্মকে আলাদা রেখেছিল।

হাসান ইবন আলী (মৃত্যু:৬৬৯): আলী ইবন আবি তালিবের ছেলে এবং পয়গম্বর মুহাম্মদদের(স:) দৌহিত্র। শিয়ারা তাঁকে দ্বিতীয় ইমাম হিসাবে শ্রদ্ধা করে। পিতার হত্যাকাণ্ডের পর শিয়ারা তাঁকে খলিফাহ্ ঘোষণা করে, কিন্তু হাসান রাজনীতি হতে অবসর গ্রহণে সম্মত হন এবং মদীনায় নিরিবিলি এবং কিছুটা বিলাসী জীবন যাপন করেন।

হাসান আল-আশারি (মৃত্যু:৯৩৫):মুতাযিলা এবং আহল-আল-হাদিসের সমন্বয়কারী দার্শনিক। তার অ্যাটোমিস্টিক দর্শন সুন্নী ইসলামের আধ্যাত্মিকতা প্রকাশের অন্যতম প্রধান অভিব্যক্তিতে পরিণত হয়।

হাসান আল-আসকারি (মৃত্যু:৮৭৪) : একাদশ শিয়াহ্ ইমাম, যিনি সামারার আসকারি দূর্গে আব্বাসীয় খলিফাঁদের বন্দী হিসাবে বসবাস ও পরলোকগমন করেন। অধিকাংশ ইমামের মত তাঁকেও আব্বাসীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে বলে বিশ্বাস রয়েছে।

হাসান আল-বাসরি (মৃত্যু:৭২৮): বাসরা যাজক এবং ধর্মীয় সংস্কারের নেতা, উমঈয়াহ্ খেলাফতের তীব্র সমালোচক ছিলেন তিনি।

গোপন ইমাম: আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ দেখুন।

হুসেইন ইবন আলী: আলী ইবন আবি তালিবের দ্বিতীয় পুত্র এবং পয়গম্বর মুহাম্মদের (স:) দৌহিত্র। শিয়ারা তাঁকে তৃতীয় ইমাম হিসাবে শ্রদ্ধা করে। খলিফাহ্ ইয়াযিদের হাতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটির স্মরণে মুররম মাসে বার্ষিকী শোক প্রকাশ করা হয় ৷

ইবন হাযাম (৯৯৪-১০৬৪): স্পেনের কবি এবং কর্ডোভা রাজদরবারের ধর্মীয় চিন্তাবিদ।

ইবন ইসহাক, মুহাম্মদ (মৃত্যু:৭৬৭): পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) প্রথম উল্লেখযোগ্য জীবনীর রচয়িতা, যা সযত্নে বাছাই করা প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রচিত।

ইবন খালদুন, আব্দ আল-রহমান (১৩৩২-১৪০৬): আল-মাকাদ্দিমাহ্ (অ্যান ইনট্রোডাকশন টু হিস্ট্রি)-র রচয়িতা। একজন ফায়লাসুফ, তিনি ইতিহাস পর্যালোচনায় দর্শনের নীতিমালা প্রয়োগ করেছেন এবং ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে ক্রিয়াশীল সর্বজনীন আইনের সন্ধান করেছেন।

ইবন রুশদ, আবু আল-ওয়ালিদ আহমাদ (১১২৬-৯৮): কর্ডোভা, স্পেনের একজন ফায়লাসুফ ও কাজি, পশ্চিমে আভোরেয়োস নামে পরিচিত, যেখানে মুসলিম বিশ্বের তুলনায় তাঁর যুক্তিবাদী দর্শনের প্রভাব অনেক বেশী।

ইবন সিনা, আবু আলি (৯৮০১০৩৭): পশ্চিমে আভিসেনা নামে পরিচিত, যিনি ফালসাফার অ্যাপোজী তুলে ধরেছেন, যাঁকে ধর্মীয় ও অতীন্দ্রিয়বাদী অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

ইবন তাঈমিয়াহ্ (১২৬৩-১৩২৮): একজন সংস্কারক যিনি সুফিবাদের প্রভাবের বিপরীতে কুরান ও সুন্নাহর মৌলনীতিমালায় প্রত্যাবর্তনের প্রয়াস পেয়েছিলেন। দামাসকাসে কারারুদ্ধ অবস্থায় পরলোকগমন করেন তিনি।

ইবন আল-যুবায়ের, আবদাল্লাহ্ (মৃত্যু : ৬৯২) : দ্বিতীয় ফিনার সময় উমাঈয়াদের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ।

ইকবাল, মুহাম্মদ (১৮৭৬-১৯৩৮): ভারতীয় কবি ও দার্শনিক, ইসলাম পশ্চিমা আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম প্রমাণের লক্ষ্যে তিনি এর যৌক্তিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ইসমায়েল: বাইবেলে ইশমায়েল নামে পরিচিত পয়গম্বর, আব্রাহামের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ঈশ্বরের নির্দেশে যিনি মা হ্যাঁগারসহ নির্বাসিত হয়েছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর কর্তৃক রক্ষা পান। মুসলিম ট্র্যাডিশন অনুযায়ী হ্যাঁগার (হাজেরা) ও ইসমায়েল মক্কায় বসবাস করেছেন, আব্রাহাম তাঁদের দেখতে আসেন। আব্রাহাম ও ইসমায়েল কাবাহ্ পুনর্নির্মাণ করেন (আদিতে যা আদি পয়গম্বর এবং মানবজাতির পিতা অ্যাডাম নির্মাণ করেছিলেন)।

ইসমায়েল ইবন জাফর: পিতা জাফর আস-সাদিক কর্তৃক শিয়াদের সপ্তম ইমাম মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। শিয়াদের কেউ কেউ (ইসমায়েলি বা সপ্তবাদী নামে পরিচিত) বিশ্বাস করে যে, তিনি আলী ইবন আবি তালিবের সর্বশেষ সরাসরি বংশধর, ইমামতি করার উত্তরাধিকারী হবার জন্যে জাফর আস- সাদিকের কনিষ্ঠ পুত্র মুসা আল-কাজিমের ইমামতি স্বীকার করে না, যিনি দ্বাদশবাদী শিয়াহদের কাছে সপ্তম ইমাম হিসাবে শ্রদ্ধেয়।

ইসমায়েল পাশা: মিশরের গভর্নর হন তিনি এবং খেদিভ (মহান রাজপুত্র) খেভাবে

ভূষিত হন। তাঁর উচ্চাভিলাষী আধুনিকীকরণ কর্মসূচী দেশকে দেউলিয়া করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ দখলদারীর দিকে ঠেলে দেয়।

ইসমায়েল, শাহ্ (১৪৮৭-১৫২৪): ইরানের প্রথম সাফাফীয় শাহ্, যিনি দেশে দ্বাদশবাদী শিয়াদের আমদানি করেন।

জাফর আস-সাদিক (মৃত্যু:৭৬৫) : ষষ্ঠ শিয়াহ্ ইমাম, যিনি ইমামতির মতবাদ প্রবর্তন করেন এবং অনুসারীদের রাজনীতি হতে সরে গিয়ে কুরানের অতীন্দ্রিয়বাদী ধ্যানে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

জামাল আল-দিন, “আল-আফগানি” (১৮৩৯-৯৭): ইরানি সংস্কারক, যিনি ইউরোপের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আক্রমণ এড়ানোর লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামকে আধুনিক করে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জিন্নাহ্, মুহাম্মদ আলী (১৮৭৬-১৯৪৮): দেশ বিভাগের সময় ভারতে মুসলিম লীগের নেতা, যে কারণে পাকিস্তানের স্থপতি হিসাবে প্রশংসিত হন।

জুনায়েদ (বাগদাদের) (মৃত্যু:৯১০): প্রথম “সোবার সুফি”, যিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে বর্ধিত আত্মনিয়ন্ত্রণে ঈশ্বরের অভিজ্ঞতা বিরাজ করে এবং “মাতাল সুফি”দের বুনো মাতামাতি এমন এক তুচ্ছ পর্যায় প্রকৃত অতীন্দ্রিয়বাদীর যা অতিক্রম করে যাওয়া উচিত।

খাদিজা: পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) প্রথম স্ত্রী এবং তাঁর সকল জীবিত সন্তানের মাতা। তিনি প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীও ছিলেন এবং হিজরার আগে মক্কার কুরাইশদের চালানো মুসলিমদের উপর নির্যাতনকালে পরলোকগমন করেন (৬১৬-১৯), সম্ভবত খাদ্যাভাবে ভোগার পরিণাম।

খান, মুহাম্মদ আইয়ুব: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (প্রেসিডেন্ট-অনুবাদক) (১৯৫৮- ৬৯), যিনি শক্তিশালী সেক্যুলারাইজিং নীতি অনুসরণ করেছেন যা শেষ পর্যন্ত তাঁর পতন ডেকে আনে।

খাতামি, হোজ্জাত ওল-ইসলাম সাইয়ীদ: ইরানের প্রেসিডেন্ট (১৯৯৭-)। তিনি ইরানে ইসলামী আইনের আরও উদার ব্যাখ্যা দেখতে চান, পাশ্চাত্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নও তাঁর ইচ্ছা।

খোমিনি আয়াতোল্লাহ্ রুহোল্লাহ্ (১৯০২-৮৯): পাহলভী শাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী অভ্যূত্থানের আধ্যাত্মিক পরামর্শক এবং ইরানের সর্বোচ্চ ফাকিহ্ (১৯৭৯- ৮৯)।

কিন্দি, ইয়াকুব ইবন ইসহাক আল- (মৃত্যু:৮৭০): প্রথম প্রধান ফায়লাসুফ যিনি বাগদাদে মুতাযিলাদের সঙ্গে কাজ করেছেন আবার গ্রিক সাধুদের কাছ থেকেও জ্ঞান সন্ধান করেছেন ৷

কিরমানি, আকা খান (১৮৫৩-৯৬): ইরানের সেক্যুলারিস্ট সংস্কারক।

মাহদি, খলিফাহ্-আল-: আব্বাসীয় খলিফাহ্ (৭৭৫-৮৫), যিনি অধিকতর ধার্মিক মুসলিমদের ধর্মানুরাগের স্বীকৃতি দিয়েছেন, ফিকর চর্চা উৎসাহিত করেছেন এবং ধার্মিকদের নিজের শাসনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সাহায্য করেছেন।

মাহমুদ, দ্বিতীয়: অটোমান সুলতান (১৮০৮-৩৯), যিনি আধুনিকীকরণের টানযিমাট সংস্কার সূচিত করেছিলেন।

মজলিসি, মুহাম্মদ বাকির (মৃত্যু: ১৭০০) একজন আলিম যিনি দ্বাদশবাদী শিয়াহ্ মতবাদ ইরানের রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিণত হবার পর এক অপেক্ষাকৃত কম আকর্ষণীয় রূপ দেখিয়েছিলেন ফালসাফাঁদের শিক্ষা দমন আর সুফিদের ওপর নির্যাতন চালানোর মাধ্যমে।

ম্যালকম এক্স (১৯২৫-৬৫): কৃষ্ণাঙ্গ বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ নেশন অভ ইসলাম এর ক্যারিশম্যাটিক নেতা, নাগরিক অধিকার আন্দোলন কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক পরিচিতি পান। ১৯৬৩তে তিনি হেটারোডক্স নেশন অভ ইসলাম ত্যাগ করে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সুন্নী ইসলামের মূলধারায় যোগ দেন এবং পরিণামে দু’বছর পর আততায়ীর হাতে প্রাণ হারান।

মালিক ইবন আনাস (মৃত্যু: ৭৯৫): ইসলামী জুরেসপ্রুডেন্সের মালিকি মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা।

মামুন, খলিফাহ্ আল-আব্বাসীয় খলিফাহ্ (৮১৩-৩৩) যাঁর শাসনামলে আব্বাসীয়দের পতন সূচিত হয়।

মনসুর, খলিফাহ্ আল-আব্বাসীয় খলিফাহ্ (৭৫৪-৭৫) শিয়া ভিন্নমতাবলম্বীদের কঠোর হাতে দমন করেন এবং সাম্রাজ্যের রাজধানী নতুন নগরী বাগদাদে সরিয়ে নেন।

মনসুর, হুসেইন আল- (আল হাল্লাজ, উল কারডার নামেও পরিচিত): অন্যতম সুবিখ্যাত “ড্রাঙ্কেন সুফি” যিনি মোহাবিষ্ট অবস্থায় ঈশ্বরের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মিলনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে “আনা আল-হাক্ক!” (“আমিই সত্য!”) বলে চেঁচিয়ে উঠেছিলেন বলে কথিত আছে। ধর্মোদ্রোহের অপরাধে ৯২২-এ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় তাঁকে।

মাওদুদি, আবুল আলা (১৯০৩-৭৯): পাকিস্তানি মৌলবাদী আদর্শবাদী, সুন্নী বিশ্বে যাঁর ধারণার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

মেমেদ (দ্বিতীয়): অটোমান সুলতান (১৪৫১-৬১) ১৪৫৩তে বাইযানটাইন কনসট্যান্টিনোপল অধিকার করেছিলেন বলে যিনি “দ্য কনকোয়েরার” নামেও পরিচিত।

মির দিমাদ (মৃত্যু: ১৬৩১): ইসফাহানে অতীন্দ্রিয়বাদী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা এবং মোল্লাহ্ সদরার শিক্ষক।

মুয়াবিয়াহ্ ইবন আবি সুফিয়ান: ৬৬১ থেকে ৬৮০ পর্যন্ত শাসনকারী প্রথম উমাঈয়াহ্ খলিফা যিনি প্রথম ফিৎনাহ্র পরবর্তী উন্মাতাল পরিস্থিতির পর মুসলিম সমাজে শক্তিশালী কার্যকর সরকার উপহার দিয়েছিলেন।

মুদ্দারিস, আয়াতোল্লাহ্ হাসান (মৃত্যু: ১৯৩৭); একজন ইরানি পুরোহিত, যিনি মজলিসে রেযা শাকে আক্রমণ করেন এবং শাসকদলের হাতে প্রাণ হারান।

মুহাম্মদ ইবন আবদাল্লাহ্ (স:) (৫৭০-৬৩২): পয়গম্বর, যিনি মুসলিমদের কুরান উপহার দেন, একেশ্বরবাদী ধর্ম বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠা করেন এবং আরবে একক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।

মুহাম্মদ আলী, পাশা (১৭৬৯-১৮৪৯): অটোমান সেনাবাহিনীর একজন আলবেনিয় কর্মকর্তা যিনি মিশরকে কার্যত: ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করেন। দেশে উল্লখযোগ্য আধুনীকরণেও সফল হয়েছিলেন তিনি।

মুহাম্মদ ইবন আলী আল-সানুসি (মৃত্যু: ১৮৩২): সানুসিয়াহ্ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা নব্য-সুফি সংস্কারক, যা লিবিয়ায় আজও প্রভাবশালী।

মুহাম্মদ আল-বাকির (মৃত্যু: ৭৩৫) : পঞ্চম শিয়া ইমাম। মদীনায় অবসর জীবনযাপন করেন তিনি। বলা হয় কুরান পাঠের এক নিগূঢ় পদ্ধতির আবিষ্কার করেছিলেন যা দ্বাদশবাদী শিয়াহ্ মতবাদের বৈশিষ্ট্য।

মুহাম্মদ, খওয়ারাযমশাহ্: খওয়ারাযমে এক রাজবংশের (১২০০-২০) শাসক, যিনি ইরানে শক্তিশালী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছিলেন কিন্তু মঙ্গোলদের রোষ টেনে আনেন ও প্রথম মঙ্গোল আক্রমণের পথ খুলে দেন।

মুহাম্মদ রেযা পালভী, শাহ্: ইরানের দ্বিতীয় পাহলভী শাহ্ (১৯৪৪-৭৯), যাঁর আক্রমণাত্মক আধুনিকীকরণ ও সেক্যুলারকরণের নীতিমালা ইসলামী বিপ্লবের জন্ম দেয়।

মুলকুম খান, মির‍্যা (১৮৩৩-১৯০৮): ইরানি সেক্যুলারিস্ট সংস্কারক।

মোল্লা সদরা (মৃত্যু: ১৬৪০): শিয়া অতীন্দ্রিয়বাদী দার্শনিক যাঁর রচনাবলী বিশেষ করে ইরানের বুদ্ধিজীবী, বিপ্লবী ও আধুনিকতাবাদীদের অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। মুরাদ (প্রথম): অটোমান সুলতান (১৩৬০-৮৯)। কসোভো রণক্ষেত্রে যিনি সারবীয়দের পরাস্ত করেছিলেন।

মুসলিম (মৃত্যু: ৮৭৮): একটি বিশ্বস্ত হাদিস সংকলনের সংগ্রাহক।

মুস্তাফা কেমাল, আতাতুর্ক নামেও পরিচিত (১৮৮১-১৯৩৮): আধুনিক, সেক্যুলার টার্কির প্রতিষ্ঠাতা।

মুতাওয়াক্কিল, খলিফাহ্ আল-: আব্বাসীয় খলিফাহ্ (৮৪৭-৬১)। সামারায় আসকারি দুর্গে শিয়া ইমামদের আটকের জন্যে দায়ী।

নাদির খান (মৃত্যু: ১৭৪৮): সাফাভীয় রাজবংশের পতনের পর সাময়িকভাবে শিয়া ইরানের সামরিক শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

নাইনি, শেখ মুহাম্মদ হুসেইন (১৮৫০-১৯৩৬) : ইরানি মুজতাহিদ যাঁর অ্যাডমোনিশন টু দ্য নেশন শিরোনামের নিবন্ধ সাংবিধানিক শাসনের ধারণার প্রতি জোরাল সমর্থন দিয়েছিল।

নাসির, খলিফাহ্ আল-: অন্যতম শেষ আব্বাসীয় খলিফাহ্ যিনি বাগদাদের শাসনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইসলামী প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

নাসের, জামাল আবদ আল- : মিশরের প্রেসিডেন্ট(১৯৫২-৭০), চরম জাতীয়তাবাদী, সেক্যুলারিস্ট এবং সোস্যালিস্ট সরকারের নেতৃত্ব দেন।

নিযামুলমুলক্: তীক্ষ্ণধী পারসীয় উযির যিনি ১০৬৩ থেকে ১০৯২ পর্যন্ত সেলজুক সাম্রাজ্য শাসন করেন।

কুতব, সাইয়ীদ (১৯০৬-৬৬): নাসের প্রশাসনের হাতে নিহত মুসলিম ব্রাদার, সুন্নী মৌলবাদের ক্ষেত্রে তাঁর মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রশিদ, খলিফাহ্ হারুন আল-: আব্বাসীয় খলিফাহ্ (৭৮৬-৮০৯) যাঁর শাসনামলে খেলাফত ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করছিল, তিনি এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক জাগরণের নেতৃত্ব দেন ৷

রেযা খান: ইরানের শাহ্ (১৯২১-৪১) এবং পালভী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সরকার আক্রমণাত্মক ধরনের সেক্যুলারিস্ট ও জাতীয়তাবাদী ছিল।

রিদা, মুহাম্মদ রশিদ (১৮৬৫-১৯৩৫) : কায়রোয় সালাফিয়াহ্ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ইসলামী রাষ্ট্রের প্রবক্তা।

রুমি, জালাল আল-দিন (১২০৭-৭৫): প্রবল প্রভাবশালী সুফি নেতা যাঁর বিশাল সংখ্যক অনুসারী ছিল এবং যিনি মাওলানি, বা প্রায়শ “ঘূর্ণায়মান দরবেশ (Whirling Dervishs)” নামে পরিচিত ধারার প্রতিষ্ঠা করেন।

সালাহ আদ-দিন, ইউসুফ ইবন আইয়ূব (মৃত্যু: ১১৯৩): সিরিয়া ও মিশরব্যাপী এক বিশাল সাম্রাজ্যের সুলতানের পদে আসীন হওয়া কুর্দিশ সেনাপতি, ফাতিমীয় খেলাফতকে পরাজিত করার পর মিশরকে সুন্নী ইসলামে ফিরিয়ে আনেন, ক্রুসেডারদের জেরুজালেম থেকে রিতাড়ন করেন। সালাহ্ আদ-দিন (পাশ্চাত্যে সালাদিন নাম পরিচিত) আইয়ূবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

সেলিম (প্রথম): অটোমান সুলতান (১৫১২-২০), যিনি মামলুকদের কাছ থেকে সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও মিশর অধিকার করেন।

সেলিম (তৃতীয়): অটোমান সুলতান (১৭৮৯-১৮০৭)। সাম্রাজ্যের পাশ্চাত্য ঘেঁষা সংস্কারের প্রয়াস পেয়েছিলেন।

শাফি, মুহাম্মদ ইদরিস আল-: (মৃত্যু: ৮২০): ইসলামী আইনের নীতিমালা (উসুল ) প্রণয়নের মাধ্যমে ফিকহর বিপ্লবী রূপ দিয়েছেন এবং জুরেসপ্রুডেন্সের শাফী মতবাদের প্রবর্তক।

শাহ্ জিহান: মোঘল সম্রাট (১৬২৭-৫৮), যাঁর শাসনামল মোঘুলদের পরিমার্জনা ও অনন্যতা প্রত্যক্ষ করেছে; তাজ মহলের নির্মাতা 1

শাহ ওয়ালি-উল্লাহ্ (১৭০৩-৬২) : ভারতের একজন সুফি সংস্কারক যিনি ইসলামের প্রতি পাশ্চাত্য আধুনিকতাকে হুমকি হিসাবে বিবেচনাকারীদের অন্যতম।

সিনান পাশা (মৃত্যু: ১৫৭৮): ইসতাম্বুলের সুলেমানিয়া মসজিদ ও এডিরনের সেলিমিয়া মসজিদের স্থপতি।

সোরোশ, আবদোলকরিম (১৯৪৫): নেতৃস্থানীয় ইরানি বুদ্ধিজীবী যিনি শিয়া মতবাদের অধিকতর উদার ব্যাখ্যার কথা বললেও পাশ্চাত্যের সেক্যুলারিজম বিরোধী 1 সুত্রাওয়ার্দি, ইয়াহিয়া (মৃত্যু: ১১৯১) : সুফি দার্শনিক, প্রাক-ইসলামী ইরানি

অতীন্দ্রিয়বাদের ভিত্তিতে আলোকন (ইশরাক) মতবাদ প্রবর্তন করেন। আলেপ্পোতে কথিত ধর্মদ্রোহীতার দায়ে আয়ুবীয় শাসকগণ তাঁকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন।

সুলেইমান (প্রথম): অটোমান সুলতান (১৫২০-৬৬), ইসলামী বিশ্বে আল-কানুনি অর্থাৎ আইনদাতা নামে খ্যাত, এবং পাশ্চাত্যে ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট’ নামে পরিচিত। সাম্রাজ্যের সুস্পষ্ট রীতিনীতি প্রণয়ন করেন। তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্য ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে।

তাবারি, আবু জাফর (মৃত্যু: ৯২৩): শরিয়াহ্’র পণ্ডিত ও ঐতিহাসিক, সর্বজনীন ইতিহাস রচনা করেছিলেন, ঈশ্বরের উপাসনাকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাফল্য ও ব্যর্থতার অনুসন্ধান করেন, মুসলিম উম্মাহ্ প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছেন সেখানে।

তাতাওয়ি, রিফাহ্ আল-(১৮০১-৭৩): প্রকাশিত দিনপঞ্জীতে ইউরোপীয় সমাজের আবেগময় প্রশংসা তুলে ধরেছেন এই মিশরীয় আলিম, ইউরোপীয় গ্রন্থাদির আরবী অনুবাদ করেন তিনি এবং মিশরে আধুনিকীকরণের ধারণা উৎসাহিত করেন ৷

উমর (দ্বিতীয়): একজন উমাঈয়াহ্ খলিফাহ্ (৭১৭-২০), যিনি ধর্মীয় আন্দোলনের নীতিমালা অনুযায়ী শাসনের প্রয়াস পেয়েছিলেন। প্রথম খলিফাহ্ যিনি প্রজাদের ইসলাম ধর্মগ্রহণে উৎসাহ জুগিয়েছেন।

উমর ইবন আল-খাত্তাব : পয়গম্বর মুহাম্মদের(স: ) অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর। পয়গম্বরের পরলোকগমনের পর দ্বিতীয় খলিফাহ্ হন (৬৩৪-৪৪) এবং প্রথম আরব বিজয়াভিযানের পরিকল্পনা করেন, নির্মাণ করেন গ্যারিসন শহরগুলো। জনৈক পারসিয়ান যুদ্ধবন্দীর হাতে প্রাণ হারান তিনি।

উসমান ইবন আফফান: মুহাম্মদের(স:) ধর্মগ্রহণকারীদের অন্যতম এবং তাঁর মেয়ে জামাই। তৃতীয় খলিফাহ্ (৬৪৪-৫৬) হয়েছিলেন তিনি কিন্তু পূর্বসূরীদের তুলনায় কম সমর্থ শাসক ছিলেন। তাঁর অনুসৃত নীতিমালা তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ জন্ম দেয় এবং বিদ্রোহের উস্কানি সৃষ্টি হয় এবং সেই সময় মদীনায় নিহত হন তিনি। তাঁর হত্যাকাণ্ডের ফলে প্রথম ফিৎনাহ্ যুদ্ধ সূচিত হয়েছিল। ওয়ালিদ (প্রথম), খলিফাহ্ আল-উমাঈয়াহ্ খলিফা (৭০৫-১৭), যিনি উমাঈয়াদের ক্ষমতা ও সাফল্যের শীর্ষ সময়ে শাসন করেছিলেন।

ওয়াসান ইবন আতা (মৃত্যু: ৭৪৮): যৌক্তিক ধর্মতত্ত্ব মুতাযিলা মতবাদের প্রবর্তক ইয়াসিন, শেখ আহ্লাদ (১৯৩৬) ইসরায়েল অধিকৃত গাযায় কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান

মুজামার (ইসলামী কংগ্রেস) প্রতিষ্ঠাতা। সন্ত্রাসী গ্রুপ HAMAS এই আন্দোলনের দলছুট অংশ।

ইয়াযিদ (প্রথম): উমাঈয়াহ্ খলিফাহ্ (৬৮০-৮৩), কারবালায় হুসেইন ইবন আলীর হত্যাকাণ্ডের জন্যে প্রধানত তাঁকে দায়ী করা হয়।

যায়েদ ইবন আলী (মৃত্যু: ৭৪০): পঞ্চম শিয়া ইমামের ভাই; রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন এবং পঞ্চম ইমাম হয়ত তাঁর নেতৃত্বের দাবী রুখতেই নিজস্ব নীরবতার দর্শন গড়ে তোলেন। এরপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ও দ্বাদশবাদীদের রাজনীতি হতে বিরত থাকার নীতিকে বর্জনকারী শিয়ারা অনেক সময় যায়েদীয় নামে পরিচিত হয়ে থাকে।

(ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুসৃত হয়েছে)

আরবী শব্দার্থ

আহাদিস (এক বচনে, হাদিস): সংবাদ, প্রতিবেদন। পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) শিক্ষা ও আচরণ সম্পর্কিত দালিলিক বিবরণ, যেগুলো কুরানে নেই, কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর ও পারিবারিক সদস্যগণ ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্যে নথিবদ্ধ করে গেছেন।

আহল আল-হাদিস : হাদিসপন্থীগণ। উমাঈয়াহ্ আমলে আবির্ভূত চিন্তাধারা যা জুরিস্টদের ইজতিহাদ প্রয়োগের অনুমতি দেয় না, বরং আহাদিসের ওপর নির্ভর করে সকল বিধি-বিধান প্রয়াগের উপর জোর দেয় ৷

আহল আল-কিতাব: ঐশীগ্রন্থধারী জাতি। পূর্ববর্তী ঐশীগ্রন্থের অনুসারী জাতি, যেমন ক্রিশ্চান বা ইহুদি বোঝাতে কুরানের পরিভাষা। যেহেতু পয়গম্বর (স:) এবং অধিকাংশ প্রাথমিক মুসলিমরা নিরক্ষর ছিলেন এবং তাঁদের কাছে গ্রন্থ থাকলেও খুব অল্পই ছিল, এমন মত প্রকাশ করা হয় যে, এর অনুবাদ হওয়া উচিত: “পূর্বের প্রত্যাদেশের অনুসারীগণ।”

আলম আল-মিথাল: নিখাদ ইমেজের জগৎ। মানব-মনের একটা জগৎ যা মুসলিম অতীন্দ্রিয়বাদীদের দিব্যদর্শনের অভিজ্ঞতার উৎস এবং সৃজনশীল কল্পনার আধার।

আলিম: উলেমা দেখুন।

আমির: নেতা।

আনসার: ৬২২-এ মক্কা ত্যাগে বাধ্য হওয়া পয়গম্বর(স:) ও প্রথম মুসলিমদের আশ্রয়দানের মাধ্যমে “সাহায্যকারী”তে পরিণত মদীনার মুসলিমগণ। তারা প্রথম মুসলিম সমাজ নির্মাণের প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে I

বাতিন: অস্তিত্ব ও ঐশীগ্রন্থের “গোপন” মাত্রা, যা ইন্দ্ৰীয় বা যৌক্তিক চিন্তায় উপলব্ধি করা যায় না, বরং অতীন্দ্রিয়বাদের ধ্যানী স্বজ্ঞামূলক অনুশীলনে অনুভব করা যায়।

দার আল-ইসলাম: ইসলামের ঘর। মুসলিম শাসনাধীন এলাকা।

জিকর: চৈতন্যের বিকল্প অবস্থা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মন্ত্রের মত ঈশ্বরের নামসমূহ উচ্চারণের মাধ্যমে ঈশ্বরের “স্মরণ”। সুফি ভক্তি।

জিম্মি: ইসলামী সাম্রাজ্যে “নিরাপত্তাপ্রাপ্ত প্রজা” (“Protected Subject”) যারা কুরানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ধর্মের অনুসারী। আহল আল-কিতাব, ইহুদি, ক্রিশ্চান, যারোস্ট্রিয়, হিন্দু, বুদ্ধ এবং শিখরা এর অন্তর্ভুক্ত। জিম্মিদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হত এবং তারা তাদের নিজস্ব সামাজিক রীতি অনুযায়ী সমাজ গঠন করতে পারত, তবে ইসলামের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে হত তাদের। ফাকিহ্: জুরিস্ট। ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ।

ফাতওয়াহ্: ইসলামী আইন বিষয়ে ধর্মীয় পণ্ডিতের আনুষ্ঠানিক আইনি মতবাদ বা সিদ্ধান্ত।

ফিকহ্: ইসলামী জুরেসপ্রুডেন্স। পবিত্র মুসলিম আইনের পূর্ণ পাঠ ও প্রয়োগ। ফিৎনাহ্: প্রলোভন। বিচার। নির্দিষ্টভাবে, শব্দটি রাশিদুন ও প্রাথমিক উমাঈয়াহ্ আমলে মুসলিম সমাজকে বিভক্তকারী গৃহযুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ৷ ফুতুওয়াহ্: দ্বাদশ শতাব্দীর পরে গঠিত শহুরে তরুণদের একটা দল, যারা শিক্ষাগ্রহণ আর আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুফি আদর্শ ও আচরণ প্রবলভাবে প্রভাবিত নেতার প্রতি শপথগ্রহণ পূর্বক সমর্থন প্রদান করত।

ঘায়ু: মূলত “হামলা”- প্রাক-ইসলামী যুগে আরবরা লুণ্ঠিত মালের উদ্দেশ্যে পরিচালনা করত। পরবর্তীকালে একজন গাযি যোদ্ধা ইসলামের জন্যে পবিত্র যুদ্ধের দ্বারা প্রায়ই দার আল-ইসলামের সীমান্তে সেনাদলের উপস্থিতি বোঝাতে শব্দটি প্রয়োগ করা হয়।

ঘুলাট (বিশেষণ, ঘুলুউ): চরম অনুমান। প্রাথমিক শিয়া মুসলিমদের অনুসৃত, যা মতবাদের কিছু কিছু বিষয়ে বাড়তি জোর দিয়েছে।

হাদিস: আহাদিস দেখুন।

হজ্জ: মক্কায় তীর্থযাত্রা।

হিজরাহ্: পয়গম্বর মুহাম্মদ(স:) ও প্রথম মুসলিমদের সমাজের ৬২২-এ মক্কা হতে মদীনায় “অভিবাসন”।

ইজমাহ্: আইনগত সিদ্ধান্তের বৈধতাদানকারী মুসলিম জনগোষ্ঠীর “ঐকমত্য”।

ইজতিহাদ: সমসাময়িক পরিস্থিতিতে শরিয়াহ্ প্রয়োগের লক্ষ্যে কোনও জুরিস্ট কর্তৃক প্রযুক্ত “স্বাধীন যুক্তি”। চতুর্দশ শতাব্দীতে সুন্নী মুসলিমরা ঘোষণা দেয় যে “ইজতিহাদের দ্বার” রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং পণ্ডিতদের অবশ্যই যুক্তিভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টির বদলে অতীত কর্তৃপক্ষের আইনগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে হবে ৷

ইলম্‌: কোনটা ন্যায় এবং মুসলিমদের কেমন আচরণ করা উচিত সে জ্ঞান।

ইমাম: মুসলিম জনগোষ্ঠীর নেতা। শিয়া মুসলিমরা কন্যা ফাতিমাহ্ এবং তাঁর স্বামী আলী ইবন আবি তালিবের মাধ্যমে পয়গম্বরের উত্তরপুরুষ বোঝাতে এটা ব্যবহার করে, শিয়ারা তাদের মুসলিম সমাজের প্রকৃত নেতা বলে মনে করে। ইরফান: মুসলিম অতীন্দ্রিয়বাদী ঐতিহ্য।

ইসলাম: ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি “আত্মসমৰ্পণ”।

জাহিলিয়াহ্ (বিশেষণ জাহিলি): অজ্ঞতার কাল। মূলত: আরবের প্রাক-ইসলামী যুগ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে মুসলিম মৌলবাদীরা প্রায়শ এমনকি মোটামুটি মুসলিম সমাজসহ যেকোনও সমাজ বোঝাতে প্রয়োগ করে যা, তাদের দৃষ্টিতে, ঈশ্বরের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের কাছে নতি স্বীকারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জিহাদ: সংগ্রাম, প্রয়াস। কুরানে ব্যবহৃত শব্দটির প্রাথমিক অর্থ, যা ইসলামী সমাজ বা ব্যক্তি মুসলিমের অন্তর্গত বাজে অভ্যাস সংস্কারের অভ্যন্তরীণ প্রয়াস বোঝায়। শব্দটি ধর্মের জন্যে সূচিত যুদ্ধের ক্ষেত্রেও বিষেশভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

জিযিয়াহ্: পোল কর, সামরিক নিরাপত্তার বিনিময়ে জিম্মিদের দিতে হত। কাবাহ্: পবিত্র নগরী মক্কাস্থ চৌকো আকৃতির উপাসনাগৃহ যা মুহাম্মদ(সঃ) ঈশ্বরের প্রতি উৎসর্গ করেন এবং ইসলামী বিশ্বের পবিত্রতম স্থানে পরিণত করেন। কালাম: ইসলামী অনুমানভিত্তিক ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্নমালার আলোচনা। মুসলিম স্কলাস্টিক থিওলজি বর্ণনায়ও শব্দটি প্রায়শ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

খানকাহ্: ভবন, যেখানে জিকর এর মত সুফি কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সুফি শিক্ষক বসবাস করেন এবং অনুসারীদের নির্দেশনা দেন।

মাযহাব (“নির্বাচিত পথ”): ইসলামী জুরিসপ্রুডেন্সের চারটি বৈধ মতবাদের একটি। মাদ্রাসাহ্: মুসলিমদের উচ্চ শিক্ষার কলেজ, যেখানে উলেমাগণ ফিকহ্ বা কালামের মত শাস্ত্র পাঠ করে থাকেন।

মাওয়ালি (ক্লায়েন্ট): প্রাথমিক অনারব ইসলাম গ্রহণকারীদেরকে দেয়া নাম, যাদের মুসলিম হওয়ার পর যেকোনও গোত্রের নামমাত্র ক্লায়েন্টে পরিণত হতে হয়েছিল।

মুজতাহিদ: ইজতিহাদ প্রয়োগের অধিকার অর্জনকারী জুরিস্ট, বিশেষ করে শিয়া জগতে।

পির: সুফি শিক্ষক, যিনি অনুসারীদের অতীন্দ্রিয় পথে নির্দেশনা দিতে পারেন। কাজিঃ শরিয়াহ্ প্রয়োগকারী বিচারক।

কিবলাহ্: প্রার্থনার সময় মুসলিমরা “যেদিকে” ফেরে। একেবারে গোড়ার দিকে কিবলাহ্ ছিল জেরুজালেম, পরে মুহাম্মদ (স:) তা মক্কার দিকে পরিবর্তন করেন।

রাশিদুন: চারজন “সঠিকপথে পরিচালিত” খলিফাহ্, যারা পয়গম্বর মুহাম্মদের (স: ) সহচর ও প্রত্যক্ষ উত্তরাধিকারী ছিলেন: আবু বকর, উমর ইবন আল-খাত্তাব, উসমান ইবন আফফান এবং আলী ইবন আবি তালিব।

সালাত: মুসলিমরা দিনে পাঁচবার যে আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা করে।

শাহাদাহ্: বিশ্বাসের মুসলিম ঘোষণা: “আমি ঘোষণা করছি যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও ঈশ্বর নেই এবং মুহাম্মদ(স:) তাঁর পয়গম্বর।“

শরিয়াহ্: “জলাধারে যাবার পথ।” কুরান, সুন্নাহ এবং আহাদিস থেকে সংগৃহীত ইসলামী পবিত্র আইন। শিয়া মুসলিম: শিয়াহ-ই-আলী বা আলীর পক্ষাবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত, এরা বিশ্বাস করে যে রাশিদুনদের স্থলে পয়গম্বরের নিকটতম পুরুষ আত্মীয় আলী ইবন আবি তালিবেরই শাসন করা উচিত ছিল, বেশ কয়েকজন ইমামকে মানে তারা, যারা আলী এবং পয়গম্বরের কন্যা ফাতিমার প্রত্যক্ষ পুরুষ বংশধর। সুন্নী সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে এদের মতপার্থক্য সম্পূর্ণই রাজনৈতিক। সুফি, সুফিবাদ: সুন্নী ইসলামের অতীন্দ্রিয়বাদী ঐতিহ্য।

সুন্নাহ্: রীতি। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে সহচর ও পরিবার কর্তৃক নথিভুক্ত ইসলামের আদর্শ নিয়ম হিসাবে বিবেচিত পয়গম্বর মুহাম্মদের(স:) অভ্যাস ও ধর্মীয় আচরণ। এভাবে এগুলো ইসলামী আইনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাতে মুসলিমরা ঈশ্বরের প্রতি পয়গম্বরের নিখুঁত আত্মসমর্পণের (ইসলাম) আদর্শরূপের কাছাকাছি যেতে পারে।

সুন্নী ইসলাম: চার রাশিদুনকে শ্রদ্ধাকারী ও চলতি ইসলামী ব্যবস্থাকে বৈধতা দানকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বোঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়।

তরিকাহ্: কোনও একটি ভ্রাতৃসংঘ বা মতবাদ যারা সুফি “পথ” অনুসরণ করে এবং যাদের নিজস্ব বিশেষ জিকর ও শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।

তাওহীদঃ একীকরণ। স্বর্গীয় একত্ব, মুসলিমরা তাদের রীতিনীতি ও অগ্রাধিকার সমূহের সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে তাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে যার অনুকৃতি আনতে চায়।

উলেমা (একবচনে, আলিম): শিক্ষিত জন, ইসলামের আইনগত ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অভিভাবক।

উম্মাহ্: মুসলিম সমাজ।

উমরাহ্: কাবার চারদিকে আনুষ্ঠানিক প্রদক্ষিণ।

যাকাত: বিশুদ্ধতা। আয় ও মূলধনের উপর নির্ধারিত কর (সাধারণত ২.৫ শতাংশ) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা সকল মুসলিমকে প্রতিবছর দরিদ্রদের সহযোগিতার জন্যে অবশ্যই প্রদান করতে হয়।

(ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুসৃত হয়েছে-অনুবাদক।)

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *