1 of 2

৩. অতলে অন্তরীণ – ১৫

আঠারো জুন, শনিবার

গতকাল আহমদ শরীফের বাড়িতে তিনটে বোমা ছোঁড়া হয়েছে। তাঁর ফাঁসির দাবি নিয়েও একসময় মোল্লারা পথে নেমেছিল। এখন তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও তসলিমাগংদের মধ্যে আহমদ শরীফকে ফেলে। আহমদ শরীফ তাদের পুরোনো শষনু। নতুন নতুন শষনু নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও পুরোনো শষনুর কথা তারা ভোলেনি। তাই বোমা হামলা। আজ বোমা হামলার নিন্দা করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, সাম্যবাদী দল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন। প্রগতিশীল দলগুলো মৌলবাদীর আন্দোলনকে তসলিমার ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে খুব বেশি উμচব!μচউ করেনি। কিন্তু এখন টের পাচ্ছে এ হতে দেওয়া যায় না। ভয়ংকর ভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে সবাইকে ছাড়িয়ে মাড়িয়ে এই শক্তিটি। এখন বিবৃতি দিয়ে বসে থাকার সময় নেই আর। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আহবান জানিয়েছে ৩০ তারিখ হরতাল প্রতিহত করার। ২৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিহতের ব্যাপারে সায় দিয়েছে। এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত বলা হল, সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশে উগ্র মৌলবাদী, ফতোয়াবাজ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতির অপব্যবহার করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক সংহতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের চক্রান্তে মেতে উঠেছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ছুতোয় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারি নির্দেশে মামলা, হয়রানি ও জুলুম শুরু হয়েছে। সরকারের এই ভূমিকা মৌলবাদী চক্রকে ইন্ধন যোগাচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনকে ব্যাহত করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে একাত্তরের ঘাতক জামাত শিবির এবং ক্ষমতাসীন সরকার একযোগে ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করে চলেছে। জামাত-জাপার সহযোগিতায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর আওয়ামী লীগের আদর্শহীন রাজনীতি থেকে সাম্প্রদায়িক জামাত শিবির পুরো ফায়দা তুলে নেবার সুযোগ পেয়েছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এ সময় সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগঠন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশবাসীকে ফতোয়াবাজ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে।

বাম ফ্রণ্টের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মৌলবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়েছে। এখন আর বিবৃতি নয়, পথে নামবে বাম ফ্রন্ট। আগামী ২৭ জুন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট দাবি দিবস পালন করবে।

মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিহত না করলে চলবে না। টনক তবে নড়েছে নেতাদের। জাসদের নেতারা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে ইন্ধন দেয়ার মত আগুন নিয়ে খেলার নীতি অবলম্বে বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বলেছেন, তসলিমা নাসরিনের সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মৌলবাদী গোষ্ঠী যে নৈরাজ্যকর ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তাতে দেশের গণতান্ত্রিক ও মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ বিক্ষুব্ধ না হয়ে পারে না। ইতিমধ্যে দৈনিক জনকণ্ঠ, আজকের কাগজ প্রভৃতি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের সরকারি নির্দেশে মামলা, হয়রানি ও জুলুম শুরু হয়েছে। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে পাশ কাটানোর জন্য প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে ইন্ধন দিয়ে সক্রিয় করার সরকারি নীতি ও আওয়ামী লীগের বিভ্রান্ত ও সংকীর্ণ রাজনীতির সুযোগে জামাত শিবির ও নরঘাতক গোলাম আযমরা নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের যে পরিকল্পনা করছে তা এখনই প্রতিহত না করলে ভবিষ্যতে এই জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হবে।

সাম্যবাদী দল বলেছে, বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামাতের অশুভ আঁতাতের পটভূমিতে জামাত নতুনভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে অগ্রসর করে নিয়ে যাবার জন্য সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। এখনই যদি দেশবাসী সতর্ক না হয়, তবে জামাত ও সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ দিবস পালন করবে কাল। গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের মধ্যে ছাত্র লীগও আছে, আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগ মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেমে গেলেও আওয়ামী লীগ নামছে না। আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে জামাতে ইসলামী আর জাতীয় পার্টিকে নিয়ে, সুতরাং আওয়ামী লীগ জামাতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যত নষ্ট করতে চাইছে না। ছাত্রলীগের ছেলে মেয়েরা এখনও নোংরা রাজনীতিতে গা ডোবায়নি, তাই মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে এসেছে। আদর্শ আর সততা যেটুকু থাকে, তা অল্প বয়সেই থাকে, বড় নেতা হয়ে গেলেই সততা আর আদর্শ ক্রমে ক্রমে বিলীন হতে থাকে।

কলাম লেখা শুরু হয়েছে। কে এম সোবহান লিখেছেন মৌলবাদীদের কাছে সরকারের আত্মসমর্পণ এই শিরোনামে। উল্লেখ করেছেন আমার কথা। কিন্তু এখন আমাকে কি করেছে মৌলবাদী শক্তি বা সরকার এগুলোর চেয়ে বড় ভাবনার বিষয়টি হচ্ছে দেশের কি অবস্থা করছে, দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। এটি যে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, মৌলবাদীর উত্থান যে সকল মুক্তমনের মানুষের ওপর হুমকি, তা সম্ভবত এখন বুঝতে পারছেন অনেকে।

প্রতিরোধ মোর্চা ঘোষণা দিয়েছে ৩০শে জুনের হরতাল সফল করার জন্য দেশব্যাপী ঝটিকা সফর ও বিভিন্ন স্থানে জনসভা করার। ১৮ জুন শনিবার চকবাজার, ২০ জুন সোমবার সিলেট, ২১ জুন মঙ্গলবার বিবাড়িয়া ( ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে তারা বিবাড়িয়া বলতে পছন্দ করে) ও ভৈরব, ২২ জুন বুধবার কুমিল্লা, মাইজদি, ফেনি, ২৩ জুন বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম, ২৪ জুন শুক্রবার খুলনা, ২৫ জুন ফরিদপুর, ২৬ জুন রোববার বগুড়া, এবং ২৭ জুন সোমবার মোমেনশাহী ( ময়মনসিংহকে তারা মোমেনশাহী বলতে পছন্দ করে) ও কিশোরগঞ্জে জনসভা। ২৪ জুন শুক্রবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দিবস। বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামের সংগঠন মোর্চার কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়েছে। ইসলামপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও আয়োজন করেছেন সভার। আলোচনা সভাটিতে সকলে একমত হলেন এই ব্যাপারে যে মানুষের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ইচ্ছাকৃত আঘাত এবং এর বিকৃত উপস্থাপনা কোনওক্রমেই লেখকের স্বাধীনতার অধিকারে পড়ে না। সভায় ছিলেন দেশের জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডঃ সৈয়দ আলী আশরাফ, ডঃ কাজী দীন মুহাম্মদ, আধ্যাপক আবদুল গফুর, বিচারপতি নূরুল ইসলাম, ডঃ মাহমুদ শাহ কোরেশ, রাজিয়া খান আমিন, কবি জাহানারা আরজু, কবি আল মাহমুদ, শামস রশীদ, ফজল শাহাবুদ্দিন, হারুণ রশিদ। এঁদের মধ্যে ফজল শাহাবুদ্দিনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করি। তাঁর প্রবল রসবোধের আমি খুব অনুরক্ত। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদীর্ঘদিন আমার দীর্ঘ আড্ডা দিয়ে কেটেছে। তাঁকে কখনও কোনও ধার্মিক লোক বলে আমার মনে হয়নি। আড্ডায় তিনি শামসুর রাহমান প্রসঙ্গে প্রচুর কথা বলতে পছন্দ করেন। বন্ধুতা তাঁর সঙ্গে তাঁর যেমন ছিল, এখন শষনুতাও তেমন, গভীর। ফজল শাহাবুদ্দিনের প্রতিভা ছিল, কিন্তু এত প্রতিভা নিয়েও তিনি শামসুর রাহমানের মত বড় কবি হতে পারেননি, এই একটি বেদনা তিনি খুব গোপনে লালন করেন, এরকমই মনে হয়েছে আমার। নিজের ভাগ্যটি শামসুর রাহমানের মত খোলেনি বলেই কি তিনি জেদ করে শামসুর রাহমান যে দলে তার বিরোধী দলে অবস্থান করছেন! এই দলটি সরকারি দলের দিকে এলিয়ে কেলিয়ে পড়ে টাকা পয়সা, বই প্রকাশ ইত্যাদি বেশ আদায় করে নিয়েছে। এরশাদের এশীয় কবিতা উৎসবে ফজল শাহাবুদ্দিন ভিড়েছিলেন। এখন তিনি চিহ্নিতই হয়ে গেছেন প্রতিক্রিয়াশীল দলের কবি হিসেবে। আল মাহমুদও তাই। আল মাহমুদের কারণ আছে ও দলে ভেড়ার। তিনি প্রচণ্ড ধার্মিক লোক। আল্লাহ বিশ্বাস করেন বলে কনডমে বিশ্বাস করেন না। শুনেছি তেরো চৌদ্দটি কাচ্চা বাচ্চা তাঁর।

সৈয়দ আলী আহসান লোকটি প্যান্ট সার্ট পরা লেখাপড়া জানা মৌলবাদী। আর তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশ পেন (পি ই এন) এর প্রেসিডেণ্ট। কবি লেখক, নাট্যকারদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠনের নাম পেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই সংগঠনের প্রেসিডেণ্ট অন্নদাশংকর রায়, বাংলাদেশে সৈয়দ আলী আহসান। এই পেন সংগঠনটির মূল আন্দোলন লেখকের লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এই পেন যে কোনও সেন্সরশীপএর বিরুদ্ধে, বই বাজেয়াপ্ত করার বিরুদ্ধে, লেখকদের ওপর কোনরকম আঘাতের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন করছে। কেবল এই বাংলাদেশ পেনই হল লেখকের লেখার স্বাধীনতার বিপক্ষে। পেন এর সভায় বিজ্ঞ ব্যক্তিরা বললেন, পেন লেখকদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বিশ্বাস করে। তবে এ অধিকার প্রয়োগ করে জনগণের বিশ্বাস ও আদর্শকে বিদ্রূপ করা কোনও লেখকেরই উচিত নয়। কোনও লেখকরই অসত্যের আশ্রয় নেওয়া এবং কোনও ধর্ম ও ধর্ম প্রচারকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করা উচিত নয়। আমার বিশ্বাস, লণ্ডনে পেন এর মূল আপিসের কেউ জানে না যে চরম ডানপন্থী মৌলবাদীদের আওতায় বাংলাদেশের পেনটি।

গতকালের একটি মিছিলের ছবি আমাকে চমকে দেয়। মিছিলটি মেয়েদের মিছিল। বোরখা পরা মেয়েরা রাস্তায় নেমেছে বিশাল ব্যানার নিয়ে, হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড। ব্যানারে লেখা, কুখ্যাত তসলিমার ফাঁসি চাই। এনজিওদের অপতৎপরতা বন্ধ কর। ইসলাম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল। বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিশ। বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রী মজলিশ। হায়, শেষ পর্যন্ত মেয়েরাও!

জামাতে ইসলামীর সভায় মতিউর রহমান নিজামী, আমাদের সংসদ সদস্য বলেন, জ্ঞতসলিমা এবং তার সমর্থনকারীরা হল আবর্জনা, ওই আবর্জনাগুলো একদিন গণজোয়ারেই ভেসে যাবে। তসলিমা নাসরিন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এই বাংলাদেশের সীমানা মুছে ফেলতে চায় বলেই ভারত এবং পাশ্চাত্য জগত তাকে লুফে নিয়েছে। তসলিমা ও তাকে যারা সমর্থন করে তারা কেউই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতে পারে না। তসলিমা ও তাকে সমর্থনকারী ঘাদানি (ঘাতক দালাল নির্মূল) কমিটি একই পথের পথিক। সংসদে জামাত ধর্মদ্রোহিতা বিরোধী বিল পাসের যে প্রস্তাব করেছে, তা পাস হলে তসলিমা-আহমদ শরীফ গংরা ইসলামকে আঘাত করার কোনও সুযোগ পাবে না। এই বিল শুধু জামাতে ইসলামীর বিল নয়, এই বিল সমস্ত মুসলমানের বিল। এই বিল পাস না করা ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা।’ জামাতের আরেক নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের বলেছেন, জ্ঞ৩০ জুন তসলিমা নাসরিনের পক্ষে কেউ মাঠে নামলে তার পিঠের চামড়া তুলে ফেলা হবে।’ জামাতে ইসলামী পরবর্তী কর্মসূচী, আগামী ২১ থেকে ২৮ জুন দেশব্যাপী গণসংযোগ, ২৯ জুন বিক্ষোভ মিছিল, ৩০ জুন অর্ধদিবস হরতাল।

গতকাল অর্গানাইজেশন ফর পীস এর উদ্যোগেও বিশাল মিছিল বের হয় শহরে। ওদের জনসভায় সাম্প্রদায়িক শান্তি বিনষ্ট এবং দেশদ্রোহীতার অভিযোগে তসলিমা নাসরিনের নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি করা হয়। গতকাল ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সভা মিছিল সব হয়। নগরীর সব বড় বড় রাস্তা বন্ধ করে মঞ্চ বানানো হয়েছে, জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে হোক, তারা তো বড় আন্দোলনে নেমেছে, কষ্ট না করিলে কেষ্ট পাইবে কি করিয়া বন্ধু!

দেশের সব অঞ্চল থেকে আসা তসলিমা বিরোধী বিশাল বিশাল সভা আর মিছিলের খবর ছাপা হচ্ছে জাতীয় পত্রিকাগুলোয়। এদিকে সরকারি দলও মাঠে নেমেছে। রাজশাহীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী সিটি কর্পোশেনের মেয়র, সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, এবং ইসলামিক ফাউল্ডেশনের বড় বড় বক্তা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় বলেছেন সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক বলেছেন, এদেশীয় রুশদীরা ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামের অপব্যাখ্যা সহ্য করা হবে না। ইসলামের গুণ গাইতে গাইতে তিনি বলেন, দুচারজন ইসলামের শষনু ছাড়া বিশ্বের সকল মনীষী স্বীকার করেছেন আজকের জ্ঞান বিজ্ঞান যে পর্যায়ে এসেছে তা ইসলামের কারণেই। ইসলামের আলোকে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার ঘটাতে হবে।

এ বাড়ির পাট চুকেছে আমার। মধ্যরাতে ক আর ঙ এসে গাড়ির পেছনে মুখ মাথা ঢাকা আমাকে বসিয়ে নিয়ে যান ঙর বাড়িতে। পা টিপে টিপে ঢুকে যাই ঙর লাইব্রেরী ঘরটিতে। ঙ বলে দিয়েছেন বাড়ির অন্য কেউ জানে না যে আমি এ ঘরে আছি, সুতরাং এ ঘর থেকে আমাকে বেরোনো চলবে না, ঘরের ভেতর কোনও শব্দ করা চলবে না।

গোপনে গোপনে কেবল শ্বাস নিই, শ্বাস ফেলি। শ্বাস প্রশ্বাসের এই শব্দটুকুও না জানি কবে কখন শুনবো যে আমার করা চলবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *