1 of 2

৩. অতলে অন্তরীণ – ৩৯

বারো জুলাই, মঙ্গলবার

ঘরে বন্দি পাখির মত বসে থাকি সারাদিন। বসে থাকতে থাকতে পিঠ ব্যথা হয়ে গেলে শুয়ে থাকি। শুয়ে থাকতে থাকতে মাথা ধরলে উঠে বসি। বসে থাকতে থাকতে বমির উদ্রেক হলে আবার শুয়ে পড়ি। শুয়ে থাকতে থাকতে একটু বমির উদ্রেক কমলে আবার উঠে বসি। বসে থাকতে থাকতে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ জ্বালা করলে আবার শুয়ে পড়ি। চোখ বুজে শুয়ে থাকতে থাকতে শ্বাস কষ্ট শুরু হতে থাকলে আবার উঠে বসি। বসে থাকতে থাকতে শ্বাস কষ্ট কমে গেলে আবার শুয়ে পড়ি। শুয়ে থাকতে থাকতে ঘামে শরীর ভিজে এলে আবার উঠে বসি। বসে ঘামগুলো মুছে একটু গরম গেলে শরীর থেকে আবার শুয়ে পড়ি। শুয়ে চোখে ঘুম নেমে এলে দুঃস্বপ্ন দেখে আবার উঠে বসি। বসে থাকতে থাকতে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে যে ওটা কেবলই দুঃস্বপ্ন ছিল, বাস্তব বলে কিছু ছিল না, শুয়ে পড়ি আবার। শুয়ে দুঃস্বপ্ন দেখার ভয়ে আমি দুচোখে ঘুমকে বসতে দিই না। ঘুম যদি না বসে চোখে তবে শুয়ে থাকার অর্থ হয় না বলে আবার উঠে বসি। অনেকক্ষণ বসে থাকতে থাকতে বসে থাকার অর্থ হয় না বলে আবার শুয়ে পড়ি। সারাদিন সারারাত পাঁচ ফুট বাই তিন ফুট একটি জায়গার মধ্যে আমার শোয়া বসা চলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *