বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – ১০

পর্ব ১০

এ কথা বলে লোকটা একটু থামল। তারপর বলল, ‘আপনারা আমার কুমির খামার দেখতে যাবেন?’ ট্যুরিস্টরা দেখতে যায়। এখান থেকে মাত্র পনেরোকুড়ি মিনিটের পথ। আমার গাড়ি আছে। খামার দেখার জন্য ট্যুরিস্টদের থেকে চার ডলার করে নিই। আপনারা দু’ডলার করে দিলেই হবে। কারণ, আমি এখন সেখানেই যাচ্ছি। আমার গাড়িই আবার আপনাদের এখানে নামিয়ে দিয়ে যাবে।’

বুলের কথার পর নারেঙ বলল, ‘চলুন না, আমিও সেখানে যাচ্ছি। একসঙ্গে সকলে যাওয়া যাবে?’

বিক্রম বলল, ‘হাতে যখন আমাদের সময় আছে তখন দেখে আসা যেতে পারে।’ কথাটা বলে সে স্বাগতর দিকে তাকাল তার মতামতের জন্য।

স্বাগত বলল, ‘যাওয়া যেতে পারে ঠিকই তবে তার আগে একবার স্যরকে জানানো ভালো। তোমরা এখানে দাঁড়াও আমি দেখি, স্যর কী বলেন?’

ব্যাটারির দোকানের সামনে একই জায়গাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন রামমূর্তি সার। স্বাগত তাঁকে ব্যাপারটা বলল। কথাটা শুনে রামমূর্তি সার ভেবে নিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে যাও। আমি এখানকার অন্য একটা কুমির খামার দেখতে গেছিলাম। তবে কুমিরের চৌবাচ্চার ওপরে উঠে খুব সাবধানে চলাফেরা করবে। চেষ্টা করবে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ফিরে আসার।’

রামমূর্তি সারের অনুমতি নিয়ে স্বাগত ফিরে এল আগের জায়গাতে। এতক্ষণে দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছে বুল নামের ব্যবসায়ী। দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে সবাই প্রতীক্ষা করছিল স্বাগতর জন্য। স্বাগত তাদের জানাল হ্যাঁ। যাওয়া যেতে পারে।’

কিছুক্ষণের মধ্যে একটা গাড়ি এসে হাজির হল সেখানে। পিছনের অংশে ছাদ খোলা অনেকটা জিপ গাড়ির মতো দেখতে আকারে বড় একটা গাড়ি। সেটাই বুলের গাড়ি। সম্ভবত মালপত্র আনা-নেওয়া হয় সেই গাড়িতে। বুলের সঙ্গে অন্য ছ’য় জনও গাড়িতে উঠে পড়ল। গাড়িতে উঠেই স্বাগত দশ ডলারের নোট ধরিয়ে দিল খামার মালিকের হাতে। গাড়ির পিছনের অংশের রেলিং ধরে দাঁড়াল সবাই। চলতে শুরু করল গাড়ি। স্বাগতরা এগল ব্যাটারির দোকানের সামনে দিয়েই। রামমূর্তি সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বাগতরা দেখতে পেল তাঁকে। তিনিও স্বাগতদের দেখতে পেয়ে হাত নাড়লেন। স্বাগতরাও হাত নাড়ল তাঁকে দেখে। ব্যাপারটা খেয়াল করে নারেঙ জানতে চাইলেন, ‘ওই ভদ্রলোক কে?’

বিক্রম জবাব দিল, “উনি হলেন প্রফেসর রামমূর্তি। আর্কিওলজিস্ট। ওনার নেতৃত্বেই আমরা মন্দির সংস্কারের কাজ করছি। ওঁর সঙ্গেই আমরা বাজারে এসেছি রসদ কিনতে। আবার ওঁর সঙ্গেই ফিরে যাব।’

নারেঙ প্রশ্ন করলেন, ‘আপনাদের আঙ্করভাটের বিষ্ণু মন্দির দেখা হয়ে গেছে? আমি দু-এক দিনের মধ্যেই দেখতে যাব। তবে শুনেছি যে ওই মন্দির নাকি ভালোভাবে ঘুরে দেখতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে।’

প্রীতম বলল, “ঠিকই শুনেছেন। আমরা একদিন দেখতে গেছিলাম ওই প্রাচীন মন্দির। সে মন্দির এত বিশাল আর সুন্দর তা না দেখলে ভাষায় ঠিক প্রকাশ করা যায় না।”

খামার মালিক বুল জানতে চাইলেন, ‘আপনারা কি ওই বিষ্ণু মন্দিরের আশপাশে কাজ করছেন?’

বিক্রম জবাব দিল, ‘ওই মন্দির থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গলের মধ্যে একটা প্রাচীন মন্দিরে।’

—‘সেটাও কি বিষ্ণু মন্দির? স্থানীয় মানুষ বলে ও অঞ্চলে আমি মাঝে মাঝেই যাই।’

বুল নামের লোকটার কথা শুনে স্বাগত জবাব দিল, “কোন দেবতার মন্দির এখনও তা জানা নেই, কোনও নামও নেই মন্দিরটার। সরকারি খাতায় শুধু ‘তেরো নম্বর মন্দির বলে উল্লেখ করা আছে।’

এ কথা বলার পরই নিজেকে সংযত করে ফেলল স্বাগত। তার মনে পড়ে গেল স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে তাদের কর্মস্থল নিয়ে বেশি আলোচনা করতে নিষেধ করে দিয়েছেন রামমূর্তি স্যর। খামার মালিক সম্ভবত ওই মন্দির প্রসঙ্গেই এরপর কোনও কথা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই স্বাগত প্রসঙ্গ পাল্টে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার খামারে কত কুমির আছে?’

খামার মালিক বললেন, ‘ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় তিনশো হবে।’

স্বাগত জানতে চাইল? ‘কী খায় ওরা?’

বুল বললেন, ‘বয়স অনুসারে ওদের খাবার ভাগ করা আছে। কেউ মাছ, কেউ মুরগি বা শূকরের মাংস।’

এ সব কথাবার্তা বলতে বলতেই ঘিঞ্জি বাজার অঞ্চল থেকে বাইরে বেরিয়ে পড়ল গাড়ি। প্রথমে কিছুটা পিচ রাস্তা। তার দু’পাশে ছোটখাট ঘর-বাড়ি। সেসব অতিক্রম করে একসময় মেঠো পথ ধরল স্বাগতরা। পথের দু’পাশে ফাঁকা জমি, কোথাও আবার কলাবাগান—সে সব দেখতে দেখতে, গাড়ির ঝাঁকুনি খেতে খেতে চলল তারা। এদিকে লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে দু-একজন লোক শুধু চোখে পড়ছে। দু’পাশ দেখতে দেখতে স্বাগতরা একসময় পৌঁছে গেল তাদের গন্তব্যে। বিশাল প্রাচীর ঘেরা একটা জমির লোহার গেটের সামনে গাড়ি এসে থামল। গেটের গায়ে টাঙানো সাইন বোর্ডে লেখা আছে-

“বুল ক্রোকোডাইল ফার্ম

সিয়েমরিপ ভিলেজ, কম্বোডিয়া।”

গাড়ি থেকে নেমে পড়ল সবাই। গেটের তালা খোলার আগে বুল তার পকেট থেকে একটা ছাপানো কাগজ বার করে বললেন, ‘এটা একটা সরকারি ফর্মালিটিজ। খামারে ঢোকার আগে আপনারা কাগজটা পড়ে সই করে দিন। নারেঙকে সই করতে হবে না। উনি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমার কাছে এসেছেন।’

স্বাগত কাগজটা হাতে নিল। ফর্মের মতো কাগজটার একপাশে ইংরেজি ও অন্যপাশে কম্বোডিয়ান ভাষাতে লেখা। ইংরেজিতে লেখা কাগজের অংশটা পড়ল সে। লেখাটার মূল বক্তব্য হল, যারা কুমির খামার দেখার জন্য ভিতরে প্রবেশ করবে তাদের কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে এমনকী মৃত্যু ঘটলেও তার ক্ষতিপূরণের দায় খামার মালিকের ওপর বর্তাবে না। খামার পরিদর্শনকালে বিপদের ঝুঁকি আছে জেনেও পর্যটকরা স্ব-ইচ্ছায় খামার পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। খামার মালিক খামার পরিদর্শনের ব্যাপারে কাউকে প্ররোচিত করছেন না। এছাড়া কুমিরদের বাইরের খাবার দেওয়া নিষেধ, পর্যটকরা খামারের কোনও ক্ষতিসাধন করলে তার জন্য তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, এ ধরনের বেশ কিছু কথাও কাগজে লেখা আছে। স্বাগতরা কাগজটা পড়ার পর সেটা অন্যদের হাতে দিল। তারাও দেখল কাগজটা। নাতাশা কাগজটা পড়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই নারেঙ বলল, ‘আপনাদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। আমি বেশ কিছু দেশে বেড়াতে গেছি। অনেক দেশের চিড়িয়াখানায় প্রবেশের আগে এমন ‘রিস্ক বন্ডে’ সই করিয়ে নেওয়া হয়।’

এরপর এ ব্যাপারটা নিয়ে কেউ আর আপত্তি করল না। একে একে সবাই সই করে দিল কাগজটাতে। সেটা পকেটে পোরার পর চাবি দিয়ে লোহার গেট খুলল খামার মালিক। স্বাগতরা প্রবেশ করল খামারে। উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একটা বড় জমি। প্রাচীরের গায়ে একপাশে টিনের ছাউনি দেওয়া বেশ কয়েকটা ঘর আছে। আর জমিটার শেষ প্রান্তে একতলা বাড়ির থেকেও বেশি উঁচু একটা বিশাল চৌকানো কাঠামো দেখা যাচ্ছে। কংক্রিটের দেওয়ালওয়ালা কাঠামোর মাথায় ওঠার জন্য একটা সিঁড়িও আছে। কাঠামোর মাথায় লোহার রেলিংও দূর থেকে চোখে পড়ছে। বুলকে অনুসরণ করে সে জায়গায় এসে উপস্থিত হল তারা। তাদের নিয়ে ওপরে ওঠার আগে খামার মালিক বললেন, ‘ভয়ের কিছু নেই। যদিও রেলিং আছে তবুও উত্তেজনার বশে বা ছবি তোলার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না।’

বুলের পিছন পিছন ধীরে ধীরে ওপরে উঠে এল সকলে। কাঠামোর ওপর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যাওয়ার জন্য দু’পাশে কোমর সমান লোহার রেলিং দেওয়া সংকীর্ণ পথ আছে। স্বাগতরা নীচের দিকে। এবার তারা বুঝতে পারল আসল ব্যাপারটা। কাঠামোর নীচের দিকটা একটা জলাধার। সেটা আবার চৌবাচ্চার মতো বেশ কয়েকটা ভাগে ভাগ করা হয়েছে। আর তাদের পাড়ে উঠে রোদ পোহাচ্ছে নানান আকৃতির কুমির। এক একটা চৌবাচ্চা বরাদ্দ এক এক আকৃতির কুমিরের। নিশ্চল কাঠের মতো শুয়ে আছে তারা। কিন্তু স্বাগতরা একসঙ্গে সার বেঁধে রেলিং ধরে নীচের দিকে তাকাতেই তাদের ঠিক নীচেই যে মাঝারি আকৃতির কুমিরগুলো ছিল তারা মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে ড্যাবড্যাবে চোখ মেলে তাকাল। তারপর একসঙ্গে বেশ কয়েকটা কুমির স্বাগতদের চমকে দিয়ে ঝাঁপ দিল জলে। সেই জলের ছিটে এসে স্বাগতদের পায়ে লাগল।

জলের ভিতর সাঁতার কাটতে কাটতে ওপর দিকে তাকিয়ে মানুষদের দেখতে লাগল প্রাণীগুলো। চৌবাচ্চাগুলোর ওপরের পথ ধরে ঘুরতে শুরু করল সকলে। তাদের পায়ের নীচে শুধু কুমির আর কুমির! তাদের আকার দু’ফুট থেকে শুরু করে আট-দশ ফুট পর্যন্ত। কুমির দেখার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ছবিও মোবাইল ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে লাগল তারা। কুমিরগুলোর কেউ মানুষ দেখে ঝাঁপ দিচ্ছে জলে, কেউবা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে শুয়ে আছে চৌবাচ্চার পাড়ের বাঁধানো চাতালে। স্বাগত জানতে চাইল, ‘আপনি কি বাইরে থেকে বাচ্চা কিনে এনে বড় করেন?’

বুল নামের লোকটা বললেন, ‘একসময় তাই করতাম। এখন অবশ্য এখানেই ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফোটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আট-দশ ফুট আকারের যে সব কুমির দেখছেন ওরা মোটামুটি তৈরি হয়ে গেছে আমার কাজের জন্য।’

সুরভী বলল, ‘আপনার তো শুধু চামড়ার প্রয়োজন হয়,

কিন্তু মাংসটা কী করেন?’

খামার মালিক বললেন, ‘হোটেল ব্যবসায়ীরা কিনে নেয়। স্থানীয় মানুষদের কাছে কুমিরের মাংসর চাহিদা প্রচুর। তাছাড়া বিদেশি ট্যুরিস্টরাও খায়।’

চৌবাচ্চাগুলোর ওপর দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে একসময় জায়গাটার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেল তারা। নীচের দিকে তাকিয়ে দুটো কুমিরকে দেখে চমকে গেল স্বাগতরা। সেখানে পায়ের নীচের চৌবাচ্চাটা বেশ বড়, আর তার পাড়গুলোও বেশ প্রশস্ত। সেই পাড়ের এক জায়গাতে শুকনো ঘাস পাতার গাদা করা আছে। আর তার সামনে শুয়ে আছে প্ৰকাণ্ড দুটো কুমির। আকারে তারা এক একটা পনেরো-ষোলো ফুট হবে! এত বড় কুমির স্বাগতরা চোখে দেখেনি। বুল বললেন, ‘ওই যে পাতায় গাদা দেখছেন ওখানে ওদের ডিম আছে। কিছুদিন বাদেই ডিম ফুটে ছানা বেরবে। কুমির দুটোর মধ্যে একটা পুরুষ। অন্যটা নারী।’ একটা কুমির মাথার ওপর তাকিয়ে মুখটা হাঁ করল। কী প্রকাণ্ড চোয়াল আর ভয়ঙ্কর দাঁতের মাড়ি! দেখলে শিউরে উঠতে হয়! নাতাশা মৃদু উত্তেজিত হয়ে খামচে ধরল সুরভীর হাত। এরই মাঝে বিক্রম তার স্বভাবসুলভ ইয়ার্কির স্বরে বলে উঠল, ‘আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এ জায়গাটা যদি এতগুলো লোকের ভারে নীচে খসে পড়ে তবে কী হবে?’ কথাটা শুনে খামার মালিক মৃদু তিরস্কারের স্বরে বিক্রমকে বললেন, ‘এসব অশুভ কথা এখানে দাঁড়িয়ে বলবেন না। ব্যাপারটা যদি ঘটে তবে ওরা মুহূর্তর মধ্যে এতজন মানুষকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। বাসায় ডিম আছে বলে তার পাহারাতে ওরা এখন এমনিতেই হিংস্র হয়ে আছে। ওদের খাবার দেওয়ার সময় আমাকেও এখন সতর্ক থাকতে হয়।’ বিক্রম তার কথা শুনে চুপ করে গেল।

স্বাগত কুমির দুটোর বাসস্থানের দিকে ভালো করে তাকিয়ে খেয়াল করল চৌবাচ্চার একদিকে লোহার গরাদ বসানো একটা দরজা আছে। যা দিয়ে সম্ভবত খাবার দেওয়া হয় দানব প্রাণী দুটোকে, আর ও জায়গা দিয়ে ভিতরেও ঢোকা যায় বাইরে থেকে। স্বাগত জানতে চাইল, ‘এদের দু’জনের জন্মও কি এখানেই?’

বুল জবাব দিলেন, ‘না, এখানে নয়। ওদের আমি থাইল্যান্ড থেকে কিনে এনেছি প্রজননের জন্য।’

প্রীতম বলল, ‘আপনার দোকানের ছবির কুমিরটা এমনই বড় ছিল তাই না?’

স্বাগতর মনে হল প্রীতম প্রশ্নটা করার সঙ্গে সঙ্গেই যেন মুহূর্তের জন্য দৃষ্টি বিনিময় হল খামার মালিক বুল আর নারেঙের মধ্যে। বুল তারপর জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, এরকম আকারেরই হবে।’

প্রীতম এরপর মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে দানব কুমির দুটোর ছবি তুলতে যাচ্ছিল, কিন্তু বুল বলে উঠলেন, ‘ওদের ছবি তুলবেন না। কাউকে তুলতে দেওয়া হয় না। আমার ব্যবসায়িক অসুবিধা হতে পারে তাতে।’

বুলের কথা শুনে প্রীতম তার মোবাইল পকেটে রাখল। বুল এরপর বললেন, ‘আশা করি কুমির খামার দেখে ভালো লাগল। তবে এ খামারে আর কিছু দেখার নেই। তাছাড়া এখন আমাকে কুমিরদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

বুলের পিছন পিছন এরপর নীচে নেমে এল সকলে। বুল বললেন, ‘আমার গাড়ি আপনাদের বাজারে পৌঁছে আসবে। দোকানে অবশ্যই আসবেন আপনারা। এতটা পরিচয় যখন হয়েই গেল তখন কম দামে ভালো জিনিস দেব আপনাদের। আর ইচ্ছা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার এখানেও আসতে পারেন।’

স্বাগত বলল, ‘হ্যাঁ। নিশ্চয়ই। আপনার দোকানে আবার জিনিস কিনতে যাবে আমার বন্ধুরা।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *