নয়
অস্থির ভাবে পায়চারি করছে কবির চৌধুরী টাওয়ারের রেস্তোরাঁয়। প্রত্যেক অপারেশনেই এই সময়টা তার সবচেয়ে অসহ্য বলে মনে হয়। এই যে অপেক্ষা… ওদিকে প্রতিপক্ষ কত তর্ক-বিতর্ক আর জল্পনা-কল্পনা চালাচ্ছে কিভাবে তাকে ঠকিয়ে নিজেদের টাকা বাঁচাবে। ব্যস্ত ওরা। কিন্তু তার করার আর কিছুই নেই। ভাবল, চশমাটা ফিট করতে হবে এবার।
একটা গ্লাসে নিজের জন্যে কনিয়াক ঢেলে নিল কবির চৌধুরী। এক ঢোকে গিলে নিয়ে হাতের ইশারায় ব্যারিকে ডাকল। ‘আমাদের এখন আরও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।
‘অস্ত্রের কথা বলছেন?’ জিজ্ঞেস করল ব্যারি।
‘ঠিকই ধরেছ।’ মাথা ঝাঁকাল কবির চৌধুরী। ‘তবে কৌশলে কাজ করতে হবে। তোমাকে ঠিক যেমন যেমন বলেছিলাম।
একটু পরেই মাইকে ঘোষণা করে দিল ব্যারি, ‘সবাই যার যার অস্ত্র সহ রেস্তোরাঁয় রিপোর্ট করো।’
সবাই এসে পৌঁছলে কবির চৌধুরী বেশ জাঁকের সঙ্গে বলল, ‘রক্তপাত আমি মোটেও পছন্দ করি না, আর অনাবশ্যক দুর্ঘটনাকে আমি দেখি ঘৃণার চোখে। ল্যাপ লেজার চালু রয়েছে, কাজেই ওসব বিপজ্জনক জিনিস তোমাদের এখন আর সঙ্গে না রাখলেও চলবে। সবার অস্ত্র জমা নিয়ে আমি দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে চাই।’
মৃদু গুঞ্জন উঠল ঘরের মধ্যে। সবাই অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে টিচ্ মোটেই ভাল চোখে দেখছে না ব্যাপারটা। রবার্ট ও ব্যারির উদ্যত অস্ত্রের মুখে একে একে সবাই সুবোধ বালকের মত কবির চৌধুরীর সামনে টেবিলে জমা দিল নিজেদের অস্ত্র।
নিজের এ. কে ৪৭ অটোমেটিক রাইফেল আর এম এ ২৮ মাইনার মেশিন পিস্তল জমা দেয়ার সময়ে রূপা জিজ্ঞেস করল, ‘আমাদের কি অবিশ্বাস করা হচ্ছে?’
‘বিন্দু মাত্র না,’ চোখ কপালে তুলল কবির চৌধুরী। ‘শুধু মাত্র ভুল চুক, দুর্ঘটনা, ঝুঁকি ইত্যাদির সম্ভাবনা কমানোর জন্যেই এ ব্যবস্থা।’
‘রবার্ট আর ব্যারির অস্ত্র তো জমা নেয়া হলো না?’ প্রশ্ন করল ডেভিড।
ঝট করে মুখ তুলে তাকাল কবির চৌধুরী। ‘কিছু মানুষকে তো সশস্ত্র থাকতেই হবে, ডেভিড,’ জবাব দিল সে। ‘বিশেষ করে আমার আর আমার অনেক দিনের চেনা লোকজনের কাছে অস্ত্র থাকাই তো ভাল!’
রানা আর ডেভিড সমস্বরে আপত্তি জানাতে যাচ্ছিল, এমন সময়ে টেলিফোন বেজে উঠল। লেপং ধরল ফোন। তারপরেই উত্তেজিত স্বরে কবির চৌধুরীকে বলল, ‘ইনটিরিয়র মিনিস্টার পম্পেদু আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন, স্যার।’
সাফল্যের হাসি ফুটল কবির চৌধুরীর মুখে, ‘এত জলদি আশা করিনি, তবে আমি জানতাম রাজি ওদের হতেই হবে।’
মশিয়ে পম্পেদু সোজাসুজি জানালেন, কবির চৌধুরীর দাবি নিয়ে দর কষাকষি করার ইচ্ছে তাঁর নেই।
‘চমৎকার,’ বলল কবির চৌধুরী। ‘এত তাড়াতাড়ি সুমতি হয়েছে জেনে আনন্দিত হলাম। আর কিছু বলার আছে?’
খুক করে একটু কেশে গলা পরিষ্কার করে নিলেন মশিয়ে পম্পেদু, ‘ফাইনান্স মিনিস্টার জানিয়েছেন এত টাকা এক সাথে জড়ো করা বা গোণা এত কম সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। তিনি আপনাকে অনুরোধ জানিয়েছেন সময় সীমা আরও আট ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয়ার জন্যে।
হাসি মিলিয়ে গেল কবির চৌধুরীর। ‘অসম্ভব!’ ধমকে উঠল সে, ‘বলটা যখন আমার কোর্টে ছিল, আমি আমার মত খেলেছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে—আপনারা কিভাবে খেলবেন সেটা আপনাদের ইচ্ছে। আজ রাত ঠিক দশটায় আমি আমার লোকজন নিয়ে টাওয়ার ছেড়ে চলে যাব। টাকা জোগাড় হলে আমার কাছে আবার টেলিফোন করবেন, তার আগে নয়।’
টেলিফোনের আলাপ লাউড স্পীকারে রিলে হচ্ছে কনফারেন্স রূমে। মশিয়ে পম্পেদু মেজর জেনারেল রাহাত খানের দিকে চাইলেন জিজ্ঞাসু চোখে। একটা কাগজে কি যেন লিখে এগিয়ে দিলেন তিনি।
‘আসলেই ফ্রান্সের এই মুহূর্তে নগদ তিরিশ মিলিয়ন ডলার নেই। আমাদের অন্য কোন দেশ থেকে ডলার এনে আপনার চাহিদা পূরণ করতে হবে। সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর…’
বাধা দিল কবির চৌধুরী, ‘ওসব বাজে অজুহাতে কিছুটা সময় হাতে পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করবেন না। সরাসরি আমেরিকা থেকে ডলার আনলেও প্লেনে আট ঘণ্টার বেশি লাগতে পারে না। আজ রাত দশটার মধ্যে টাকা আমার চাই।’ রিসিভার নামিয়ে রাখল কবির চৌধুরী।
স্পারা গেল না, মেজর জেনারেল, ঘড়ির কাঁটা ধরে কাজ করছে কবির চৌধুরী।’ ফোনটা নামিয়ে রেখে মন্তব্য করলেন মশিয়ে পম্পেদু।
সময় বাড়াতে মোটেই রাজি নয় কবির চৌধুরী। কিন্তু একটা ব্যাপার এখনও ঠিক বোঝা যাচ্ছে না—টাওয়ার ছেড়ে পালাবে কিভাবে সে?
এরিক সমারকে অনেকক্ষণ নিচু গলায় কিছু নির্দেশ দিলেন রাহাত খান। একটু আগেই টেলিফোনে জেনেছেন, সিনেট বসেছে, মীটিং চলছে—কোন সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছতে পারেনি তারা।
নির্দেশ অনুযায়ী টাওয়ারের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলেন সমারস্।
‘অ্যামব্যাসাডর এরিক সমারস্ বলছি। কবির চৌধুরীর সাথে কথা বলতে চাই।
‘একটু ধরুন—লাইন দিচ্ছি তাঁর ওখানে,’ বলল লেপং।
‘কবির চৌধুরী বলছি,’ কবির চৌধুরীর গলা শোনা গেল।
‘এরিক সমারস্,’ জবাব দিলেন অ্যামব্যাসাডর।
‘কি খবর, মিস্টার জোনস রাজি হয়েছেন আমার প্রস্তাবে?’ ‘ওঁর অত টাকা কোথায় যে উনি রাজি হবেন?’ নম্রভাবে বললেন রাষ্ট্রদূত।
‘সে কথা তো আমি জানতে চাই না—মিসেস জোনস্ মারা পড়া মানে প্রত্যেকটা আমেরিকানের অপমান। সিনেট মীটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নিক তারা। পাবলিক ফান্ড থেকে এই টাকা দেবে—নাকি তারা তাদের প্রেসিডেন্টের মাকে হারাবে? কোনটা বড় তাদের কাছে, টাকা না ইজ্জত?’
‘এই মুহূর্তে সিনেটের মীটিং চলছে, কিন্তু তারা যদি টাকা দিতে রাজিও হয় তবু আপনি যে সময় দিচ্ছেন তার মধ্যে টাকা পৌঁছানো অসম্ভব। এত টাকা ইউ.এস. কারেন্সিতে জোগাড় করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আজকে পাঁচটা পর্যন্ত ব্যাঙ্ক খোলা থাকছে, এত কিছু এইটুকু সময়ের মধ্যে করা কিছুতেই সম্ভব নয়। সময় সীমা কিছুটা বাড়াতেই হবে আপনাকে। অন্তত আগামীকাল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। সম্ভব-অসম্ভব বলেও তো একটা কথা আছে?’
পুরো আধ মিনিট সময় নিল কবির চৌধুরী জবাব দিতে।
‘আমার পক্ষে সময় বাড়ানো সম্ভব নয়—দরকার হয় ব্যাঙ্কের কাছে সময় নিন। মার্কিন সরকারের অনুরোধ নিশ্চয়ই ফেলবে না সুইস ব্যাঙ্ক—বিশেষত টাকার অঙ্ক যখন শুনবে, তখন না বলবে না ওরা।’ নিজের কথায় অটল রইল কবির চৌধুরী। ‘এটা একটা জরুরী অবস্থা। দরকার হয় রাত দশটা পর্যন্ত খোলা রাখবে ওরা ব্যাঙ্ক।’
একটা কাগজে কি যেন লিখে বাড়িয়ে দিলেন রাহাত খান। কাগজটা দেখে নিয়ে অ্যামব্যাসাডর আবার বললেন, ‘দেখুন এ—ব্যাপারে আপনার অজানা কিছু নেই, এসব কাজে সময় লাগে তা আপনি নিশ্চয়ই…’
কথা শেষ করার সুযোগ না দিয়ে কবির চৌধুরী বলে উঠল, ‘রাত দশটা—দুঃখিত, ওটাই আমার শেষ কথা।’ টেলিফোন ছেড়ে দিল সে।
.
প্রথম গ্যালারির রেলিঙ ঘেঁষে হাঁটছে রূপা আপন মনে। থামল খোলা হাওয়ায় বুক ভরে শ্বাস নেয়ার জন্যে। উল্টোদিক থেকে ডেভিড এসে হাজির হলো। রূপার পাশে রেলিঙে ভর দিয়ে একটা সিগারেট ধরাল সে। তারপর খুব অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে মন্তব্য করল, ‘তোমার মত সুন্দরী মেয়েকে কিন্তু এই কাজে ঠিক মানায় না, সুজানা।’
বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল রূপার। এইবার কি তার কোপটা বসাবে ডেভিড? এখনও সময় আছে, সব রকম যোগাযোগহীনতার সুযোগ নিয়ে তাকে একেবারে…?
জোর করে তবু মুখে হাসি ফুটিয়ে জবাব দিল রূপা, ‘ধন্যবাদ, ডেভিড। সবসময়ে এই কাজ করিও না আমি।’
সিগারেট টানতে টানতে অলস দৃষ্টিতে শহরের শোভা দেখছে ডেভিড। ‘হ্যাঁ, আমারও তাই ধারণা। একটা মজার ব্যাপার…মানে…আমি…’ কথা খুঁজে পাচ্ছে না যেন ডেভিড।
ভিতরটা ক্রমশ শুকিয়ে আসছে রূপার উৎকণ্ঠায়।
‘তোমাকে দেখার পর থেকেই আমার মধ্যে কেমন একটা অনুভূতির যেন সৃষ্টি হচ্ছে, কিছুতেই মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছি না সেটাকে।
‘অনুভূতি!’ সাবধান রূপা, খুব সাবধান! মাথা ঠাণ্ডা রাখো, নইলে সব গোলমাল হয়ে যাবে, ভাবল সে।
‘কেন জানি আমার মনে হচ্ছে কোথায় যেন দেখেছি তোমাকে,’ রূপার দিকে চেয়ে একটু অর্থ-পূর্ণ হাসি হেসে বলল ডেভিড। ‘কোথায় দেখে থাকতে পারি বলো তো?’
‘হতে পারে। তবে আমার মনে হয় না যে এর আগে কোথাও পরিচয় হয়েছিল আমাদের। সার্কাসে দেখে থাকতে পারো। এমনও হতে পারে—মানে, আমি কিছু দিন মডেলিঙও করেছিলাম। বিভিন্ন ম্যাগাজিনে আমার ছবি-টবি ছাপা হয়েছে অনেক—হতে পারে সে জন্যেই চেনাচেনা ঠেকছে।’ খুব সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে রূপা ডেভিডের উপর। সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল সে।
‘হ্যাঁ, একথা ঠিক, আমাদের পরিচয় হয়নি আগে—হলে তোমার মত রূপসী মেয়েকে নিশ্চয়ই আমার মনে থাকত,’ বলল ডেভিড। অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সে রূপার দিকে।
একটু লাল হয়ে ধন্যবাদ জানাল রূপা প্রশংসার জন্যে।
টাওয়ারের নিচে গিজগিজে ভিড়ের দিকে তাকিয়েই হঠাৎ সোজা হয়ে গেল ডেভিড। আঙুল দিয়ে দেখাল সে, ‘ওই দেখো মেরিনরা এসে পৌঁচেছে।’
রূপাও দেখল মিলিটারি ট্রাকগুলো সার বেঁধে দাঁড়িয়েছে, হুড়মুড় করে সৈন্য বের হয়ে আসছে ট্রাক থেকে।
‘কি মনে হয় তোমার, আমাদের বিপদ হবে?’ প্রশ্ন করল সে।
মাথা নাড়ল ডেভিড। ‘মনে হয় না।’ এক মুহূর্ত পরে সে আবার বলল, ‘আচ্ছা, পরীক্ষা করেই দেখা যাক আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন কাজ করছে।’
টোকা মেরে সিগারেটের টুকরোটা শূন্যে ছুঁড়ে দিল সে। দু’হাতও যায়নি—উপর থেকে কালো একটা রেখার মত দেখা গেল—ভস্ম হয়ে গেছে সিগারেটের টুকরাটা।
নিঃশব্দ পায়ে কখন পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে ব্যারি, টের পায়নি ডেভিড। কাঁধে টোকা দিতেই ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়াল সে। ‘আগে থেকেই সাবধান হওয়া ভাল,’ মাতব্বরি চালে নসিহত করল ব্যারি, ‘বেশি সিগারেট খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।’
.
পশ্চিম আকাশে হেলে পড়া নিস্তেজ সূর্যের গোলাপী আভা এসে পড়েছে টাওয়ারের ওপর। মিলিটারি তৎপরতা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে এখন। একশো গজ সীমারেখার গজ তিরিশেক দূরে বালির বস্তার পিছনে সৈনিকেরা সবাই প্রস্তুত হয়ে বসে আছে। পুরো টাওয়ারটাকে ঘিরে ফেলেছে ওরা। রাহাত খানের কাছ থেকে জেনারেলরা এর বেশি কিছু করার অনুমতি পায়নি। অবস্থান নেয়া সৈনিক এবং টাওয়ারের চারপাশের দাগের মাঝামাঝি একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে পুলিস কমিউনিকেশন ভ্যান। নানা যন্ত্রপাতি জুড়ে সেটাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটা যোগাযোগ কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। এখান থেকে মেজর জেনারেল রাহাত খান যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন—মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও। ইন্টিরিয়র মিনিস্ট্রির কনফারেন্স রূম থেকে এখানে সরে আসাটা রাহাত খানের ইচ্ছেতেই হয়েছে। কাছাকাছি থাকলে রানা বা রূপার পক্ষে তাঁর সাথে যোগাযোগ করাটা হয়তো সহজ হবে।
পুলিসের একজন পদস্থ কর্মকর্তা ভ্যানের দরজায় টোকা দিয়ে প্যারিস সিটি ইঞ্জিনিয়ারস ডিপার্টমেন্টের একজন প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ারকে সাথে নিয়ে ভিতরে ঢুকল। আইফেল টাওয়ারের বিস্ত ারিত ম্যাপ নিয়ে বসল সে।
সূর্য ডুবুডুবু প্রায়। গোধূলি বেলার রক্তিমাভায় কেমন বর্ণাঢ্য হয়ে উঠেছে যেন আইফেল টাওয়ার। একটা ছায়া নড়ে উঠল সিঁড়ির পিছন দিকে। অস্পষ্ট একটা শব্দ কানে এল, কিছু যেন বাড়ি খেল লোহার ফ্রেমের সাথে। একটা গার্ডারের সাথে সেঁটে গেল রানা।
বিনকিউলার চোখে লাগিয়ে এক দৃষ্টে চেয়ে আছে সোহানা আইফেল টাওয়ারের দিকে। রাহাত খানও একই ভাবে চেষ্টা করছেন রানা বা রূপাকে খুঁজে বের করতে। ‘কিছু পেলে? বিনকিউলারটা না নামিয়েই জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
‘নাহ্, কিছু চোখে পড়ছে না।’ হতাশ কণ্ঠে জবাব দিল সোহানা।
ওদিকে নিরাপদে আবার নড়াচড়া করা যাবে মনে করে বেরিয়ে এল রানা। একটু একটু করে সরতে সরতে ভ্যানটার মুখোমুখি এসে গেল সে। ভ্যানের মধ্যে রাহাত খানকে আগেই চিনেছে রানা। কি করণীয় তা বলে দিতে হয় না রানা বা রূপাকে। কিন্তু ব্যারির দৃষ্টি এড়িয়ে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়াই কঠিন কাজ। টয়লেটে যাওয়ার নাম করে জানালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে রানা। বুক পকেটের কাছ থেকে ট্যাগটা খুলে নিয়ে নিজের সামনে ধরল সে। টুকরো টুকরো মেঘের ফাঁক দিয়ে এখনও দিনশেষের সামান্য আলো এসে পড়ছে টাওয়ারে। চকচকে ধাতুর পাতটা নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে রানা। মনে মনে চাইছে যেন পাতের ওপর ঠিকরে পড়া রোদের ঝিলিক ওদের নজরে পড়ে।
সোহানার চোখেই প্রথম ধরা পড়ল একটা ঝিলিক। উত্তেজিত ভাবে চেঁচিয়ে উঠল সে, ‘ওই যে, সেকেন্ড ল্যান্ডিং-এর ঠিক নিচে একটা ঝিলিক দেখলাম। খুব সম্ভব যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে রানা।’
‘কোথায়?’ প্রশ্ন করলেন রাহাত খান। বিনকিউলার দিয়ে সেকেন্ড ল্যান্ডিং চষে ফেলছেন তিনি।
‘ছোট্ট সিঁড়িটার উল্টো দিকে—বড় খুঁটিটার পাশে।’
‘দেখেছি। শিগগির প্যাডটা নাও—সিগনালে মেসেজ পাঠাচ্ছে রানা। জলদি!’ প্রায় ধমকে উঠলেন মেজর জেনারেল।
‘লেখো,’ আদেশ দিলেন তিনি।
দ্রুত হাতে লিখছে সোহানা।… অসম্ভব কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা… মিসেস জোনস এখনও অক্ষত। কবির চৌধুরী আর তার নিজস্ব লোকজন ছাড়া বাকি সবাই নিরস্ত্র।
সূর্যের আলো থাকতে থাকতেই রানার মেসেজ পাঠানো শেষ হলো। রুদ্ধশ্বাসে পড়ল সোহানা। কবির চৌধুরীর পালাবার প্ল্যান জানা যায়নি কিন্তু ট্রেনিঙে একোয়া লাং থেকে শুরু করে দড়ির ওপর হাঁটা সবই প্র্যাকটিস হয়েছে—ছয় সীটের একটা হেলিকপ্টার আছে স্যাতোয়। থামল সোহানা।
‘আর কি?’ মেজর জেনারেল জিজ্ঞেস করলেন।
‘আর নেই—মেসেজ এখানেই শেষ।’
‘মেসেজটা কেমন যেন খাপছাড়া ভাবে হঠাৎ শেষ হলো—কোন বিপদে পড়েনি তো রানা?’
একটা হাত তখন রানার মুখ চেপে ধরেছে, তারপর টেনে নিয়ে গেছে ওকে একটা খুঁটির আড়ালে ছায়ায়। ফিসফিস করে ওর কানে কানে বলল ডেভিড, ‘কোন শব্দ কোরো না!’
চোখ তুলে তাকাল রানা ওপরের দিকে। ব্যারি নামছে সিঁড়ি দিয়ে। হাতে একটা টর্চ। ওদের থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে এসে থামল সে। অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকল কমিউনিকেশন ভ্যানটার দিকে। তারপর শ্রাগ করে আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠে সেকেন্ড ল্যান্ডিঙে পৌঁছে লিফটে করে রেস্তোরাঁয় ফিরে গেল। পিটারকে অনেকক্ষণ অনুপস্থিত দেখে কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করছে ব্যারি। হঠাৎ খেয়াল করল ডেভিডকেও সে অনেকক্ষণ দেখেনি। সুজানাকেও না।
রানার মুখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘স্বয়ং যীশু আমাকে পাঠিয়েছিলেন তোমাকে সাবধান করার জন্যে।’ ঠিক সেই সময় একটা প্রচণ্ড জুডো চপ্ পড়ল ডেভিডের ঘাড়ের পাশে। ঘোঁৎ করে একটা আওয়াজ বের হলো ডেভিডের মুখ থেকে—টলতে শুরু করল সে, ওই অবস্থাতেই হাঁটু ভাঁজ হয়ে গেল তার। ওর ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে রূপা তখন আর একটা চপ মারার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে।
কিন্তু তার আগেই দ্রুত নেমে আসা রূপার হাতটা চট করে ঠেকিয়ে দিল রানা। ‘মেরো না ওকে। এইমাত্র ও আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে।’
আটকানো দমটা ছাড়ল রূপা। ‘তাহলে শোধবোধ হয়ে গেল—তুমিও এইমাত্র ওকে প্রাণে বাঁচালে।’
ক্লিষ্ট মুখে ঘাড় ডলতে ডলতে বলল ডেভিড, ‘সেই সময় তো এত ক্ষিপ্ৰ দেখিনি তোমাকে, রূপা! আমি সি আই এ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর খালি হাতে ফাইটের কোর্সটা তোমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে দেখতে পাচ্ছি!’
‘হুঁ, তাহলে ঠিকই চিনতে পেরেছিলে আমাকে!’
‘তোমাকে একবার দেখার পর,’ বলল ডেভিড, ‘কেউ কোনদিন ভুলতে পারে?’
‘কার পক্ষ নিয়ে কাজ করছ তুমি?’ জিজ্ঞেস করল রানা।
‘নিজের এবং দেশের। তোমাদের সাথেও আছি, তোমাদের অজান্তে। মেসেজের কোন উত্তর পেয়েছ?’ জিজ্ঞেস করল সে রানাকে।
‘না, সময় ছিল না।
‘তাহলে যা করার আমাদের নিজেদেরই করতে হবে—বাইরে থেকে কোন সাহায্য আমরা পাব না।’
‘কোন প্ল্যান আছে তোমার?’ প্রশ্ন করল রূপা।
‘হ্যাঁ, মোটামুটি একটা প্ল্যান আমার আছে—কিন্তু এখন সেটা বলার সময় নেই। আমরা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন পথে দ্রুত রেস্তোরাঁয় হাজির না হলে এখনই লোকজন নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করবে ব্যারি।’
.
ব্যারি ছাড়া আর কেউ ওদের রেস্তোরাঁয় ফিরে যাওয়া খেয়াল করল না। কবির চৌধুরীকে নিজের সন্দেহের কথা বলেনি ও। ওদের একে একে ঢুকতে দেখে কটমট করে চেয়ে রইল সে। ডেভিড আর লেপং তাস নিয়ে বসল। সুজানা একটা বই নিয়ে, আর পিটার উডকক একটা হাতাওয়ালা চেয়ারে বসে ভান করল ঘুমোনোর। আধ ঘণ্টা কেটে গেল। রবার্ট আর ব্যারিকে কিছু নির্দেশ দিয়ে বেরিয়ে গেল কবির চৌধুরী। দশ মিনিট পরে হাই তুলে উঠে দাঁড়িয়ে রানা ঘোষণা করল, আরাম করে একটু শোওয়া যায় এমন জায়গা খুঁজতে যাচ্ছে সে। ব্যাপারটাকে আমল দিল না কেউ
লিফটে চড়ে সোজা সেকেন্ড ল্যান্ডিঙে চলে এল রানা। সেকেন্ড গ্যালারির রুটিন পেট্রলের দুজনকে পার হয়ে সামনে এগোল সে। ওদের অস্ত্রও জমা নেয়া হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় রিপোর্ট করার আর সতর্ক থাকার নির্দেশ আছে ওদের ওপর। মনে মনে হিসেব করল রানা ওদের দুজনের আবার একই জায়গায় ফিরে আসতে মিনিট তিনেক লাগবে।
ঠিক সময় মতই ফিরে এল ওরা। রানার লুকিয়ে নিয়ে আসা দড়িটার পাশ দিয়েই কি বলতে বলতে চলে গেল দুজন। দড়িটা ঝুলছে ফার্স্ট লেভেল পর্যন্ত। কিন্তু এমন জায়গায় সেটা বেঁধেছে রানা যে রেলিং থেকে কেউ ঝুঁকে পড়ে দেখার চেষ্টা না করলে ওটা কারও চোখে পড়বে না। তর তর করে দড়ি বেয়ে প্রাইমারী লেভেলে নেমে এল সে। ঝুলন্ত অবস্থাতেই একটু একটু করে ভি আই পি রূমের দিকে এগিয়ে গেল।
জানালার আর রানার লেভেল এক হতেই দেখল, গম্ভীর মুখে বসে আছেন বদ্ধা চেয়ারে। জানালায় টোকা দিয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যাবে, তখনই দেখল মিসেস জোনসের ঠোঁট নড়ছে! কার সাথে যেন কথা বলছেন তিনি।
একটু কাৎ হতেই দেখতে পেল কবির চৌধুরীকে। জানালার দিকেই এগিয়ে আসছে সে। মিসেস জোনসের দিকে তাকিয়ে আছে বলে রানাকে দেখতে পায়নি। হিম হয়ে গেল রানার রক্ত—আর একটু হলেই পণ্ড হয়েছিল সব! দড়ি সহ ঝট করে জানালার পাশ থেকে সরে গেল সে। সরে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মিসেস জোনসের চোখ পড়ল রানার দিকে—চোখাচোখি হলো—কিন্তু চেহারায় বিন্দুমাত্র ভাবান্তর হলো না তাঁর। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কবির চৌধুরীর দিকে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলেন তিনি।
‘আপনাকে এ কথাটা বোঝাতে পারলে ভাল হত যে আপনার একটা অনুরোধে অনেক রক্তপাত আমরা এড়িয়ে যেতে পারি আর আমাদের ঝামেলাও অনেক কমে যায়। আমি আপনাকে কারও সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বলছি না—শুধু টেলিভিশনে বা টেলিফোনে একটু বললেই কাজ হবে।’
সিধে হয়ে বসলেন মিসেস জোনস। ‘নিজের জীবনের জন্যে এ ধরনের ওকালতি করব এ আমি চিন্তাও করতে পারি না। আমার সন্তান আজ যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য প্রেসিডেন্ট। তোমার জন্যে নিজেকে আমি সবার চোখে হেয় করতে পারি না। টাকা পাওয়াটাই যদি তোমার মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে সেটা পেতে হবে তোমার নিজের চেষ্টায়—আমার সহযোগিতায় নয়। এটাই আমার শেষ কথা।
‘আমি কিন্তু খুব শক্ত হতেও জানি।’ হুমকি দিল কবির চৌধুরী।
সহজ ভাবেই হেসে ফেললেন বদ্ধা। বললেন, ‘থাম স্ক্রু? কিংবা আয়রন মেইডেন? নাকি চাইনিজ বুট—কিংবা পানি দিয়ে নির্যাতন? আমার বয়স অনেক হয়েছে—ওসবের ভয় আর আমার নেই। ভয় যদি দেখাতেই চাও, তোমার নিজের বয়সী কাউকে খুঁজে নাও। আমার কাছে ওসব দেখাতে এসো না।’
একটা গার্ডারের পিছনে আশ্রয় নিয়েছে রানা। হাত দুটোকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়াই ওর প্রধান উদ্দেশ্য এখন। বিকেল থেকেই খেয়াল করেছে রানা, সন্ধ্যার পর ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাতাসের বেগ কিছুটা বেড়েছে এখন। কিন্তু সেদিকে লক্ষ করার সময় নেই রানার—মাথায় তার এখন অন্য চিন্তা। বাতাসে দড়িটা বাড়ি খাচ্ছে ভি আই পি রূমের বাইরের দেয়ালে।
দড়ির শব্দে কবির চৌধুরীর মাথাটা একটু ঘুরল—জানালার দিকে তাকাল সে। মিসেস জোনসও শুনেছেন শব্দটা—তাড়াতাড়ি কবির চৌধুরীর মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করার জন্যে তিনি বললেন, ‘আমাদের কথা শেষ হয়েছে—এবারে তুমি বিদায় হও। একজন বন্দীরও এতটুকু স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আছে। আর বিরক্ত না করে একটু শান্তিতে থাকতে দাও আমাকে।’
বাইরের শব্দটাকে কোন গুরুত্ব দিল না কবির চৌধুরী। কিছুক্ষণ মিসেস জোনসের কঠোর দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকল, তারপর মৃদু হেসে মাথা নিচু করে ব্যঙ্গ ভরে কুর্নিশ করল সে। ‘মাদাম, আমি বুঝতে পারছি কেন আপনার ছেলে আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তবে এ-কথাটাও মনে রাখবেন যা চাই তা আমি ঠিকই আদায় করব।’ গটমট করে বেরিয়ে গেল কবির চৌধুরী।
পুরো দুই মিনিট ঠায় বসে রইলেন লিন্ডা জোনস নিজের চেয়ারে। আর মনে প্রাণে চাইলেন জানালার ধারের লোকটাও যেন একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে। যা সন্দেহ করেছিলেন ঠিক তাই ঘটল। নিঃশব্দ পায়ে ফিরে এসে কাঁচের দরজা দিয়ে উঁকি দিল কবির চৌধুরী। প্রথমে লিনডা জোনসকে দেখল—পরে জানালার দিকে চেয়ে রইল। মিসেস জোনস বুঝতে পারছেন যে তাঁকে পিছন থেকে লক্ষ করা হচ্ছে—কিন্তু সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ না করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে পড়ে থাকলেন তিনি। পুরো দেড় মিনিট জানালার দিকে চেয়ে থেকে শেষে নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে গেল কবির চৌধুরী।
মাঝে একবার উঁকি দিয়ে দরজায় কবির চৌধুরীর মুখ দেখেছে রানা। একটা গার্ডারের সাথে সেঁটে রয়েছে সে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে, অবশেষে ফল মিলল।
কবির চৌধুরী চলে যেতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন লিন্ডা জোনস। উঠে এসে জানালাটা খুলে দিলেন। সঙ্গে-সঙ্গে ভি আই পি রূমে ঢুকল রানা।
.
লোহার সিঁড়িটা বিভিন্ন ভাবে ঘুরে ফিরে ওপরে উঠে গেছে। আসলে প্রথম আর দ্বিতীয় ল্যান্ডিঙের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে ওটা। অনেকক্ষণ রানাকে না দেখে লিফটে করে দ্বিতীয় ল্যান্ডিঙের দিকে রওনা হলো ব্যারি। ওর কাঁধে ঝুলছে কালাসনিকভ রাইফেলটা।
গ্যালারিটা পুরো ঘুরে দেখল সে। গার্ড দুজনের সাথে আলাপ করল কিছুক্ষণ। ওদের সতর্ক থাকতে বলল। ভুরু কুঁচকে রুটিন রাউন্ডে চলে গেল গার্ডরা। রেলের কাছে এসে ঝুঁকে নিচের দিকে চাইল ব্যারি। অন্ধকার হলেও, প্রথম ল্যান্ডিঙের আলো আর ওই মিলিটারি ক্যাম্পে খুঁটির মাথায় বেশ কয়েকটা আর্কল্যাম্প ঝোলানো হয়েছে—সেগুলোর আলোয় মোটামুটি দেখতে পাচ্ছে সে। দাগের বাইরে একটা বৈদ্যুতিক বেড়া বসানো হয়েছে, লক্ষ করল।
আপন মনেই হাসল সে—কিন্তু ঝুলন্ত একটা দড়ির আছড়ে পড়ার শব্দে হাসিটা মিলিয়ে গেল তার ঠোঁট থেকে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করল ব্যারি। রাইফেলের সেফটি ক্যাচ অফ করে দিয়েছে সে আগেই। এক হাতে রেলিং ধরে হাতড়ে নিচে নামছে, আর মনে মনে নিজেকে গাল দিচ্ছে, বুদ্ধি করে টর্চটা কেন যে আনেনি! দড়িটা পুরো দেখতে পাচ্ছে সে এখন। একবার দূরে সরে যাচ্ছে, পরক্ষণেই আবার বাতাসের বেগে আছড়ে পড়ছে টাওয়ারের ওপর। দ্রুত নিচে নামছে সে। ভি আই পি রূমের জানালায় একটা ছায়া মূর্তি দেখা গেল। রাইফেল তাক করে ট্রিগার টিপতে গিয়ে তার খেয়াল হলো গুলি ছুঁড়ে কোন লাভ নেই। টার্গেটে পৌঁছবার আগেই ল্যাপ লেজার ধ্বংস করে ফেলবে গুলি, সতর্ক হয়ে যাবে শত্রু। রাইফেলটা একপাশে নামিয়ে রেখে সন্ত পণে নিচে নামতে শুরু করল ব্যারি।
ভি আই পি রূমের জানালা গলে বাইরে বেরোল রানা। লিন্ডা জোনসকে পিঠে নিয়ে নিচে নামতে হলে আশপাশে কেউ আছে কিনা তা দেখে নেয়া দরকার। পড়বি তো পড় বাঘের মুখে! হঠাৎ দেখল পাঁচ হাত দূরেই দাঁত বের করে হাসছে গালকাটা ব্যারি!
সাভাতে ফাইটারের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছে ব্যারি। ‘ভেনে, ভেনেস্,’ হিসহিসিয়ে উঠল সে, ‘আয়! আজ তোকে লাথি মেরে মেরেই খতম করব।’
সিঁড়ির প্ল্যাটফর্মে লাফিয়ে নামল রানা। স্যাতোতে কয়েকবারই দেখিয়েছে ব্যারি সাভাতে ফাইটিঙে তার কতখানি দক্ষতা আর চাতুরী! একটা লাথি ঠিক মত লাগাতে পারলেই ছিটকে নিচে পড়বে রানা।
