কাঙাল মালসাট – ২১

২১

খেল খতম। পয়সা এখনো হজম হয়নি।

বড়িলাল ও কালীর সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। জয় হনুমান! জোয়ারদারের মুণ্ডু জুড়ে গেছে। ওটা নগরপাল নিজেই খেয়াল করেননি। ললিতা জোয়ারদার নগরপালকে একদিন সকালে চমকে দিলেন, কিস খেয়ে,

-তোমার ঐ কামব্রাস ফ্রেমটা কাবাড়িওলাকে বেচে দিলাম।

-মানে?

-মানে, সিম্পল। বেচে দিলাম। কারণ তোমার মুণ্ডু, বিহেডেড অন ডিউটি, জুড়ে গেছে।

-জুড়ে গেছে?

– ইয়েস মাই লাভ!

মেজর বল্লভ বক্সী আত্মগোপন করেছেন। কোথায় কেউ জানেনা। শোনা গেছে যে আল জাজিরা টিভিতে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিতে পারেন।

ভদির বাড়ির উঠোনে নিয়মিত গালাপার্টি বসছে। মালমোহানা! নলেন থেকে থেকে পাদছে ও ফুট-ফরমাস খাটছে। বেচামনি নাকি আরও খোলতাই, আরও ডবকা হয়ে উঠেছে। সরখেল মাটি তুলছে বালতি বালতি। ফ্যাতাড়ুরা বাংলার ঠেকে রেগুলার ভিজিট দিচ্ছে। এবং এর ওর পোঁদে লাগছে। প্রকাশ থাক,

খুলি নেচেছিল।

আনন্দবাজারে যাদুকর আনন্দ-র বিজ্ঞাপনও বেরিয়েছিল।

তাহলে কী হয়নি ?

ওঁয়া ওঁয়া!

যদি না আদি বা মধ্যভাগে বুদ্ধিমান পাঠক বা পাঠিকা, পাঁঠক বা পাঁঠিকা, নানা টাইপের আধাখ্যাঁচড়া ঝটরপটর-সম্বলিত এই বোম্বাচাকটি বিরক্তি সহযোগে বাতিল না করিয়া থাকেন তাহা হইলে তাহার বা তাঁহার সম্পূর্ণ রসাস্বাদন খতম হইল। নিংড়ে নিল। কোনো রাতজাগা পাখি বলছেনা না যেওনা।

তবু সব ছাপিয়ে কেমন একটা মন কেমন করা, মন কেমন করা ভাব। এই ভাবটাই বজায় থাকে। কেন গা?

মনুমেণ্টের ওপরে বুড়ো দাঁড়কাক বসেছিল। কলকাতার পশ্চিমে সানসেটের ঘনঘটা। তারই সোনালী ফোকাস বিশাল ডানার খড়খড়ে পালকে। দাঁড়কাক আপনমনে বলে উঠল,

-যাক! ‘কাঙাল মালসাট’ বই হয়ে বেরিয়ে গেছে। যাই, বেগম জনসনকে খপরটা দিয়ে আসি।

বৃদ্ধ দণ্ডবায়স উড়িয়া গেল।

***

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *