মস্তান বোমকাই – উল্লাস মল্লিক
প্রথম প্রকাশ – জানুয়ারি ২০২৫
MASTAN BOMKAI
Compilation Funny Stories by Ullas Mallick
.
.
যাদের জন্য প্রথম লিখেছিলাম
খুব ছোটবেলা থেকে বুভুক্ষের মতো গল্পের বই পড়তাম। হাসি মজা দুঃখ গোয়েন্দা-রহস্য রূপকথা কল্পবিজ্ঞান ভূত—সবকিছু পড়তাম একই রকম। মনোযোগ আর উত্তেজনা নিয়ে। যাকে বলে আগ্রাসী পড়ুয়া। বাড়ি কিংবা স্কুল—স্থান কালের কোনও ভেদাভেদ ছিল না। ইংরিজি বইয়ের তলায়, ভূগোল বইয়ের আড়ালে চলত আমার সাহিত্য-চর্চা। আমিই বোধহয় একমাত্র খেলোয়াড় যে খেলতে খেলতে সাহিত্য পাঠ করেছে। আবার বলা যায়, সাহিত্য পাঠ করতে করতে খেলেছে। ব্যাপারটা খুলে বলি। ক্রিকেট খেলতে মাঠে যেতাম। ব্যাটিং করতে ভালোই লাগত। কিন্তু ফিল্ডিংকে আন্তরিক ঘেন্না করতাম। আমি ফিল্ডিং নিতাম থার্ডম্যানে, যেখানে বল কদাচিৎ যায়। সঙ্গে থাকত গল্পের বই। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দিব্যি পড়তাম। অর্থাৎ ইডেন টেস্টে ফিল এডমন্ডসের অনেক আগেই একজন বাঙালি এই বাংলারই কোনও এক অখ্যাত মাঠে এমন এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সূচনা করেছিল।
যাই হোক, মূল কথায় আসা যাক। সাহিত্য পাঠ। ক্লাস এইট নাইন। তখনই আলমারি থেকে বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথ শরৎ নামাচ্ছি। কিছুটা আড়াল-আবডালে। কারণ, ওগুলো বড়দের বই। একদিন বোধ হয় সত্যিই বড় হয়ে উঠলাম। কারণ বড়দের বই আর লুকিয়ে পড়তে হয় না। কিন্তু তখনও খেয়াল করলাম, ছোটদের জন্যে লেখা বই একইরকমভাবে আকর্ষণ করছে আমাকে।
হঠাৎ আমাকে কোন ভূতে ধরল কে জানে! তখন বছর তিরিশ বয়েস আমার। ২০০০ সাল। একটা গল্প লিখে ফেললাম আমি। ঘটনাচক্রে গল্পটি ভূতের এবং মজার। আরও মজার ব্যাপার, গল্পটি শিশুকিশোর পাঠ্য। এখন লিখে তো ফেললাম, কিন্তু এর গতি কী হবে! হঠাৎই পরমবীরচক্র পাওয়া সৈনিকের মতো সাহসে ভর করে সটান পাঠিয়ে দিলাম কলকাতার এক অভিজাত দৈনিকে। ওই দৈনিকের রবিবারের ক্রোড়পত্রে তখন শিশু-কিশোরদের উপযোগী লেখা ছাপা হত। গল্প লেখা থেকে পত্রিকা অফিসে পাঠানো—এই গোটা প্রক্রিয়াটাই সম্পন্ন হল নিখুঁত গোপনীয়তায়; কাকপক্ষীদের অগোচরে।
কয়েকদিনের মধ্যেই ভুলে গেলাম গল্পের কথা। বাতিল যে হবেই—এ ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত। অতবড় কাগজে কি আর আমার মতো এলেবেলে লেখকের লেখা ছাপবে! ওসব জায়গায় লিখতে গেলে এলেম লাগে। অগত্যা সাহিত্য পাঠ যেমন চলছিল, চলতে লাগল।
মাস দুয়েক পর, সে দিন রবিবার; একটা চায়ের দোকানে বসে আছি; এক হাতে চায়ের ভাঁড়, অন্য হাতে সেই সংবাদপত্রের রবিবারের পাতা। গরম চায়ে একটা চুমুক দিয়েছিলাম, হঠাৎ চমকে উঠতেই ঠোঁট জিভ পুড়ে গেল। আরে এটা কী! কার গল্প! গল্পের নাম—চপের ভেতর ভূত। দু’চার লাইন পড়েই বুঝলাম। এ আমারই লেখা। দৌড়ে বাড়ি গেলাম। মা-কে বললাম, মা, দেখ কী কাণ্ড!
অর্থাৎ বলতে চাইছি, আমার এই যে তুচ্ছ সাহিত্য জীবন, তার রান-আপ শুরু হয়েছিল ছোটদের লেখা দিয়ে। তারপর পৃথিবী অনেকবার সূর্যকে ঘিরে পাক খেয়ে নিয়েছে। বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে আমার। বড়দের লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যেও লিখছি সমান তালে। আমার সহৃদয় প্রকাশকেরা বিভিন্ন সময় একাধিক বইও প্রকাশ করেছেন। কিছুদিন আগে পত্রভারতীর মাননীয় ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়কে বললাম, আপাতত আমার কাছে ছোটদের তেরোটি হাসির গল্প আর একটা রম্যরচনা আছে। এগুলো দিয়ে পঁচিশের কলকাতা বইমেলায় কি কোনও সংকলন বের করা যায়। ত্রিদিবদা পত্রপাঠ রাজি। তাঁকে কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা বউদিকেও (চুমকি চট্টোপাধ্যায়) যিনি এই বইয়ের নামকরণ করেছেন। শুভেচ্ছা পত্রভারতীর সেই সব বন্ধুদের, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বই মেলার আলো দেখল।
উল্লাস মল্লিক






বইটা ভালো