পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন
সম্পাদনা – পৌলোমী সেনগুপ্ত
প্রথম সংস্করণ: সেপ্টেম্বর ২০০৫
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড
প্রচ্ছদ: সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়
.
ভূমিকা
বিহারের যে-ছোট্ট শহরটিতে আমি বড় হয়েছি, সেখানে পুজোর ছুটির চল ছিল না। পুজোর চার দিন বা মেরেকেটে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি পেতাম আমরা। পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ঠিক এখনকার মতোই, হাতে পৌঁছে যেত পুজোর কিছুটা আগে। সেই দিনটা আমার জীবনে ছিল পুজোর আদত উৎসবের থেকেও অনেক বড় উৎসব। মনে আছে, বাবার সঙ্গে চুক্তি ছিল আমার। পুজোর আনন্দমেলা হাতে এলে দু’দিন কামাই করব, স্কুলে যাব না। আনন্দমেলা পড়ব। সে দু’টি দিন প্রধানত, আর তার সঙ্গে পরে আরও হাজার-হাজার দিন, আমার স্বপ্ন দেখার দিন ছিল। বালিশের উপর উপুড় হয়ে বা পড়ার বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে (মোটেই সহজ কাজ নয়, সঠিকও নয়) আনন্দমেলা পড়তাম আর কল্পনার রাজ্যে ঢুকে যেতাম। পড়াশোনা মাথায় উঠত। কল্পনার রাজ্যে ঢুকে পড়ার জন্য আনন্দমেলার চেয়ে বড় পাসপোর্ট এ-জীবনে আমার হাতে আসেনি। সেই আমি এখন আনন্দমেলার সম্পাদকীয় দফতরে কাজ করি। তবে আজও, এতদিন কেটে যাওয়ার পর, আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীর লেখা সম্পাদনা করতে মন চায় না আমার। তাতে যে আগেই পড়া হয়ে যায় লেখাগুলো! করতে হয়, তবে মন খারাপ করে করি। ইচ্ছে করে, সেই আগেকার মতো নতুন কাগজের গন্ধ বুকে টেনে আধশোয়া হয়ে পড়ি মোটাসোটা পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা। ভেসে আসুক শিউলির গন্ধ, দূরে ঢাক বাজুক, রোদের রং ক্রমশ সোনালি হোক। চোখের সামনে ঘুরে বেড়াক প্রিয় চরিত্রগুলো, ফের হাতে আসুক কল্পনারাজ্যের পাসপোর্ট।
শিশু-কিশোরদের হাতে সেই স্বপ্নের রাজ্যে ঢোকার ছাড়পত্র ধরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই বই। প্রথম আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী প্রকাশিত হয়েছিল বাংলা ১৩৭৮ সনে, অর্থাৎ ইংরেজি ১৯৭১-এ। সেই বছর থেকে শুরু করে ইংরেজি ২০০০ সাল (বাংলা ১৪০৭) পর্যন্ত ৩০ বছরের পূজাবার্ষিকী ঘেঁটে নামী লেখকদের লেখা মনমাতানো গল্প নিয়ে হাজির এই গল্পসংকলন। মোট ৫০টি গল্প স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। সেই ১৩৭৮ বঙ্গাব্দে, মানে প্রথম বছরে, প্রকাশিত হয়েছিল নরেন্দ্রনাথ মিত্রের ‘কুমির’। সবশেষ বছরে (১৪০৭ বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত হয়েছিল সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ‘ইন্দ্রনাথ সামন্তের বাড়ি’। এর মধ্যেকার বছরগুলিতেও প্রকাশিত হয়েছে অনেক মন ভাল করে দেওয়া গল্প। লিখেছেন প্রেমেন্দ্র মিত্র, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবরাম চক্রবর্তী, সত্যজিৎ রায়, আশাপূর্ণা দেবী, লীলা মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মতো বিখ্যাত লেখকরা। যাঁদের নাম করলাম, তাঁরা ছাড়াও আরও অনেক স্বনামধন্য লেখকের কলমের ছোঁয়ায় পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলার সংখ্যাগুলি সেজে উঠেছে। সকলের লেখা গল্প এই স্বল্পপরিসরের সংকলনে রাখা গেল না।
বর্তমানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রসার ও পরিধি নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেক মহলেই। কিন্তু আনন্দমেলার পাঠকরা বাংলা ভাষার ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছে। বাংলা শিশু ও কিশোরসাহিত্যের অসাধারণ ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও ভালভাবে ছোটদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে, তাদের প্রাণে বাংলার প্রতি ভালবাসা আরও জোরদার করে তুলতে পারলে আমাদের খুশির শেষ থাকবে না। গল্পগুলির প্রথম প্রকাশের চেহারা অক্ষুন্ন রাখার জন্য মূল অলংকরণও ব্যবহার করা হল। এত বড় কাজে ভুলত্রুটি থাকতে পারে, তার জন্য আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যাদের জন্য এই বই, বাংলার সেই শিশু-কিশোররা এর মাধ্যমে আনন্দ পাক, কল্পনা করুক, মাতৃভাষার মধুরস আস্বাদ করুক, এই আমাদের আশা।
ছোট বন্ধুরা, এই নাও, তোমাদের হাতে আমরা স্বপ্ন তুলে দিলাম।
পৌলোমী সেনগুপ্ত





ক্ষমা চাইছি, আমার সীমিত জ্ঞান বুদ্ধি নিয়ে যেটুকু জানি, তাতে শরদিন্দু বাবু র প্রয়াণ ঘটে ঊনিশ্শো সত্তর সালে। তাহলে তিনি কী দেহরক্ষার পূর্বৈই আনন্দমেলা পত্রিকা র দফতরে প্রথম পূজাবার্ষিকী র লেখা আগাম ছেপে পাঠিয়েছিলেন? নমস্কার ।