খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়
খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়
প্ৰথম প্ৰকাশ – এপ্রিল ২০১৯
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – স্বপন কুমার চন্দ
.
যে দুই গাছের ছায়ায় বসে লেখা-লেখা খেলা খেলে যাচ্ছি—
শ্রী ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় এবং
শ্রীমতি চুমকি চট্টোপাধ্যায়কে।
.
এই বই নিয়ে কয়েকটা কথা
গত পনেরো-বছরে গল্প-উপন্যাস কম লিখিনি। শুধু তাই নয়, যখন যা প্ৰাণ চেয়েছে তাই লিখেছি। হাসি থেকে হরর, কল্পবিজ্ঞান থেকে ক্রাইম-থ্রিলার, স্বপ্নের রূপকথা থেকে কান্নার বাস্তব।
তবু, যে ঘরানার গল্প আমার নিজের পড়তে ভীষণই ভালো লাগে, সেই গোয়েন্দা-গল্প লিখেছি খুব কম। যতটুকু লিখেছি তার সবটাই এই বইয়ের দুই-মলাটের মধ্যে কুলিয়ে গেল। তাহলে বুঝতেই পারছেন, কত কম।
এখন ভাবতে গেলে মনে হচ্ছে, সমস্ত লেখালেখির তুলনায় আমার গোয়েন্দা-কাহিনির এই সংখ্যাল্পতার কারণ দুটো। এক, আমি কোনো গল্প- উপন্যাসেরই শেষটা কেমন হবে আগে থেকে ভেবে নিয়ে লিখতে পারি না। চোখের সামনে যে ছবিটা ভাসে, সেটার কথা লিখে ফেলি। তারপর কাহিনির উলের গোলা নিজেই গড়াতে-গড়াতে শেষপ্রান্তে পৌঁছে যায়। কিন্তু আপনারা সবাই জানেন, গোয়েন্দা-গল্প এভাবে লেখা যায় না। গোয়েন্দা-গল্পের শেষটা
রীতিমতন ভেবে নিয়ে লিখতে শুরু না করলে মাঝনদীতে হাবুডুবু খাবার ষোল আনা সম্ভাবনা। কাজেই সংখ্যাল্পতার একটা কারণ আমার স্বভাবদোষ।
দ্বিতীয় কারণটাও স্বভাবের সঙ্গেই জড়িত— খুঁতখুঁতে স্বভাব। গোয়েন্দা-গল্পের বহুব্যবহৃত ‘থিম’গুলো নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে না। বরং অপেক্ষা করে থাকি, কখন মাথায় এমন একটা দুর্বুদ্ধি গজিয়ে উঠবে, যেরকমটা আগে কারুর মাথায় গজায়নি। সেই দুর্বুদ্ধিটাকে ক্রিমিনালের মাথায় চালান করে দিয়ে পুলিশকে ঘোল খাওয়াব— এই আশাতেই থাকি।
আর অপেক্ষা করে থাকি এমন একটা সিচুয়েশনের জন্যে, অপরাধের এমন একটা পটভূমির জন্যে, যেটার মধ্যে পুরোদস্তুর বাঙালিআনা থাকবে। কারণ, পৃথিবীর সমস্ত গোয়েন্দা-গল্পের কাহিনির কাঠামোর মধ্যে একটা আন্তর্জাতিক সাযুজ্য থাকে। সেখানে ওই স্থানীয় রেফারেন্সগুলোই ইংল্যান্ডের শার্লক হোমস, ফ্রান্সের কমিশনার মেইগ্রে কিংবা আমেরিকার ডক্টর রবার্ট মোঙ্গোর থেকে বাংলার মিসির আলি কিংবা ব্যোমকেশ বক্সিকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। সেই জন্যেই উত্তরবাংলার নদী-বন-পাহাড়, সুপুরির সারি দিয়ে ঘেরা টিনের চালের কাঠের বাড়ির পটভূমিকায় একটা গোয়েন্দা-গল্প লিখতে পারলে ভারি আরাম পাই। বুঝতে পারি, গল্পগুলো শুধু বাংলায় লিখলাম না, বাঙালিদের জন্যেই লিখলাম। এই বইয়ের গল্পগুলোর মধ্যে দিয়ে সেই চেষ্টাই করেছি।
পদবি শুনে বোঝা না গেলেও, এই বইয়ের নায়ক উমাশঙ্কর চৌবেও কিন্তু একজন আদ্যোপান্ত বাঙালি ভদ্রলোক। তবে কলকাতার নন, তিনি কোচবিহারের বাসিন্দা। তিনি স্নেহপ্রবণ, বাগানপ্রেমী এবং মৃদুভাষী।
গত পনেরো বছরে তাঁর সঙ্গে যেটুকু সময় কাটিয়েছি, ভারি ভালো কেটেছে সেই সময়টা। আশা করি এই প্রৌঢ় তথাপি ধীমান গোয়েন্দাটিকে আপনাদেরও ভালো লাগবে। ভালো লাগবে তাঁর সহকারী, সৎ এবং কর্মঠ পুলিশ-অফিসার বিনায়ক বসুকেও।
এই বই সম্বন্ধে এইটুকুই বলার। আর যেটা না বললেই নয়, তা হল প্রকাশক সংস্থা ‘দ্য কাফে টেবল’-এর পুরো টিমের নিরন্তর সহযোগিতার কথা। ঋষা, তন্ময়, অমৃতা, অভিষেক, অরিজিৎ— কার কথা আলাদা করে বলব? আর বলবই বা কেন? আমরা বাঙালিরা ভাইবোনকে মৌখিক ধন্যবাদ জানাই না। বড়জোর চুলগুলো একটু আদর করে ঘেঁটে দিই। ইতি—
বিনত,
সৈকত মুখোপাধ্যায়






কৌশিক সামন্তের লেখা নভেম্বর রেইন বইটি আপলোড করুন প্লিজ
Please upload operation Blue wing written by Abhik Arjun Dutta
Please upload Lolup by Saikat Mukhopadhyay pls pls pls
Upload kora ache didi
Pls upload Lolup by Saikat Mukhopadhyay